
গদ্য ঃ সততার পুরস্কার
মুহম্মাদ শহীদুল্লাহ
অধ্যায়টির শিখনফলঃ
টিকচিহ্নিত প্রশ্নগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ো
✓১. সততা ও ইমানের জন্য স্রষ্টার পুরস্কারের দৃষ্টান্ত
✓২. অকৃতজ্ঞ হওয়ার পরিণাম
✓৩. ধনসম্পদের অহংকার থেকে বিরত থাকার শিক্ষা
৪. অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মর্মবেদনার স্বরূপ
📖✍️ গল্পটির লেখক সম্পর্কে জেনে নাওঃ
জন্ম: ১৮৮৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্ম।
শিক্ষা ও পেশা: ১৯১০ সালে কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে বিএ (অনার্স) ও ১৯১২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে এমএ পাশ করেন। তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের প্রথম ছাত্র। তিনি প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।
সাহিত্য সাধনা: শিশুতোষ রচনা: 'শেষ নবীর সন্ধানে', 'গল্প মজুরী'। শিশু-পত্রিকা: 'আঙুর'।
উল্লেখযোগ্য সম্পাদনা: 'বাংলা ভাষার আঞ্চলিক অভিধান'।
মৃত্যু: ১৯৬৯ সালে, ঢাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল প্রাজাণে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
📘🎓 গল্পটির পাঠ-পরিচিতি জেনে নাওঃ
একসময় আরব দেশের তিনজন লোককে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে পাঠান। সেই তিনজনের একজন ধবলরোগী, একজন টাকওয়ালা এবং অপরজন অন্ধ। ফেরেশতার অনুগ্রহে তিনজনই সুস্থ-স্বাভাবিক চেহারা পেল। উপরন্তু প্রথমজন একটি উট উপহার পেল, যা থেকে সে পর্যায়ক্রমে বহু উটের মালিক হয়ে গেল; একইভাবে দ্বিতীয়জন একটি গাভি থেকে বহু গাভি এবং তৃতীয়জন একটি ছাগল থেকে বহু ছাগলের মালিক হলো। এর অনেকদিন পর ফেরেশতা একজন অসহায় বিদেশির ছদ্মবেশে প্রথমজনের কাছে গিয়ে তার আগের দুরবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে একটি উট ভিক্ষা চাইলেন। কিন্তু লোকটি তার আগের অবস্থা অস্বীকার করে ছদ্মবেশী ফেরেশতাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিলো। দ্বিতীয়জনও একই কাজ করল। কিন্তু তৃতীয়জন সত্যকে স্বীকার করে তার সমস্ত সম্পদ দান করতে রাজি হলো। আল্লাহ তার উপর খুশি হয়ে তাকে নিজস্ব সম্পদ ভোগের অধিকার দিলেন এবং অপর দুজনকে উপযুক্ত শাস্তি দিলেন।
সূচি (অধ্যায়টির বিষয়বস্তু)
🎯 প্র্যাকটিস অংশ: সৃজনশীল বহুনির্বাচনি-
- অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর-
- বিষয়ক্রম অনুযায়ী প্রশ্ন ও উত্তর--
🎯 প্র্যাকটিস অংশ: সৃজনশীল রচনামূলক
- অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর....
- পরীক্ষায় কমন পেতে আরও প্রশ্নোত্তর।
✅ নিশ্চিত নম্বরের প্রশ্নোত্তর-
- জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর।
- অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
💡 সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক
- উত্তর সংকেতসহ প্রশ্ন।
🔁 অনুশীলনের জন্য আরও প্রশ্ন-
- রিভিশন অংশ
- সাজেশন অংশ-
- ঘরে বসে পরীক্ষা: অধ্যায়ের প্রস্তুতি যাচাই-
প্র্যাকটিস অংশ: সৃজনশীল বহুনির্বাচনি
অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তরঃ
১. ফেরেশতা কেন আরব দেশের লোকদের কাছে এসেছিলেন?
(ক) সাহায্য নেওয়ার জন্য
(খ) পরীক্ষা নেওয়ার জন্য
(গ) শিক্ষা দেওয়ার জন্য
(ঘ) মূল্যায়নের জন্য
২. অন্ধ ব্যক্তি ফেরেশতাকে সবকিছু দিতে রাজি হয়েছিল কেন?
(ক) আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকায়
(খ) তার ছাগল বেশি হয়েছিল
(গ) তার আর ধনসম্পদের দরকার ছিল না
(ঘ) সে অকৃপণ ছিল
উদ্দীপকটি পড়ো এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
নন্দীপাড়া গ্রামের নওশাদ পরোপকারী মানুষ। এইতো সেদিন প্রতিবেশী কাশিমের বাড়িতে আগুন লাগলে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাশিমকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার করে নওশাদ। এর কিছুদিন পর নওশাদ একটি দুর্ঘটনায় হাসপাতালে যখন চিকিৎসাধীন তখন কাশিম নিজের রক্ত দিয়ে নওশাদকে সুস্থ করে তোলেন।
৩. উদ্দীপকের কাশিমের সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে?
(ক) ধবলরোগী
(খ) টাকওয়ালা
(গ) অন্ধলোক
(ঘ) বিদেশি
৪. উদ্দীপকের কাশিমের সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো-
i. নৈতিক মূল্যবোধ
ii. পরোপকার
iii. কৃতজ্ঞতাবোধ
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
মূলপাঠ | Text পৃষ্ঠা- ১
১. আরব দেশের তিনজন লোকের কথা বলা হয়েছে- 'সততার পুরস্কার' গল্পে।
২. ফেরেশতা হলেন- আল্লাহর দূত।
৩. ফেরেশতারা- নূরের তৈরি।
৪. ফেরেশতা বিদেশি মানুষের বেশে প্রথমে গেলেন- ধবলরোগীর কাছে।
৫. স্বর্গীয় দূত ধবলরোগীকে দিয়েছিলেন- গাভিন উট।
৬. টাকওয়ালাকে ফেরেশতা দিলেন একটা গাভিন গাই।
৭. ফেরেশতার দেওয়া উট, গাই ও ছাগলে মাঠ বোঝাই হয়ে গেল।
৮. পরের বার ফেরেশতা আসেন বিদেশির বেশে।
৯. ধবলরোগী ফেরেশতাকে উট দেয়নি দামের কারণে।
১০. আল্লাহ খুশি হয়েছেন- অন্ধ ব্যক্তির উপর।
১১. আল্লাহ বেজার হয়েছেন- ধবল ও টাকওয়ালা লোকটির উপর।
৫. কোন দেশের তিনজন লোকের কথা 'সততার পুরস্কার' গল্পে বলা হয়েছে?
(ক) আরব
(খ) কাতার
(গ) ইরান
(ঘ) মিশর
৬. 'সততার পুরস্কার' গল্পে প্রথম ব্যক্তিটির সর্বাফা কেমন ছিল? (জ্ঞান)
(ক) ফরসা
(খ) কালো
(গ) ধবল
(ঘ) রক্তবর্ণ
৭. আরবদেশীর লোকদের নিকট ফেরেশতাকে কে পাঠালেন? (জ্ঞান)
(ক) রাজা
(খ) মন্ত্রী
(গ) আল্লাহ
(ঘ) নবিজি
৮. আল্লাহ আরবদেশীয় লোকদের নিকট ফেরেশতাকে পাঠালেন কেন? (জ্ঞান)
(ক) পরীক্ষার জন্য
(খ) সাহায্যের জন্য
(গ) সংবাদ দিতে
(ঘ) অবস্থার পরিবর্তনের জন্য
৯. কতজন ফেরেশতা তিনজন লোককে পরীক্ষা করার জন্য এসেছিল? (জ্ঞান)
(ক) একজন
(খ) দুইজন
(গ) তিনজন
(ঘ) চারজন
১০. ফেরেশতারা কী দিয়ে তৈরি? (জ্ঞান)
(ক) আগুন
(খ) পানি
(গ) নূর
(ঘ) মাটি
১১. ফেরেশতারা সকল কাজ করে থাকেন কার হুকুমে? (জ্ঞান)
(ক) রাজার
(খ) আল্লাহর
(গ) মন্ত্রীর
(ঘ) নবিজির
১২. কোন ব্যক্তির নিকট ফেরেশতা প্রথম আসেন? (জ্ঞান) সুত্র পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১: লাইন ৫। বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কথেনং খুলনা।
(ক) টাকওয়ালার
(খ) অন্ধের
(গ) ধবলরোগীর
(ঘ) বিদেশির
১৩. 'আহা। আমার গায়ের রং যদি ভালো হয়।'- উক্তিটি কার? (জ্ঞান)
(ক) অল্ব ব্যতির
(খ) টাকওয়ালা বাজির
(গ) ধবল ব্যক্তিয়
(ঘ) ফেরেশতার
১৪. ধবলরোগীকে স্বর্গীয় দূত ভালো করে তুললেন কীভাবে? (অনুধাবন)
(ক) ওষুধ দিয়ে
(খ) গায়ে ফুঁ দিয়ে
(গ) তাবিজ দিয়ে
(ঘ) গায়ে হাত বুলিয়ে
- ধবলরোগী বলতে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। এ রোগে শরীরের চামড়া শ্বেতবর্ণ ধারণ করে।
১৫. ধবল ব্যক্তির গায়ের চামড়া ভালো হলো কীভাবে? (অনুধাবন)
(ক) ফেরেশতার অনুগ্রহে
(খ) আল্লাহর অনুগ্রহে
(গ) চিকিৎসার ফলে
(ঘ) উপযুক্ত কার্যের দ্বারা
১৬. ধবল ব্যক্তি ফেরেশতার নিকট কী চাইল? (জ্ঞান)
(ক) গাভি
(খ) ছাগল
(গ) গরু
(ঘ) উট
১৭. ধবলরোগীকে স্বগীয় দূত কেমন উট দিয়েছিলেন? (আম)
(ক) বন্ধ্যা উট
(খ) বাচ্চা উট
(গ) বয়স্ক উট
(ঘ) গাভিন উট
১৮. কোন জিনিস টাকওয়ালা লোকটি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে? (আন) বাইন ১০।
(ক) প্রচুর টাকা
(খ) ঊর্বর জমি
(গ) মাথাভর্তি চুল
(ঘ) খেজুরের বাগান
১৯. টাকওয়ালা ব্যস্তির মাথার চুল গজাল কীভাবে? (জ্ঞান)
(ক) ফেরেশতা মাথায় হাত বুলালে
(খ) ফেরেশতা ওষুধ দিলে
(গ) চিকিৎসার ফলে
(ঘ) উপযুক্ত কার্যের দ্বারা
২০. কে আল্লাহর দূতের কাছে গাতি চাইল? (জ্ঞান)
(ক) অন্ধ ব্যক্তি
(খ) শ্বেত রোগী
(গ) মুসাফির
(ঘ) টাকওয়ালা
২১. অল্প ব্যাস্ত ফেরেশতার কাছে কী দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করল? (জ্ঞান)
(ক) লোকের মুখ
(খ) ফেরেশতার মুখ
(গ) পৃথিবীর সৌন্দর্য
(ঘ) ছেলেমেয়ের মুখ
২২. অন্ধ ব্যক্তি ফেরেশতার নিকট কী চাইল? (জ্ঞান)
(ক) উট
(খ) গাভি
(গ) ছাগল
(ঘ) গরু
২৩. ফেরেশতা পুনর্বার এসে নিজেকে কী বলে পরিচয় দিলেন? (জ্ঞান)
(ক) ব্যবসায়ী
(খ) ফকির
(গ) বিদেশি
(ঘ) মুসাফির
- ডিন ব্যস্তির সভতার পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ফেরেশতা দরিদ্র বিদেশির হন্মবেশে এসেছিলেন।
২৪. বিদেশি তার কী ফুরিয়ে গেছে বলে ধবলরোগীকে জানালেন? (জ্ঞান)
(ক) ধৈর্য
(খ) শক্তি
(গ) পণ্য
(ঘ) পুঁজি
২৫. ফেরেশতা ধবল ব্যক্তির নিকট কী চাইলেন? (জন)।
(ক) উট
(খ) ছাগল
(গ) গাডি
(ঘ) গরু
২৬. ফেরেশতা ধবল ব্যক্তিকে কায় দোহাই দিলেন? (অনুধাবন)
(ক) আল্লাহর
(খ) বাদশার
(গ) নৈতিকতার
(ঘ) খলিকার
২৭. কাকে সকলেই ঘৃণা করত? (জ্ঞান)
(ক) অন্ধ ব্যক্তি
(খ) ধবল ব্যক্তি
(গ) টাকওয়ালা ব্যক্তি
(ঘ) বিদেশি
২৮. ফেরেশতা টাকওয়ালা ব্যক্তির নিকট কী চাইলেন? (জ্ঞান)
(ক) উট
(খ) ছাগল
(গ) গাভি
(ঘ) গরু
২৯. কে দ্বিতীয়বার অন্য ব্যক্তির নিকট বিপদরান্ত হিসেবে নিজর পরিচয় দিলেন?
(ক) ব্যবসায়ী
(খ) ভিখারি
(গ) মুসাফির
(ঘ) ফেরেশতা
৩০. 'বিদেশে আমার সম্বল ফুরাইয়া গিয়াছে'- উক্তিটি কার? (জান)
(ক) ধবল ব্যপ্তির
(খ) মুসাফিরের
(গ) ফেরেশতার
(ঘ) অন্ধ ব্যক্তির
৩১. ফেরেশতা কার দোহাই দিয়ে ছাগল চেয়েছিলেন? (জ্ঞান)
(ক) খলিফার
(খ) রাজার
(গ) নিজের
(ঘ) আল্লাহর
৩২. পূর্বের অন্য ব্যক্তিটি গরিব থেকে বর্তমানে কী হয়েছে বলে স্বীকার করল?
(ক) সম্রাট
(খ) আমির
(গ) খামারি
(ঘ) কৃষক
৩৩. 'তুমি যাহা চাও লও'- উক্তিটি কার? (জ্ঞান)
(ক) ফেরেশতার
(খ) টাকওয়ালার
(গ) ধবলরোগীর
(ঘ) অল্ব বাজির
- বিদেশি ছদ্মবেশ ধারণকারী ফেরেশতা পূর্বে অন্ধ লোকটিকে সাহায্য করেছিল। সেই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণ লাভের আশায় জন্ম লোকটি ফেরেশতাকে সবকিছু দিতে চায়।
৩৪. 'তোমাদের পরীক্ষা সওয়া বইল'- উক্তিটি কার? (জ্ঞান)
(ক) ধবল রোগীর
(খ) অন্ধ ব্যক্তির
(গ) ফেরেশতার
(ঘ) আল্লাহর
৩৫. 'সততার পুরস্কার' গল্পে কৃতজ্ঞ ব্যক্তি কে? (অনুধাবন)
(ক) অন্ধ লোক
(খ) ধবলরোগী
(গ) টাকওয়ালা
(ঘ) ফেরেশতা
৩৬. উপযুক্ত আচরণের জন্য আল্লাহ কার উপর খুশি হয়েছিলেন? (জ্ঞান)
(ক) টাকওয়ালার
(খ) ধবলরোগীর
(গ) অন্ধ ব্যক্তির
(ঘ) ফেরেশতার
৩৭. অন্ধ ব্যক্তি ব্যতীত বাকিদের উপর আল্লাহ কী হয়েছিলেন? (জ্ঞান)
(ক) বিরক্ত
(খ) রুষ্ট
(গ) বেজার
(ঘ) ক্ষিপ্ত
৩৮. ফেরেশতারা হলেন (অনুধাবন)
i. আল্লাহর দূত
ii. সকল ক্ষমতার অধিকারী
iii. নূরের তৈরি
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
৩৯. 'বোঝাই' অর্থ হলো (অনুবাদ)
i. ভরতি
ii. পরিপূর্ণ
iii. টইটম্বুর
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
৪০. বিদেশে এসে স্বগীয় দূতের ফুরিয়ে গেছে- (অনুধাবন)
i. শক্তি
ii. পুঁজি
iii. সম্বল
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
৪১. কোন ক্ষেত্রে মুহম্মাদ শহীদুল্লাহর অবদান অবিস্মরণীয়? (জ্ঞান)
(ক) অনুবাদ সাহিত্যে
(খ) বাংলা ব্যাকরণে
(গ) নাট্যকার হিসেবে
(ঘ) মহাকাব্য রচনায়
৪২. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কোন বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন? (জ্ঞান)
(ক) বাংলা বিভাগে
(খ) ইংরেজি বিভাগে
(গ) সংস্কৃত ও পালি বিভাগে
(ঘ) ইতিহাস বিভাগে
৪৩. মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে কোথায় সমাহিক করা হয়? (জ্ঞান)
(ক) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
(খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে
(গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
(ঘ) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে
৪৪. শিশু-পত্রিকা ‘আঙুর’ সম্পাদনা করে-----
(ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
(খ) সৈয়দ শামসুল হক
(গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
(ঘ) আনিসুজ্জামান
৪৫. কোন গ্রন্থটির সম্পাদনা মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অসামান্য কীর্তি হিসেবে বিবেচিত? (জ্ঞান)
(ক) বাংলা ভাষার লেখক অভিধান
(খ) বাংলা ভাষার ব্যুৎপত্তি অভিধান
(গ) বাংলা ভাষার উচ্চারণ অভিধান
(ঘ) বাংলা ভাষার আঞ্চলিক অভিধান
অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তরঃ
প্রশ্ন-১ঃ কালাম, আবুল ও হাফিজ একই গ্রামে বাস করে। তাদের অবস্থা তেমন ভালো নয়। কোনোমতে দিন অতিবাহিত করে। এ কারণে হাজি সাহেব তার যাকাতের টাকা দিয়ে আবুলকে একটা রিকশা, কালামকে একটা ভ্যানগাড়ি আর হাফিজকে একটা সেলাই মেশিন কিনে দিলেন। তিনি বললেন, তোমরা পরিশ্রম করে খাও, আর তোমাদের সাধ্যমতো গরিব মানুষের উপকার করো। কিছুদিন পর হাজি সাহেব তাদের পরীক্ষা করার জন্য এক ভিক্ষুককে পাঠালেন তাদের কাছে সাহায্য চাইতে। আবুল আর কালাম কোনো সাহায্যই করল না। কিন্তু হাফিজ বিনা পয়সায় ভিক্ষুকের জামাটা সেলাই করে দিলো।
ক. স্বর্গীয় দূত কতজন ইহুদিকে পরীক্ষা করেছিলেন?
খ. স্বর্গীয় দূত মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন কেন?
গ. কামাল ও আবুলের কাজের মধ্যে ‘সততার পুরষ্কার’ গল্পের যে দিকটি প্রতিফলিত তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'হাফিজের কাজের মধ্যেই 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূল শিক্ষা নিহিত'- কথাটি বিশ্লেষণ করো।
(খ) প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি বলেই স্বর্গীয় দূত মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।
স্বর্গীয় দূত বলতে এখানে আল্লাহর দূত বা ফেরেশতাকে বোঝানো হয়েছে।
ফেরেশতারা আল্লাহর হুকুমে কাজ করে থাকেন। আলোচ্য গল্পে আরবের তিনজন ব্যক্তিকে পরীক্ষার জন্য আল্লাহ এক ফেরেশতাকে পাঠান। ফেরেশতা তখন মানুষের রূপ ধারণ করে তাদের সামনে আসেন যাতে কেউ তাঁর আসল পরিচয় জানতে না পারে।
(গ) কালাম ও আবুলের কাজের মাঝে 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তির অকৃতজ্ঞ আচরণের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তি তাদের আগের দুরবস্থার কথা অস্বীকার করে এবং ফেরেশতার প্রতি অমানবিক আচরণ করে। উদ্দীপকের কালাম এবং আবুলও একইরকম চরিত্রের অধিকারী।
উদ্দীপকের কালাম ও আবুল দরিদ্র ও অসহায় ছিল। হাজি সাহেবের সহায়তায় তাদের জীবনে সুদিন আসে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা অকৃতজ্ঞ ও অহংকারী হয়ে ওঠে। এজন্য তারা দরিদ্র ভিক্ষুককে কোনো সাহায্যই করেনি, যেমনটি দেখা যায় আলোচ্য গল্পের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তির আচরণে। তারাও দরিদ্র বিদেশির রূপ ধারণকারী ফেরেশতাকে কোনো সাহায্য করেনি। অর্থাৎ উদ্দীপকের কালাম, আবুল এবং 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তির আচরণে অকৃতজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়।
(ঘ) সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিচয় তুলে ধরাই 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূল শিক্ষা, যা উদ্দীপকের হাফিজ চরিত্রের মাঝে সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যা গল্পের অন্ধ ব্যক্তির আচরণে প্রকাশ পেয়েছে। আর তাই বিদেশি বিপদগ্রস্ত লোকটিকে সাহায্যার্থে সে পছন্দমতো জিনিস নিয়ে যাওয়ার আন্তরিক অনুরোধ করেছে।
উদ্দীপকের হাফিজ দরিদ্র অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে। হাজি সাহেবের দেওয়া সেলাই মেশিন হাফিজের অবস্থা বদলে দিয়েছে। এজন্য সে সবসময় আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞ থেকেছে। আর তাই অসহায় দরিদ্র ভিক্ষুক তার কাছে এলে সে ভিক্ষুকের জামাটা বিনা পয়সায় সেলাই করে দিয়ে কৃতজ্ঞতা ও নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ ব্যক্তি এবং উদ্দীপকের হাফিজের মনোভাব একই ধরনের। নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন হলেও তারা অতীতকে ভুলে যায়নি। দরিদ্র অসহায়কে সহায়তা করে তারা নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছে। আর এটিই হচ্ছে 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূল শিক্ষা। এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
প্রশ্ন-২ঃ
উদ্দীপক-১: সৎ লোক সাতবার বিপদে পড়লে
আবার উঠে কিন্তু অসৎ লোক বিপদে পড়লে একবারে নিপাত হয়।
উদ্দীপক-২: সততার গুণে যাঁরা গুণী হয়
তাঁরাই তো সমাজের আসল মানুষ
কোন ক্রান্তিকালে তাঁরা থাকে না বেহুঁশ।
ক. ফেরেশতারা কীসের তৈরি?
খ. 'তুমি যেমন ছিলে আল্লাহ আবার তোমাকে তাহাই করিবেন।'-উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো। ২
গ. উদ্দীপক-১-এর সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের সাদৃশ্যগত দিকটি নিরূপণ করো। ৩
ঘ. "উদ্দীপক-২ যেন 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটির অনুরূপ।"- বিশ্লেষণ করো। ৪
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
(ক) ফেরেশতারা নূরের তৈরি।
(খ) ধবলরোগীর মিথ্যাচার ও অকৃতজ্ঞতার দিকটি প্রকাশ করতে ছদ্মবেশী স্বগীয় দূত প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
'সততার পুরস্কার' গল্পের লেখক সততা ও কৃতজ্ঞতার দিকটির প্রতি জোর দিয়েছেন। ধবলরোগীকে সুস্থ করে দিয়েছেন ফেরেশতা। তাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে স্বর্গীয় দূত তার কাছে সাহায্য চাইলে সে তার পূর্বের অবস্থা অস্বীকার করে। সে অকৃতজ্ঞভাবে মিথ্যা বলে যে, সে সারা জীবনই এমন ধনবান ছিল। তাই নিজের সম্পদ অন্যকে দিতে অস্বীকার করে। স্বগীয় দূত ধবলরোগীকে তার পূর্বের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন করতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে ধবলরোগীর মিথ্যাচার ও অকৃতজ্ঞতার দিকটি প্রকাশ করেছেন।
(গ) উদ্দীপক-১-এ 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবলরোগীর ও টাকওয়ালার অসৎ মনোভাবটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সততার পুরস্কার' গল্পে ফেরেশতার মাধ্যমে ধবলরোগী, টাকওয়ালা ও অন্ধলোকের শারীরিক সমস্যা দূর হয়ে যায়। ধবলরোগী ও টাকওয়ালা বিত্তবান হলে আল্লাহ তাদেরকে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে স্বর্গীয় দূত প্রেরণ করেন। কিন্তু ধবলরোগী ও টাকওয়ালা তাদের পূর্বের অবস্থা সম্পর্কে অস্বীকার করে ও মিথ্যা কথা বলে। ফলে আল্লাহ তাদের উপর অসন্তুষ্ট হন। এতে তাদের ধ্বংস অনিবার্য হয়ে পড়ে।
উদ্দীপক-১-এ বলা হয়েছে, সৎ লোক সর্বদা বিপদ মোকাবিলা করতে পারে কিন্তু অসৎ লোক যদি একবার নিজের ভুলের জন্য বিপদে পড়ে তার মুক্তি মেলে না। 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালার মধ্যে এমনই অসৎ মানসিকতার দিকটি প্রকাশ পায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১-এর সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালার অসৎ মনোভাবটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
(ঘ) উদ্দীপক-২ ও 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটির সততার সম্মানের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে আল্লাহ তিনজন মানুষকে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ফেরেশতা পাঠান। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা তিনজনের সমস্যা সমাধান করেন। কিন্তু প্রথম দুইজন তথা: ধবলরোগী ও টাকওয়ালা আল্লাহর এই মহিমা অস্বীকার করে। অন্ধ লোকটি তার পূর্বের অবস্থা স্বীকার করে এবং মানুষরূপী ফেরেশতাকে যথাযথ উপকার করে। এতে আল্লাহ ও স্বগীয় দূত উভয়ই সন্তুষ্ট হন।
উদ্দীপক-২-এ সমাজের সৎ মানুষ সম্পর্কে বলা হয়েছে। সৎ মানুষকে সমাজের সকলেই পছন্দ করে। তাঁদের মনে সততার আলো থাকে বলে সমাজের সংকটময় মুহূর্তে নীরব থাকতে পারে না। 'সততার পুরস্কার' গল্পে সৎ অন্ধ লোকটিকে আল্লাহ যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেছেন। সততার জন্য সে আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সে স্বর্গীয় দূতরূপী মানুষের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে যা সমাজের প্রকৃত মানুষেরই চিত্র। উদ্দীপকেও তেমনি সৎ মানুষের সমাজে মর্যাদার দিকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাঁদের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। সর্বোপরি বলা যায়, উদ্দীপক-২ যেন 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটির অনুরূপ।
প্রশ্ন-৩ঃ টাকার মালিক ফোন পেয়ে দ্রুত আরও দুজন ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে ইনাতগঞ্জ বাজারে আসেন। পরে মোবাইল ও দুই লাখ সাতচল্লিশ হাজার টাকা ব্যাগ মালিককে ফেরত দেন রিকশাচালক নাজমুল। এসময় ব্যাগ মালিক অনেকের উপস্থিতিতে নিজ টাকা বুঝে পাওয়ার পর চালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রায় জোর করেই তার পকেটে ২৫০০ টাকা ঢুকিয়ে দেন। এসময় রিকশাচালক নাজমুলকে উক্ত টাকার মালিক খুশি হয়ে নতুন একটা মোবাইল ফোন উপহার দেন।
ক. ফেরেশেতা কার দোহাই দিয়ে ছাগল চেয়েছিলেন?
খ. 'আহা! আমার এই রোগ যদি সারিয়া যায়'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন দিকটির বৈসাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "উদ্দীপকের টাকার মালিক ও অন্ধ লোকের মনোভাবই যেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহর 'সততার পুরস্কার' গল্পের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা- মূল্যায়ন করো।
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
(ক) ফেরেশতা আল্লাহর দোহাই দিয়ে ছাগল চেয়েছিলেন।
(খ) টাক মাথায় চুল গজানো প্রসঙ্গে টাকওয়ালা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা আসে তিনজন লোকের সমস্ত সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার জন্য। ফেরেশতা যখন টাকওয়ালার কাছে জিজ্ঞেস করে তার কী চাই? টাকওয়ালা আক্ষেপের সাথে বলে তার মাথায় যদি চুল গজায় তাহলে কত ভালো হয়। মূলত নিজের মাথায় চুল না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করে টাকওয়ালা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা চুলহীন মানুষের বেদনার দিকটি প্রকাশ করেছে।
(গ) উদ্দীপকের ঘটনার সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালার অকৃতজ্ঞতার দিকটির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশে তিনজনকে পরীক্ষা করতে আসেন। প্রথমে ফেরেশতা তিনজন ব্যক্তির শারীরিক ও আর্থিক সমস্যা সমাধান করে দেন। পরবর্তীকালে ফেরেশতা তিনজনের সততার পরীক্ষাস্বরূপ সাহায্য নিতে আসলে ধবলরোগী ও টাকওয়ালা পূর্বের অবস্থা সম্পর্কে অস্বীকার করে। ধনবান হয়ে আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
উদ্দীপকের টাকার মালিকের মোবাইল ও টাকা হারিয়ে গেলে রিকশাচালক তা ফেরত দেয়। রিকশাচালকের প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে রিকশাচালককে ২৫০০ টাকা ও একটি মোবাইল উপহার দেয়। কিন্তু 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালা আল্লাহর নিয়ামতের দ্বারা সুস্থ ও ধনবান হয়ে উঠেও তা অস্বীকার করে। অন্যদিকে টাকার মালিক রিকশাচালকের প্রতি যথার্থ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অকৃতজ্ঞতার দিকটির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
(ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 'সততার পুরস্কার' গল্পে অন্ধ লোকের মতো কৃতজ্ঞ মানুষের প্রত্যাশা করেছেন। উদ্দীপকের টাকার মালিকও উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে ফেরেশতার অনুগ্রহে অসুস্থ তিনজন ব্যক্তির শারীরিক ত্রুটি দূর হয় এবং তারা ধনবান হয়ে ওঠে। অবস্থার পরিবর্তন হওয়ার পর ধবলরোগী ও টাকওয়ালা ফেরেশতার অনুগ্রহ অস্বীকার করে। নিজেদের পূর্বের অবস্থা ভুলে যায়। এতে তাদের বিলাসী জীবন আবার পূর্বের ন্যায় হয়ে যায়। অন্যদিকে অন্ধ লোকটি তার পূর্বের কথা স্বীকার করে। আল্লাহর অনুগ্রহের উপর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে। এতে আল্লাহ ও ফেরেশতা তার উপর খুশি হয়।
উদ্দীপকের টাকার মালিকের দুই লাখ সাতচল্লিশ হাজার টাকা ও মোবাইল হারিয়ে যায়। রিকশাচালক তার হারানো মোবাইল ও টাকা ফেরত দেয়। এতে টাকার মালিক খুশি হয়ে রিকশাচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং উপহার সামগ্রী প্রদান করে।
'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালার মধ্য দিয়ে অকৃতজ্ঞ মানুষের শেষ পরিণতি দেখিয়েছেন লেখক। অন্যদিকে, অন্ধ লোকটির দ্বারা লেখক প্রত্যাশা করেন সৎ ও কৃতজ্ঞ মানুষের। উদ্দীপকের টাকার মালিক তার নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন ও তার মধ্যে রয়েছে কৃতজ্ঞতার প্রতীয়মান রূপ। সেই বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের টাকার মালিক ও অন্ধ লোকের মনোভাবই মুহম্মদ শহীদুল্লাহর 'সততার পুরস্কার' গল্পের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা।
প্রশ্ন-৪ঃ নবম শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ। স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে সে একটি মানিব্যাগ খুঁজে পায়। মানিব্যাগটি খুলে দেখে অনেক টাকা। মানিব্যাগে মোবাইল নম্বর খুঁজে পেয়ে এর মালিককে ফোন দেয় সে। মানিব্যাগের মালিক টাকা ফেরত পেয়ে জুনায়েদের সততায় মুগ্ধ হয়।
ক. স্বর্গীয় দূতের কাছে ধবলরোগী কী চেয়েছিল?
খ. ধবলরোগী ও টাকওয়ালার প্রতি আল্লাহ বেজার হলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের জুনায়েদের সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন চরিত্র সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা'- উক্তিটি উদ্দীপক ও 'সততার পুরস্কার' গল্পের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
(ক) স্বণীয় দূতের কাছে ধবলরোগী একটি উট চেয়েছিল।
(খ) কৃতজ্ঞতাবোধ না থাকার কারণে ধবলরোগী ও টাকওয়ালার প্রতি আল্লাহ বেজার হয়েছিলেন।
আরব দেশের তিনজন লোকের মধ্যে প্রথমজন ছিল ধবলরোগী, দ্বিতীয়জন টাকওয়ালা এবং তৃতীয়জন অন্ধ। আল্লাহর নির্দেশে একজন ফেরেশতা তাদের শারীরিক ত্রুটি দূর করে ধনসম্পদ দান করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে ফেরেশতা ছদ্মবেশ ধারণ করে তাদের কাছে সাহায্য চাইলে পূর্বের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তি আল্লাহর কৃপার কথা অস্বীকার করে। এ কারণে আল্লাহ তাদের প্রতি বেজার হয়েছিলেন।
(গ) উদ্দীপকের জুনায়েদের সাথে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ ব্যক্তিটির চরিত্র সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সততার পুরস্কার' গল্পে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির সততার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। একসময় লোকটি গরিব ছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তার অন্ধত্ব দূর হয় ও সে ধনী হয়। শেষ পর্যন্ত সে আল্লাহর রহমতের কথা মনে রেখেছে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থেকেছে।
উদ্দীপকের জুনায়েদ একজন স্কুল ছাত্র। সে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া মানিব্যাগে অনেক টাকা দেখেও তার ভেতর লোভ জাগেনি। সে মালিককে তা পৌঁছে দেওয়াটা দায়িত্ব মনে করেছে। তাই সে তাকে ফোন করে মানিব্যাগটা পৌছে দিয়েছে। আলোচ্য গল্পের অন্য ব্যক্তির চরিত্রেও একই বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের জুনায়েদ ও গল্পের অন্য ব্যক্তি উভয়েই ন্যায়পরায়ণ মানুষ। এভাবে সততা ও লোভহীন মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের জুনায়েদের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটির চরিত্র সাদৃশ্যপূর্ণ।
(ঘ) 'সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা'- এই উক্তিটি উদ্দীপক ও 'সততার পুরস্কার' গল্পে চরমভাবে সত্য হয়ে উঠেছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে দেখা যায়, মহান আল্লাহ তিনজন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য একজন ফেরেশতাকে পাঠান। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা তাদের সকল সমস্যা দূর করেন। এর মধ্যে অন্ধ ব্যক্তি সততার পরিচয় দিয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করেন।
উদ্দীপকে স্কুল ছাত্র জুনায়েদ প্রচুর টাকাসহ মানিব্যাগ পাওয়ার পরও তার চারিত্রিক বলিষ্ঠতার কারণে সে ফোন করে টাকাসহ মানিব্যাগটি তার মালিককে বুঝিয়ে দিয়েছে। অন্যের টাকা আত্মসাৎ করে সে তার নিজের চরিত্রে কালিমা লেপন করতে চায়নি। লোভের বশবর্তী না হয়ে সে তার চারিত্রিক সততাকে সমুন্নত রেখেছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে অসৎ ও অকৃতজ্ঞ দুই ব্যক্তিকে আগের অবস্থা ফিরিয়ে দিয়ে আল্লাহ তাদের যথাযথ শাস্তি দিয়েছেন। পাশাপাশি সৎ ও কৃতজ্ঞ অন্ধ ব্যক্তির উপর তাঁর রহমত বজায় রেখে তাকে পুরস্কৃত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে গল্পটিতে সততার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। একইভাবে, উদ্দীপকের জুনায়েদও লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যের ক্ষতি করেনি। তাই মানিব্যাগের মালিক তার সততায় মুগ্ধ হয়েছেন। এ কারণেই দেখা যায়, 'সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা' সেই আদর্শই উদ্দীপক ও 'সততার পুরস্কার' গল্পে মুখ্য হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন-৫ঃ মসজিদে কাল শিরনী আছিল, অঢেল গোস্ত-রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি,
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন্
বলে, 'বাবা, আমি ভুকা-ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন।'
তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা- "ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,
ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নমাজ পড়িস বেটা?"
ক. ফেরেশতা কীসের তৈরি?
খ. তিন ব্যক্তি কীভাবে রোগমুক্ত হয়েছিল?
গ. 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন বিষয়টি উদ্দীপকের সাথে সংগতিপূর্ণ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের সমগ্র ভাবকে ধারণ করে কি? বিশ্লেষণ করো।
৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
(ক) ফেরেশতা নূরের তৈরি।
(খ) তিন ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতার মাধ্যমে রোগমুক্ত হয়েছিল। 'সততার পুরস্কার' গল্পে তিনজন ব্যক্তি ছিলেন যারা হলেন ধবলরোগী, টাকওয়ালা ও অন্ধ। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা ধবলরোগীর গায়ে, টাকওয়ালার মাথায় ও অন্ধ ব্যক্তির চোখে হাত বুলিয়ে দিলে তারা সুস্থ হয়ে যায়।
(গ) উদ্দীপকের মোল্লা চরিত্রটির সঙ্গে 'সততার গল্প'-এর ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তির অকৃতজ্ঞতার দিকটি সংগতিপূর্ণ।
'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তি আল্লাহর ইচ্ছায় সুন্দর ও সচ্ছল জীবন পায়। কিন্তু তারা সবকিছু ভুলে অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেয়। নিজেদের আগের দুরবস্থার কথাও তারা অস্বীকার করে।
উদ্দীপকে মোল্লা সাহেবের কাছে ক্ষুধার্ত মুসাফির কিছু খাবার চেয়েছিল। অঢেল গোশতরুটি থাকা সত্ত্বেও মোল্লা সাহেব সাতদিনের অনাহারি মুসাফিরকে নামাজ না পড়ার অজুহাতে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন। শুধু তাই নয়, মোল্লাসাহেব ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে গো-ভাগাড়ে গিয়ে মরতে বলেন। মুসাফিরের করুণ আহাজারিতেও মোল্লা সাহেবের হৃদয় এতটুকু বিগলিত হয়নি। 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালা তেমনি স্বার্থপর ব্যক্তি। তারা শুধু নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত ছিল। অন্যের দুঃখকষ্ট তাদের হৃদয় স্পর্শ করেনি। আল্লাহ তাই তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। সেদিক বিবেচনায় বলা যায়, সাহায্য প্রার্থীকে সাহায্য না করার ঘৃণ্য মানসিকতার বিষয়টি উদ্দীপক ও 'সততার পুরস্কার' গল্পে সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
(ঘ) শুধু অকৃতজ্ঞতার দিকটি উঠে আসায় উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবকে নয় বরং আংশিক ভাবকে ধারণ করেছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে আল্লাহ ধবল, টাকওয়ালা ও অন্ধ এমন তিন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা পাঠান। ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তি সুস্থ ও সম্পত্তির মালিক হয়ে আল্লাহর করুণার কথা ভুলে যায়। অন্যদিকে, অন্ধ লোকটি নিজের পূর্বের অবস্থা স্মরণ করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। ফলে অন্ধ ব্যক্তি পুরস্কৃত হয় এবং বাকিরা অভিশপ্ত হয়।
উদ্দীপকে মসজিদে অঢেল গোশতরুটি বেঁচে যাওয়ায় মোল্লা সাহেব যখন খুশিতে আটখানা, ঠিক তখনই সাতদিনের অনাহারী এক মুসাফির তার কাছে খাবার চাইলে তাকে তিনি বকাঝকা করে তাড়িয়ে দেন। নামাজ না পড়ার অজুহাত দেখিয়ে খাবার থেকে তাকে বঞ্চিত করেন। ক্ষুধায় তার পেট জ্বলেপুড়ে গেলেও তার প্রতি মোল্লা সাহেবের কোনোরূপ মমত্ববোধ সৃষ্টি হয়নি। উপরন্তু, অত্যন্ত নির্দয়ভাবে তিনি অনাহারীকে গো-ভাগাড়ে গিয়ে মরতে বলেছেন।
'সততার পুরস্কার' গল্পে আমরা দেখি দুজন ব্যক্তি স্বার্থের মোহে অন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার প্রতিফল হিসেবে তারা তাদের পূর্বের দরিদ্রদশায় পতিত হয়েছে। তৃতীয় ব্যক্তির মধ্যে সততা ও বিচারবুদ্ধি থাকায় আল্লাহর পক্ষ থেকে সে যে দান পেয়েছিল তা স্থায়ী হয়ে যায়। তবে উদ্দীপকে শুধু প্রথম দুই ব্যক্তির অকৃতজ্ঞ আচরণের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। অর্থাৎ সাহায্যপ্রার্থীকে কোনোরূপ সহায়তা না দেওয়ার দিকটিই উঠে এসেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের সমগ্র ভাবকে ধারণ করতে পারেনি।
প্রশ্ন-৬ঃ কাঠুরিয়া কাঠ কাটার সময় হঠাৎ তার কুঠারটি নদীর পানিতে পড়ে গেল। উপার্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে সে কাঁদতে লাগল। কান্না শুনে এক জলপরি পানি থেকে উঠে সোনার একটি কুঠার দেখিয়ে তাকে বললেন এটি তার কি না। কাঠুরিয়া না বললে তাকে আরেকটি রুপার কুঠার দেখালে সে আবারও না বলল। এরপর জলপরি আসল কুঠার দেখালে কাঠুরিয়া বলল এটিই তার কুঠার। জলপরি তার সততায় মুগ্ধ হয়ে তাকে তিনটি কঠারই দিয়ে দিলেন। কাঠরিয়ার আর অভাব রইল না। তিনটি কুঠারই দিয়ে দিলেন। কাঠুরিয়ার আর অভাব রইল না।
ক. ফেরেশতা উট চাইলে উটওয়ালা তাঁকে কী বলল?
খ. আল্লাহ ধবলরোগী ও টাকওয়ালার প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের কাঠুরিয়া 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের সমগ্রভাব তুলে ধরে কি? মূল্যায়ন করো।
৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
(ক) ফেরেশতা উট চাইলে উটওয়ালা উটের অনেক দাম বলে উট দিতে অস্বীকৃতি জানাল।
(খ) অকৃতজ্ঞতার জন্য আল্লাহ ধবলরোগী ও টাকওয়ালার প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন।
আরব দেশের তিনজন লোকের মধ্যে প্রথমজন ছিল ধবলরোগী, দ্বিতীয়জন টাকওয়ালা এবং তৃতীয়জন অন্ধ। আল্লাহর নির্দেশে একজন ফেরেশতা তাদের শারীরিক ত্রুটি দূর করেন এবং ধনসম্পদ দান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফেরেশতা ছদ্মবেশ ধারণ করে তাদের কাছে সাহায্য চাইলে পূর্বের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তি আল্লাহর কৃপার কথা অস্বীকার করে। একারণে আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন।
(গ) জাউদ্দীপকের কাঠুরিয়া 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটির প্রতিনিধিত্ব করছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে সৎ থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। বস্তুত, সততা ও কৃতজ্ঞতা মানুষের বড়ো দুটো গুণ। এসব গুণের কারণে মানুষ সমাজের কাছে বিশ্বাসী ও ভালোবাসার পাত্র হয়ে ওঠে। মহান স্রষ্টাও এ ধরনের মানুষের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন। পরিণামে সৎ মানুষ সৌভাগ্যবান হয়।
উদ্দীপকের দরিদ্র কাঠুরে সৎ ও পরিশ্রমী একজন মানুষ। একবার কাঠ কাটতে গিয়ে তার কুঠারটি নদীতে পড়ে যায়। এমন সময় জলপরি তাকে সোনা, রূপা ও লোহার কুঠার দেখান। এমন সুযোগ পেয়েও কাঠুরে শুধু নিজের লোহার কুঠারটিই দাবি করে। তার সততায় খুশি হয়ে জলপরি তাকে তিনটি কুঠারই পুরস্কার হিসেবে দিয়ে দেন। একইভাবে, 'সততার পুরস্কার' গল্পেও অন্ধ লোকটি কাঠুরের মতোই সততার পরিচয় দেয়। আল্লাহর করুণা ও দানের কথা স্বীকার করে ছদ্মবেশী ফেরেশতাকে সে তাঁর ইচ্ছেমতো সবকিছু নিতে বলে। তার এমন আচরণে তুষ্ট হয়ে আল্লাহ তাঁকে সবকিছু দিয়ে পুরস্কৃত করেন। এভাবে সততা ও নির্লোভ মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের কাঠরের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটির চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।
(ঘ) 'সততার পুরস্কার' গল্পে সততার জন্য পুরস্কার এবং অকৃতজ্ঞতার জন্য শাস্তির কথা বলা হলেও উদ্দীপকে কেবল একটি দিকের কথাই তুলে ধরা হয়েছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে আল্লাহ ধবলরোগী, টাকওয়ালা ও অন্ধ এমন তিন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা পাঠান। ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তি সুস্থ ও সম্পত্তির মালিক হয়ে আল্লাহর করুণার কথা ভুলে যায়। অন্যদিকে, অন্ধ লোকটি নিজের পূর্বের অবস্থা স্মরণ করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। ফলে অন্ধ ব্যক্তি পুরস্কৃত হয় এবং বাকিরা অভিশপ্ত হয়।
উদ্দীপকে একজন দরিদ্র কাঠুরের সততা পরীক্ষা করার জন্য জলপরি আসেন। গরিব কাঠুরের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাকে সোনা এবং রূপার কুঠার দিতে চান। কিন্তু কাঠুরিয়া তা নিতে অসম্মতি প্রকাশ করে। গরিব কাঠুরের সততায় মুগ্ধ হয়ে জলপরি তাকে তিনটি কুঠারই পুরস্কারস্বরূপ দান করেন। সততার কারণে কাঠুরিয়া উপযুক্ত পুরস্কার লাভ করে। সততার জন্য পুরস্কৃত হওয়ার এ দিকটি আলোচ্য গল্পেও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।
'সততার পুরস্কার' গল্পে দেখা যায়, আল্লাহ ধবলরোগী, টাকওয়ালা ও অন্ধ এই তিন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা পাঠান। এদের মধ্যে অন্ধ লোকটি আল্লাহর করুণার জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে এবং সৎভাবে জীবনযাপন করে। আল্লাহও সততার জন্য তাকে যথাযথ পুরস্কার দেন, যেমনটি আলোচ্য উদ্দীপকে কাঠুরের পুরস্কৃত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয়। তবে আলোচ্য গল্পের মতো অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির শাস্তির কথা সেখানে উল্লেখ নেই। এ বিবেচনায় উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের সমগ্রভাব তুলে ধরতে পারেনি।
প্রশ্ন-৭ঃ সম্মানিত হতে চাইলে তোমাকে অবশ্যই সৎ হতে হবে। এর অর্থ হলো সততার সঙ্গে চলা, কথা বলা। সততা বজায় রাখতে গিয়ে যদি তোমাকে কোনো মাশুল দিতে হয়, তবু তা-ই করো। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুমি সৎ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছ; যারা দেশকে ভালোবাসে, এই দায়বদ্ধতা তাদেরও। সুত্রঃ 'সততা ও সম্মান একই মুদ্রার দুই পিঠে-মাইকেল ব্লুমবার্গ, দৈনিক প্রথম আলো: ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ খ্রি.।
ক. 'আমির' শব্দের অর্থ কী?
খ. ফেরেশতা কেন অন্ধ ব্যক্তিকে ভালো লোক বললেন?
গ. উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন দিকটিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবকে প্রতিনিধিত্ব করে কি? বিশ্লেষণ করো।
৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
(ক) 'আমির' শব্দের অর্থ ধনবান।
(খ) সততা ও কৃতজ্ঞতাবোধের জন্য ফেরেশতা অন্ধ ব্যক্তিকে ভালো লোক বললেন।
আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতা তিনজন ব্যক্তির সততার পরীক্ষা নিতে যান। এর মধ্যে ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহের ফলে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনের কথা অস্বীকার করে। কিন্তু অন্ধ ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহের দান স্বীকার করে এবং আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এজন্য ফেরেশতা অন্ধ ব্যক্তিকে ভালো লোক বলেন।
(গ) উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পে বিধৃত সততার গুরুত্বের দিকটি তুলে ধরেছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির সততার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। একসময় লোকটি গরিব ছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তার অন্ধত্ব দূর হয় ও সে ধনী হয়। শেষ পর্যন্ত সে আল্লাহর রহমতের কথা মনে রেখেছে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থেকেছে।
উদ্দীপকে সৎ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে সততা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনে যেকোনো ক্ষতি স্বীকার করার কথাও বলা হয়েছে। একইভাবে, 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটিও শেষ পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থেকেছে। সততার পরিচয় দিয়ে সে তার পূর্বের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে মানুষরূপী ফেরেশতাকে তার ইচ্ছেমতো ছাগল নিয়ে যেতে অনুরোধ করেছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি আলোচ্য গল্পে ফুটে ওঠা সততার গুরুত্বের দিকটিকে নির্দেশ করে।
(ঘ) উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবকে প্রতিনিধিত্ব করে বলেই আমি মনে করি।
'সততার পুরস্কার' গল্পে দেখা যায়, মহান আল্লাহ তিনজন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য একজন ফেরেশতাকে পাঠান। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা তাদের সকল সমস্যা দূর করেন। এর মধ্যে অন্ধ ব্যক্তি সততার পরিচয় দিয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করেন।
উদ্দীপকে যেকোনো অবস্থায় সততা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। সেখানে সকল দেশপ্রেমিকের সৎ থাকা কর্তব্য বলে মত দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সততা বজায় রাখতে গিয়ে ক্ষতি হলেও তা-ই করতে অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে উদ্দীপকটিতে জীবনে সৎ থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে অসৎ ও অকৃতজ্ঞ দুই ব্যক্তিকে আগের অবস্থা ফিরিয়ে দিয়ে আল্লাহ তাদের যথাযথ শাস্তি দিয়েছেন। পাশাপাশি সৎ ও কৃতজ্ঞ অন্ধ ব্যক্তির উপর তাঁর রহমত বজায় রেখে তাকে পুরস্কৃত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে গল্পটিতে সততার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। একইভাবে, উদ্দীপকটিতেও জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে সৎ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি আলোচ্য গল্পের মূলভাবের প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রশ্ন-৮ঃ একদিন এক বাঘের গলায় হাড় আটকে যায়। একটি বক তার লম্বা ঠোঁট দিয়ে আহত বাঘের গলা থেকে হাড়টি বের করে দেয়, বাঘটি সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু সুস্থ হয়েই বাঘটি হুংকার দিয়ে বককে আক্রমণ করতে যায়। বক ভয় পেয়ে উড়ে গিয়ে তালগাছের উপরে বসে। তখন একটি পাকা তাল বাঘের মাথায় পড়ে। ফলে বাঘটি সেখানেই মারা যায়।
ক. টাকওয়ালা লোকটি কী চেয়েছিল?
খ. 'এসব তো আমার বরাবরই আছে'- এ উত্তিতে কী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
গ. উদ্দীপকের বাঘের মনোভাবের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের কোন বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূল ভাবনাকে কতটুকু ধারণ করতে পেরেছে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
(ক) রে টাকওয়ালা লোকটি গাভি চেয়েছিল।
(খ) প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে আল্লাহর প্রতি ধবলরোগীর অকৃতজ্ঞ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
আল্লাহর দয়ায় ধবলরোগীর গায়ের রং ও চামড়া স্বাভাবিক হয়। এর কিছুদিন পর একজন ফেরেশতা অসহায় মানুষের বেশে তার কাছে একটি উট সাহায্য চাইলে সে তা দিতে রাজি হয়নি। তখন ফেরেশতা তাকে তার পূর্বের অবস্থার কথা বলে আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু সে তা অস্বীকার করে বলে, 'এসব তো আমার বরাবরই আছে।' এর মধ্য দিয়ে ঐ ব্যক্তির অকৃতজ্ঞ মনোভাবই প্রকাশিত হয়েছে।
(গ) উদ্দীপকের বাঘের আচরণের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তির অকৃতজ্ঞতার দিকটি মিলে যায়।
আমাদের সবার উচিত উপকারীর উপকার স্বীকার করা। কখনোই অকৃতজ্ঞ হওয়া উচিত নয়। পাঠ্য গল্পের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তি ছদ্মবেশী ফেরেশতার সামনে অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। আর উদ্দীপকের বাঘটি উপকারী বকটিকে হুংকার দিয়ে অকৃতজ্ঞ আচরণের পরিচয় দিয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাঘের বিপদ ও দুরবস্থার কথা ভেবে বক তার উপকার করে। কিন্তু বাঘের আচরণে বিন্দুমাত্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়নি। বরং সে হুংকার দিয়ে বককে আক্রমণ করতে যায়। অন্যদিকে, 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তি তাদের আগের অবস্থার কথা অস্বীকার করে ছদ্মবেশী ফেরেশতাকে খালি হাতে বিদায় দেয়। অর্থাৎ অকৃতজ্ঞতার দিক থেকে উদ্দীপকের বাঘের মনোভাবের সঙ্গে 'সততার পুরস্কার' গল্পের ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তির আচরণ ও মনোভাবের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
(ঘ) উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলভাবকে আংশিক ধারণ করতে পেরেছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পে সততার জন্য পুরস্কার এবং অকৃতজ্ঞতার জন্য শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে বাঘের দুরবস্থায় বক তাকে সাহায্য করে। কিন্তু বাঘটি ছিল অকৃতজ্ঞ। সুস্থ হয়েই সে হুংকার ছেড়ে বককে আক্রমণ করতে যায়। ফলে এর উপযুক্ত শাস্তি পায় সে। তাকে জীবন দিতে হয়েছে। অন্যদিকে, 'সততার পুরস্কার' গল্পে ভালো-মন্দ দুই ধরনের মানুষকেই দেখানো হয়েছে। গল্পে অন্ধ ব্যক্তি ভালো কাজের জন্য পুরস্কার পেয়েছে আর অকৃতজ্ঞতার ফলস্বরূপ ধবল ও টাকওয়ালা ব্যক্তি উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে। এতে তাদের জীবনে আবার দুরবস্থা নেমে এসেছে।
'সততার পুরস্কার' গল্পের মূলকথাই হচ্ছে সৎলোক যথাযথ পুরস্কার পাবে আর অকৃতজ্ঞ ও অসৎ লোকেরা পাবে উপযুক্ত শাস্তি। উদ্দীপকে শুধু অকৃতজ্ঞতার ঘটনা রয়েছে এবং তার জন্য সেই বাঘটি শাস্তিও পেয়েছে। কিন্তু সেখানে সততার কোনো নিদর্শন নেই। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূল ভাবনাকে আংশিক ধারণ করতে পেরেছে।
নিশ্চিত নম্বরের প্রশ্নোত্তর ঃ
🧠 জ্ঞাননমূলক প্রশ্ন ও উত্তর ঃ
প্রশ্ন-১ঃ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কে এসেছিলেন?
উত্তর ঃ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ফেরেশতা এসেছিলেন।
প্রশ্ন-২ঃ ফেরেশতারা কার হুকুমে সকল কাজ করেন?
উত্তর ঃ ফেরেশতারা আল্লাহর হুকুমে সকল কাজ করেন।
প্রশ্ন-৩ঃ স্বর্গীয় দূত কাকে একটি গাভিন উট দিলেন?
উত্তর ঃ স্বর্গীয় দূত ধবলরোগীকে একটি গাভিন উট দিলেন।
প্রশ্ন-৪ঃ টাকাওয়ালা লোকটি কী চেয়েছিল?
উত্তর ঃ টাকাওয়ালা লোকটি গাভি চেয়েছিল।
প্রশ্নঃ ফেরেশতা অন্ধ লোকটিকে কী দান করেছিলেন?
উত্তর ঃ ফেরেশতা অন্ধ লোকটিকে গাভিন ছাগল দান করেছিলেন।
প্রশ্ন-৬ঃ ফেরেশতা উট চাইলে উটওয়ালা তাকে কী বলল?
উত্তর ঃ ফেরেশতা উট চাইলে উটওয়ালা উটের অনেক দাম বলে উট দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
প্রশ্ন-৭ঃ স্বর্গীয় দূত অন্ধের কাছে গিয়ে কী সাহায্য চাইলেন?
উত্তর ঃ স্বর্গীয় দূত অন্ধের কাছে গিয়ে একটি ছাগল সাহায্য চাইলেন।
প্রশ্ন-৮ঃ ‘তোমার জিনিস তোমারই থাক।’-কথাটি কে বলেছেন?
উত্তর ঃ ‘তোমার জিনিস তোমারই থাক।’- কথাটি বলেছেন ফেরেশতা।

