
অতিথির স্মৃতি
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
অধ্যায়টি পড়ে যা শিখতে পারবে-
টিক চিহ্নিত শিখনফলের প্রশ্নগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ো-
√ ১. অবহেলিত প্রাণীর প্রতি মানুষের সহানুভূতির স্বরূপ
√ ২. সহানুভূতিশীল মানুষের প্রতি জীবজন্তুর প্রতিদানের স্বরূপ
√ ৩. জীবজন্তুর প্রতি দয়াহীন মানুষের স্বরূপ
৪. প্রকৃতি ও পরিবেশকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব
কঠিন শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা:
প্রাচীর - দেয়াল।
কৌতূহলী- নতুন কিছু জানার জন্য আগ্রহী, উৎসুক।
বাতব্যাধিগ্রস্ত - বাতরোগে আক্রান্ত।
নেমন্ত্রন্ন - আমন্ত্রণ, ভোজের আহ্বান।
প্রত্যুত্তর - পালটা জবাব, প্রত্যুাক্তি।
নির্বিকারচিত্তে - নির্লিপ্ত মনে।
উপবাস - নির্দিষ্ট সময় খাদ্য গ্রহণে বিরত থাকা, অনাহার।
সহসা - অকস্মাৎ, হঠাৎ।
বকশিশ - কোনো কাজের জন্য খুশি হয়ে প্রদত্ত পারিতোষিক, পুরস্কার।
📖✍️ গল্পটির লেখক সম্পর্কে জেনে নাওঃ
জন্মঃ
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কৈশোর ও যৌবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয় ভাগলপুরের মাতুলালয়ে।
শিক্ষা, কর্ম ও সাহিত্যসাধনাঃ
শরৎচন্দ্র কলেজের শিক্ষা শেষ করতে পারেননি।' ১৯০৩ সালে জীবিকার সন্ধানে তিনি রেঙ্গুন যাত্রা করেন। ১৯১৬ সাল পর্যন্ত তিনি রেঙ্গুনে ছিলেন এবং সেখানে অবস্থানকালে সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯০৭ সালে 'ভারতী' পত্রিকায় 'বড়দিদি' গল্প প্রকাশিত হলে তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একে একে গল্প-উপন্যাস লিখে তিনি বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকে পরিণত হন। সাধারণ বাঙালি পাঠকের আবেগকে তিনি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।
উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ
‘পল্লীসমাজ’, ‘দেবদাস’, ‘শ্রীকান্ত’ (চার পর্ব), ‘গৃহদাহ’, ‘দেনাপাওনা’, ‘পথের দাবী’, ‘শেষ প্রশ্ন’ প্রভৃতি।
পুরস্কার ও সম্মাননাঃ
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভকরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট, উপাধি লাভকরেন।
বিশেষ পরিচিতিঃ
বাংলা সাহিত্যে 'কালজয়ী কথাশিল্পী' হিসেবে পরিচিত।
জীবনাবসানঃ
বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী কথাশিল্পী ১৯৩৮ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
কুইজ-১ঃ
প্রশ্ন-১. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
প্রশ্ন-২. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শৈশব ও কৈশোর কোথায় কেটেছে?
প্রশ্ন-৩. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জীবিকার সন্ধানে কত সালে রেঙ্গুন যান?
প্রশ্ন-৪. কোন গল্পটি প্রকাশের পর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে?
প্রশ্ন-৫. 'বড়দিদি' গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
প্রশ্ন-৬. বাংলা সাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী হিসেবে পরিচিত?
প্রশ্ন-৭. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে কোন পদক প্রদান করে?
প্রশ্ন-৮. শরৎচন্দ্র চট্টোপধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
গল্প বিশ্লেষণ ঃ
ক. উৎস: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেওঘরের স্মৃতি' গল্পটির নাম পালটে এবং ঈষৎ পরিমার্জনা করে 'অতিথির স্মৃতি' শিরোনামে সংকলন করা হয়েছে।
খ. পাঠের উদ্দেশ্য: এ গল্প পাঠের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হবে এবং নতুন কোনো জায়গা ভ্রমণ করলে সেই অভিজ্ঞতা লিখে রাখতে আগ্রহী হবে।
গ. গল্পের মূলবক্তব্য: একটি মানবেতর প্রাণীর সঙ্গে একজন অসুস্থ মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মমত্বের সম্পর্কই এ গল্পের বিষয়। ডাক্তারের নির্দেশে গল্পকথক দেওঘরে আসেন বায়ু পরিবর্তনের জন্য। এখানে অবকাশ যাপনকালে একটি কুকুরের সঙ্গে লেখকের আন্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লেখক দেখিয়েছেন, মানুষে-মানুষে যেমন ফ্রেশ-প্রীতির সম্পর্ক, অন্য জীবের সজোও মানুষের তেমন সম্পর্ক গড়ে ৬০তে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক স্থায়ীরূপ পেতে বাধাগ্রস্ত হয় নানা প্রতিকূলতার কারণে। আবার এই সম্পর্কের সূত্র ধরে একজন মানুষ যখন ওই জীবের প্রতি মমতায় সিক্ত হন, তখন অন্য মানুষের আচরণও হয়ে উঠতে পারে নির্মম। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে একটি প্রাণীর মানুষের সাথে সখ্য গড়ে ওঠা, তার প্রতি ভালোবাসা এবং মানবেতর প্রাণীর প্রতিও মানুষের প্লেন-মমতার অসাধারণ শিল্পভাষ্য এই গল্প। সম্পর্কের এই বিচিত্র রূপই তুলে ধরা হয়েছে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে।
ঘ. নামকরণ: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'অতিথির স্মৃতি' গল্পটির নামকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও হৃদয়স্পর্শী। লেখক বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে গিয়ে একটি কুকুরের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। তিনি কুকুরটিকে পরম মমতায় 'অতিথি' বলে সম্বোধন করেন এবং তাকে বাড়িতে অতিথির মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানান। মানুষে-মানুষে যেমন স্নেহের সম্পর্ক হয়, অসহায় জীবের সজোও মানুষের তেমন আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে- এটাই গল্পের মূল কথা। যেহেতু তিনি তাকে অতিথির মর্যাদা দিয়েছেন এবং তার স্মৃতি স্মরণে রেখে গল্পটি লিখেছেন, তাই এই গল্পের নামকরণ 'অতিথির স্মৃতি' সার্থক হয়েছে।
ঙ. রূপশ্রেণি: 'অতিথির স্মৃতি' একটি জীবপ্রেমমূলক গল্প।
চ. ভাষা; 'অতিথির স্মৃতি' গল্পটি প্রমিত ভাষায় রচিত।
কুইজ-২ঃ
প্রশ্ন-১. 'অতিথির স্মৃতি' গল্পটি কোন গল্পের পরিমার্জিত রূপ?
প্রশ্ন-২, কার নির্দেশে লেখক দেওঘরে অবকাশ যাপন করতে গিয়েছিলেন?
প্রশ্ন-৩. লেখক কুকুরটিকে কীসের মর্যাদা দান করেছিলেন?
প্রশ্ন-৪, 'অতিথির থির স্মৃতি' স্মৃতি' গল্পটি কোন ভাষারীতিতে রচিত?
চরিত্র বিশ্লেষণঃ
১. অতিথি: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের প্রধান চরিত্র হিসেবে একটি পথের কুকুরকে পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছেন। লেখক তাকে অতিথির মর্যাদা দিয়েছেন। গল্পের মূলভাব এই চরিত্রের মধ্য দিয়েই পরিস্ফুটিত হয়েছে। ভাষাহীন এই অতিথি গল্পকথকের নানা প্রশ্নের উত্তরে কেবল লেজ নেড়ে সম্মতি-অসম্মতি জ্ঞাপন করত। আলোচ্য গল্পে কুকুরটির আনুগত্য এবং সংবেদনশীলতা পাঠক মনকে আন্দোলিত করে।
২. গল্পকথক: 'অতিথির স্মৃতি' গল্প উত্তম পূরুষে বর্ণিত হয়েছে। লেখক নিজেই গল্পকথকের ভূমিকায়, অরতীর্ণ। অসহায় প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি বা মমত্ববোধের দিকটি তাঁর চরিত্রের মধ্য দিয়ে পরিস্ফুটিত হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি দেওঘরে আসেন এবং একটি পথের কুকুরের সঙ্গে মমত্বপূর্ণ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর চরিত্রে প্রাণীপ্রেম, সহানুভূতি, সংবেদনশীলতা, জীবে দয়ার মতো অনন্য সব মানবীয় গুণাবলি ফুটে উঠেছে।
৩. মালিনী: অসহায় ইতরপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার দিকটি এই চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। গল্পকথকের বাড়ির উদ্বৃত্ত খাবারের প্রধান অংশীদার সে। সে খাওয়া সম্বন্দ্বে বাছবিচারহীন। সে চায়না তার ভাগের খাবার অতিথিকে দেওয়া যোক। এজন্য নিজের স্বার্থের কথা ভেবে সে কুকুরটিকে প্রহার করে তাড়িয়ে দিতেও কুণ্ঠিত হয় না। তাঁর চরিত্রের মধ্য দিয়ে মূলত প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা ও স্বার্থপরতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
কুইজ-৩ঃ
প্রশ্ন-১. 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের প্রধান চরিত্র কোনটি?
প্রশ্ন-২, অতিথি তার সম্মতি বা অসম্মতি কীভাবে প্রকাশ করত?
প্রশ্ন-৩. 'অতিথির স্মৃতি' গল্প কোন পুরুষে বর্ণিত হয়েছে?
প্রশ্ন-৪. গল্পকথকের চরিত্রে কোন বিশেষ মানবীয় গুণ ফুটে উঠেছে?
প্রশ্ন-৫. অসহায় প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার দিকটি কোন চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে?
প্রশ্ন-৬, গল্পকথকের বাড়ির উদ্বৃত্ত খাবারের প্রধান অংশীদার কে ছিল?
প্রশ্ন-৭. মালিনী খাওয়া সম্বন্ধে কেমন চিত্তের অধিকারী?
প্রশ্ন-৮. মালিনী কেন কুকুরটিকে প্রহার করে তাড়িয়ে দিতেও কুণ্ঠিত বোধ করত না?
জটিল প্রসঙ্গের ব্যাখ্যাঃ
১. দেওঘরে এসেছিলাম বায়ু পরিবর্তনের জন্যে।
পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশুদ্ধ ও নির্মল পরিবেশ মানুষের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ও রোগ ৩. থেকে আরোগ্য লাভে সহায়ক। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অসুস্থ গল্পকথক বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে যান।
২. এদেশে ব্যাষের অভাব নেই, পাখি চালান দেওয়াই তাদের ব্যবসা (ব্যাবসা)-
পশুপাখি শিকার করে যারা জীবিকানির্বাহ করে, তারা ব্যাধ হিসেবে পরিচিত। পাখি ধরে চালান দেওয়াই তাদের ব্যাবসা। অতীতে পশুপাখি শিকার করে ব্যাধেরা খাদ্য সংগ্রহ ও অর্থ উপার্জন করত। লেখকের জীবদ্দশায়ও এই পেশার প্রচলন ছিল।
৩. তারা বকশিশ পেল সবাই, পেল না কেবল অতিথি।
অসুস্থ গল্পকথকের সঙ্গে কয়েক দিনের পরিচয়ে একটি পথের কুকুরের সাথে মমত্ববোধের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গল্পকথকের কাছে কুকুরটি অতিথির মর্যাদা লাভ করে। অবশেষে দেওঘর থেকে ফেরার দিন তাকে যারা তুলে দিতে এসেছিল তাদের সকলকে গল্পকথক খুশি করার জন্য বকশিশ দেন। কিন্তু অতিথিকে তিনি বকশিশ দিতে পারেননি। কেননা অতিথির কাছে এ ধরনের বকশিশের কোনো মূল্য বা চাহিদা নেই।
৪. বাড়ি ফিরে যাবার আগ্রহ মনের মধ্যে কোথাও খুঁজে পেলাম না। জীবন ও জীবিকার তাগিদে গল্পবযাককের দেওঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য রওনা দিতে হয়। ট্রেন ছেড়ে দেয়। কিন্তু তিনি ফেরার অল্লাহ পান না। অতিথির বিচ্ছেদ-বেদনায় কাতর গল্পকথকের কাছে। এই ফিরে যাওয়া অর্থহীন ও শূন্য মনে হয়েছে।
কুইজ-৪ঃ
প্রশ্ন-১. গয়াকথক কেন দেওঘরে এসেছিলেন?
প্রশ্ন-২. মানুষের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে কোনটি সহায়ক?
প্রশ্ন-৩, ব্যাবদের প্রধান ব্যবসা কী ছিল?
প্রশ্ন-৪, অতিথির কাছে কোন জিনিসের কোনো মূল্য নেই?

বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তরঃ
১.বাতব্যাধিগ্রস্ত রোগীরা কখন ঘরে প্রবেশ করে?
(ক) সন্ধ্যায় পূর্বে
(খ) বিকেল বেলা
(গ) সন্ধ্যার পরে
(ঘ) গোধূলি বেলা
২. শরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট, উপাধি পেয়েছেন?
(ক) ঢাকা
(খ) কলকাতা
(গ) অক্সফোর্ড
(ঘ) কেমব্রিজ
৩. আতিথ্যের মর্যাদা লজ্জন বলতে কী বোঝায়?
i. কোনো তিথি না মেনে কারো আগমনকে
ii. মাত্রাতিরিক্ত সময় আতিথেয়তা গ্রহণ করাকে
iii. অবাঞ্ছিতভাবে কোনো অতিথির অধিক সময় অবস্থানকে
নিচের কোনটি ঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৪ ও ৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাওঃ
বাবা-মায়ের আদরের দুই ছেলে আশিক ও আকাশ এবার ক্লাস টুতে গড়ে। ওদের বাবা একদিন ছোট্ট খাঁচায় একটি ময়না পাখি উপহায় দেয়। সেই থেকে সারাক্ষণ দুই ভাই প্রতিযোগিতা করে পাখিটিকে খাবার ও পানি দেওয়া, কথা বলা আর কথা শেখানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু একদিন সকালে দেখে, বিড়াল এসে রাতে পাখিটাকে মেরে ফেলেছে। সেই থেকে তাদের অঝোর ধারায় কান্না, কেউ আর থামাতেই পারে না। আজও সেই মরনার কথা মনে হলে ওরা কেঁদে ওঠে।
৪. উদ্দীপকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তা হলো-
i. পশু-পাখির সাথে মানুষের দ্বাতাধিক সম্পর্ক
ii. পশু-পাখির সাথে মানুষের স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক
iii. ভালোবাসায় সিস্ত পশু-পাখির বিচ্ছেদ বেদনায় কাতরতা
নিচের কোনটি ঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
৫. উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবটি নিচের কোন চরণে প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) বাড়ি ফিরে যাবার আগ্রহ মনের মধ্যে কোথাও খুঁজে পেলাম না
(খ) আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন করে সে আরামে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে
(গ) অতএব আমার অতিথি উপবাস করে
(গ) তা হোক, ওকে তোমরা খেতে দিও
৬. কার আদেশে গল্পকথক বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘয়ে এসেছিলেন?
(ক) চিকিৎসকের
(খ) বামুনঠাকুরের
(গ) শুভাকাঙ্ক্ষীদের
(ঘ) ডাকরদের
৭. চিকিৎসকের আদেশে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কথক কোথায় এসেছিলেন?
(ক) বৃন্দাবনে
(খ) মামাবাড়িতে
(গ) দেওঘরে
(ঘ) কাশীতে
৮. দেওগরে থাকাকালীন গল্পফথক কেমন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন?
(ক) প্রাচীর ঘেরা বাগানের মধ্যে একটা ছোটো বাড়িতে
(খ) প্রাচীর বিহীন পুরাতন জীর্ণ একটা ছোটো বাড়িতে
(গ) প্রাচীর ঘেরা বাগানের মধ্যে একটা বড়ো বাড়িতে
(ঘ) প্রাচীর বিহীন বাগানের মধ্যে একটা বড়ো বাড়িতে
৯. দেওঘরে লেখকের থাকার বাড়িটিকে কী বলা যায়?
(ক) বাগানবাড়ি
(খ) সালানবাড়ি
(গ) কাছারি
(ঘ) অতিথি ভবন
১০. একজন লোক গলাভাঙা একঘেয়ে সুরে ভজন শুরু করত কখন?
(ক) রাত্রি দুটো থেকে
(খ) রাত্রি তিনটে থেকে
(গ) রাত্রি চারটে থেকে
(ঘ) রাত্রি পাঁচটা থেকে
১১. গল্পকথকের ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ কী?
(ক) মশার কামড়ের জন্য
(খ) প্রচন্ড গরমের কারণে
(গ) একঘেয়ে গানের সুরে
(ঘ) তীব্র শোরগোলের জন্য
১২. ডজনের সুরে ঘুম ভেঙে গেলে গল্পকথক কোথায় এসে বসতেন?
(ক) উঠোনে
(খ) বাগানে
(গ) কেদারায়
(ঘ) বারান্দায়
১৩. পাখিদের আনাগোনা কখন শুরু হয়?
(ক) সন্ধে বেলায়
(খ) সকাল বেলায়
(গ) রাতের শেষে
(ঘ) সাঁঝের বেলায়
১৪. 'অতিথির সস্মৃতি' গল্পে লেন পাখিটি সবচেয়ে ভোরে ওঠে।
(ক) বুলবুলি
(খ) শ্যামা
(গ) শালিক
(ঘ) দেয়ালে
১৫. নিচের কোন গাছটির কথা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে উল্লেখ রয়েছে?
(ক) কাল্গুন
(খ) জাতিম
(গ) বকুল
(ঘ) তমাল
১৬. কোন গাছটির কথা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে বলা হয়নি?
(ক) আম
(খ) ছাতিম
(গ) বকুল
(ঘ) অশ্বথ
১৭. প্রতিদিন ভোর বেলা গল্পকথকের কী শোনার অভ্যাস হয়ে যায়?
(ক) ভজন গান
(খ) পাখির ডাক
(গ) মালির যাঁক
(ঘ) গির্জার ঘণ্টা
১৮. বেনে-বৌ পাখি দুটোর রং কেমন ছিল?
(ক) সবুজ
(খ) বেগুনি
(গ) কমলা
(ঘ) হলদে
১৯. 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটু দেরি করে আসত কোন পাখি?
(ক) টুনটুনি
(খ) দোয়েল
(গ) শ্যামা
(ঘ) বেনে-বৌ
২০. প্রাচীরের ধারে কোন গাছটি ছিল?
(ক) হিজল
(খ) ইউক্যালিপটাস
(গ) আঙুল
(ঘ) পাইন
২১. 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে 'যেনে-যৌ' কোন গাছে এসে বসত?
(ক) বকুল
(খ) আম
(গ) অশ্বথ
(ঘ) ইউক্যালিপটাস
২২. ইউক্যালিপটাস গাছের সবচেয়ে উঁচু ডালে বসে প্রত্যং ডাকত কোন পাখিটা?
(ক) বুলবুলি
(খ) বেনে-বৌ
(গ) শ্যামা
(ঘ) টুনটুনি
২৩. 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের মন কেন ব্যস্ত হয়ে উঠল?
(ক) পাখিদের আনাগোনা দেখে
(খ) পাখিদের কলকাকলি শুনে
(গ) পাখি দুটিকে না আসতে দেখে
(ঘ) গলাতারা সুরে ভজন শুনে
২৪. গল্পকথকের মতে, এদেশে কীসের অভাব নেই?
(ক) অতিথির
(খ) মালির
(গ) বামুনের
(ঘ) ব্যাধের
২৫. 'এদেশে ব্যাধের অভাব নেই'- এখানে 'ব্যাধ' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
(ক) বাতব্যাধিগ্রস্তদের
(খ) ব্যাধিদের
(গ) অভিযাত্রীদের
(ঘ) শিকারিদের
২৬. পাখি চালান দেওয়া কাদের ব্যাবসা?
(ক) মালির
(খ) মালিনীর
(গ) ব্যাধের
(ঘ) আসামির
২৭. তিন দিনের দিন কাদের ফিরে আসতে দেখে গল্পকথকের ভাবনা ঘুচে গেল?
(ক) দোয়েল পাখিদের
(খ) বুলবুলি পাখিদের
(গ) টুনটুনি পাখিদের
(ঘ) বেনে-বৌ পাখিদের
২৮, গল্পকথক অতিথিপালার কোথায় বসে পথচারীদের দেখতেন?
(ক) করান্দার চেয়ারে
(খ) গেটের বাইরে
(গ) সামনের দনে
২৯. 'অতিথির স্মৃতি' গয়ে লেখষের দেখা পীড়িতরা কোন শ্রেণির গৃহস্থ ঘরের?
(ক) নিম্নবিদ্ধ
(খ) মধ্যবিত
(গ) উচ্চবিত্ত
(ঘ) উচ্চ মধ্যবিত
৩০. পীড়িতদের মধ্যে ভাগের সংখ্যাই ঢের বেশি?
(ক) ছেলেদের
(খ) মেয়েদের
(গ) যুবকদের
(ঘ) বৃদ্ধদের
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তরঃ
▶ মূলপাঠ
প্রশ্ন-১. গল্পকথক কার আদেশে দেওঘরে এসেছিলেন?
উত্তর: গল্পকথক চিকিৎসকের আদেশে দেওঘরে এসেছিলেন।
প্রশ্ন-২. লেখক দেওঘরে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে গিয়েছিলেন।
প্রশ্ন-৩, প্রাচীরের ধারের গাছটির নাম কী ছিল?
উত্তর: প্রাচীরের ধারের গাছটির নাম ছিল ইউক্যালিপটাস।
প্রশ্ন-৪. লেখক গেটের বাইরে পথের ধারে এসে বসেন কখন?
উত্তর: লেখক বিকেলে গেটের বাইরে পথের ধারে এসে বসেন।
প্রশ্ন-৫. রাত কয়টা থেকে ভজন গান শোনা যেত?
উত্তর: রাত তিনটা থেকে ভজন গান শোনা যেত।
প্রশ্ন-৬. দেওঘরে লোকটি একঘেয়ে সুরে কী গান গাইত?
উত্তর: দেওঘরে লোকটি একঘেয়ে সুরে ডজন গাইত।
প্রশ্ন-৭. ব্যাধের ব্যাবসা কোনটি?
উত্তর: ব্যাধের ব্যাবসা হলো পাখি চালান দেওয়া।
প্রশ্ন-৮. 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটু দেরি করে আসত কোন পাখি?
উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
উত্তর: 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটু দেরি করে আসত একজোড়া বেনে-বৌ পাখি।
প্রশ্ন-৯. কী দেখে লেখকের সত্যিকার ভাবনা ঘুচে গেল?
উত্তর: বেনে-বৌ পাখি দুটোকে ফিরে আসতে দেখে লেখকের সত্যিকার ভাবনা ঘুচে গেল।
প্রশ্ন-১০. 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখকের কীসের ভাবনা ছিল?
উত্তর: 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে উল্লিখিত বেনে-বৌ পাখি দুটি ফিরে আসবে কি না- এই নিয়ে লেখকের ভাবনা ছিল।
প্রশ্ন-১১. বেনে-বৌ পাখি কোন গাছে বসে হাজিরা হেঁকে যেত?
উত্তর: 'পান্ডুর' অর্থ হলো ফ্যাকাশে।
উত্তর: বেনে-বৌ পাখি ইউক্যালিপটাস গাছে বসে হাজিরা হেঁকে যেত।
প্রশ্ন-১২, সবচেয়ে ভোরে ওঠে কোন পাখি?
উত্তর: সবচেয়ে ভোরে ওঠে দোয়েল পাখি।
প্রশ্ন-১৩. দেওঘরে পীড়িতদের মধ্যে কাদের সংখ্যা বেশি ছিল?
উত্তর: দেওঘরে পীড়িতদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা বেশি ছিল।
প্রশ্ন-১৪. সন্ধ্যার আগেই ঘরে প্রবেশ করা প্রয়োজন ছিল কাদের?
উত্তর: সন্ধ্যার আগেই ঘরে প্রবেশ করা প্রয়োজন ছিল বাতব্যাধিগ্রস্ত বৃদ্ধ লোকদের।
প্রশ্ন-১৫. পা ফুলো-ফুলো মেয়েদের কী রোগ ছিল? সুনা বোর্ড বই পৃষ্ঠা),
উত্তর: পা ফুলো-ফুলো মেয়েদের বেরিবেরি রোগ ছিল।'
প্রশ্ন-১৬, বেরিবেরির আসামি কারা?
উত্তর: বেরিবেরির আসামি হলো পা ফুলো-ফুলো অল্পবয়সি একদল মেয়ে।
প্রশ্ন-১৭, লেখক কীভাবে বুঝতেন এরা বেরিবেরির আসামি?
উত্তর: অল্পবয়সি মেয়েদের পা ফুলো ফুলো অবস্থা দেখেই লেখক বুঝতেন এরা বেরিবেরির আসামি।
প্রশ্ন-১৮, অন্ধকারে লেখকের সঙ্গী হয়েছিল কে?
উত্তর: অন্ধকারে লেখকের সঙ্গী হয়েছিল একটি কুকুর।
প্রশ্ন-১৯. বামুনঠাকুরকে ডেকে লেখক কী বলেছিলেন?
উত্তর: বামুনঠাকুরকে ডেকে লেখক অতিথিকে খেতে দিতে বলেছিলেন।
প্রশ্ন-২০. কে অতিথিশালার বাড়তি খাবারের প্রবল অংশীদার ছিল?
উত্তর: মালি-বৌ অতিথিশালার বাড়তি খাবারের প্রবল অংশীদার ছিল।""
প্রশ্ন-২১. কুকুরটি কখন লুকিয়ে বাড়িতে এসেছিল?
উত্তর: কুকুরটি দুপুরবেলা লুকিয়ে বাড়িতে এসেছিল।
প্রশ্ন-২২. বেঁচে যাওয়া খাবার চেঁচেপুঁছে নিয়ে গেছে কে?
উত্তর: বেঁচে যাওয়া খাবার মালি-বৌ চেঁচেপুঁছে নিয়ে গেছে।
প্রশ্ন-২৩. খোলা দোর দিয়ে সিঁড়ির উপর কার ছায়া পড়ল?
উত্তর: খোলা দোর দিয়ে সিঁড়ির উপর কুকুরের ছায়া পড়ল।
প্রশ্ন-২৪. 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে ট্রেন স্টেশন ছাড়তে আর কয় মিনিট দেরি?
উত্তর: 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়তে আর এক মিনিট দেরি।
▶ শব্দার্থ ও টীকা
প্রশ্ন-২৫. 'ডজন' কী?
উত্তর: 'ভজন' হলো ঈশ্বর বা দেবদেবীর স্তুতি বা মহিমাকীর্তন।
প্রশ্ন-২৬. 'কুঞ্জ' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'কুঞ্জ' শব্দের অর্থ উপবন।
প্রশ্ন-২৭. 'বেরিবেরি' কী ধরনের রোগ?
উত্তর: 'বেরিবেরি' বি ভিটামিনের অভাবে হাত-পা ফুলে যাওয়া রোগ।
প্রশ্ন-২৮. 'পান্ডুর' অর্থ কী?
উত্তর: 'পান্ডুর' অর্থ হলো ফ্যাকাশে।
প্রশ্ন-২৯. বেতনের বিনিময়ে বাগানের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিকে কী বলে?
উত্তর: বেতনের বিনিময়ে বাগানের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিকে মালি বলে।
প্রশ্ন-৩০, মালিনী বলা হয় কাকে?
উত্তর: মালিনী বলা হয় মালির স্ত্রীকে।
▶ পাঠ-পরিচিতি
প্রশ্ন-৩১. 'অতিথির স্মৃতি' গল্পটির রচয়িতা কে?
উত্তর: 'অতিথির স্মৃতি' গল্পটির রচয়িতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
প্রশ্ন-৩২, 'অতিথির স্মৃতি' গল্পটি কোন গল্পের পরিমার্জিত রূপ?
উত্তরঃ 'অতিথির স্মৃতি' গল্পটি 'দেওঘরের স্মৃতি' গল্পের পরিমার্জিত রূপ।
▶ লেখক-পরিচিতি
প্রশ্ন-৩৩, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-৩৫, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত 'শেষ প্রশ্ন' কোন ধরনের রচনা?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত 'শেষ প্রশ্ন' একটি উপন্যাস।
প্রশ্ন-৩৬, শরন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' পান কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' পান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
প্রশ্ন-৩৭, শরৎচন্দ্রে চট্টোপাধ্যায় ডি.লিট, উপাধি লাভ করেন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ডি.পিট, উপাধি লাভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
প্রশ্ন-৩৮, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: শরন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন-১. লেখক দেওঘরে গিয়েছিলেন কেন? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তনের জন্য লেখক দেওঘরে গিয়েছিলেন।
লেখক শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে চিকিৎসক তাঁকে বায়ু পরিবর্তন করতে বলেন। বায়ু পরিবর্তন বলতে সাধারণত আবহাওয়া পরিবর্তনকে বোঝায়। অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত স্বাস্থ্যকর কোনো স্থানে গমন করা। শারীরিকভাবে সুস্থ হতেই লেখক বায়ু পরিবর্তন করতে দেওঘর গিয়েছিলেন।
প্রশ্ন-২, লেখকের সত্যিকার একটি জবদা ঘুচে গেল কীভাবে?
উত্তর: বেনে-বৌ পাখিদের ফিরে আসা দেখে দেখকের সত্যিকার একটি ভাবনা ঘুচে গেল।
লেখক বারান্দা থেকে প্রতিদিন প্রাচীরের ধারের ইউক্যালিপটাস গাছটায় একজোড়া বেনে-বৌ পাখি দেখতেন। কিন্তু দুই দিন তাদের অনুপস্থিতি দেখে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। কারণ, ব্যাধরা সহজেই এ পাখি ধরে বিক্রি করে নিতে গারে। কিন্তু তিন দিনের দিন আবার পাখি দুটো ফিরে এলো। পাখি দুটিকে পুনরায় দেখতে পেয়ে লেখকের দুর্ভাবনা ঘুচে গেল।
প্রশ্ন-৩, 'নিজের সামর্থ্য নেই বেড়াবার'- লেখক এ কথা বলেছেন কেন?
উত্তর: অসুস্থতার কারণে লেখকের নিজের বেড়ানোর সামর্থ্য নেই-বিষয়টি বোঝাতেই লেখক আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘর এসেছিলেন। এখানে এসে লেখকের সম্মল-বিকেল পথের ধারে বসেই কাটত। অসুস্থতার কারণে লেখক বাইরে ঘুরতে বের হতে পারতেন না। এ কথা বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটির অবতারণা করেছেন।
প্রশ্ন-৪. 'বুঝতাম এরা বেরিবেরির আসামি।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নের পৃষ্ঠা নং ১৯, প্রশ্ন নং ৫-খ দেখো।
প্রশ্ন-৫, 'কোলা পায়ের লজ্জা ঢাকতে বেচারাদের কত না যত্ন।'- লেখক কেন এ কথাটি বলেছেন?
উত্তর: বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত মেয়েদের শায়ের সৌন্দর্যহানি আড়াল' করার প্রচেষ্টা লক্ষ করে লেখক এ কথাটি বলেছেন। তিনি এরূপ মন্তব্য করেছেন।
প্রশ্ন-৬, 'কী ক্লান্তই না মেয়েটির চোখের চাহনি।'- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: দেওঘরে দেখা দরিদ্র ঘরের মেয়েটির শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে লেখক এ কথাটি বলেছেন।
অসুস্থতার কারণে বেড়াতে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না বলে লেখক বিকেল বেলায় পথের ধারে বসেই সময় কাটাতেন। এসময় তিনি অন্যান্য পথিকের মাঝে কিছু বেরিবেরি আক্রান্ত রোগীদের লক্ষ করতেন। এদের মধ্যে একটি অল্পবয়সি মেয়ের শরীর ছিল রোগা, চেহারা বিবর্ণ। তার চলার শক্তি ছিল না অথচ কোলে একটি শিশু। উদ্ধৃত উক্তিটি মেয়েটির এ করুণ অবস্থাকেই তুলে ধরেছে।
প্রশ্ন-৭. অতিথি প্রথম দিন বাড়ির ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নের পৃষ্ঠা নং ১৭, প্রশ্ন নং ১-খ দেখো।
প্রশ্ন-৮. মালি-বৌ কুকুরটাকে সহ্য করতে পারত না কেন?
উত্তর: বেঁচে যাওয়া খাবারে ভাগীদার হওয়ায় মালি-বৌ কুকুরটাকে সহ্য করতে পারত না।
লেখক সন্ধ্যায় ঘুরতে বের হলে পথের একটি কুকুর তার সঙ্গী হয়। তিনি কুকুরটিকে বাড়িতে ডেকে এনে চাকরদের বলে দেন কুকুরটাকে খেতে দিতে। বাড়িতে যে খাবারগুলো বেঁচে যেত তা মালি-বৌ নিয়ে যেত। কিন্তু কুকুরটিকে খেতে দেওয়ায় সে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই মালি-বৌ কুকুরটিকে সহ্য করতে পারত না।
প্রশ্ন-৯, 'আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন' বলতে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নের পৃষ্ঠা নং ১৮, প্রশ্ন নং ৩-খ দেখো।
প্রশ্ন-১০. অতিথির চোখ দুটো ভিজে ভিজে দেখাচ্ছিল কেন?
উত্তর; নাসার লোকদের বিরূপ আচরণের কারণে লেখকের কাছে নালিশ জানাতে আসার সময় কুকুরটির চোখ ভিজে ভিজে দেখাচ্ছিল।
দেওঘরে বৈকালিক ভ্রমণে গিয়ে পরিচিত হওয়া কুকুরটিকে লেখক অতিথির মর্যাদায় বরণ করেন। কিন্তু লেখকের নির্দেশ মতো খাদ্য পাওয়ার পরিবর্তে কুকুরটির কপালে জুটেছিল মারধর। তাই একদিন দুপুরে বাড়ির চাকরদের অগোচরে কুকুরটি নালিশ জানাতে লেখকের দ্বারে হাজির হয়। লেখকের মনে হয়, নিজের দুরবস্থার কথা জানাতে গিয়েই অতিথি কুকুরটির চোখ ভিজে ভিজে দেখাচ্ছিল।
প্রশ্ন-১১. চাকরদের দরজা খোলার শব্দ শুনে অতিথি ছুটে পালিয়েছিল কেন?
উত্তর: চাকরদের যাতে নির্যাতিত হওয়ার ভয়ে অতিথি দরজা খোলার শব্দে ছুটে, পালিয়েছিল।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখক বাড়িতে তাঁর অতিথির নিত্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বিষয়টি মালি-বৌয়ের পছন্দ হয়নি। কারণ, বাড়ির বাড়তি খাবারে একমাত্র তারই অধিকার ছিল। এ কারণে তার হাতেই নির্যাতিত হতে ধনী লেখকের অতিথিকে। আর তাই নির্যাতিত হওয়ার ভয়ে চাকরদের দরজা খোলার শব্দে সে ছুটে পালিয়েছিল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ঃ
প্রশ্ন-১ঃ দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড় মহেশ। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে ওকে ঠিকমতো খড়-বিচুলি খেতে দিতে পারে না। জমিদারের কাছে সামান্য খড় ধার চেয়েও পায় না। নিজে না খেয়ে থাকলেও গফুরের দুঃখ নেই। কিন্তু মহেশকে খাবার দিতে না পেরে তার বুক ফেটে যায়। সে মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে-মহেশ, তুই আমার ছেলে। তুই আমাদের আট সন প্রতিপালন করে বুড়ো হয়েছিস। তোকে আমি পেট পুরে খেতে দিতে পারি নে, কিন্তু তুই তো জানিস আমি তোকে কত ভালোবাসি। মহেশ প্রত্যুত্তরে গলা বাড়িয়ে আরামে চোখ বুজে থাকে।
ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ কী?
খ. অতিথি কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন'- 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
১ নং প্রশ্নের উত্তর দাওঃ
ক) শরন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ বায়ু পরিবর্তন।
খ) অচেনা পরিবেশে ভয় ও সংকোচ থেকে অতিথি ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুদিনের জন্য দেওঘরে গিয়েছিলেন। সেখানে পথ চলতে গিয়ে একটি কুকুরের সকো লেখকের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে অতিথি সম্বোধন করে বাড়ির ভেতরে ডাকলে কুকুরটি ভেতরে ঢুকতে সাহস পায় না। মূলত, 'অচেনা পরিবেশে ভয় ও সংকোচ থেকেই অতিথি ভেতরে ঢোকার সাহস পায় না।
গ) উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে প্রকাশিত অবলা প্রাণীর প্রতি লেখকের অকৃত্রিম ভালোবাসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
মানুষ কখনো কখনো ইতরপ্রাণীর সঙ্কোও স্নেহ-প্রীতির সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। নানা বাধার মুখেও সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চায়। মানবমনের এই অনুভূতির প্রকাশ দেখা যায়, 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কুকুরটির প্রতি লেখকের আচরণে।
উদ্দীপকের বর্ণনায় প্রিয় ষাঁড় মহেশের প্রতি গফুরের অকৃত্রিম ভালোবাসার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের গফুর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের মতোই তার পোষা প্রাণীটির প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ করেছে। আদরের ষাঁড় মহেশকে সে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসে। মহেশের সজো কথা বলতে গিয়ে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কারণ প্রিয় প্রাণীটিকে গফুর পেট পুরে খেতেও দিতে পারে না, যা তাকে সবসময় কষ্ট দেয়। একইভাবে আলোচ্য গল্পের কথকও একটি পথের কুকুরের সঙ্গে মমত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ হন। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে ফুটে ওঠা প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ) প্রাণীর প্রতি গভীর মমতা প্রকাশের দিক দিয়ে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের সজো গফুরের চেতনাগত সাদৃশ্য থাকলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটি পথের কুকুরের সঙ্গে লেখকের স্নেহ-মমত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কুকুরটির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে লেখক তাকে বরণ করে নেন অতিথির মর্যাদায়। অবলা প্রাণীর প্রতি লেখকের এই মমত্ববোধের দিকটি আলোচ্য গল্পের মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
উদ্দীপকের দরিদ্র বর্গাচাষি গফুর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের মতো তার পোষা প্রাণীটির প্রতি গভীর মমতা অনুভব করে। আট বছর ধরে যে ষাঁড়টি তাকে প্রতিপালন করে বুড়ো হয়েছে তাকে ঠিকমতো খেতে দিতে না পারার দুঃখে জল আসে তার চোখে।
শুধু মানুষে মানুষে নয়, অন্য জীবের সঙ্গেও মানুষের স্নেহ-প্রীতির সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। পরিবেশ ও ঘটনা আলাদা হলেও এ সম্পর্কের মূলে রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসার টান। এদিক বিচারে গল্পের লেখক ও উদ্দীপকের কৃষকের চেতনাগত মিল স্পষ্ট। তবে তাদের এমন আচরণের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। এক্ষেত্রে অপরিচিত পরিবেশে একটি কুকুরের প্রতি লেখকের সাময়িক ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে, উদ্দীপকের চাষি গফুরের প্রিয় পোষা ষাঁড়টির প্রতি ভালোবাসা, মমতার শিকড় অনেক গভীর। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
প্রশ্ন-২ ঃ লালমনিরহাটের যুবায়ের প্রায় ১০ বছর ধরে তার পোষায়াতি কালাপাহাড়কে দিয়ে লাকড়ি টানা, চাষ করা, সার্কাস দেখানো ইত্যাদি কাজ করিয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে দারিদ্র্যের কারণে হাতির খোরাক জোগাড় করতে না পেরে একদিন সে কালাপাহাড়কে বিক্রি করে দিল। ক্রেতা কালাপাহাড়কে নিতে এসে ওর পায়ে বাঁধা রশি ধরে হাজার টানাটানি করে একচুলও নাড়াতে পারল না। কালাপাহাড়ের দুচোখ বেয়ে শুধু টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। পরদিন খদ্দের আরও বেশি লোকজন নিয়ে আসে কালাপাহাড়কে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ভোরবেলা যুবায়ের দেখে- কালাপাহাড়, মরে পড়ে আছে। হাউমাউ করে সে চিৎকার করে আর বলে- 'ওরে আমার কালাপাহাড়, অভিমান করে তুই চলে গেলি।'
ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক লাভ করেন?
খ. লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. কালাপাহাড়ের আচরণ এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথির আচরণ কীভাবে ভিন্ন? বর্ণনা করো।
ঘ. "উদ্দীপকের যুবায়েরের অনুভূতি আর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত" মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
খ) অতিথির প্রতি মমতার টান কাটাতে না পেরে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে দিন দুই দেরি করেন।
চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে গিয়ে লেখক একটি কুকুরকে সঙ্গী হিসেবে পান। ধীরে ধীরে কুকুরটির সঙ্গে তাঁর মমত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। এ কারণে চলে আসার সময় হলেও লেখক কুকুরটিকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভেবে ব্যথিত হন। এজন্যই দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে লেখক দিন দুই দেরি করেন।
গ) ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে কালাপাহাড় ও গল্পের অতিথির মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও আচরণগত দিক দিয়ে তাদের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
'অতিথির সস্মৃতি' গল্পে লেখক দেওঘরে গিয়ে একটি কুকুরের সঙ্গ লাভকরেন। তিনি কুকুরটিকে স্নেহভালোবাসা দিয়ে কাছে টেনে নেন। কুকুরটিও তাঁর ভালোবাসা পেয়ে বশ্যতা স্বীকার করে। বাড়িতে এসে তাঁর খোঁজ করা, পথের ধারে তাঁর জন্য অপেক্ষা করা কুকুরটির নিত্যদিনের কাজে পরিণত হয়। লেখকের বিদায় নেওয়ার সময়ও অতিথি স্টেশন পর্যন্ত চলে আসে।
উদ্দীপকের যুবায়েরের সঙ্গে তার পোষা হাতি কালাপাহাড়ের সম্পর্ক প্রায় দশ বছরের। সংগত কারণেই তাদের মধ্যকার সম্পর্কে গভীরতা আরও বেশি। এরই প্রকাশ লক্ষ করা যায় কালাপাহাড়ের মধ্যে। এ কারণে কালাপাহাড়কে বিক্রি করে দিলে সে খুব কষ্ট পায় এবং তার বহিঃপ্রকাশও ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথি কষ্ট পেলেও সে তেমন কিছুই করতে পারেনি। কিন্তু কালাপাহাড় ভীষণভাবে তার প্রতিক্রিয়া। ব্যস্ত করে। সে কোনোভাবেই বাড়ি ছাড়তে চায়নি। অবশেষে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সে চূড়ান্ত ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছে, যা অতিথির আচরণের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্থাৎ, 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথি ও উদ্দীপকের কালাপাহাড় তাদের মনিবের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলেও তাদের ভালোবাসা প্রকাশের ধরন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ঘ) অসহায় প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার দিক থেকে উদ্দীপকের যুবায়ের এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায় প্রবাহিত হয়েছে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটি ইতরপ্রাণীর সঙ্গে একজন অসুস্থ মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মমত্বের সম্পর্কের দিকটি উঠে এসেছে। লেখক দেখিয়েছেন, মানুষ-মানুষে যেমন স্নেহ-প্রীতির সম্পর্ক অন্য প্রাণীর সঙ্গেও মানুষের তেমন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।
উদ্দীপকের কালাপাহাড়ের মৃত্যুতে যুবায়ের অশেষ মনোযাতনায় ভোগে। দশ বছর ধরে পোষা হাতিটির মৃত্যুতে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। একইভাবে গল্পের লেখকও কুকুরটিকে ছেড়ে বাড়ি যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
পোষ্য প্রাণীকে হারিয়ে: মানুষ কষ্ট পায়, শোকে কাতর হয়। নিরীহ প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা এবং তাকে হারানোর কষ্টের দিক থেকে আলোচ্য গল্পের লেখক ও উদ্দীপকের যুবায়েরের অনুভূতি অভিন্ন। এক্ষেত্রে দশ বছরের লালিত কালাপাহাড়কে হারিয়ে যুবায়ের যেমন শোকে কাতর হয়েছে, তেমনই গল্পের লেখকও কুকুরটিকে ছেড়ে ফিরে যাওয়ার সময় ব্যথিত হয়েছেন। এদিক থেকে তাঁদের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত।
প্রশ্ন-৩ ঃ বাদল সাহেব ডায়াবেটিস রোগী। ডাক্তারের পরামর্শে প্রতিদিন বিকেলে হাঁটতে বের হন। হাঁটতে গিয়ে দেখেন তার মতো অনেকেই হাঁটতে বের হয়েছে। যারা হাঁটতে বের হয়েছে তাদের অনেকেই স্থূলকায়। একটু হাঁটলেই হাঁপিয়ে যায়। তারপরও তাদের হাঁটার প্রাণপণ, চেষ্টা। - হঠাৎ বাদল সাহেব দেখতে পান রাস্তার পাশে একটি বিড়ালছানা অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি বিড়ালছানাটিকে বাসায় নিয়ে যান এবং পরম যত্নে তাকে সুস্থ করে তোলেন।
ক. কী দেখে লেখকের সত্যিকার ভাবনা ঘুচে গেল?
খ. 'আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন' বলতে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত লোকদের হাঁটার প্রাণপণ চেষ্টা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কোন দিককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বাদল সাহেবের প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের মমত্ববোধের পূর্ণাফা রূপ ফুটে উঠেছে কি? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক) বেনে-বৌ পাখি দুটিকে ফিরে আসতে দেখে লেখকের সত্যিকারের ভাবনা ঘুচে গেল।
খ) 'আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন' বলতে বাড়িতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অতিথির দীর্ঘ সময় অবস্থান করাকে বোঝানো হয়েছে।
কুকুরটির সঙ্গে লেখকের সখ্য হওয়ার পরের দিন কুকুরটি লেখকের নিমন্ত্রণ রক্ষা করে। নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসে সে অধিক সময় ওই বাড়িতে অবস্থান করে। বাড়িতে অতিথির এরূপ দীর্ঘ সময় অবস্থান মূলত আতিথ্যের লঙ্ঘন। সাধারণ বিচারে কুকুরটি এ মর্যাদা লঙ্ঘন করেছে। তাই বলা যায়, 'আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন' বলতে লেখকের বাড়িতে কুকুরটির এই দীর্ঘ সময় অবস্থান করাকেই বোঝানো হয়েছে।
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত লোকদের হাঁটার প্রাণপণ চেষ্টা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে, লেখকের রোগমুক্তি ও বায়ু পরিবর্তনের দিকটিকে নির্দেশ করে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক চিকিৎসকের আদেশে বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে যান। সেখানে তিনি বিকেল বেলা পথের ধারে বসে অনেক রকম মানুষ দেখেন, যারা সুস্থ থাকার জন্য হাঁটতে বের হন। এর মধ্যে 'বেরিবেরি' রোগে পা ফোলা রোগীও ছিল।
উদ্দীপকের বাদল সাহেব ডায়াবেটিস রোগের কারণে ডান্তারের পরামর্শে বিকেলে হাঁটতে বের হন। তিনি দেখেন তার মতো অনেকেই বাঁটতে বের হয়েছে। মূলাকায় মানুষ যারা আছে, তারা হাঁপিয়ে গেলেও বাঁটা থামায় না। বাদল সাহেব বুঝতে পারেন, ওরাও সুস্থ থাকার জন্যই হাঁটছে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকও সুস্থ হওয়ার জন্য বায়ু পরিবর্তন করতে দেওঘরে যান। তিনি সেখানকার মানুষদের হাঁটার মধ্যে সুস্থ থাকার প্রবণতা বুঝতে পারেন। আর এই রোগমুক্তির জন্য মানুষের প্রাণপণ হাঁটার দিকটিই উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পকে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছে।
ঘ) উদ্দীপকে বাদল সাহেবের প্রাণীর প্রতি বে মমত্ববোধ সেখানে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের মমত্ববোধের তেমন পূর্ণাঙ্গ রূপ ফুটে ওঠেনি।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক দেওঘরে বায়ু পরিবর্তন করতে আসেন। সেখানে তিনি একদিন হাঁটতে বেরোলে সঙ্গী হিসেবে একটি কুকুরকে পান। কুকুরটিকে তিনি তাঁর বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসেন। বাড়ির চাকরকে তার খাবারের দায়িত্ব দেন।
উদ্দীপকের বাদল সাহেব ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় প্রতিদিন হাঁটতে বের হন। একদিন হাঁটতে গিয়ে তিনি রাস্তার পাশে একটা অসুস্থ বিড়ালছানা দেখতে পান। বিড়ালছানাটিকে তিনি বাড়িতে এনে যত্ন করে সুদ্ধ করে তোলেন। এতে প্রাণীর প্রতি বাদল সাহেবের মমত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক ও উদ্দীপকের বাদল সাহেব দুজনের মধ্যেই পশু-পাখির প্রতি মমত্ববোধের দিকটি পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু আলোচ্য গল্পের লেখক দেওঘরে যে কুকুরটিকে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করেন তার দায়িত্ব কাজের লোকদের উপর দিয়ে দেন। আবা তিনি ফিরে আসার সময়ও কুকুরটিকে নিয়ে যেতে পারেননি সঙ্গে করে। কিন্তু উদ্দীপকের বাদল সাহেব কুড়িয়ে পাওয়া বিড়ালছানাটিকে বাসায় নিয়ে এসে নিজ দায়িত্বে সুদ্ধ করে তোলেন। তার প্রতি যত্ন নেন। মমত্ববোধের দিকটিতে মিল থাকলেও মমতার প্রকাশ ও পরিণতিতে দুজনের পূর্ণাঙ্গ রূপ একইভাবে ফুটে ওঠেনি।
প্রশ্ন-৪ ঃ রোধানের পাখি পোষার শখ। সে কবুতর পোষে। বলতে গেলে কবুতর পোষা তার রীতিমতো নেশায় পরিণত হয়েছে। একবার এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে একটি কবুতরকে তার খুব পছন্দ হয়। রোমান আবদার করে সেটিকে বাড়িতে নিয়ে আসে। নাম দেয় রাজা। রাজাকে নিয়ে আনন্দে দিন কাটে রোহানের। কিছু একদিন রাজা বাইরে উড়ে গিয়ে আর ফিরে আসে না। পরে জানা যায় শিয়ালের কবলে পড়ে প্রাণ দিয়েছে রাজা। • শিখনফল ১ শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমী
ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে রেঙ্গুন যাত্রা করেন?
খ. অতিথি কিছুতেই ভেতরে ঢোকার সাহস গেল না কেন?
গ. উদ্দীপকের রাজা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কার প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "উদ্দীপকের কমলের অনুভূতি আর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের গল্পকথকের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত।"-- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।
৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯০৩ সালে রেঙ্গুন যাত্রা করেন।
খ) সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নের পৃষ্ঠা নং ১৭ প্রশ্ন নং ১-খ দেখো।
গ) উদ্দীপকের রাজা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথি' কুকুরটির প্রতিনিধিত্ব করে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটি মানবেতর প্রাণীর সঙ্গে গল্পকথকের মমত্বের সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। এক সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় পথের একটি কুকুরের সড়ো গল্পকথকের দেখা হয়। কুকুরটিকে তিনি বরণ করে নেন অতিথির মর্যাদায়। কুকুরটিও গল্পকথকের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে তার স্নেহের প্রতিদান দেয়।
উদ্দীপকের কমল একজন পাখিপ্রেমী। তাই আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে আবদার করে সেখান থেকে একটি কবুতর সঙ্গে করে নিয়ে আসে। সে ভালোবেসে কবুতরটির নাম দেয় রাজা। ধীরে ধীরে রাজার সঙ্গে কমলের সখ্য গড়ে ওঠে। তার সঙ্গে কমলের আনন্দময় দিন কাটে। একইভাবে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একটি পথের কুকুরের তার পোষা কবুতর রাজার সম্পর্ককে নির্দেশ করে। সে বিবেচনায়, উদ্দীপকের রাজা আলোচ্য গল্পের অতিথি কুকুরটির প্রতিনিধিত্ব করে।
ঘ) মানবেতর প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের কমলের সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের গল্পকথকের অনুভূতির সাদৃশ্য রয়েছে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে গল্পকণক একটি পথের কুকুরকে বরণ করে নেন অতিথির মর্যাদায়। কুকুরটিও নানাভাবে কথকের সে ভালোবাসার প্রতিদান দেয়। তাদের এই সম্পর্কের মূলভিত্তি মানবেতর প্রাণীর প্রতি কথকের মমত্ববোধ ও ভালোবাসা।
উদ্দীপকে কমল পাখিদের ভালোবাসে। এ কারণে সে বেশকিছু কবুতর পোড়ে। শুধু তাই নয়, আত্মীয়বাড়ি বেড়াতে গিয়েও সেখান থেকে একটি কবুতরকে সে সঙ্কো করে নিয়ে আসে। ভালোবেসে সে এই কবুতরটির নাম দেয় রাজা। এরপর থেকে রাজার সঙ্গে তার আনন্দময় দিন কাটতে থাকে। বস্তুত, রাজার প্রতি তার গভীর ভালোবাসাই এমন সম্পর্ক তৈরি হওয়ার কারণ।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পটি আবর্তিত হয়েছে একটি পথের কুকুরের সলো গল্পকথকের সম্পর্ককে ঘিরে। অল্প দিনের পরিচয়েই গল্পব থক কুকুরটিকে আপন করে নেন। কুকুরটিও আনুগত্য প্রকাশ করে কথনের দেহভালোবাসার প্রতিদান দেয়। একইভাবে উদ্দীপকের কমলও পাখিদের ভালোবাসে। সে ভালোবাসা থেকেই রাজা নামের কবুতরটিকে কমল আপন করে নেয়। অর্থাৎ আলোচ্য গল্প এবং উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই মানবেতর প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্ত্রব্যটি যথাযথ।

