ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রথম অধ্যায় সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস। Class Six grade BGS Chapter 1: History of social evolution.

Admin
0
(toc)

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রথম অধ্যায় সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস।Class Six grade BGS Chapter 1: History of social evolution.

 সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস

📌 আলোচ্য বিষয়াবলি

সমাজের ধারণা, সমাজ জীবনে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব, সমাজ বিকাশের বিভিন্ন স্তর, শিকার ও সংগ্রহ, উদ্যান কৃষি ওপশুপালন সমাজ, সমাজ বিকাশের বিভিন্ন স্তর, কৃষি, শিল্প ও শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সমাজ, বাংলাদেশের সমাজের প্রকৃতি।

অধ্যায়ের শিখনফল: অধ্যায়টি অনুশীলন করে আমি-

শিখনফল-১: সমাজের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;

শিখনফল-২: সমাজজীবনে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব বর্ণনা করতে পারব;

শিখনফল-৩: সমাজ বিকাশের বিভিন্ন স্তর যেমন- শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক, উদ্যান কৃষি, পশুপালন, কৃষিভিত্তিক, শিল্পভিত্তিক ও শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী সমাজের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা বর্ণনা করতে পারব;

শিখনফল-৪: বিবর্তনের বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে বাংলাদেশের সমাজের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে পারব,

শিখনফল-৫: কৃষিভিত্তিক সমাজ ও আধুনিক সমাজের উৎপাদন পদ্ধতির তুলনা করতে পারব;

শিখনফল-৬: সমাজ বিকাশে বিবর্তনের গুরুত্ব উপলব্ধি করব।

পাঠ্যবইয়ের প্রশ্নের উত্তর শিখি

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

১. সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ কোনটি?

(ক) গোত্র

(খ) গোষ্ঠী

(গ) সম্প্রদায়

(ঘ) পরিবার

২. নারীই প্রথম কৃষিকাজ শুরু করেন, কারণ তাদের ছিল-

i. সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি

ii. খাবার সংগ্রহের দায়িত্ব পালন

iii. দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা

নিচের কোনটি সঠিক?

(ক) i 

(খ) iii 

(গ) i ও ii 

(ঘ) i, ii ও iiii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:

স্কুল মাঠে একটি মেলা হচ্ছে। একটি স্টল স্পিনিং মেশিন, কাপড় বুননের তাঁত, বিদ্যুৎ তৈরির ছোটো ছোটো প্রজেক্ট দিয়ে সাজানো হয়েছে।

৩. অনুচ্ছেদে স্টলটিতে কোন সমাজের নিদর্শন রয়েছে?

(ক) শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক

(খ) উদ্যান কৃষিভিত্তিক

(গ) কৃষিভিত্তিক

(ঘ) শিল্পভিত্তিক

৪. উক্ত সমাজব্যবস্থার ফলে-

i. অধিক উৎপাদন নিশ্চিত হয়েছে

ii. কৃষির সূচনা হয়েছে

iii. যোগাযোগ সহজতর হয়েছে

নিচের কোনটি সঠিক?

(ক) i

(খ) i ও ii

(গ) i ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর শিখিঃ

ক. পোড়াবাড়ি কিসের জন্য বিখ্যাত?

খ. আদিম মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বাস করত কেন?

গ. উদ্দীপকে ১নং চিত্রটি কোন সমাজের ইঙ্গিত বহন করছে, ৩ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ২নং চিত্রে ইঙ্গিতকারী সমাজের উদ্ভাবক মেয়েরাই বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

১নং প্রশ্নের উত্তরঃ

(ক)  পোড়াবাড়ি চমচমের জন্য বিখ্যাত।

(খ) আদিমকালে জীবজন্ধুর আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা বিপদের সামনে মানুষ ছিল অসহায়। অস্তিত্ব রক্ষা আর জীবনযাপনের চাহিদা পূরণের জন্য তারা একে অন্যকে সহযোগিতা করার প্রয়োজন অনুভব করে। তাই খাদ্য সংগ্রহ ও হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আদিম মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বাস করত।

(গ) উদ্দীপকে ১নং চিত্রটি শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজকে ইঙ্গিত করছে।

শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ হচ্ছে মানব সমাজের আদিমতম রূপ। তখন স্থায়ী কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। মানুষ গুহায় ও বনজঙ্গলে বাস করত। প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল প্রচুর। কিন্তু এ সম্পদকে ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদন করতে শেখেনি। বনজঙ্গল থেকে তারা খাবার খুঁজে নিও আর শিকার করত। খাবারের খোঁজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াত। এ সময় মানুষ শীত ও রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ গাছের ছাল ও লতাপাতা এবং পশুর চামড়া ব্যবহার করত।

উদ্দীপকে ১নং চিত্রে দেখা যায়, একজন মানুষ অস্ত্র (বর্ণা) হাতে শিকার করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। লোকটির পরনে রয়েছে পশুর চামড়ার তৈরি বস্তু। এসব বৈশিষ্ট্য শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজকে নির্দেশ করে।

(ঘ) উদ্দীপকের ২নং চিত্রে ইঙ্গিতকারী সমাজটি হচ্ছে উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, মেয়েরাই প্রথম কৃষিকাজের উদ্ভাবন করেছে। আদিম সমাজে পুরুষেরা যেত শিকারের সন্ধানে। আর ফলমূল সংগ্রহের ভার ছিল মেয়েদের ওপর। খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে মেয়েরা নিয়ে আসত বুনো গম, বার্লির মেটে আলু, কচুর মূল ও কন্দ। তাদের থাকার জায়গার পাশে গম ও বার্লি দানা পড়ে গজিয়ে উঠত চারা গাছ। চারা গাছে পরে দেখা দিত শিষ ও দানা। এ ঘটনা দেখেই মেয়েদের মনে বীজ ছিটিয়ে শস্য পাওয়ার ধারণা সৃষ্টি হয়। কৃষিকাজের এ পর্যায়কে বলা হয় উদ্যান চাষ।

উদ্দীপকের ২নং চিত্রে দেখা যায়, মেয়েরা কৃষিকাজ করছে। সুতরাং বলা যায়, ২নং চিত্রে মূলত উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজের কথা বলা হয়েছে। আর এ সমাজের উদ্ভাবক মেয়েরাই। সুতরাং প্রশ্নে উল্লিখিত বক্তব্যটি যথার্থ।

গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তরঃ

১. মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বাস করে কেন?

(ক) নিরাপদ ও শান্তিতে বেঁচে থাকার জন্য

(খ) রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলার জন্য

(গ) কৃষিভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য

(ঘ) হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য

২. মানব সমাজ বলতে যা বোঝায়-

(ক) ঐক্যহীন মানবগোষ্ঠী

(খ) শিক্ষিত মানবগোষ্ঠী

(গ) একতাবদ্ধ মানবগোষ্ঠী

(ঘ) শহরকেন্দ্রিক মানবগোষ্ঠী

৩. আদিকালে মানুষ কীসের ওপর নির্ভরশীল ছিল?

(ক) সম্পদের ওপর

(খ) আত্মবিশ্বাসের ওপর

(গ) অন্যের ওপর

(ঘ) প্রকৃতির ওপর

৪. মিলেমিশে থাকা একতাবদ্ধ মানবগোষ্ঠীকে কী বলে?

(ক) জাতি

(খ) সম্প্রদায়

(গ) সমাজ

(ঘ) পরিবার

৫. সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ কোনটি?

(ক) গোত্র

(খ) পরিবার

(গ) সম্প্রদায়

(ঘ) জাতি

৬. সমাজ গঠনে পরিবারের পরবর্তী ধাপ কোনটি?

(ক) গোত্র

(খ) সম্প্রদায়

(গ) ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী

(ঘ) বৃহৎ জাতিগোষ্ঠী

৭. সাধারণভাবে সমাজের করটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান?

(ক) ২টি

(খ) ৩টি

(গ) ৪টি

(ঘ) ৫টি

৮. সমাজের প্রথম বৈশিষ্ট্য কোনটি?

(ক) বহুলোকের সংঘবদ্ধ বসবাস

(খ) পরিবার গঠন

(গ) শহরাঞ্চলে বসবাস

(ঘ) গ্রামাঞ্চলে বসবাস

৯. সমাজ বলতে কী বোঝায়?

(ক) মানুষের আত্মিক সম্পর্ক

(খ) মানুষের জৈবিক সম্পর্ক

(গ) মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক

(ঘ) মানুষের নৈতিক সম্পর্ক

১০. নোমানদের গ্রামের মানুষ একে অপরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করে। এর ফলে কোনটি গড়ে উঠেছে?

(ক) সামাজিক সম্পর্ক

(খ) সামাজিক কাঠামো

(গ) সামাজিক পরিবর্তন

(ঘ) সামাজিক স্তরবিন্যাস

১১. সাধারণভাবে সমাজের বৈশিষ্ট্য হলো-

i. বহু লোকের সংঘবদ্ধভাবে বসবাস

ii. সংঘবদ্ধতার পিছনে কোনো উদ্দেশ্য থাকা

iii. পরিবারের উপস্থিতি

নিচের কোনটি সঠিক?

(ক) i ও ii

(খ) i ও iii

(গ) i ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

উদ্দীপকটি পড়ে ১২ ও ১৩নং প্রশ্নের উত্তর দাও:

প্রাচীনকালে অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ সংঘবদ্ধ হয়েছিল। গড়ে তুলেছিল পরিবার, যার মাধ্যমে পরবর্তীতে সমাজ সৃষ্টি হয়। বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

১২. উদ্দীপকে কোন বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে?

(ক) সমাজ সৃষ্টির ইতিহাস

(খ) প্রাচীন মানুষের কথা

(গ) আদিম মানুষের কথা

(ঘ) প্রাচীন সমাজের ইতিহাস

১৩. উন্দ্র বিষয়টি সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিল-

i. সংঘবন্ধভাবে বসবাস

ii. পরস্পর সহযোগিতা

iii. পরস্পর বিরোধ

নিচের কোনটি সঠিক?

(ক) i ও ii

(খ) i ও iii

(গ) i ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

১৪. পৃথিবীর প্রধান সভ্যতাগুলো ছিল-

(ক) নদীভিত্তিক

(খ) গ্রামভিত্তিক

(গ) নগরভিত্তিক

(ঘ) কৃষিভিত্তিক

১৫. কোন নদীর তীরে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে ওঠে?

(ক) নীল নদ

(খ) ইউফ্রেটিস

(গ) টাইগ্রিস

(ঘ) সিন্ধু

১৬. কোন নদের তীরে মিশরীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে?

(ক) টাইগ্রিস নদ

(খ) সিন্ধু নদ

(গ) নীল নদ

(ঘ) ইউফ্রেটিস নদ

১৭. মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছে-

(ক) গঙ্গা অববাহিকায়

(খ) নীল নদের তীরে

(গ) টাইগ্রিস নদীর তীরে

(ঘ) সিন্ধু নদের তীরে

১৮. বিখ্যাত ঢাকাই শাড়ি কোথায় বোনা হয়?

(ক) ঢাকার চকবাজারে

(খ) ঢাকার ডেমরায়

(গ) নারায়ণগঞ্জে

(ঘ) ঢাকার তাঁতিবাজারে

১৯. রেশমি শাড়ির জন্য বিখ্যাত জেলা কোনটি?

(ক) ঢাকা

(খ) রাজশাহী

(গ) নারায়ণগঞ্জ

(ঘ) টাঙ্গাইল

২০. রেশম কীট বাসা বাঁধে কোন গাছে?

(ক) রেশম গাছ

(খ) কুঁতগাছ

(গ) কাঁঠাল গাছ

(ঘ) আম গাছ

২১. কোন এলাকার খেজুর গুড় বিখ্যাত?

(ক) ঢাকা

(খ) মানিকগঞ্জ

(গ) গোপালগঞ্জ

(ঘ) ফরিদপুর

২২. কোন এলাকার মন্ডা বিখ্যাত?

(ক) ফরিদপুর

(খ) মুক্তাগাছা

(গ) টাঙ্গাইল

(ঘ) ময়মনসিংহ

২৩. কোন বনের মধু বিখ্যাত?

(ক) বান্দরবান

(খ) ভাওয়ালের গড়

(গ) সুন্দরবন

(ঘ) মধুপুরের গড়

২৪. শীতল পাটির জন্য বিখ্যাত কোন এলাকা?

(ক) টাঙ্গাইল

(খ) ময়মনসিংহ

(গ) রাজশাহী

(ঘ) সিলেট

২৫. সোনারগাঁও-এর বিখ্যাত শিল্প কোনটি?

(ক) শীতল পাটি

(খ) রেশম শিল্প

(গ) মসলিন শিল্প

(ঘ) কুটিরশিল্প

২৬. গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষ কোন ধরনের কাপড় পরে?

(ক) হালকা সুতি

(খ) গরম পশমি

(গ) ভারী সুতি

(ঘ) ঠান্ডা পশমি

২৭. মানুষের জীবনধারাকে সহজ করে দেয় কোন ভৌগোলিক উপাদান?

(ক) বন

(খ) খনিজ

(গ) নদী

(ঘ) জলবায়ু

২৮. সোনারগাঁওয়ের মসলিন শিল্প বিকাশ লাভ করেছিল-

i. অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ

ii. দক্ষ শ্রমিকের উপস্থিতি

iii. কাঁচামালের সহজলভ্যতা

নিচের কোনটি সঠিক?

(ক) i ও ii

(খ) i ও iii

(গ) i ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

২৯. যেসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত সেখানে-

i. সহজেই শিল্পায়ন ঘটে

ii. সহজেই নগরায়ণ ঘটে

iii. ধীরে ধীরে শিল্পায়ন ঘটে

নিচের কোনটি সঠিক?

(ক) i ও ii

(খ) i ও iii

(গ) i ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

৩০. নৌ যোগাযোগ ভালো বলে অনেক আগে থেকেই শিল্প প্রতিষ্ঠান

গড়ে উঠেছে-

i. রাজশাহীতে

ii. নারায়ণগঞ্জে

iii. চট্টগ্রাম

নিচের কোনটি সঠিক?

(ক) i ও ii

(খ) i ও iii

(গ) i ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

৩১. বাংলাদেশের সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময় কারণ-

i. ধর্মের ভিন্নতা

ii. পেশার ভিন্নতা

iii. ভৌগোলিক পরিবেশ

নিচের কোনটি সঠিক?

(ক) i ও ii

(খ) i ও iii

(গ) i ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

৩২. কালের সুদীর্ঘ যাত্রাপথে সমাজের পরিবর্তনকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?

(ক) ২টি

(খ) ৬টি

(গ) ৪টি

(ঘ) ৮টি

৩৩. মানব সমাজের আদিমতম রূপ কোনটি?

(ক) উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ

(খ) পশুপালন সমাজ

(গ) শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ

(ঘ) কৃষিভিত্তিক সমাজ

৩৪. আদিম সমাজের প্রধান কাজ কোনটি?

(ক) খাদ্য উৎপাদন

(খ) পশুপাখি পালন

(গ) শিকার ও খাদ্য সংগ্রহ

(ঘ) ফলমূল চাষ

৩৫. আদিম সমাজে মেয়েদের কাজ কী ছিল?

(ক) খাদ্য সংগ্রহ

(খ) ফলমূল সংগ্রহ

(গ) পশুপাখি ও মৎস্য শিকার

(ঘ) পশুপাখি পালন

৩৬. শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজের প্রধান হাতিয়ার কোনটি?

(ক) পাথর

(খ) কুড়াল, হারপুন

(গ) দা, বল্লম

(ঘ) দা, হারপুন

৩৭. সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কারা কৃষিকাজের উদ্ভাবন করেছে?

(ক) পুরুষেরা

(খ) মেয়েরা

(গ) যুবকেরা

(ঘ) বয়স্ক নারীরা

৩৮. শিকারি মানুষ প্রথমে কোন প্রাণীকে পোষ মানিয়ে গৃহপালিত পশুতে পরিণত করে?

(ক) গরু

(খ) মহিষ

(গ) কুকুর

(ঘ) বিড়াল

৩৯. কোন সমাজে দ্রব্য বিনিময় প্রথার উদ্ভব ঘটে?

(ক) শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজে

(খ) উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজে

(গ) পশুপালন সমাজে

(ঘ) কৃষিভিত্তিক সমাজে

৪০. দ্রব্য বিনিময় প্রথার উদ্ভব ঘটে কোন সমাজে?

(ক) প্রস্তুর যুগে   

(খ) উদ্যান কৃষিভিত্তিক 

(গ) শিল্পবিপ্লব

(ঘ) পশুপালন সমাজ

পুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন ১। সমাজ বলতে কী বোঝ?

উত্তর: সমাজ হলো ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত সামাজিক সংগঠন। মানুষ সমাজবস্থ জীব। নিরাপদে ও শান্তিতে বেঁচে থাকার জন্য সবাই দলবদ্ধভাবে বাস করে। আর মিলেমিশে থাকা একতাবদ্ধ মানবগোষ্ঠীকে বলা হয় সমাজ।

প্রশ্ন ২। মানুষ সমাজ গড়ে তুলেছে কেন?

উত্তর: আদিমকালে জীবজন্তুর আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা বিপদের সায়নে মানুষ ছিল অসহায়। অস্তিত্ব রক্ষা আর জীবনযাপনের চাহিদা পূরণের জন্য মানুষ একে অন্যকে সহযোগিতা করার প্রয়োজন অনুভব করে। এভাবে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে গিয়ে মানুষ সমাজ গড়ে তুলেছে।

প্রশ্ন ৩। সমাজ কীভাবে পড়ে ওঠে?

উত্তর: মানুষ একাকী বাস করতে পারে না। নিরাপদে ও শান্তিতে বেঁচে থাকার জন্য সবাই দলবদ্ধভাবে বাস করে। ফলে গড়ে ওঠে সাহায্য-সহযোগিতা, সহানুভূতি, স্বন্দ্ব ও পারস্পরিক নির্ভরতার মতো 'রিভিন্ন সম্পর্ক। সামাজিক এসব সম্পর্কের মাধ্যমেই সমাজ গড়ে ওঠে।

প্রশ্ন ৪। পরিবার বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ হচ্ছে পরিবার। মা-বাবা তাদের এক বা একাধিক সন্তান নিয় একসাথে বসবাস করে যা এক রকমের পরিবার। কোনো কোনো পরিবারে বাবা-মা ও তাদের সন্তান ছাড়াও ভাই-বোন, চাচা-চাচি, দাদা-দাদিসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের বন্ধন ও কার্যকলাপের সমন্বয়ে পরিবার গড়ে ওঠে।

প্রশ্ন ৫। সমাজের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বা সংঘের নাম লেখ।

উত্তর: মানুষ একাকী বাস করতে চায় না। এজন্য মানুষ সমাজকথ হয়ে বসবাস করে এবং সমাজের মধ্যে ছোটো ছোটো প্রতিষ্ঠান ও সংখ গড়ে তুলে। যেমন- পরিবার, গোত্র, ক্লাব, সমিতি ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৬। কীভাবে বৃহৎ সমাজের উদ্ভব হয়েছে?

উত্তর: খাদ্য সংগ্রহ ও হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। পরিবার থেকে গোত্র, সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়েছে মানুষ। এভাবে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সমাজের উদ্ভব হয়েছে।

প্রশ্ন ৭। সমাজের দুটি বৈশিষ্ট লেখ।

উত্তর: সাধারণভাবে সমাজের দুটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এর প্রথমটি হচ্ছে, বহুলোকের সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করা। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সংঘবদ্ধতার পিছনে কোনো উদ্দেশ্য থাকা।

প্রশ্ন ৮। পৃথিবীর প্রধান সভ্যতাগুলো কীভাবে গড়ে উঠেছে?

উত্তর: পৃথিবীর প্রধান সভ্যতাগুলো নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

যেমন- সিন্ধু নদীর তীরে সিন্ধু সভ্যতা, নীল নদের তীরে মিশরীয় সভ্যতা, টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতা গঙ্গা অববাহিকতার বিকাশ লাভ করেছে।

প্রশ্ন ৯। কুটিরশিল্প বিকাশে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব কেমন?

উত্তর: কুটিরশিল্প বিকাশে ভৌগোলিক পরিবেশের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। যেমন- নদীবহুল ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ঢাকার, ডেমরায় তাঁতিরা যাস করে এবং এখানেই বিখ্যাত ঢাকাই শাড়ি বোনা হয়। রাজশাহীতে রেশমি শাড়ি তৈরির জন্য বস্ত্রশিল্প গড়ে উঠেছে। কারণ এ অঞ্চলে কুঁতগাছ জন্মে এবং কুঁতগাছে রেশম কীট বাসা বাঁধে।

প্রশ্ন ১০। কোন ধরনের এলাকায় সহজে শিল্পায়ন ঘটে?

উত্তর: যেসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত সেখানে সহজেই শিল্পায়ন ঘটে এবং নগর গড়ে ওঠে। নৌ-যোগাযোগ ভালো বলে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অনেক আগে থেকেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ যে এলাকায় 'যোগাযোগ ব্যবস্থা যত ভালো সে এলাকায় তত বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

প্রশ্ন ১১। সমাজের পরিবর্তনকে কয়টি ভাগে ভাগ হয় এবং কী কী?

উত্তর: কালের সুদীর্ঘ যাত্রাপথে সয়াজের পরিবর্তনকে ছয়টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. শিকার ও সংগ্রহভিত্তিক সমাজ;

২. উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ;

৩. পশুপালন সমাজ;

৪. কৃষিভিত্তিক সমাজ;

৫. শিল্পভিত্তিক সমাজ;

৬. শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সমাজ।

প্রশ্ন ১২। আদিম সমাজের জীবনব্যবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর: শিকার ও খাদ্য ও সংগ্রহভিত্তিক সমাজ হচ্ছে মানবসমাজের আদিতম রূপ। তখন স্থায়ী কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। মানুষ গুহায় ও বনজঙ্গলে বাস করত। বনজঙ্গল থেকে তারা খাবার খুঁজে নিত আর শিকার করত। খাবারের খোঁজে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াত।

প্রশ্ন ১৩। প্রভুরযুগের সমাজ কী? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর: যে সমাজে হাতিয়ার হিসেবে পাথর ব্যবহার করা হতো, সেই সমাজকেই প্রাগৈতিহাসিক বা প্রস্তরযুগের সমাজ বলা হয়। প্রস্তুরযুগে মেয়েরা ফলমূল সংগ্রহ করত। আর পুরুষেরা শিকার করত। ঐ যুগের মানুষ ফলমূল সংগ্রহ ও শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত।

প্রশ্ন ১৪। প্রাগৈতিহাসিক যুগের কয়েকটি হাতিয়ারের নাম লেখ।

উত্তর: প্রাগৈতিহাসিক যুগের হাতিয়ারগুলো হচ্ছে খাঁজকাটা বল্লম, মাছ ধরার হারপুন এবং হাড়ের সুই ইত্যাদি। শীত ও রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ গাছের ছাল ও লতাপাতা এবং পশুর চামড়া ব্যবহার করত।

প্রশ্ন ১৫। মানুষ কখন খাদ্য উৎপাদন করতে শিখে?

উত্তর: উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজে খাদ্য সংগ্রহকারী মানুষ খাদ্য উৎপাদন করতে শিখে। এই সমাজে পুরুষেরা যেত শিকারের সন্ধানে। আর ফলমূল আহরণের ভার ছিল মেয়েদের ওপর। ফলমূল সগ্রহ করতে গিয়ে কখনো তারা নিয়ে আসত বুনো গম ও বার্লি, মেটে আলু, কচুর মূল ইত্যাদি।

প্রশ্ন ১৬। উদ্যান চাষ বলতে কী বোঝ?

উত্তর: কৃষিকাজের বিবর্তনের একটি পর্যায়কে বলা হয় উদ্যান চাষ। আন্তানার আশপাশে গম ও বার্লির যেসব দানা পড়ত তা থেকে গজিয়ে উঠত চারাগাছ। এসব চারাগাছে পরে শিষ ও দানা দেখা দিত। এ ধরনের ঘটনা থেকে বীজ ছিটিয়ে খাওয়ার উপযোগী শস্য পাওয়ার ধারণা সৃষ্টি হয়। কৃষিকাজের এই পর্যায় উদ্যান চাষ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন ১৭। উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজের মেয়েরা কীভাবে ফসল উৎপাদন করত?

উত্তর: উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজের মেয়েরা বসবাসের আশপাশে পতিত জমিতে একটি লম্বা লাঠি বা পশুর শিং দিয়ে মাটি চিরে গর্তে বীজ ফেলে ফসল ও ফলমূল উৎপাদন করত। ফসল পাকলে পশুর চোয়ালের হাড় দিয়ে ফসল কাটত।

প্রশ্ন ১৮। পশুপালন সমাজ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পশুপালন সমাজ বলতে সেই সমাজকে বোঝায় যেখানে মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। এসময় বুনো ষাঁড়, ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া প্রভৃতি মানুষের হাতে ধরা পড়ত। এগুলো ছিল তাদের জীবন্ত খাদ্যভান্ডার। মানুষ ক্রমে বুঝতে পারে গরু, ছাগল, ভেড়াকে না মেরে বাঁচিয়ে রাখলে বেশি লাভজনক। এভাবে পশুপালন সমাজ গড়ে উঠে।

প্রশ্ন ১৯। বিনিময় প্রথা বলতে কী বোঝ?

উত্তর: একটি পণ্যের বিনিময়ে অন্য কোনো পণ্য বিনিময় সনাতন পদ্ধতি হলো বিনিময় প্রথা। পশুপালন সমাজে বিনিময় প্রথার উদ্ভব ঘটে। এ সমাজে একজনের পণ্যের সঙ্গে অন্য পশু কিংবা অন্য কিছু বদল করার প্রচলন চালু ছিল।

প্রশ্ন ২০। কৃষিকাজ কীভাবে বিস্তার লাভ করে?

উত্তর: বন্যা ও বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষিকাজ বিস্তার লাভ করে। লাঙল ও হালের বলদ ব্যবহার করে চাষ শুরু হলে উৎপাদন বাড়তে থাকে। যেসব অঞ্চলে রন্যা হতো এবং জমিতে পলি পড়ত মানুষ সেসব জমিতে গম ও বার্লির বীজ ছিটিয়ে দিত। যে যুগে পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকায় প্রচুর বৃষ্টি হতো। তাই কৃষিকাজ এসব অঞ্চলে ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে।

প্রশ্ন ২১। 'সভ্যতা সৃষ্টিতে কৃষির অবদান'- লেখ।

উত্তর। কৃষিকাজের মধ্য দিয়ে সমাজজীবন ও সভ্যতার উন্নতি হতে থাকে। কৃষিকাজের উপযোগী স্থানে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এ সমাজের উদ্বৃত্ত ফসল অবসর জীবনযাপনকারী শ্রেণির উদ্ভব করে। এেেদর মধ্যে কেউ কেউ ব্যবসায়-বাণিজ্যে অংশগ্রহণ করে এবং নগর জীবনের বিকাশে ভূমিকা রাখে। কৃষির উদ্বৃত্ত ফসল সত্যতার সূচনা করে। একারণে বলা হয়, সভ্যতা হচ্ছে কৃষির অবদান।

প্রশ্ন ২২। কৃষিভিত্তিক সমাজের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর: কৃষিভিত্তিক সমাজের তিনটি বৈশিষ্ট হলো-

১. খাদ্য উৎপাদনে পশুর ব্যবহার শুরু হয়।

২. সমাজজীবন ও সভ্যতার উন্নতি হতে থাকে।

৩. মানুষ স্থায়ীভাবে এক স্থানে বসবাস শুরু করে।

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তরঃ

প্রশ্ন-১ঃ ছকের আলোকে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

ক. সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ কোনটি?

খ. সমাজের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ।

গ. ছকে চিহ্নিত স্থানে কী হবে? এর সাথে মানুষের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর। 

ঘ. প্রদত্ত ছকটির ধারাবাহিকতা মূল পাঠের আলোকে বিশ্লেষণ কর। 

১নং প্রশ্নের উত্তরঃ

(ক) সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ হলো পরিবার।

(খ) সমাজেয় দুটি বৈশিষ্ট্য হলো- ১. বহু লোকের সংঘবদ্ধভাবে রসবাস করা; ২. সংঘবদ্ধতার পিছনে কোনো উদ্দেশ্য থাকা।

(গ) ছকে 'Q' স্থানটিতে যে শব্দটি হবে, তা হলো সমাজ।

সমাজের সাথে মানুষের সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ। কারণ সমাজের সৃষ্টি মানুষকে নিয়েই। মানুষ ছাড়া সমাজ কল্পনা করা যায় না। খাদ্য সংগ্রহ ও হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আদিম মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বাস করা শুরু করে। এভাবে প্রয়োজনের তাগিদ থেকে পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে সমাজ। আর সমাজের মূল ভিত্তি হচ্ছে ঐক্য, কন্ধুত্ব ও সংঘবদ্ধতা। পরিবার থেকে গোত্র, সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়েছে মানুষ। এভাবে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সমাজের উদ্ভব হয়েছে।

উদ্দীপকের ছকে যথাক্রমে পরিবার, গোত্র, সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠী দেখানো হয়েছে। আমরা জানি, পরিবার হলো সমাজের মূল ভিত্তি। পরিবার থেকে গোত্র, সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত হয় সমাজ। তাই বলা যায়, ছকে স্থানে সমাজ হবে।

(ঘ) প্রদত্ত ছকটিতে সমাজ গঠনের ধাপগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হয়েছে।

দৃশ্যমান ছকটিতে যেসব বিষয় রয়েছে, তন্মধ্যে প্রথম ধাপটি হলো পরিবার। পরিবার হলো সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ। মা-বাবা, ভাইবোন, চাচা-চাচি, দাদা-দাদিসহ অন্যান্য ব্যক্তির কার্যকলাপের সমন্বয়ে পরিবার গড়ে ওঠে। আবার কয়েকটি পরিবারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে গোত্র। এরপর কয়েকটি গোত্র মিলে গড়ে ওঠে সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠী। অর্থাৎ পরিবার থেকে গোত্র, গোত্র থেকে সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়ে মানুষ। এভাবে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সমাজের উদ্ভব হয়েছে। উদ্দীপকে দৃশ্যমান ছকটিতে প্রথমে পরিবার, পরিবারের মাধ্যমে গোত্র, কয়েকটি গোত্র মিলে সম্প্রদায় ও সম্প্রদায়ের মাধ্যমে জাতিগোষ্ঠী গঠিত হয়। আর এসবের সমন্বিত রূপ হলো সমাজ।

তাই বলা যায়, প্রদত্ত ছকটির ধারাবাহিকতা সঠিক হয়েছে।


প্রশ্ন-২ঃ লভ্য তার পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় বসবাস করে। কাছাকাছি বাড়িঘর না থাকায় তার তেমন কোনো খেলার সঙ্গীও নেই। দিনাজপুরে প্রথমবারের মতো ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে এসে সে রীতিমতো অবাক হয়ে যায়। আশপাশে অনেক বাড়িঘর। লোকগুলো যেখানে ইচ্ছা সেখানে খুব সহজেই গমন করছে, যা তাদের জন্য কল্পনাতীত বিষয়।
ক. কোন নদীর তীরে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে ওঠে?

খ. সকলের মিলেমিশে থাকার ক্ষেত্রে সমাজের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই অঞ্চলের লোকদের জীবনধারার মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে মানবসমাজে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

২নং প্রশ্নের উত্তরঃ
(ক) সিন্ধু নদের তীরে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে ওঠে।

(খ) সকলের মিলেমিশে থাকার ক্ষেত্রে সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই মানুষ সমাজে বাস করে। মানুষের মানবিক বিকাশ ও প্রত্যাশার কারণে একজন আরেকজনের সান্নিধ্য কামনা করে। প্রেমপ্রীতি-ভালোবাসার গভীর বন্ধন মানুষকে একতাবদ্ধ করে তোলে। সকলকে নিয়ে মিলেমিশে থাকার ক্ষেত্রে সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই অঞ্চলের লোকদের জীবনধারায় প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। এজন্যই মানব সমাজের প্রকৃতি, আচার-আচরণ ও সংস্কৃতির ওপর পরিবেশের প্রভাব স্পষ্ট।

উদ্দীপকেও দেখা যায়, উভয় অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, উদ্ভিদ প্রাণী, যাতায়াত ব্যবস্থা, সংস্কৃতির ভিন্নতা রয়েছে। মানুষের খাদ্যাভ্যাস, আচার-ব্যবহার, নিয়মকানুন, পোশাক-পরিচ্ছদ, সামাজিক রীতিনীতি, বিশ্বাস ইত্যাদি উভয় অঞ্চলের নিজ নিজ পরিবেশ উপযোগী হয়ে গড়ে উঠেছে। পাহাড়ি এলাকা হচ্ছে দুর্গম। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাতায়াত কষ্টসাধ্য। এজন্য পাহাড়ি এলাকায় জনবসতি কম। অন্যদিকে দিনাজপুর সমভূমি অঞ্চল। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে যাতায়াত করা যায়। কাজের সুযোগ পাহাড়ি এলাকা থেকে সমভূমি অঞ্চলে বেশি এবং পণ্য পরিবহনও সহজে করা যায়। সমভূমি অঞ্চলে ব্যবসায়-বাণিজ্যের যোগাযোগ দ্রুত করা যায়। ভৌগোলিক কারণেই মূলত উল্লিখিত দুই অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

সুতরাং বলা যায়, দুই অঞ্চলের লোকদের মধ্যে জীবনধারণের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়।

(ঘ) মানবসমাজের ওপর ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানবসমাজ ও ভৌগোলিক পরিবেশের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। ভৌগোলিক পরিবেশ সাধারণত ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, যাতায়াত ব্যবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, সংস্কৃতি, আচার-ব্যবহার, পোশাক-পরিচ্ছদ, সামাজিক রীতিনীতি, বিশ্বাস প্রভৃতির ওপর প্রভাব বিস্তার করে। যে অন্যলের মাটি, উর্বর, সে অনঞ্চলে উৎপাদন সহজ হয়। যেসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, সেখানে সহজেই শিল্পায়ন ঘটে। কুটির শিল্প, ঘরবাড়ির বৈশিষ্ট্যের ওপরও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। পাছপালা, পাহাড়-পর্বত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, লতার পাহাড়ি এলাকার পরিবেশ এবং দিনাজপুরের ফুফুর বাড়ির ভৌগোলিক পরিবেশের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। ভিন্ন ভিন্ন এলাকা হওয়ায় সেখানকার বাড়িঘর, যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রভৃতিতে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।

সুতরাং বলা যায়, মানবসমাজের ওপর ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম।


প্রশ্ন-৩ঃ আফসার সাহেব নদীর তীরে বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। বাড়ির কাছাকাছি জমিতে তিনি একটি কারখানা গড়ে তোলেন। আস্তে আস্তে কারখানার কর্মচারীরা সেখানে বসবাস শুরু করে।

ক. মানব সমাজের আদিমতম রূপ কোন সমাজ?

খ. কুটির শিল্প বিকাশে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

গ. আফসার সাহেবের জীবনে ভৌগোলিক পরিবেশের কোন উপাদানটি প্রভাব ফেলেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মানবজীবনে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তরঃ

(ক) শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ হলো মানব সমাজের আদিমতম রূপ।

(খ) কুটির শিল্প বিকাশেও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। নদীবহুল এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ঢাকার ডেমরায় তাঁতিরা বাস করে এবং এখানেই বিখ্যাত ঢাকাই শাড়ি বোনা হয়। রাজশাহীতে রেশমি শাড়ি তৈরির জন্য বস্ত্রশিল্প গড়ে উঠেছে। কারণ এ অন্যলে র্ভুত গাছ জন্মে এবং তুঁত গাছে রেশম কীট বাসা বাঁধে।

(গ) আফসার সাহেবের জীবনে ভৌগোলিক উপাদানের 'নদী' নামক উপাদানটি' প্রভাব ফেলেছে। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজকে কেন্দ্র করেই মানুষ জীবনের দ্বায়িত্ব লাভ করে। ভৌগোলিক উপাদান বলতে ভূপ্রকৃতির অবস্থা, জলবায়ু, তাপমাত্রা, মাটির উর্বরতা, ঝড়-বৃষ্টি, ভূমিকম্প, নদনদী, পাহাড়-পর্বত, নিবিড় অরণ্য, মরুভূমি ইত্যাদিকে বোঝায়। নদী মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে দেয়। পৃথিবীর প্রধান সভ্যতাগুলো ছিল নদীভিত্তিক। যেমন- সিন্ধু নদের তীরে সিন্ধু সভ্যতা, নীল নদের তীরে মিশরীয় সভ্যতা, টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতা গঙ্গা অববাহিকায় বিকাশ লাভ করেছে। তদ্রূপ উদ্দীপকের আফসার সাহেব নদীর তীরে বসতবাড়ি ও কারখানা গড়ে তুলেছেন। ধীরে ধীরে সেখানে জনবসতি বাড়তেও থাকে। তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আফসার সাহেবের জীবনে ভৌগোলিক পরিবেশের 'নদী' উপাদানটিই প্রভাব ফেলেছে।

(ঘ) মানবজীবনে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশের যথেষ্ট প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল মানুষের বসবাস উপযোগী এবং খাদ্যের পর্যাপ্ত যোগান থাকায় সেখানে সভ্যতা গড় ওঠে। নদী-তীরবর্তী সভ্যতাগুলো ভৌগোলিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। মানবদেহের গঠন-প্রকৃতির ওপর ভৌগোলিক উপাদানের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। আবার মানুষের পেশাও ভৌগোলিক প্রভাবে নির্ধারিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করেই গড়ে ওঠে দেশের বড় বড় শিল্প ও কলকারখানা, যেখানে কর্মরত থাকে অসংখ্য নারী-পুরুষ। ভৌগোলিক উপাদানের ওপর ঘরবাড়ির বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষ হালকা কাপড়; যেমন- টপস, টি-শার্ট, গেঞ্জি ইত্যাদি পরিধান করে। অন্যদিকে শীতপ্রধান দেশের মানুষ জ্যাকেট, কোট-টাই, গরম পশমি কাপড় ইত্যাদি পরিধান করে। এছাড়াও নীতিবোধ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানব প্রকৃতি ও দক্ষতা, নৃগোষ্ঠী, বিবাহ ও পরিবার জীবন, আড্ডা, অপরাধ, জীবন ও জীবিকা প্রভৃতি ক্ষেত্রে মানবজীবনে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।


প্রশ্ন-৪ঃ শামসুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি পালন করে। তাদের জীবিকা নির্ভর করে এসব পশু পালনের ওপর। একসময় তারা অনেক দরিদ্র ছিল, এখন আর তারা আগের মতো। অর্থকষ্টে ভোগে না। তারা এখন স্বাবলম্বী। তাদের পরিবারের পাঁচ সদস্যের জীবন-জীনিকা এ দিয়েই চলে। পশুপালনের মাধ্যমে সমাজের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে।

ক. উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ বিকশিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?

খ. কৃষিকাজের উদ্ভাবক কারা? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের শামসুর রহমানের পেশার উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. শামসুর রহমানের স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো পশুপালন- বিশ্লেষণ কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তরঃ

(ক) উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ বিকশিত হয়ে পশুপালন সমাজে পরিণত হয়।

(খ) সমাজবিজ্ঞানিগণ বলেন, মেয়েরাই কৃষিকাজ উদ্ভাবন করেছে। খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা আনত বুনো গম ও বার্লি, মেটে আলু, কচুর মূল ও কন্দ। তাদের থাকার জায়গার আশপাশে গম ও বার্লির দানা পড়ে গজিয়ে উঠত চারা গাছ। চারা গাছে পরে দেখা দিত শিষ ও দানা। এ ঘটনা দেখেই মেয়েদের মনে বীজ ছিটিয়ে শস্য পাওয়ার ধারণা জন্মে। মেয়েরা জমিতে গর্ত করে বীজ বুনত এবং ফসল ফলাত।

(গ) উদ্দীপকের শামসুর রহমান পশুপালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। তার এ পেশার উৎপত্তি পশুপালনভিত্তিক সমাজ থেকে হয়েছে।

উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ বিকশিত হয়ে পশুপালন সমাজে পরিণত হয়। এ সমাজ গড়ে উঠেছে এক বিশেষ ধরনের ভৌগোলিক পরিবেশে। এ ভৌগোলিক পরিবেশের মধ্যে ছিল তৃণভূমি, মরুভূমি, পাহাড়-পর্বতের সেই অঞ্চল যেখানে প্রচুর ঘাস জন্মাত। এ সমাজের মানুষ, গরু-ছাগল, ভেড়া, উট ও বলগা হরিণকে পোষ মানাতে শুরু করে। এরা পশুর খাদ্যের জন্য আর এভাবেই মানুষের পেশার উৎপত্তি হয়েছে।

উদ্দীপকে শামসুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়। এভাবে সমাজের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে। শামসুর রহমানের মতো যারা এরূপ পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে,তাদের এ পেশার উৎপত্তি হয়েছে পশুপালনভিত্তিক পেশা থেকে।

(ঘ) শামসুর রহমানের স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো পশুপালন।-উক্তিটি যথার্থ।

পশুপালনের মাধ্যমে সমাজের বিশেষ করে বাংলাদেশের অনেক মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। দেখা গেছে গরু-ছাগল, মহিষ, ভেড়া প্রভৃতি পশুপালন করলে অল্প সময়ে এগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বাচ্চা বড় হলে তা বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়। পশুর বাচ্চা হওয়া পর্যন্ত দেখাশোনা করতে যে অর্থ ব্যয় হয়, তা অতি সামান্য। তাই বছর পার না হতেই লাভের মুখ দেখা যায়। এছাড়া হাঁস-মুরগি, কবুতর প্রভৃতি পালনও বেশ লাভজনক।

উদ্দীপকের শামসুর রহমান একসময় অনেক দরিদ্র ছিল। বর্তমানে গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি পালন করে তারা স্বাবলম্বী হয়েছে। তাদের পরিবারের সবার জীবিকা এর মাধ্যমেই নির্বাহ হ্যা। এভাবে পশুপালন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে।

সুতরাং বলা যায়, সমাজে শামসুর সাহেবের মতো স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো পশুপালন- উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিসংগত।


প্রশ্ন-৫ঃ মাহিম টিভিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল খুলতেই দেখল, একদল মানুষ পাথরের হাতিয়ার দিয়ে মাটি খুঁড়ে বীজ বপন করছে। আরেক দল তৃণভূমিতে বিশাল পশুর পাল নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।

ক. আদিম সমাজের প্রধান কাজ কোনটি?

খ. বিশ্বায়ন বলতে কী বোঝায়?

গ. মাহিমের দেখা মানুষগুলো কোন সমাজের মানুষকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর। 

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম সমাজে কৃষিকাজের উন্নতিতে কতটা ভূমিকা রেখেছে? মূল্যায়ন কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তরঃ

(ক) আদিম সমাজের প্রধান কাজ ছিল শিকার ও খাদ্য সংগ্রহ।

(খ) বিশ্বায়ন বলতে সারাবিশ্বের মানুষ ও সংস্থাগুলো এবং সবগুলোর মধ্যে মিথষ্টিয়া ও সংহতকরণ প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বর্তমানে স্বয়ংক্রিনা যন্ত্র, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের নানা মাধ্যম যেমন ফেসবুক পৃথিবীর মানুষকে অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। বলা হচ্ছে সমন্ত পৃথিবী একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে। আর এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিশ্বায়ন।

(গ) উদ্দীপকের মাহিমের দেখা মানুষগুলো উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ ও পশুপালনকারী সমাজের ইঙ্গিত বহন করছে।

উদ্যান কৃষি ও পশুপালনকারী সমাজেই প্রথম খাদ্য উৎপাদন শুরু হয়। এ সময় সমাজের মেয়েরা ফলমূল সংগ্রহ করত আর পুরুষরা শিকার করত। আদিম মেয়েরা লক্ষ করে, তাদের থাকার জায়গার পাশে শস্যদানা পড়ে চারা গাছ গজিয়ে উঠেছে। এ থেকে তাদের মনে বীজ ছিটিয়ে শস্য পাওয়ার ধারণা জন্মে। তারা পাথরের হাতিয়ার দিয়ে গর্ত করে বীজ বুনে চাষা বাদ শুরু করে। আবার পশুপালনকারী সমাজের মানুষদের হাতে বুনো ষাঁড়, গরু, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, গাধা প্রভৃতি পশু ধরা পড়ত। সেগুলোকে তারা বেঁধে রাখত। শিকার না মিললে ভারা এগুলোকে বধ করে আহার করত। মানুষ ক্রমে বুঝতে পারল, এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখলে বেশি লাভজনক হবে।

উদ্দীপকের মাহিম টিভিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে দেখছিল, একদল মানুষ পাথরের হাতিয়ার দিয়ে মাটি খুঁড়ে বীজ বপন করছে, যা আদিম সময়ের কৃষিভিত্তিক সমাজকে নির্দেশ করে। আরও দেখছিলআরেক দল মানুষ তৃণভূমিতে বিশাল পশুর পাল নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, যা পশুপালন সমাজকে নির্দেশ করে।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মাহিমের টিভিতে দেখা মানুষগুলো আদিকালের উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ এবং পশুপালনকারী সমাজের মানুষের প্রতি ইঙ্গিত করে।

(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম সমাজ হলো উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ। কৃষির উন্নতিতে এ সমাজ যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছে।

উদ্যান কৃষি ও পশুপালনকারী সমাজই প্রথম খাদ্য উৎপাদন শুরু করে।

পাথরের হাতিয়ার দিয়ে মাটি খুঁড়ে মানুষ বীজ বুনে শুরু করে চাষাবাদ। সমাজবিজ্ঞানিগণ বলেন, মেয়েরাই কৃষিকাজ উদ্ভাবন করেছে। খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন রকম ফলমূল নিয়ে আসত। তাদের থাকার জায়গার পাশে এসব ফলমূলের বীজ পড়ে চারা গাছ বেড়ে উঠত। তাছাড়াও মেয়েরা জমিতে পাথরের হাতিয়ার দিয়ে গর্ত করে বীজ বুনত।

উদ্দীপকে উল্লিখিত মাহিমের টেলিডিশনে দেখা প্রথম সমাজের মানুষও পাথরের হাতিয়ার দিয়ে মাটি খুঁড়ে বীজ বপন করছে, যা উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজের বৈশিষ্ট্য বহন করে। সুতরাং বলা যায়, খাদ্য উৎপাদনের ধারণা সর্বপ্রথম শুরু হয় উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজে। তাই, কৃষির উন্নতিতে উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজের অবদান যথেষ্ট- তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

Tags

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!