অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রথম অধ্যায়: ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম-Class 8 Bangladesh and World Politics Chapter 1: Colonial Era and Political Parties of Bengal

Admin
0
(toc)

অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রথম অধ্যায়: ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম-Class 8 Bangladesh and World Politics Chapter 1: Colonial Era and Political Parties of Bengal

ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম

ইউরোপীয় বণিকরা ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য বাংলায় আসলেও পরে তারা আমাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেয়। তাদের মধ্যে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ সালে বাংলা-বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করে নেয়। ব্রিটিশদের শাসন চলে ১৯৪৭ পর্যন্ত। এ শাসনকালকে ঔপনিবেশিক যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ব্রিটিশ শাসনকালে তাদের শাসনের অবসানের জন্য বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম সংঘটিত হয়। অবশেষে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা বাংলা তথা উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।

অধ্যায়টি পড়ে যা শিখতে পারবে-

টিক চিহ্নিত শিখনফলের প্রশ্নগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ো-

১. উপনিবেশ কী

২. উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার বিস্তার ও অবসানের গুরুত্ব

৩. বাংলায় ইউরোপীয় উপনিবেশিকদের আগমন ও বাণিজ্য বিস্তার

৪. বাংলায় ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার কারণ

৫. বাংলায় ইংরেজ শাসনের কার্যক্রম

৬. ইংরেজ কোম্পানি শাসনের বৈশিষ্ট্য

৭. ইংরেজ কোম্পানি শাসনকালে বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা

৮. ইংরেজ কোম্পানি শাসনের প্রভাব

৯. ব্রিটিশ শাসনের বৈশিষ্ট্যসমূহ

১০. ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব

১১. বাংলার জাগরণের ধারণা


পাঠ ১: বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসন

উপনিবেশিকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে অর্থনৈতিক শোষণ ও লাভের উদ্দেশ্যে এক দেশ অন্য দেশকে নিজের দখলে আনে। দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। বাংলা প্রায় দুইশো বছর এভাবে ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে ছিল। তবে বাংলায় উপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার আগে আরও অনেক বহিরাগত শাষন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যেমন- খ্রিস্টপূর্ব যুগে বহিরাগত আর্য ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বাংলায় প্রবেশ করেছিল। এরপর খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে বাংলার উত্তরাংশ দখল করেন ভারতের মৌর্য সম্রাট কণোক। মৌর্যদের পর ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয় গুপ্ত সাম্রাজ্য। গুপ্তদের পতনের পর সপ্তম শতকে বাংলার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রথম বাঙলি শাসক শশাড়ত কর্তৃক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। শশাঙ্কের মৃত্যুর একশো বছর পর প্রায় চারশো বছর বাংলাকে শাসন করেন বাঙালি পাল রাজারা। পাদদের পতনের পর দক্ষিণ ভারতের কণটিক থেকে আসা দেন রাজারা বাংলার সিংহাসন দখল করেন। এরপর ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির হাতে সেন শাসনের অবসান ঘটে। এরপর ১৩৩৮ সালে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয়। ১৫৩৮ সালে মুঘলদের হাতে বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে। মুঘলদের পরে বাংলার শাসন ক্ষমতা আফগানদের হাতে চলে যায়। ১৫৭৬ সালে রাজমহলের যুদ্ধে আফগানদের হারিয়ে মুঘলরা পুনরায় দিল্লির সিংহাসন পুনরুদার করে এবং ধীরে ধীরে বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্যদিয়ে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলার শাসন ক্ষমতা দখল করে। আর এভাবেই বাংলায় উপনিবেশিক শক্তির শাসন শুরু হয়, যার অবসান ঘটে ১৯৪৭ সালে।  

কুইজ-১

প্রশ্ন-১, বাংলা কত বছর ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে ছিল?

প্রশ্ন-২, অশোক কে ছিলেন?

প্রশ্ন-৩. সপ্তম শতকে কে বাংলায় স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?

প্রশ্ন-৪. পাল রাজারা কত বছর বাংলা শাসন করেন?

প্রশ্ন-৫. সেন রাজারা কোথা থেকে এসেছিলেন?

প্রশ্ন-৬. ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি কে ছিলেন?

প্রশ্ন-৭. কোন যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন হয়?

প্রশ্ন-৮. কত সালে বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান হয়?


পাঠ ২ ও ৩: বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন ও বাণিজ্য বিস্তার; বাংলায় ঔপনিবেশিক শক্তির বিজয়

পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে সমুদ্রপথে বাণিজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান। এর মধ্যদিয়ে ভারতবর্ষ বিশ্ব বাণিজ্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ক্রমান্বয়ে এই প্রতিযোগিতায় শামিল হতে থাকে। এ লক্ষ্যে সতেরো শতকে একে একে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (হল্যান্ড), ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ডেনমার্ক), ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়ালক্ষ্য ছিল ভারতবর্ষ। বাংলার সিল্ক ও অন্যান্য মিমি কাপড় এবং মসলা তাদের প্রধান আকর্ষণ ছিল। বিদেশি বণিকরা ভারতবর্ষে এসে স্থানীয় শ্রমিকদের খাটিয়ে বড়ো বড়ো শিল্পকারখানা স্থাপন করে প্রচুর মুনাফা করতে থাকে। তবে বাগিদিক উদ্যোগ এবং কূটকৌশলে পারদর্শী হওয়ার কারণে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমশ অন্য ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর তুলনায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায় এবং তাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করে। তারা এখানে কুঠি, কারখানা তৈরি ও সৈন্য রেখে ব্যবসার অধিকার লাভকরে। পলাশি যুদের আগে এবং মীর জাফর ও মীর কাশিমের আমলে বাংলার প্রচুর সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হয়ে যায়।

নবাব আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর তার প্রিয় নাতি সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। সিংহাসনে আরোহণ করে তিনি নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হন। নবাবের বিপরীতে একাধিক দেশীয় ষড়যন্ত্রকারী ও ইংরেজরা গোপনে জোট বাঁধে। সেইসাথে শাসনকাজে নবাবের অদক্ষতা বিরোধী পক্ষের অবস্থানকে শক্তিশালী করে। এরই সবশেষ পরিণতি হলো ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশির যুদ্ম্ম্যে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও নির্মম মৃত্যু এবং ইংরেজদের হাতে বাংলার পতন। বিজয়ের পর ইংরেজরা মীর জাফরকে নবাব বানালেও মূল ক্ষমতা তাদের হাতে চলে যায়। ধূর্ত ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ হন সর্বেসর্বা। তবে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর জাফরের উত্তরসূরী মীর অশিমের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার শাসন ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের হস্তগত হয়।

কুইজ-২

প্রশ্ন-১, ভাস্কো-দা-গামা কে ছিলেন?

প্রশ্ন-২, ভাস্কো-দা-গামা ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান কত সালে?

প্রশ্ন-৩, কত শতকে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়?

প্রশ্ন-৪. কোন কোম্পানি অন্যান্য ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর ওপর প্রাধান্য লাভ করে?

প্রশ্ন-৫. নবাব সিরাজউদ্দৌলা কত বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

প্রশ্ন-৬, বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ নবাব কে ছিলেন?

প্রশ্ন-৭, পলাশির যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

প্রশ্ন-৮. কাদের হাতে বাংলার পতন হয়?

পাঠ ৪ ও ৫: ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ 

বক্সারের যুদ্ধের ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও। ও ব্রিটিশ হয় ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। ক্লাইত বাংলার শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব নবাবের ওপর এবং প্রতিরক্ষা ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব কোম্পানির ওপর নাস্ত করেন। একে দ্বৈতশাসন বলা হয়। দ্বৈতশাসন ছিল এদেশের মানুষের জন্য এক চরম অভিশাপ। ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিত্ব কর আরোপ করে তা আদায়ে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিত্ব করের চাপ এবং দেশে পর পর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট খরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির ফলে ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালে বাংলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্তর' নামে পরিচিত। এ দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষে ইংরেজ সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে ডাক ও তার এবং রেল যোগাযোগ স্থাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেইসাথে শিক্ষা বিস্তারসহ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার সূচনা করে। এভাবে দেশে একটি নতুন শিক্ষিত শ্রেণি ও নাগরিক সমাজ গড়ে উঠলেও বৃষত্তর বাঙালি সমাজ ইংরেজ কোম্পানির শাসনে প্রকৃতপক্ষে শোষিত হয়েছে। নানা ধরনের বৈষম্য ও শোষণের প্রতিবাদ হিসেবে ১৮৫৭ সালে কোম্পানি শাসনের প্রায় একশো বছর পরে ইংরেজ অধ্যুষিত ভারতের বিভিন্ন ব্যারাকে সিপাহিদের মধ্যে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু উন্নত অস্ত্র ও দক্ষ সেনাবাহিনীর সাথে চাতুর্য ও নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে ইংরেজরা এ বিদ্রোহ দমন করে। এরপর ১৮৫৮ সালের ২রা আগস্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাশ হয়, যার মধ্যদিয়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। ব্রিটিশ সরকার, সরাসরি ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করে। ব্রিটিশ শাসনকালে (১৮৫৮-১৯৪৭) ব্রিটেন ছিল পৃথিবীর প্রধান ধনী দেশ। আর গোটা ভারত ছিল ব্রিটেনের উপনিবেশ অর্থাৎ শোষণের ক্ষেত্র।

কুইজ-৩

প্রশ্ন-১, রবার্ট ক্লাইভ কে ছিলেন?

প্রশ্ন-২, কে বাংলার শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব নবাবের ওপর ন্যস্ত করেন?

প্রশ্ন-৩, দ্বৈতশাসনের প্রবর্তক কে?

প্রশ্ন-৪. কত সালে বাংলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়?

প্রশ্ন-৫, ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে বাংলার কত সংখ্যক মানুষ মারা যায়?

প্রশ্ন-৬, কত সালে সিপাহিদের মধ্যে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে?

প্রশ্ন-৭. কোন আইনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?

প্রশ্ন-৮, ভারত শাসন আইন কখন পাশ হয়?

পাঠ ৬ ও ৭; ৮: ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া: বাংলার নবজাগরণ ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন; লাহোর প্রস্তাব ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা

ইংরেজরা তাদের শাসন পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে দেশীয়দের মধ্য থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরিতে মনোযোগ দেয়। উদ্দেশ্যে ১৭৮১ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় হিন্দুদের জন্য ১৭৯১ সালে সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইংরেজরা উচ্চ শিক্ষার জন্য সারাদেশে স্কুল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আরও কিছু কলেজও স্থাপন করে। অবশেষে ১৮৫৭ সালে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইংরেজদের উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন চেতনা জাগ্রত হতে থাকে। বহুকালের প্রচলিত বিশ্বাস, সংস্কার, বিধান সম্পর্কে তাদের মনে সংশয় ও প্রশ্ন জাগতে থাকে। হিন্দু সমাজ থেকে সতীদাহের মতো কুপ্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়, বিধবা বিবাহের পক্ষে মত তৈরি হ্যা। পাশাপাশি অবাধে মুক্তমনে জ্ঞানচর্চার ধারা তৈরি হয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। বাঙালির এই নবজাগরণ কলকাতা মহানগরীতে ঘটলেও এর পরোক্ষ প্রভাব সারা বাংলাতেই পড়ে। উপনিবেশিক শাসনামলের আধুনিক শিক্ষা ও জাগরণের আরেকটি দিক হলো দেশপ্রেমে উদ্বুস্থ জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ। সেই সাথে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারবোধেরও উন্মেষ ঘটতে থাকে। ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নতুন মাত্রা পার ১৯০৫ সালের বাচল পরিকল্পনার ফলে। ইংরেজ ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৩ সালে প্রস্তাব রাখেন যে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাকে দুইভাগে ভাগ করা উচিত। বস্তুত এর মধ্যদিয়ে বাংলায় ক্রমবর্ধমান ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে বিভক্ত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। ১৯০৫ সালে বঙ্গাভা কার্যকর হওয়ার পর থেকে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের স্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে ১৯০৫ সালের বজ্যভকা ছিল ব্রিটিশদের 'ভাগ করো, শাসন করো' নীতির অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। তবে বাঙালিরা বিনা প্রতিবাদে ইংরেজ শাসকদের কখনোই মেনে নেয়নি। গোটা ইংরেজ শাসনামল জুড়ে বাংলা ও ভারতে নানা প্রতিরোধ আন্দোলন হয়েছে। এরমধ্যে সর্বাগ্রো ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ঘটনা উল্লেখ করা যায়। এরপর ছিল তিতুমীরের নেতৃত্বে কৃষক বিদ্রোহ, হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ। ১৯১১ সালে বঙ্গ্যতা রদের পর শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে ওঠে। সশস্ত্র এই বিপ্লবী তৎপরতা ১৯৩০-এর দশক পর্যন্ত টিকে ছিল। পাশাপাশি বাংলাসহ ভারতব্যাপী ও জাতীয় পর্যায়ে চলেছিল নানাবিধ নিয়মতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।

১৯৪০ সালে লাহোরে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাগুলো নিয়ে একাধিক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এ প্রস্তাব এদেশের মানুষ ব্যাপকভাবে সমর্থন করে। পরবর্তী সময় লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে পাকিস্তান প্রস্তান গ্রহণ করা হয়, যার ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ব্রিটিশ অধীনতা থেকে মুক্তি পেলেও পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর স্বৈরাচারী আচরণের কারণে তা পূর্ব বাংলার জনগণের প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠতে পারেনি।

কুইজ-৪

প্রশ্ন-১. কে কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন?

প্রশ্ন-২. কত সালে সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়?

প্রশ্ন-৩. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?

প্রশ্ন-৪. লর্ড কার্জন কে ছিলেন?

প্রশ্ন-৫. কত সালে বঙ্গভঙ্গ হয়?

প্রশ্ন-৬. কার নেতৃত্বে কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?

প্রশ্ন-৭. বঙ্গভঙ্গ রদ কত সালে?

প্রশ্ন-৮. লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন কে?

বিষয়ক্রম অনুযায়ী প্রশ্ন ও উত্তর

পাঠ-১: বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসন। Text পৃষ্ঠা- ১

১. বাংলায় ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আগমন করে পরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল- ইউরোপীয় বণিকরা।

২.. বাংলায় আগমন করা ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গিয়েছিল- ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

৩. ইংরেজরা ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন চালায় প্রায় দুইশত বছর।

৪. আর্যরা বাংলায় প্রবেশ করেছিল- খ্রিষ্টপূর্ব যুগে।

৫. বাংলার প্রথম বাঙালি শাসক ছিলেন- শশাঙ্ক।

৬. শশাঙ্কের শাসনামলে 'ব্রা' নামে স্বাধীন রাজ্য গড়ে ওঠে- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায়।

৭. পাল রাজাদের পতনের পর বাংলার সিংহাসন দখল করে সেন রাজারা।

৮. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন শুরু করেন-১৩৩৮ সালে।

৯. বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে- ১৫৩৮ সালে।

১০. রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ১৫৭৬ সালে।

১১. বারোভূঁইয়ারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন- মুঘল সম্রাট জাহ্যজ্যারের আমলে।

১২. ঢাকার নাম 'জাহাঙ্গীরনগর' করেন- সুবেদার ইসলাম খান চিশতি।

১৩. মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে- ১৭৫৭ সালে।

পাঠ- ২ ও ৩: বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন ও বাণিজ্য বিস্তার; বাংলায় উপনিবেশিক শক্তির বিজয়। Text পৃষ্ঠা- ৩ ও ৫

১. ভাস্কো-দা-গামার ভারতে পৌঁছানোর মূল কারণ ছিলো- সমুদ্র পথে বাণিজ্য বিস্তারের অন্বেষণ।

২. ব্যবসার ক্ষেত্রে পর্তুগিজদের চেয়ে ভূমিকা বেশি ছিল- ইংরেজ বণিকদের।

০৩. ফরাসি পর্যটক বানিয়ের কাশিমবাজারের সিল্ক ফ্যাক্টরির কথা লিখেছেন-১৬৬৬ সালে।

০৪,বহরে ২২ হাজার বেল সিল্ক উৎপাদিত হতো- কাশিমবাজারে।

৫. যাব চার্নক কলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর গ্রাম কেনেন- ১৬৯০ সালে।

৬. সিংহাসনে আরোহণের সময় সিরাজউদ্দৌলার বয়স ছিল ২২ বছর।

৭. সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী তৃতীয় পক্ষ হিল-মারওয়াড়ি বণিক।

৮. মারওয়াড়ি বণিকরা বাংলায় এসেছিল- রাজপুতানা থেকে।

৯. বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ১৭৬৪ সালে।

১০.নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ইংরেজদের দ্বন্দ্বে নির্বিকার ভূমিকা পালন করে- বাংলার সাধারণ মানুষ।

পাঠ- ৪ ও ৫: উপনিবেশিক শাসন ও শোষণ। Test পৃষ্ঠা-৬

১. রবার্ট ক্লাইভ ও সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের মধ্যে চুক্তি হয়-১৭৬৫ সালে।

২. বাংলায় দ্বৈতশাসনব্যবস্থা চালু করেন রবার্ট ক্লাইভ।

৩. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে এদেশের মানুষের জন্য চরম অভিশাপ ছিল- দ্বৈতশাসন।

৪. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর সংঘটিত হয়- ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬ সন)।

৫. ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে বাংলায় মৃত্যু ঘটে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের।

৬. ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন গৃহীত হয়- ১৮৫৮ সালে।

৭. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হয়- ১৭৯৩ সালে।

৮. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে ব্রিটিশরা সৃষ্টি করেছিল- অনুগত জমিদার শ্রেণি।

৯. সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়- ১৮৫৭ সালে।

১০. ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে- ভারত শাসন আইন পাসের মাধ্যমে।

১১. ব্রিটিশ সরকারি শাসনামলের সময়সীমা- ১৮৫৮-১৯৪৭ সাল।

পাঠ-৬ ও ৭: ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া; বাংলার নব-জাগরণ ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। Text পৃষ্ঠা-৮

১. কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ারেন হেস্টিংস।

২. সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়- ১৭৯১ সালে।

৩. উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

৪. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়- ১৮৫৭ সালে।

৫. শ্রীরামপুরে মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করা হয়- ১৮২১ সালে।

৬. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত বীজ বপিত হয়েছিল- ১৯০৫ সালের বলতকোর ফলে।

৭. সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দেন- লর্ড কার্জন।

৮. বঙ্গভফোর মূল উদ্দেশ্য ছিল- ক্রমবর্ধমান ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন বিভক্ত করা।

৯. মুসলিম লীগ গঠিত হয়- ১৯০৬ সালে।

১০. তিতুমীরের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়- কৃষক বিদ্রোহ।

১১. ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন- হাজী শরীয়তুল্লাহ।

১২. ব্রিটিশবিরোধী প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম- সিপাহি বিদ্রোহ।

১৩. বাংলায় সিপাহি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন- মঙ্গল পান্ডে ও রজব আলী।

১৪. বকাতলা রদ হয়- ১৯১১ সালে।

১৫. ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম নারী শহিদ-প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

বোর্ড বইয়ের নমুনা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন-১. ইংরেজ শাসনকে ঔপনিবেশিক শাসন বলা হয় কেন?

উত্তর: ইংরেজ শাসনামলে বাংলায় উপনিবেশিকরণের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় ইংরেজ শাসনকে ঔপনিবেশিক শাসন বলা হয়। উপনিবেশিকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে অর্থনৈতিক শোষণ ও লাভের উদ্দেশ্যে এক দেশ অন্য দেশকে নিজের দখলে রাখে। তখন দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। বাংলায়ও ইংরেজরা কেবল অর্থনৈতিক শোষণ ও লাভের উদ্দেশ্যে শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। এ কারনেই ইংরেজ শাসনকে ঔপনিবেশিক শাসন বলা হয়।

প্রশ্ন-২, বাংলায় ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার দুইটি কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বাংলায় ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার দুইটি কারণ হলো-

১. বাংলার শাসকদের দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চক্রান্ত এবং তা মোকাবিলায় তরুণ অনভিজ্ঞ নবাবের অপারাগতা এবং

২. ইংরেজদের উন্নত সামরিক শক্তি, রণকৌশল ও নেতৃত্ব।

প্রশ্ন-৩. দ্বৈত শাসন প্রবর্তনের ফলে নবাব কেন ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: দ্বৈতশাসন প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা প্রতিরক্ষা ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব কোম্পানির ওপর ন্যস্ত করা হয়। অন্যদিকে, শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব নবাবের ওপর অর্পণ করা হয়। ফলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা না থাকায় দ্বৈতশাসনের মাধ্যমে নবাব ক্ষমতাধীন হয়ে পড়েন।

প্রশ্ন-৪. ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ইংরেজদের আরোপিত অতিরিক্ত করের চাপ এবং অনাবৃষ্টিজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর দেখা দেয়। দ্বৈতশাসনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করে আরোপ করে তা আদায়ে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। সেই সাথে দেশে পর পর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে খরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালে বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

অনুশীলনের জন্য আরও সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন

পাঠ-১: বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসন

প্রশ্ন-৫. উপনিবেশিকরণ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

ময়মানাধিত্বে জিলা স্কুল শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমী উত্তর: উপনিবেশিকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মধ্যদিয়ে অর্থনৈতিক শোষণ ও লাভের উদ্দেশ্যে এক দেশ অন্য দেশকে নিজের দখলে আনে। দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলা প্রায় দুই শত বছর ধরে এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসনাধীন ছিল।

প্রশ্ন-৬, বাংলায় কীভাবে ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা এবং শেষ হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্যদিয়ে বাংলায় ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়েছিল। নানা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে প্রায় দুই শত বছরের ঔপনিবেশিক শাসন ১৯৪৭ সালে শেষ হয়েছিল।

প্রশ্ন-৭. মৌর্যদের পর ভারতে কোন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়? সেটির প্রতিষ্ঠাকাল ও বিস্তার উল্লেখ করো।

উত্তর: মৌর্যদের পর ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। চার শতকে উত্তর বাংলা ও দক্ষিণ-পূর্ববাংলার কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে আসে।

প্রশ্ন-৮, 'মাৎস্যন্যায়ের যুগ' বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বাংলার প্রথম বাঙালি শাসক রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে এক দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকার যুগের সূচনা হয়, যা- মাৎস্যন্যায় যুগ বলে পরিচিত। 'মাৎস্যন্যায়' বলতে পুকুরে বড়ো মাছ ছোটো মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বোঝায়। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলার সবল অধিপতিরা ছোটো ছোটো অঞ্চলগুলো গ্রাস করেছিল, যা ছিল বিশৃঙ্খলার চরম রূপ। এ অবস্থাকেই মাৎস্যন্যায়ের যুগ বলা হয়।

প্রশ্ন-৯. সুপ্তি তার নানার কাছে পাল রাজাদের গল্প শুনছিল। উক্ত রাজারা কত বছর বাংলা শাসন করেন? তাদের পর কারা বাংলার সিংহাসন দখল করেছিল?

উত্তর: পাল রাজারা প্রায় চারশো বছর বাংলা শাসন করেন। পালদের পতনের পর এগারো শতকের শেষ দিকে দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক থেকে আসা সেন রাজারা বাংলার সিংহাসন দখল করে নিয়েছিল।

প্রশ্ন-১০. তুষার ইতিহাস বইয়ে এক তুর্কি সেনাপতি সম্পর্কে জেনেছে, যিনি সেন শাসনের অবসান ঘটান। তিনি কে? তাঁর অবদান লেখো।

উত্তর: প্রশ্ন দ্বারা নির্দেশিত তুর্কি সেনাপতি হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি। তিনি রাজা লক্ষ্মণসেনকে পরাজিত করে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন। ফলে ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলা জুড়ে মুসলিম শাসনের বিস্তার ঘটতে থাকে।

প্রশ্ন-১১. মুসলিম শাসন আমলে বাংলার তিনটি অংশে দিল্লি সালতানাতের কয়টি প্রদেশ ছিল? সেগুলোর নাম লেখো।

উত্তর: মুসলিম শাসন আমলে বাংলার তিনটি অংশে দিল্লি সালতানাতের তিনটি প্রদেশ বা বিভাগ ছিল। সেগুলো হলো- উত্তর বাংলায় লখনৌতি, পশ্চিম বাংলায় সাতগাঁও এবং পূর্ববাংলায় সোনারগাঁও।

প্রশ্ন-১২, কোন সুলতান বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন বলে মনে করা হয়? তিনি কী কী উপাধি ধারণ করেন?

উত্তর: সমগ্র বাংলার এক বৃহদাংশ অধিকার করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করার মাধ্যমে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা, প্রতিষ্ঠা করেন বলে মনে করা হয়। তিনি 'শাহ-ই-বাংগালা' ও 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি ধারণ করেন।

প্রশ্ন-১৩. মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৮ সালে উত্তর বাংলার গৌড় দখল করলেও বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৮ সালে উত্তরবাংলার গৌড় অর্থাৎ লখনৌতি দখল করলেও বাংলায় তখন মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। কারণ বিহারের আফগান শাসক শের খান হুমায়ূনকে প্রথমে বাংলা, ও পরে ভারত থেকে বিতাড়িত করেন।

প্রশ্ন-১৪. বারোভূঁইয়া সম্পর্কে যা জানো লেখো। 

উত্তর: বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত ছিল পূর্ববাংলার জমিদাররা। তাদের প্রতিরোধের কারণে বাংলার পূর্বাংশ মুঘলরা সহজে দখল করতে পারেনি। আকবরের সেনাপতি মানসিংহ কয়েকবার চেষ্টা করেও বারোভূঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি। ফলে বাংলার পূর্বাংশ মুঘলরা সহজে দখল করতে পারেনি।

প্রশ্ন-১৫. প্রাচীন বাংলার পূর্বাংশ বর্তমানে 'বাংলাদেশ' নামে পরিচিত। এই অংশ মুঘলরা সহজে দখল করতে পারেনি কেন?

উত্তর: বারোভূঁইয়াদের প্রতিরোধের কারণে বাংলার পূর্বাংশ মুঘলরা সহজে দখল করতে পারেনি। বাংলা দখলের জন্য মুঘলদের আক্রমণ বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত পূর্ব বাংলার জমিদাররা একযোগে প্রতিহত করেন। আকবরের সেনাপতি মানসিংহ কয়েকবার চেষ্টা করেও বারোভূঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি। ফলে বাংলার পূর্বাংশ মুঘলরা সহজে দখল করতে পারেনি।

প্রশ্ন-১৬, ঢাকার পূর্বনাম কী ছিল? কীভাবে উক্ত নামকরণ হয়? 

উত্তর: ঢাকার পূর্বনাম ছিল 'জাহাঙ্গীরনগর'। ১৬১০ সালে মুঘল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি চূড়ান্তভাবে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকা অধিকার করার পর তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম অনুসারে এ শহরের নাম রাখেন 'জাহাঙ্গীরনগর'।

প্রশ্ন-১৭. পলাশির যুদ্ধের মধ্যদিয়ে কোন শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে? এর ফলাফল লেখো।

উত্তর: ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্যদিয়ে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে। এ ঘটনার ফলে বাংলার শাসন ক্ষমতা দখল করে ইংরেজ শক্তি। শুরু হয় ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শক্তির শাসন।'

পাঠ-২: বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন ও বাণিজ্য বিস্তার

প্রশ্ন-১৮, ভারতবর্ষ বিশ্ব বাণিজ্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয় কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে সমুদ্রপথে বাণিজ্য বিস্তারের অন্বেষণে দক্ষিণ ভারতের কালিকট বন্দরে পৌছান। এর মধ্যদিয়ে ভারতবর্ষ বিশ্ব বাণিজ্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ক্রমান্বয়ে এই প্রতিযোগিতায় শামিল হতে থাকে। ফলে ভারতবর্ষে বিশ্ব বাণিজ্যের বিস্তার ঘটে।

প্রশ্ন-১৯, সতেরো শতকে ভারতবর্ষে বাণিজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে কোন কোন ইউরোপীয় বাণিজ্যিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: সতেরো শতকে ভারতবর্ষে বাণিজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ইউরোপীয় বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলো হলো- ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (হল্যান্ড) ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ডেনমার্ক), ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ইংল্যান্ড), ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ফ্রান্স) ইত্যাদি।

প্রশ্ন-২০, জব চার্নক নামক একজন ইংরেজ প্রতিনিধি কতগুলো গ্রাম ক্রয় করেন, যা পরবর্তীকালে কলকাতা নামে পরিচিত হয়। গ্রামগুলোর নাম কী? তিনি কত সালে কত টাকার বিনিময়ে এগুলো ক্রয় করেন?

উত্তর: জব চার্নকের ক্রয় করা গ্রামগুলো হলো- কলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর, যা পরবর্তীকালে কলকাতা নামে পরিচিত হয়। জব চার্নক গ্রামগুলো ১৬৯০ সালে মাত্র ১২০০ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেন।

প্রশ্ন-২১. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমশ অন্য ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর তুলনায় এগিয়ে যায় কীভাবে?

উত্তর: বাণিজ্যিক উদ্যোগ এবং কূটকৌশলে পারদর্শী হওয়ার কারণে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমশ অন্য ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর তুলনায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায় এবং তাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করে।

পাঠ-৩: বাংলায় ঔপনিবেশিক শক্তির বিজয় 

প্রশ্ন-২২. নবাব আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর মাত্র ২২ বছর বয়সে তাঁর নাতি সিংহাসনে বসেন। উক্ত নাতির নাম কী? সিংহাসনে আরোহণ করে তিনি কেমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন?

উত্তর: নবাব আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর মাত্র ২২ বছর বয়সে তার নাতি সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন। তখন তিনি একদিকে উদীয়মান ইংরেজ শক্তি ও হামলাকারী বর্গিদের সামলানোর কঠিন কাজ, অন্যদিকে বড়ো খালা খসেটি বেগম ও সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের মতো ঘনিষ্ঠজনদের ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হন।

প্রশ্ন-২৩, পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের দুইটি কারণ লেখো। গত ম্যাতের ধাগাম হাই স্কুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

উত্তর: পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের দুইটি কারণ হলো-

১. নবাবের বিপরীতে একাধিক দেশীয় ষড়যন্ত্রকারী ও ইংরেজদের গোপনে জোট।

২. শাসনকাজে নবাবের অদক্ষতার ফলে বিরোধী পক্ষের অবস্থান শক্তিশালী হওয়া।

প্রশ্ন-২৪. 'ক' যুদ্ধের পর বাংলার শাসন ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের হস্তগত হয়। 'ক' দ্বারা কোন যুদ্ধকে বোঝানো হয়েছে? যুদ্ধটি সংঘটিত হয় কত সালে?

উত্তর: 'ক' দ্বারা বক্সার যুদ্ধকে বোঝানো হয়েছে। কারণ এ যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার শাসন ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের হস্তগত হয়। বক্সার যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৬৪ সালে।

প্রশ্ন-২৫. বাংলায় ঔপনিবেশিক শক্তির বিজয়ের দুইটি কারণ লেখো।

উত্তর: বাংলায় উপনিবেশিক শক্তির বিজয়ের দুইটি কারণ হলো-

১. বাংলার শাসকদের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চক্রান্ত এবং তা মোকাবিলায় তরুণ অনভিজ্ঞ নবাবের অপরাগতা।

২. ইংরেজদের উন্নত সামরিক শক্তি, রণকৌশল ও নেতৃত্ব।

পাঠ-৪ ও ৫: ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ

প্রশ্ন-২৬. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বক্সারের যুদ্ধের পর ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। ক্লাইভ বাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এ ব্যবস্থাকে দ্বৈতশাসন বলে।

প্রশ্ন-২৭. "দ্বৈতশাসন ছিল বাঙালির জন্য চরম অভিশাপ"-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: দ্বৈতশাসনের ফলে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজ শাসকরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করার পাশাপাশি তা আদায়ে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। একই সময়ে দেশে পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ইতিহাসে এ দুর্ভিক্ষ 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এ দুর্ভিক্ষে বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়। এসব কারণে দ্বৈতশাসনকে বাঙালির জন্য চরম অভিশাপ বলা হয়।

প্রশ্ন-২৮. 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' কাকে বলে?

উত্তর: ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬) 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' হয়েছিল। ইংরেজদের অতিরিক্ত করের চাপে যখন জনগণ ও কৃষকের নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা সে সময় দেশে পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে খরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর ফলে বাংলায় দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়, যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত।

প্রশ্ন-২৯, শফিক টেলিভিশনে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দেখছিল। এটি কত সালে এবং কেন হয়েছিল?

উত্তর: ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬) 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' হয়েছিল। ইংরেজদের অতিরিক্ত করের চাপে যখন জনগণ ও কৃষকের নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা সে সময় দেশে পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে খরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর ফলে বাংলায় দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়, যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত।

প্রশ্ন-৩০, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নরদের পদবি পরিবর্তিত হয়ে গভর্নর 'জেনারেল হয়। এটি কোন সময়কে নির্দেশ করে? ভারতবর্ষে গভর্নর জেনারেলদের একটি অবদান লেখো।

উত্তর: এটি ১৭৭৩ সালকে নির্দেশ করে। কারণ ১৭৭৩ সালের পর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নরদের পদবি হয় গভর্নর জেনারেল। কয়েকজন উল্লেখযোগ্য গভর্নর জেনারেল ভারতবর্ষে ইংরেজ সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে ডাক ও তার এবং রেল যোগাযোগ স্থাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩১. ইংরেজ শাসকদের গৃহীত প্রধান দুইটি কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর: ইংরেজ শাসকদের গৃহীত প্রধান দুইটি কাজ হলো-

১. ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গৃহীত ভারত শাসন আইনে বাংলায় ব্রিটিশ গর্ভনর জেনারেলের হাতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা অর্পণ করা হয়।

২. ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করে ব্রিটিশদের অনুগত জমিদার শ্রেণি তৈরি করা হয়।

প্রশ্ন-৩২, ১৭৭২ সালে জনাব 'ক' কলকাতাকে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ঘোষণা করেন। জনাব 'ক' দ্বারা কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ করা হয়েছে? তখন কলকাতাকে রাজধানী করার জন্য কী করা হয়েছিল?

উত্তর: জনাব 'ক' দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসকে নির্দেশ করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর, শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে রূপান্তর করা হয়।

প্রশ্ন-৩৩. ইংরেজ প্রশাসকরা বাঙালির কোন কোন উদ্যোগকে সহযোগিতা করেছিল?

উত্তর: ইংরেজ প্রশাসকরা সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহ রোধ করতে এবং বিধবা বিবাহ প্রবর্তনসহ সামাজিক কুপ্রথা নিবারণে রাজা রামমোহন রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো বাঙালিদের উদ্যোগকে সহযোগিতা করেছিল।

প্রশ্ন-৩৪. দিল্লিতে সম্রাট আওরকাজেবের মৃত্যু পরবর্তীকালে মুঘল সাম্রাজ্যের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: দিল্লিতে সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল সাম্রাজ্যে বিভিন্ন সংকট দেখা দেয়। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ছোটো-বড়ো নবাব ও দেশীয় রাজারা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এর ফলে দিল্লীর মসনদও দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে কোম্পানির সেনাবাহিনী নানা দিকে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে।

প্রশ্ন-৩৫. ১৮৫৮ সালের ২রা আগস্ট একটি আইন পাশ হয়। উক্ত আইনের নাম কী? আইনটির কার্যকারিতা লেখো।

উত্তর: উক্ত আইনের নাম 'ভারত শাসন আইন'। এর মধ্যদিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করে।

প্রশ্ন-৩৬. 'ব্রিটিশ শাসনামলে গোটা ভারত ছিল ব্রিটেনের উপনিবেশ অর্থাৎ শোষণের ক্ষেত্র"- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি ও এককালের সমৃদ্ধ তাঁতশিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছায়। সামাজিক অনুশাসনের দাপটে নারীসমাজ ব্যাপকভাবে পিছিয়ে ছিল। মধ্যবিত্ত সমাজও ততটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। অর্থাৎ গোটা ভারত ব্রিটেনের শোষণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।

পাঠ-৬ ও ৭: ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া: বাংলার নবজাগরণ ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন বোর্ড বই পৃষ্ঠাও 

প্রশ্ন-৩৭, ১৭৮১ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস 'X' প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে 'X' দ্বারা কোন প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: এখানে 'X' দ্বারা কলকাতা মাদ্রাসাকে বোঝানো হয়েছে। কারণ ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮১ সালে কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশীয়দের মধ্য থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরির মাধ্যমে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে রাজ্য হারানো ক্ষুব্ধ মুসলমানদের সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রশ্ন-৩৮. ১৭৯১ সালে কাদের জন্য সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়? এর ফলে কী ঘটে?

উত্তর: ১৭৯১ সালে ফিন্দুদের জন্য সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর ফলে ইংরেজদের উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে। বহুকালের প্রচলিত বিশ্বাস, সংস্কার, বিধান সম্পর্কে তাদের মনে সংশয় ও প্রশ্ন জাগতে থাকে।

প্রশ্ন-৩৯, ভারতবর্ষের শিক্ষাক্ষেত্রে ইংরেজদের অবদান লেখো।

উত্তর: ইংরেজরা বাংলা ব্যাকরণ রচনা, মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্র প্রকাশ, স্কুল টেক্সট বোর্ড গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের পথ প্রদর্শন করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তারা উচ্চ শিক্ষার জন্য সারাদেশে স্কুল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কিছু কলেজও স্থাপন করে। শিক্ষা বিস্তারের অংশ হিসেবে ১৮৫৭ সালে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রশ্ন-৪০. ১৮২১ সালে শ্রীরামপুরে 'A' স্থাপনের ঘটনা বাংলার মানুষের মনকে মুক্ত করে ও জাগিয়ে তোলে। এখানে 'A' দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে। এর ফলে জনমনে কী প্রভাব পড়ে?

উত্তর: এখানে 'A' দ্বারা মুদ্রণযন্ত্র বোঝানো হয়েছে। মুদ্রণযন্ত্র স্থাপনের ফলে বইপুস্তক ছেপে জ্ঞানচর্চাকে শিক্ষিত সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া ও স্থায়িত্ব দেওয়ার পথ সুগম হয়। বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র প্রকাশ করে জনমত সৃষ্টিতে অনেকে এগিয়ে আসে।

প্রশ্ন-৪১. ইংরেজ শাসন আমলে কাদের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ ঘটে?

উত্তর: ইংরেজ শাসন আমলে বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, মাইকেল মধুসূদন ও রবীন্দ্রনাথের হাতে বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। এছাড়া মীর মশাররফ হোসেন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখদের অবদানও ব্যাপক।

প্রশ্ন-৪২. ঔপনিবেশিক শাসনামলে আধুনিক শিক্ষার ফলে বাঙালিদের মধ্যে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে।

উত্তর: ঔপনিবেশিক শাসনামলে আধুনিক শিক্ষার ফলে বাঙালির মধ্যে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে। সেই সাথে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারবোধেরও উন্মেষ ঘটতে থাকে।

প্রশ্ন-৪৩, ইংরেজ প্রশাসকরা বাংলাকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল কেন?

উত্তর: ঔপনিবেশিক আমলে বাংলার সীমানা ছিল অনেক বড়ো। পূর্ববাংলা, পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে ছিল বৃহত্তর বাংলা। তাই কলকাতাকেন্দ্রিক ইংরেজ শাসকদের পক্ষে দূরবর্তী অঞ্চলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন ছিল। এ কারণে ইংরেজ প্রশাসকরা বক্তাভঙ্গ পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাকে ভাগ করতে চেয়েছিল।

প্রশ্ন-৪৪, ১৯০৩ সালে ইংরেজ ভাইসরয় লর্ড কার্জনের উত্থাপিত প্রস্তাবনাটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ইংরেজ ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৩ সালে প্রস্তাব রাখেন যে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ করা হবে। ঢাকাকে রাজধানী করে নতুন প্রদেশ করা হবে। এই প্রদেশের নাম হবে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর এই প্রদেশ শাসন করবে।

প্রশ্ন-৪৫, বঙ্গভঙ্কোর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বাংলায় ক্রমবর্ধমান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে বিভক্ত করাই ছিল বক্তাভঙ্গের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাকে ভাগ করার মধ্যদিয়ে ইংরেজ শাসকরা বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাঙন ধরাতে চেয়েছিল বলেও মনে করা হয়।

প্রশ্ন-৪৬, বঙ্গভঙ্কা পরিকল্পনার বিষয়ে মুসলমান ও হিন্দুদের প্রতিক্রিয়া কীরূপ ছিল?

উত্তর: পূর্ববাংলায় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। এ কারণে মুসলমান নেতারা ভেবেছিলেন বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে নতুন প্রদেশ হলে পূর্ববাংলার উন্নতি হবে। কিন্তু শিক্ষিত হিন্দু নেতারা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেন।

প্রশ্ন-৪৭, ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলমানদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্ত সংগঠনের নাম কী? এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: উক্ত সংগঠনটি হলো মুসলিম লীগ। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বড়ো নেতাদের অধিকাংশ ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাঁরা মুসলমান নেতাদের সাথে পরামর্শ না করে বাভফোর বিরোধিতা করেন। ফলে মুসলমানরা বুঝতে পারে দাবি আদায়ের জন্য তাদের নিজেদের একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'মুসলিম লীগ' নামে মুসলমানদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রশ্ন-৪৮, ব্রিটিশদের 'ভাগ করো, শাসন করো' নীতি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বাঙালি নেতাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য ইংরেজরা 'ভাগ করো, শাসন করো' নীতি চালু করেছিল। উপমহাদেশবাসী শুরু থেকেই এক অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিল। এটি ইংরেজদের সকল কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই তারা এ চেতনাকে বিনষ্ট করে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার নীতি গ্রহণ করে। এ কারণে ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়কে আলাদা করে শাসন করার নীতি গ্রহণ করে। তাদের এ নীতিকেই 'ভাগ করো, শাসন করো' নামে অভিহিত করা হয়।

প্রশ্ন-৪৯, ব্রিটিশবিরোধী প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের নাম কী? উক্ত সংগ্রামের প্রেক্ষাপট লেখো।

উত্তর: ব্রিটিশবিরোধী প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল সিপাহি বিদ্রোহ। দীর্ঘ সময় ধরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক শোষণ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বঞ্চনা, নির্যাতন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সর্বোপরি ভারতীয় সৈন্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এই বিদ্রোহ সংঘটনের প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করেছে।

প্রশ্ন-৫০, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন কারা? উক্ত বিদ্রোহে কারা সমর্থন দিয়েছিলেন?

উত্তর: ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন সিপাহি মজাল পান্ডে ও হাবিলদার রজব আলী। সিপাহিদের এই বিদ্রোহে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের স্বাধীনচেতা শাসকরাও যোগ দেন। ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই, মহারাষ্ট্রের তাঁতিয়া টোপি এরকমই কয়েকজন। দিল্লির মুঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরও এদের সমর্থন জানিয়েছিলেন।

প্রশ্ন-৫১. কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়? উক্ত আন্দোলনের মধ্যদিয়ে কী কী কর্মসূচি নেওয়া হয়?

উত্তর: বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়। স্বদেশী আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বিলেতি পণ্য ও শিক্ষা বর্জন, দেশীয় পণ্য ও শিক্ষা প্রচলনের মতো নানাবিধ কর্মসূচি নেওয়া হয়।

প্রশ্ন-৫২, সৌমিক ইতিহাস বইয়ে ব্রিটিশবিরোধী যে আন্দোলন সম্পর্কে পড়ছিল সেটির তৎপরতা ১৯৩০-এর দশক পর্যন্ত টিকে ছিল। সৌমিকের জানা আন্দোলনের নাম কী? এই আন্দোলন গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট কী?

উত্তর: সৌমিকের জানা আন্দোলনের নাম 'সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন'। বলাভলোর পর নানা আন্দোলনের মধ্যদিয়ে এদেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জেগে ওঠে এবং তারা ঐক্যবদ্ধ হয়। ফলে শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে গড়ে ওঠে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন। গঠিত হয় যুগান্তর ও অনুশীলন সমিতির মতো বিপ্লবী সংগঠন।

প্রশ্ন-৫৩, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম নারী শহিদ কে? এ আন্দোলনের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য বিপ্লবীদের নাম লেখো।

উত্তর: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম নারী শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। এ আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য বিপ্লবীদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষুদিরাম, বাঘা যতীন এবং মাস্টারদা সূর্যসেন প্রমুখ। তারা প্রত্যেকেই দেশের জন্য ব্রিটিশদের হাতে প্রাণ দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন-৫৪, ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাসহ ভারতব্যাপী জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন নিয়মতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চলছিল। এ ধরনের কয়েকটি আন্দোলনের নাম লেখো।

উত্তর: ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাসহ ভারতব্যাপী জাতীয় পর্যায়ে যেসব নিয়মতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চলছিল সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- অসহযোগ আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, ভারত ছাড় আন্দোলন ইত্যাদি।

পাঠ-৮: লাহোর প্রস্তাব ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা

প্রশ্ন-৫৫, 'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ১৯৪০ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। উপমহাদেশে মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা করাই ছিল লাহোর প্রস্তাবের মূলকথা।

প্রশ্ন-৫৬, বাংলার ইতিহাসে শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক একটি স্মরণীয় নাম। তিনি কোন প্রস্তাবনার জন্য বিখ্যাত? উক্ত প্রস্তাবে কী বলা হয়েছিল?

উত্তর: শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাবের জন্য বিখ্যাত। তিনি ১৯৪০ সালে লাহোরে এই প্রস্তাবে উপস্থাপন করেন। উক্ত প্রস্তাবে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাগুলো নিয়ে রাষ্ট্রসমূহ গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এই প্রস্তাব এদেশের মানুষ ব্যাপকভাবে সমর্থন করে।

প্রশ্ন-৫৭, লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে কোন প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়? উত্ত প্রস্তাবের ফলাফল কী ছিল?

উত্তর: লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে পাকিস্তান প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ প্রস্তাব গ্রহণের ফলে ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সাথে প্রায় দু'শ বছরের ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটে।

প্রশ্ন-৫৮, ভারত বিভক্তির সাথে সাথে বাংলা কীভাবে ভাগ হয়েছিল? কারা এর পরিবর্তে অখন্ড বাংলা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন?

উত্তর: ভারত বিভক্তির সাথে সাথে বাংলা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ববাংলা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়। আর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমবাংলা ভারতের সাথে যুক্ত হয়। শরৎ বসু ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী এটি না মেনে অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছি।

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

বোর্ড বইয়ের নতুনা প্রশ্ন ও উত্তর :

প্রশ্ন-১ : নবীনপুর শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকার ফলে এলাকাবাসী সবক্ষেত্রে অনগ্রসর ছিল। উক্ত এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও সম্পদশালী এক ব্যক্তির উদ্যোগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ধীরে ধীরে এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলিত হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে উক্ত এলাকার মানুষ সমাজ সচেতন হয়ে ওঠে। এলাকার শিক্ষিত নারী রায়হানা নারীশিক্ষার বিষয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করে তোলেন। 
ক. ভারতে প্রথম ভাইসরয় নিযুক্ত হন কে?

খ. বাংলা ১১৭৬ সনে এ দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় কেন? 

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতির মতো উনবিংশ শতাব্দীতে বাংলায় মিসের উদ্ভব ঘটেছিল? ব্যাখ্যা করো। 

ঘ. "রায়হানার মতো শিক্ষিত নারীর জন্যই এদেশে নারীশিক্ষার পথ সুগম হয়- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো। 

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তরঃ

(ক) ভারতে প্রথম ভাইসরয় নিযুক্ত হন লর্ড ক্যানিং।

(খ) রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর আরোপ এবং পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে বাংলা ১১৭৬ (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) সনে এদেশে মারাত্মক মুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন প্রতিষ্ঠার ফলে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেয়। এছাড়া ১৭৬৮ সাল থেকে পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। মূলত এ দুটি কারণে বাংলা ১১৭৬ সনে এদেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

(গ) উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতির মতো উনবিংশ শতাব্দীতে বাংলায় নবজাগরণের উদ্ভব ঘটেছিল।

১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধের পর ইংরেজরা এদেশের শাসনকাজে তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। শাসন পাকাপোক্ত করার জন্য তারা দেশীয়দের মধ্য থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত অনুগত শ্রেণি তৈরিতেও মনোযোগ দেয়। এতে আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নবচেতনাও জাগ্রত হ্যা। এছাড়া ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে, যা বাংলায় নবজাগরণের সূচনা করে।

উদ্দীপকের নবীনপুর এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও সম্পদশালী এক ব্যক্তির উদ্যোগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া এলাকার শিক্ষিত উন্নয়নকর্মী রায়হানা নারী শিক্ষা, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করে তোলেন। এ পরিস্থিতির সাথে উনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণ উদ্ভবের প্রেক্ষাপটের মিল পাওয়া যায়।

(ঘ) "রায়হানার মতো শিক্ষিত নারীর জনাই এদেশে নারীশিক্ষার পথ সুগম যা" উক্তিটি যথার্থ।

উনবিংশ শতক এবং বিশ শতকের শুরুতে যখন ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বলছে, বাঙালি নারীরা তখনও পিছিয়ে ছিল। সে সময় নারীরা প্রায় সব অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। লেখাপড়া শেখা তাদের জন্য একরকম নিষ্যিই ছিল। তাদের রাখা হতো পর্দার আড়ালে গৃহবন্দী করে। সমাজের অধিকাংশ মানুষ নারীশিক্ষাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করত। এ সময় কিছু অগ্রগামী ও শিক্ষিত নারীর প্রচেষ্টায় এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ বেগম রোকেয়ার মতো মহিয়সী নারীর প্রচেষ্টার কথা বলা যায়। যে সমাজে নারীশিক্ষাকেই সময়ের অপচয় বলে মনে করা হতো, সে সমাজে স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে বেগম রোকেয়া নারীদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। কেবল বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেই বেগম রোকেয়া থেমে যাননি। তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমেও নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য জোর প্রচারণা চালান। বেগম রোকেয়ার এসব কাজের ফলে সমাজের অনেক নাম না জানা নারী উৎসাহিত হয়ে শিক্ষা অর্জনে ব্রতী হয়েছেন। তাঁরা নারীশিক্ষা বিস্তারে বেগম রোকেয়ার মতো অগ্রবর্তী নারীদের সহযোগী হয়েছেন। আর প্রাতম্মেরণীয় এসব নারীদের কর্মকাণ্ডের ফলেই এদেশে নারীর শিক্ষার পথ সুগম হয়েছে।

উদ্দীপকের রায়হানাও নবীনপুর এলাকার মানুষদের নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সচেতন করে তোলেন। তার এ ভূমিকা বেগম রোকেয়ার মতো নারীদের ভূমিকারই অনুরূপ। শিক্ষিত নারীদের এমন প্রগতিশীল ভূমিকার কারণেই নারীশিক্ষার পথ কিছুটা হলেও সুগম হয়েছিল।

সামগ্রিক আলোচনায় সুস্পষ্ট, রায়হানার মতো শিক্ষিত নারীদের কর্মকান্ডের ফলেই এদেশে নারীশিক্ষার পথ সুগম হয়েছিল।

ক. বাংলায় ইংরেজদের শাসন চলে কত সাল পর্যন্ত?

খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. তথ্য-১ দ্বারা কোন শাসনব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. তুমি কি মনে কর, তথ্য-২ বাংলার মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার আদায়ের উন্মেষ ঘটায়? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

(ক) বাংলায় ইংরেজদের শাসন চলে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত।

(খ) দ্বৈতশাসন বলতে লর্ড ক্লাইভের প্রবর্তিত এক অদ্ভুত শাসনব্যবস্থাকে বোকায়।

বক্সারের যুদ্ধের পর ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও ইন্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী বাংলার নবাবকে বৃত্তিভোগীতে পরিণত করে ক্লাইভ। দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করেন। এই শাসনব্যবস্থায় ক্লাইভ বাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এর ফলে নবাব পেলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব আর কোম্পানি লাভ করলো দায়িত্বহীন ক্ষমতা। এই অযৌক্তিক ক্ষমতা বণ্টনকে ইতিহাসে 'দ্বৈতশাসন' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

(গ) তথা-১ দ্বারা বাংলার উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

কোনো দেশের ওপর দখলদারদের আধিপত্য বিস্তার যা উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করাই হলো ঔপনিবেশিক শাসন। বাংলায় ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এ শাসন বিদ্যমান ছিল।

তথ্য-১-এ এমন একটি শাসনব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যা প্রায় ২০০ বছর স্থায়ী ছিল। এ সময় বাংলার টাকা-পয়সা অন্য দেশে পাচার করা হয়েছিল। এ বিষয় দুটি বাংলার ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রেই সত্য। কারণ বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের আগমন ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে হলেও পরে তারা আমাদের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে নেয়। ১৭৫৭সালে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা দখল করে। তাদের এ শাসনব্যবস্থা ২০০ বছর স্থায়ী ছিল। এ শাসনামলে ইংরেজরা বাংলার প্রচুর সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করে। বিদেশি বণিকরা এদেশের স্থানীয় শ্রমিকদের খাটিয়ে বড়ো বড়ো শিল্পকারখানা স্থাপন করে প্রচুর মুনাফা লাভ করে। আর এগুলো নিজেদের দেশে পাচার করে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বোঝা যায়, তথ্য-১ বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার ইঙ্গিতবহ।

(ঘ) হ্যাঁ, তথ্য-২ বাংলার মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার আদায়ের উন্মেষ ঘটায় বলে আমি মনে করি।

ইংরেজদের শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে বাংলার জনগণ ক্রমে অধিকার সচেতন হয়ে ওঠে। যার শুভ পরিণাম হলো স্বাধীনতার প্রতায়। তথ্য-২-এ এই কার্যক্রমের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

তথ্য-২-এ উঠে এসেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা, কুসংস্কার দূরীকরণে সমাজসংস্কারকদের অবদান। এ বিষয়গুলোর হাত ধরেই বাংলার নবজাগরণ ঘটে। ইংরেজরা তাদের শাসন পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিল। এজন্য তারা ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরিতে মনোযোগ দেয়। এ উদ্দেশ্যে তারা সারাদেশে কিছু স্কুল, কলেজ এবং শেষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে। এতে এদেশবাসী আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে আসে। ফলে বহুকালের প্রচলিত বিশ্বাস, সংস্কার, বিধান সম্পর্কে তাদের মনে প্রশ্ন জাগে। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ অনেকে সমাজ সংস্কারে মন দেন। সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। বিধবা বিবাষের পক্ষে মত তৈরি হয়। অর্থাৎ বাঙালিদের নবজাগরণ ঘটে।

নব্যসৃষ্ট নকজাগরণের ফলে মানুষ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ, ঘটায়। ফলে এদেশের মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ হয়।

ক. কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন কে?

খ. 'ঔপনিবেশিক শাসন' কী? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের 'খ' শাসনামলের ধরন কেমন ছিল? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.' "উদ্দীপকের 'খ' শাসনামল বাংলায় নবজাগরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে"- বোর্ড বইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

(ক) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

(খ) কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করলে তাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলে।

ঔপনিবেশিক শাসনের ক্ষেত্রে দখলদার শস্ত্রি চিরস্থায়ীভাবে শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আসে না। তবে যতদিন তারা শাসক হিসেবে থাকে ততদিন সেই দেশের ধন-সম্পদ নিজ দেশে পাচার করে। ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলায় ইংরেজদের এ ধরনের ঔপনিবেশিক শাসন বিদ্যমান ছিল।

(গ) উদ্দীপকের 'খ' শাসনামল হলো সুলতানি শাসনামল।

১৩৩৮ সালে সোনাগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ দিল্লির মুসলমান সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এভাবে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয়। তবে সমগ্র বাংলার এক বৃষদাংশ অধিকার করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করার মাধ্যমে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন বলে ধরা হয়। স্বাধীন সুলতানি আমলের উল্লেখযোগ্য অপর শাসক ছিলেন আলাউদ্দিন হুসেন শাহ। ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং বাংলা শিল্প, সাহিত্যের বিকালে তার অবদান অপরিসীম। ১৫৩৮ সালে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে।

উদ্দীপকের ছকে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন শাসনামলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব শাসনামলের মধ্যে 'খ' স্থানে নির্দেশিত শাসনামল হলো সুলতানি শাসনামল। সুলতানি শাসনামল ১৩৩৮ সাল থেকে ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলায় বিরাজমান ছিল।

(ঘ) উদ্দীপকের 'গ' শাসনামল অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসনামল বাংলায় নবজাগরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে- উক্তিটি যথার্থ।

১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ইংরেজরা এদেশের ক্ষমতা দখল করে। ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী উপমহাদেশে নিজেদের ক্ষমতাকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৭৮১ সালে কলকাতা মাদ্রাসা এবং ১৭৯১ সালে সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইংরেজদের উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে। এ সময় সমাজের সংবেদনশীল মানুষরা সমাজের অনাচার নিয়ে যেমন আত্মসমালোচনা করেছেন তেমনি শাসকদের অবিচারের বিরুদ্ধেও কঠোর সমালোচনা করতে দ্বিধা করেননি। সমাজে সৃষ্ট নতুন চেতনার ফলেই রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো সমাজ সংস্কারকগণ প্রচলিত কুপ্রথা দূর করতে ভূমিকা রাখেন। তাদের উদ্যোগ এবং ইংরেজ শাসকদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হিন্দুসমাজ থেকে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ হয়, বাল্যবিবাহ বন্ধ হয় এবং বিধবা বিবাহের প্রচলন ঘটে। শুধু সমাজ সংস্কারই নয়, ইংরেজ শাসনামলে বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের হাতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। ডিরোজিও, বিদ্যাসাগর প্রমুখ অবাধে মুক্তমনে আনচর্চার ধারা তৈরি করেন। আর এভাবেই বাংলায় সংঘটিত হয় নবজাগরণ।


 

Tags

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!