সপ্তম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র গদ্য “কাবুলিওয়ালা” সকল প্রশ্নের সমাধান

Admin
0
(toc)

সপ্তম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র গদ্য “কাবুলিওয়ালা” সকল প্রশ্নের সমাধান

কাবুলিওয়ালা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

অধ্যায়টির শিখনফল

টিকচিহ্নিত প্রশ্নগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ো

১. শিশুদের মানসিকতা ও অদম্য কৌতূহলের স্বরূণ

২. সন্তানের সঙ্গে মাতাপিতার আন্তঃসম্পর্কের স্বরূপ

√৩. ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমার ঊর্ধ্বে পিতৃস্নেহের সর্বজনীনতার স্বরূপ

√৪. আপাত কঠোর মানুষের মাঝে প্রচ্ছন্ন ভালোবাসার স্বরূপ

📖✍️ গল্পটির লেখক সম্পর্কে জেনে নাও

জন্মঃ ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্ম।

শিক্ষাঃ স্কুলে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর হয়নি। ১৭ বছর বয়সে বিলেতে গিয়েছিলেন ব্যারিস্টারি পড়তে। পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই দেশে ফিরে আসেন।

সাহিত্য সাধনাঃ মাত্র ১৫ বছর বয়সে 'বনফুল' নামক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে আবির্ভাব। কবিতা, ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রকখ, ভ্রমণকাহিনি, সংগীতসহ সাহিত্যের প্রায় সকল শাখা তাঁর অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে। ব্যাকরণ, ভাষাতত্ত্ব, ছন্দ ও চিত্রকলাতেও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।

উল্লেখযোগ্য রচনাঃ কাব্য: 'সোনার তরী', 'গীতাঞ্জলি', 'বলাকা'। উপন্যাস: 'ঘরে বাইরে', 'গোরা', 'যোগাযোগ', 'শেষের কবিতা'। নাটক: 'বিসর্জন', 'রাজা', 'ডাকঘর', 'রক্তকরবী'। গল্পসংকলন: 'গল্পগুচ্ছ'। শিশুতোষ রচনা: 'শিশু ভোলানাথ', 'খাপছাড়া', 'কৈশোরক'।

পুরস্কারঃ 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ 'Song Offerings'-এর জন্য ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার লাভ। এশীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

বিশেষ পরিচিতিঃ সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, সুরকার, গীতিকার, নাট্যকার, নাট্যপ্রযোজক, অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী। তিনি বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত 'আমার সোনার বাংলা' গানটির রচয়িতাও তিনি।

মৃত্যুঃ ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৭ই আগস্ট (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২শে শ্রাবণ) কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

📘🎓 গল্পটির পাঠ-পরিচিতি জেনে নাওঃ

ভিন্ন পরিবেশে জন্ম নিলেও সারা পৃথিবীর মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, স্নেহভালোবাসার স্বরূপ অভিন্ন। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন বাঙালি লেখক ও তাঁর সাথে ভিনদেশের বুক্ষ পরিবেশে গড়ে ওঠা একজন কাবুলিওয়ালার স্নেহশীল মনের ঐক্যের পরিচয় দিয়েছেন। সন্তানের প্রতি স্নেহ-মায়া-মমতার ক্ষেত্রে পাহাড়-মরু অঞ্চলের কাবুলিওয়ালার সঙ্গে আমাদের এ সমতলভূমির একজন বাবার কোনো পার্থক্য নেই। আলোচ্য গল্পে আফগানিস্তান থেকে ফেরি করতে এসে কাবুলিওয়ালা রহমত ছোট্ট মেয়ে মিনির ক্ষুদ্র হৃদয় জয় করে নেয়। নিজের দেশে মিনির সমবয়সি তারও একটি মেয়ে আছে। মিনির মধ্য দিয়ে সে তার নিজের মেয়েকে ভালোবাসার সুখ অনুভব করে। লেখক কাবুলিওয়ালার মাধ্যমে বিশ্বের সকল পিতৃহৃদয়ের চিরন্তন রূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

সূচি (অধ্যায়টির বিষয়বস্তু)

🎯 প্র্যাকটিস অংশ: সৃজনশীল বহুনির্বাচনি-

  • অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর-
  • বিষয়ক্রম অনুযায়ী প্রশ্ন ও উত্তর-

🎯 প্র্যাকটিস অংশ: সৃজনশীল রচনামূলক

  • অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর-
  • পরীক্ষায় কমন পেতে আরও প্রশ্নোত্তর-

✅ নিশ্চিত নম্বরের প্রশ্নোত্তর-

  • জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর-
  • অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর-

💡 সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক

  • উত্তর সংকেতসহ প্রশ্ন..
  • অনুশীলনের জন্য আরও প্রশ্ন-

📖🔁 রিভিশন অংশ

📌 সাজেশন অংশ

🏠📝 ঘরে বসে পরীক্ষাঃ অধ্যায়ের প্রস্তুতি যাচাই..

প্র্যাকটিস অংশ: সৃজনশীল বহুনির্বাচনি

অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তরঃ

১. 'কাবুলিওয়ালা' গয়ে শঙ্কিত স্বভাবের মানুষটি কে?

(ক) রহমত

(খ) রামদয়াল

(গ) মিনির মা

(ঘ) মিনির বাবা

প্রশ্ন-সম্পর্কিত তথ্য:

  • এ গয়ে রহমত- কাবুলিওয়ালার নাম।
  • পেস্তাবাদাম ঘুস দিয়ে রহমত- মিনির হৃদয় জয় করেছিল।
  • কাবুলিওয়ালা সম্বন্দ্বে শঙ্কিত ছিলেন- মিনির মা।
  • কাবুলিওয়ালার উপর দৃষ্টি রাখতে বলেছিলেন- মিনির মা।
  • গল্পটিতে রামদয়াল- বাড়ির দারোয়ানের নাম।
  • কাককে কৌয়া বলেছিল- রামদয়াল।

২. মিনির বাবার মনে একটু ব্যথা বোধ হয়েছিল কেন?

(ক) মিনি শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে বলে

(খ) রহমতকে কারাগারে যেতে দেখে

(গ) মিনির সাথে রহমতের দেখা না হওয়ায়

(ঘ) রহমতের মেয়ের কথা ভেবে

প্রশ্ন-সম্পর্কিত তথ্য:

  • রহমত মিনির সাথে দেখা করতে এসেছিল- মিনির বিয়ের দিনে।
  • মিনির সাক্ষাৎপ্রার্থী রহমতকে গল্পকথক ফিরিয়ে দিয়েছিলেন-মিনির বিয়ের দিনে।
  • রহমতের সংগ্রহে ছিল- তার মেয়ের হাতের ছাপ।
  • রহমতকে গল্পকথক মিনির সঙ্গে দেখা করতে দিয়েছিলেন- তার পিতৃহৃদয়ের পরিচয় পেয়ে।

উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও;

ফাতেমা চৌধুরী অফিসে যাওয়ার পথে প্রায়ই একটি পথশিশুকে রাস্তায় শুয়ে থাকতে দেখেন। একদিন তিনি ছেলেটিকে কিছু খাবার দিতে চাইলে সে ভয়ে পালিয়ে যায়। কয়েকদিনের চেষ্টায় ছেলেটি তার সাথে নানা গল্পে মেতে ওঠে। এখন প্রায়দিনই তিনি ছেলেটির জন্য বাসায় তৈরি খাবার নিয়ে আসেন। কখনো তার দেখা না পেলে খুব চিন্তিত হয়ে ওঠেন।

৩. উদ্দীপকের ফাতেমা চৌধুরীর সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কোন চরিত্রের মিল আছে? 

(ক) রহমত

(খ) রামদয়াল

(গ) লেখক

(ঘ) মিনি

৪. উদ্দীপকে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কোন দিকটি ফুটে ওঠেছে?

i. সন্তান-বাৎসল্য

ii. সহমর্মিতা

iii. সহযোগিতা

নিচের কোনটি সঠিক?

(ক) i ও ii

(খ) i ও iii

(গ) ii ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

প্রশ্ন-সম্পর্কিত তথ্যঃ

  • ছেলেধরা ভেবে মিনি ভয় পেত- কাবুলিওয়ালাকে।
  • ঝুলি থেকে কিশমিশ, খোবানি বের করেছিল- কাবুলিওয়ালা।
  • স্নেহভালোবাসা দিয়ে কাবুলিওয়ালা জয় করেছিল- মিনির হৃদয়।

বিষয়ক্রম অনুযায়ী প্রশ্ন ও উত্তর

মূলপাঠ |Text পৃষ্ঠা-১

১. এক দন্ড কথা না বলে থাকতে পারে না- মিনি।

২. সকালবেলায় গল্পকথক হাত দিয়েছিলেন- নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে।

৪. অত্যন্ত শঙ্কিত স্বভাবের লোক- মিনির মা।

৫. মিনির মা গল্পকথককে রহমতের প্রতি দৃষ্টি রাখতে বলেছেন- মনের শঙ্কায়।

৩. কাবুলিওয়ালা মিনির হৃদয় অধিকার করেছিল- পেস্তাবাদাম খুস দিয়ে।

৬. রহমতকে বেঁধে নিয়ে আসছিল- দুজন পাহারাদার।

৭. ছুরি মারার অপরাধে রহমতের কারাদণ্ড হয়েছিল।

৮. রহমত জেল থেকে খালাস পেয়েছিল- সন্ধ্যায়।

৯. রহমত জামার ভিতর থেকে বের করল- এক টুকরা ময়লা কাগজ।

১০. ভাঁজ করা কাগজের উপর ছিল- রহমতের মেয়ের হাতের ছাপ।

৫. কথা না বলে এক দন্ড থাকতে পারে না কে? (জ্ঞান)

(ক) রহমত

(খ) মিনির মা

(গ) মিনি

(ঘ) গল্পকথক

৬. গল্পকথক নভেলের কততম পরিচ্ছেদে হাত দিয়েছিলেন? (জ্ঞান)

(ক) পণ্যদশ

(খ) সপ্তদশ

(গ) উনবিংশ

(ঘ) অষ্টাদশ

৭. 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের গল্পকথক পেশায় কী ছিলেন? (জ্ঞান)

(ক) লেখক

(খ) উকিল

(গ) ভাস্তার

(ঘ) চিত্রকর

৮. কাককে রামদয়াল কী বলছিল? (জ্ঞান) 

(ক) কোয়েল

(খ) কৌয়া

(গ) কাউয়া

(ঘ) কুহু

৯. গল্পকথকের পাশে আগডুম বাগডুম খেলতে আরম্ভ করল কে? (জ্ঞান)

(ক) রহমত

(খ) মিনির বান্ধবী

(গ) মিনির ছোটো বোন

(ঘ) মিনি

১০. গল্পকথকের টেবিলের পাশে মিনি কী খেলছিল? (জ্ঞান)

(ক) গঙ্গা-যমুনা

(খ) গোল্লাছুট

(গ) আগডুম-বাগডুম

(ঘ) চোর-পুলিশ

১১. 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কোন পরিচয়ে রহমত পরিচিত ছিল? (জ্ঞান)

(ক) দারোয়ান

(খ) ফেরিওয়ালা

(গ) কেরানি

(ঘ) কাবুলিওয়ালা

১২. 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কাবুলিওয়ালার গায়ে কী ধরনের কাপড় ছিল? (জ্ঞান)

(ক) শুভ্র সফেদ

(খ) পুরাতন জীর্ণ

(গ) ময়লা ঢিলা

(ঘ) দামি চকচকে

১৩. 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কাবুলিওয়ালার মাথায় কী ছিল? (জ্ঞান)

(ক) রুমাল

(খ) পাগড়ি

(গ) মুকুট

(ঘ) হ্যাট টুপি

১৪. কার চিৎকারে কাবুলিওয়ালা হাসিমুখে ফিরে তাকাল? (জ্ঞান)

(ক) কুদুর

(খ) মিনির

(গ) গল্পকথকের

(ঘ) মিনির মায়ের

১৫. গল্পকথক মিনিকে ডেকে আনলেন কেন? (জ্ঞান) ।

(ক) পরিচয় করাতে

(খ) চাঁদ দেখাতে

(গ) গয় করতে

(ঘ) ভয় ভাঙাতে

১৬. মিনির পঞ্চবর্ষীয় জীবনের অভিজ্ঞতায় শ্রোতা একজন তার বাবা, অন্যজন-

(ক) ফেরিওয়ালা

(খ) কাবুলিওয়ালা

(গ) প্রতিবেশী

(ঘ) আত্মীয়

১৭. 'কাবুলিওয়ালা' গয়ে ধৈর্যবান শ্রোতা কে? (জ্ঞান) সু

(ক) মিনির মা

(খ) মিনির প্রতিবেশী

(গ) রামদয়াল

(ঘ) কাবুলিওয়ালা

১৮. গল্পকথক মিনির ক্ষুদ্র আঁচল কীসে পরিপূর্ণ দেখলেন? (জ্ঞান)

(ক) বাদাম-কিশমিশে

(খ) চকলেট-বাদামে

(গ) বিস্কুট-কিশমিশে

(ঘ) বিষ্ণুট-চকলেটে

১৯. মিনির প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় রহমত তার কথায় একটি অনাবশ্যক কী যোগ করত? 

(ক) অনুযায়

(খ) বিসর্গ

(গ) চন্দ্রবিন্দু

(ঘ) র-ফলা

২০. 'তোমার ও ঝুলির ভিতর কী?'- মিনির এ প্রশ্নের উত্তরে কাবুলিওয়ালা কী বলত? (জ্ঞান) 

(ক) হাতি

(খ) হাঁতি

(গ) হতি

(ঘ) হঁতি

২১. মিনিকে কাবুলিওয়ালা কী বলে ডাকত? (জ্ঞান)

(ক) খুকি

(খ) থোকি

(গ) খোঁখী

(ঘ) খুঁকি

২২. মিনি কাবুলিওয়ালাকে কী প্রশ্ন করত? (জ্ঞান)

(ক) তুমি কেমন আছ?

(খ) তুমি দেশে যাবে?

(গ) তুমি কখন আসবে?

(ঘ) তুমি শ্বশুরবাড়ি যাবে?

২৩. 'য্যাম সসুরকে মারবে।'- রহমতের এ কথার মধ্য দিয়ে কা প্রকাশ পেয়েছে? (অনুধাবন)

(ক) ক্রোধ

(খ) ঘৃণা

(গ) কৌতুক

(ঘ) ভৎসনা

২৪. 'হামি সসুরকে মারবে।'- কে বলত? (জ্ঞান)

(ক) মিনি

(খ) রহমত

(গ) লেখক

(ঘ) রামদয়াল

২৫, কার সম্পর্কে মিনির মা সম্পূর্ণ নিঃসংশয় ছিলেন না? (জ্ঞান)

(ক) রহমত

(খ) লেখক

(গ) রামদয়াল

(ঘ) মিনি

২৬. মিনির মা কাবুলিওয়ালা সম্বন্দ্বে নিঃসংশয় ছিলেন না কেন? (অনুধাবন)

(ক) স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের কারণে

(খ) কাবুলিওয়ালার দুর্নামের কারণে

(গ) স্বামীর ঔদাসীন্যের কারণে

(ঘ) মিনির বিপদের আশঙ্কায়

২৭. মিনির মা কাবুলিওয়ালার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ করেন কী কারণে? (জ্ঞান)

(ক) কাবুলিওয়ালা অচেনা লোক

(খ) মিনির মায়ের শঙ্কিত স্বভাব

(গ) মিদির চঞ্চল স্বভাব

(ঘ) দারোয়ানের অভিযোগ

২৮. সকালে লেখক ছোটো ঘরে বসে কী করছিলেন? (জ্ঞান)

(ক) উপন্যাস লিখছিলেন

(খ) গান শুনছিলেন

(গ) প্রুফশিট সংশোধন করছিলেন

(ঘ) বই পড়ছিলেন

২৯. রহমতকে কারা বেঁধে নিয়ে আসছিল? (জ্ঞান)

(ক) বালকেরা

(খ) পাহারাদাররা

(গ) পুলিশেরা

(ঘ) প্রতিবেশীরা

৩০. কতজন পাহারাওয়ালা রহমতকে বেঁধে নিয়ে আসছিল? (জ্ঞান)

(ক) একজন

(খ) দুজন

(গ) তিনজন

(ঘ) চারজন

৩১. রহমতের পশ্চাতে কারা চলছিল? (জ্ঞান)

(ক) উত্তেজিত জনতা

(খ) পুলিশ বাহিনী

(গ) আত্মীয়স্বজন

(ঘ) ছেলের দল

৩২. রহমত গল্পকথকের প্রতিবেশীকে অশ্রাব্য গালি দেয় কেন? (জ্ঞান) 

(ক) রামপুরী শাড়ির জন্য

(খ) রামপুরী রুমালের জন্য

(গ) রামপুরী পাঞ্জাবির জন্য

(ঘ) রামপুরী চাদরের জন্য

৩৩. 'তুমি শ্বশুরবাড়ি যাবে?'- কথাটি কে, কাকে জিজ্ঞাসা করেছিল? (অনুধাবন)

(ক) মিনি রহমতকে

(খ) রহমত মিনিকে

(গ) লেখক তাঁর স্ত্রীকে

(ঘ) রহমত তার মেয়েকে

৩৪. 'সিখানেই যাচ্ছে।'- রহমত কোথায় যাওয়ার কথা বলেছে? (অনুধাবন) 

(ক) মেয়ের কাছে

(খ) শ্বশুরবাড়ি

(গ) পাওনা আদায়ে

(ঘ) জেলখানায়

৩৫. তাহার কথা একপ্রকার ভুলিয়া গেলাম।'- লেখক কার কথা ভুলে গেলেন? (জ্ঞান) 

(ক) বাড়ির চাকরের কথা

(খ) মিনির মায়ের কথা

(গ) মিনির কথা

(ঘ) রহমতের কথা

৩৬. গল্পকথকের ঘরে রাত শেষ না হতেই কী বাজছিল? (জ্ঞান)

(ক) বাঁশি

(খ) সানাই

(গ) সেতার

(ঘ) ঢোল

৩৭. রহমত কখন জেল থেকে খালাস পেয়েছিল? (জ্ঞান)

(ক) সকালে

(খ) দুপুরে

(গ) রাতে

(ঘ) সন্ধ্যায়

৩৮. 'আমার মনে কেমন একটু ব্যথা বোধ হইল।' লেখকের এমন বোধ হওয়ার কারণ কী? (অনুধাবন) 

(ক) মিনির বিয়ে হয়ে যাওয়ায়

(খ) নভেল লেখা শেষ করতে না পারায়

(গ) মিনির সাথে রহমতের দেখা করতে না দেওয়ায়

(ঘ) রহমতকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ায়

৩৯. জল থেকে খালাস পেয়ে রহমত মিনির জন্য কী নিয়ে এসেছিল? (জ্ঞান) 

(ক) আঙুর ও কিশমিশ

(খ) খোবানি ও কিশমিশ

(গ) আঙুর ও কমলা

(ঘ) খোবানি ও কমলা

৪০. রহমতের জামার ভিতর থেকে বের করা কাগজটিতে কী ছিল? (জ্ঞান)

(ক) মায়ের হাতের ছাপ

(খ) পিতার হাতের ছাপ

(গ) কন্যার হাতের ছাপ

(ঘ) পুত্রের হাতের ছাণ

৪১. 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত কোথায় মেওয়া বেচতে আসে? (জ্ঞান)

(ক) চুয়াডাঙ্গায়

(খ) খুলনায়

(গ) কলকাতায়

(ঘ) ঢাকায়

৪২. মেয়ের স্মরণচিহ্ন বুকে নিয়ে রহমত কলিকাতার রাস্তায় কী বিক্রি করত? (জ্ঞান)

(ক) খেজুর

(খ) মেওয়া

(গ) পেস্তা

(ঘ) আঙুর

৪৩. 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে গল্পকথকের চোখ ছলছল করার কারণ-(অনুধাবন) 

(ক) কন্যার অসুস্থতার খবর

(খ) কন্যাকে না দেখতে পেয়ে

(গ) কন্যার বিয়ের সংবাদে

(ঘ) কন্যার স্মরণচিহ্ন দেখে

৪৪. 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি? (উচ্চতর দক্ষতা)

(ক) গল্পকথক

(খ) রহমত

(গ) মিনি

(ঘ) মিনির মা

৪৫. 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের রহমতের (অনুধাবন)

i. হাতে গোটা দুই-চার আঙুরের বাক্স

ii. ময়লা ঢিলা কাপড় পরা

iii. মাথায় পাগড়ি

নিচের কোনটি সঠিক?

(ক) i ও ii

(খ) i ও iii

(গ) ii ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

৪৬. ‘কাবুল’ কোন দেশের রাজধানী? (জ্ঞান)

(ক) উজবেকিস্তান

(খ) আফগানিস্তান

(গ) নেপাল

(ঘ) তুর্কিমেনিস্তান

৪৭. ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে ‘অন্তঃপুর’ শব্দটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? (জ্ঞান) 

(ক) বাড়ির বাইরের দিকে

(খ) বাড়ির ভিতরের দিকে

(গ) ভিতর বাড়ির উঠোন

(ঘ) বাহির বাড়ির উঠোন

৪৭. ‘খোবানি’ কী? (জ্ঞান)

(ক) বাদামজাতীয় ফল

(খ) একধরনের আঙুর

(গ) খেজুরজাতীয় ফল

(ঘ) একধরনের কমলা

৪৮. ‘সমীপস্থ’ শব্দটি দ্বারা কী বোঝায়? (জ্ঞান)

(ক) নিকটে

(খ) সম্পন্ন

(গ) সাথে

(ঘ) হাসিমুখ

৪৯. ‘ধারিত’ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)

(ক) অগ্রসর   

(খ) ধারালো

(গ) ঋণদাতা

(ঘ) ঋণগ্রস্ত

৫০. ‘কিঞ্চিৎ’ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)

(ক) অল্প

(খ) ব্যাপক

(গ) কঞ্চি

(ঘ) কাঁচি

প্র্যাকটিস অংশ: সৃজনশীল রচনামূলক

অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তরঃ

প্রশ্ন-১ঃ উদ্দীপক-১: নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সাথে ছেলের বেশি ভাব-বন্ধুত্ব কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না আবীরের মা। তিনি স্বামীকে বোঝান- বিভিন্ন ফন্দি করে অনেক মানুষ এখন অন্যের বাচ্চা চুরি করে। সামাদ মিয়াও তো একদিন তেমন কিছু করে বসতে পারে।

উদ্দীপক-২: বারো বছর আগের ছোট্ট আবীর আজ কলেজ থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে। রক্তের জন্য বাবা-মা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। খবর পেয়ে সামাদ মিয়া ছুটে এসে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন- 'সাহেব, আবীর বাবার জন্য আমার সব রক্ত নেন, আমার নিজের ছেলেরে হারাইছি, ওরে হারাইলে আমি বাঁচুম না।'

ক. কাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে কী ছিল?

খ. 'আমিতো সওদা করিতে আসি না।'- কথাটি বুঝিয়ে লেখো। 

গ. উদ্দীপক-১ অংশে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে- ব্যাখ্যা করো।

ঘ. 'উদ্দীপকের সামাদ মিয়া যেন কাবুলিওয়ালা গল্পের মূল ভাবকেই ধারণ করে আছে।'- বিশ্লেষণ করো। 

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

(ক) কাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে ছিল তার মেয়ের ছোট্ট হাতের ছাপ।

(খ) মিনির প্রতি সন্তান-বাৎসল্যের কারণে কাবুলিওয়ালা বারবার গল্পকথকদের বাড়ি আসার বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত প্রতিবছর কলকাতায় মেওয়া বেচতে আসে। তার বাড়িতেও গল্পকথকের মেয়ে মিনির মতো এক মেয়ে আছে। ফলে মিনির মধ্যেই সে নিজের মেয়ের ছায়া দেখতে পায়। এজন্য স্নেহের টানে রহমত বারবার মিনিকে দেখতে আসে। এসময় সে মিনির জন্য আঙুর, কিশমিশ, বাদাম প্রভৃতি নিয়ে আসে। তার এখানে আসা যে কেবল স্নেহের টানেই সেটি বোঝাতেই রহমত প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।

(গ) জাউদ্দীপক-১ অংশে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের গল্পকথকের স্ত্রীর সন্দেহপ্রবণ | মানসিকতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মিনির মা ভীতু প্রকৃতির মানুষ। তিনি কাবুলিওয়ালাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না। এ কারণে তিনি কাবুলিওয়ালার সাথে মিনুর কথা বলাকে সহজভাবে নিতে পারেন না। তাই তিনি মিনুর বাবাকে বারবার কাবুলিওয়ালার দিকে নজর রাখতে বলেন।

উদ্দীপক-১-এ দেখা যায়, নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সাথে ছেলের ভাব-বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেন না আবীরের মা। তিনি স্বামীকে বোঝান যে, অনেক মানুষ বিভিন্ন ফন্দি করে অন্যের বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যায়। সামাদ মিয়াও সে রকম কিছু করে বসতে পারে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কথকের স্ত্রীও রহমতের সঙ্গে তার মেয়ে মিনির বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেন না। তিনিও রহমতকে সন্দেহের চোখে দেখতে থাকেন। গল্পের এ দিকটিই উদ্দীপক-১-এ প্রতিফলিত হয়েছে।

(ঘ) উদ্দীপক এবং 'কাবুলিওয়ালা' গল্প উভয় ক্ষেত্রেই পিতৃত্বের সর্বজনীন রূপ ফুটে ওঠায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে লেখক দেখিয়েছেন যে, দেশ ভিন্ন হলেও পিতৃহৃদয়ে থাকা স্নেহ-বাৎসল্যের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই। দেশ আলাদা হতে পারে, সংস্কৃতি আলাদা হতে পারে কিন্তু সন্তানের প্রতি সকল পিতার ভালোবাসা একরকম। সন্তানের মঙ্গল-চিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাঙ্ক্ষা। কাবুলিওয়ালা রহমত চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ সত্যই প্রকাশিত হয়েছে।

উদ্দীপক-১ অংশে দেখা যায়, নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সঙ্গে আবীরের অন্তরজাতা মেনে নিতে পারেন না তার মা। এজন্য তিনি স্বামীর কাছে তার উদ্বেগের কথা জানান। কিন্তু উদ্দীপক-২ অংশে আমরা দেখি, আবীর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সেই সন্দেহভাজন সামাদ মিয়াই রক্ত দিতে ছুটে আসে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত মিনিকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসত। দেশে তারও মিনির বয়সি একটি মেয়ে ছিল। তাই বহুদিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সে ছুটে আসে মিনিকে দেখতে। তার জন্য নিয়ে আসে বাদাম-কিশমিশ।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পের রহমত ও উদ্দীপকের সামাদ মিয়া দুজনের মাঝেই সন্তানবাৎসল্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমতের মধ্য দিয়ে পিতৃত্বের সর্বজনীন রূপটিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্দীপকের সামাদও তেমনই একজন স্নেহবৎসল পিতা। সামাদ মিয়া যেন 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মূলভাবকেই ধারণ করে আছে। এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

প্রশ্ন-২ঃ  সংসারের অর্থকষ্টে রাবেয়া গ্রাম থেকে ঢাকায় আসে। সে যে বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে, ওই বাসার ছোটো মেয়ের নাম পুতুল। তার মায়াভরা মুখখানা দেখলেই রাবেয়ার হারিয়ে যাওয়া মেয়ের কথা মনে পড়ে। পুতুলের সাথে রাবেয়ার ধীরে ধীরে এক আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে পুতুলের প্রতি রাবেয়ার এমন সন্তানসুলভ আচরণ পুতুলের বাবার পছন্দ না। তিনি মনে করেন গরিব বস্তিতে থাকা লোকজনের সাথে মিশলে মেয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। তবে পুতুলের মা ফাতেমা রাবেয়ার মাতৃত্বের অনুভূতিকে শ্রদ্ধা করেন। তিনি রাবেয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করেন।

ক. কাবুলিওয়ালার ঝুলি সম্পর্কে মিনির কী অন্ধবিশ্বাস ছিল?

খ.. কাবুলিওয়ালা কীভাবে মিনির ক্ষুদ্র হৃদয় জয় করে নিয়েছিল?

গ. উদ্দীপকে ফাতেমা চরিত্রের সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কোন চরিত্রের বৈসাদৃশ্য রয়েছে? বাখ্যা করো। 

ঘ. 'কাবুলিওয়ালা ও উদ্দীপকের রাবেয়া চরিত্রে অভিন্নভাবে সন্তানবাৎসল্যই ফুটে উঠেছে।'- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। 

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

(ক) কাবুলিয়ালার ঝুলি সম্পর্কে মিনির অন্ধ বিশ্বাস ছিল যে, ঝুলির ভিতরে তার মতে দুটো-চারটে জীবিত মানব সন্তান পাওয়া যেতে পারে।

(খ) কাবুলিওয়ালা তার পিতৃসুলভ স্নেহভালোবাসা দিয়ে মিনির ক্ষুদ্র হৃদয় জয় করে নিয়েছিল।

মিনিকে দেখে কাবুলিওয়ালার দূর দেশে রেখে আসা নিজ কন্যার কথা মনে পড়ে। তাই সে প্রায় প্রতিদিনই মিনির সাথে দেখা করতে আসে। বসে বসে মিনির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। মিনির জন্য নিয়ে আসে বাদাম আর কিশমিশ। এমন করেই মিনির ক্ষুদ্র হৃদয়ে স্থান করে নেয় সে।

(গ) উদ্দীপকের ফাতেমা চরিত্রের সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মিনির মায়ের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে সদা হাস্যোজ্জ্বল মিনির সঙ্গে কাবুলিওয়ালা রহমতের এক নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে ভিন দেশি রহমতের বিষয়ে মিনির মায়ের মনে শঙ্কা তৈরি হয়। তিনি অত্যন্ত শঙ্কিত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তাই কাবুলিওয়ালার সম্পর্কে নিঃসংশয় ছিলেন না। ফলে মিনির বাবাকে কাবুলিওয়ালার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে বলেন।সন্তান হারানোর আশঙ্কায় মিনির সাথে কাবুলিওয়ালার সাক্ষাৎ তিনি পছন্দ করতেন না।

উদ্দীপকে গৃহকর্মী রাবেয়ার সাথে ছোটো মেয়ে পুতুলের স্নেহবাৎসল্যের সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। মাতৃহৃদয় তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানের স্মৃতি খুঁজে বেড়ায় ছোট্ট পুতুলের ভালোবাসায়। পুতুলের মা ফাতেমা তাদের এই বন্ধুত্ব ও স্নেহময় সম্পর্ককে শ্রদ্ধা করেন। একজন মা হিসেবে রাবেয়ার মাতৃত্বের অনুভূতির প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। পক্ষান্তরে, 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে মিনির মা মিনি ও কাবুলিওয়ালার সম্পর্কে শঙ্কিত। অচেনা একজন লোকের সাথে মেয়ের বন্ধুত্ব তার মোটেও পছন্দ ছিল না। কিন্তু উদ্দীপকে ফাতেমা চরিত্রে মিনির মায়ের মতো শঙ্কা নেই। তিনি গরিব রাবেয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল, যা মিনির মায়ের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ফাতেমা চরিত্রের সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মিনির মায়ের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান রয়েছে।

(ঘ) 'উদ্দীপকের রাবেয়া চরিত্রে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের অচেনা শিশুর প্রতি কাবুলিওয়ালার সন্তানবাৎসল্যের দিকটি অভিন্নভাবে ফুটে উঠেছে।'

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কাবুলিওয়ালা রহমত পিতৃস্নেহের চিরন্তন রূপের প্রতিচ্ছবি। দেশের সীমানা পেরিয়ে স্নেহপরায়ণ পিতৃহৃদয়ের হাহাকার মেটাতে ছোট্ট মিনির সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে রহমতের। মিনিকে আশ্রয় করেই ভিন্ন দেশে নিজ কন্যার মুখচ্ছবি খুঁজে বেড়ান পিতা। তাকে দেখার মাধ্যমেই তৃপ্ত হয় তার পিতৃহৃদয়।

উদ্দীপকে পুতুল ও গৃহকর্মী রাবেয়ার স্নেহময় সম্পর্ক নির্দেশ করে মাতৃহৃদয়ে সন্তানবাৎসল্যের দিকটি। গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা রাবেয়া অচেনা শিশু পুতুলের মধ্যে খুঁজে বেড়ায় তার হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে যেন এক আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়। মাতৃহৃদয় তৃপ্ত হয় পুতুলের ভালোবাসায়। ছোট্ট শিশুর প্রতি স্নেহমমতায় মাতৃত্বের হাহাকার মিটে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমতও সুদূর কাবুলে রেখে আসা কন্যার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায় ছোট্ট মিনির মাঝে। তাই মিনির সাথে সময় কাটিয়ে সে আনন্দ পায়। ঠিক তেমনি উদ্দীপকের রাবেয়া তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে খুঁজে পায় পুতুলের মাঝে। তার মাতৃহৃদয়ের হাহাকার পুতুলের প্রতি তার সন্তানবাৎসল্যের প্রকাশ পায়। তাই বলা যায়, উভয় চরিত্রেই অভিন্নভাবে সন্তানবাৎসল্য ফুটে উঠেছে।

প্রশ্ন-৩ঃ 

ক. প্রথম পরিচয়ের দিনে কাবুলিওয়ালা মিনিকে কী দিয়েছিল?

খ. 'রহমত সেই মিথ্যাবাদীর উদ্দেশে নানারূপ অশ্রাব্য গালি দিতেছে' - কেন? 

গ. উদ্দীপকের চিত্রে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকটি 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কাবুলিওয়ালার পিতৃহৃদয়কে সম্পূর্ণ তুলে ধরতে পেরেছে কি? বিচার করো।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

(ক) প্রথম পরিচয়ের দিনে কাবুলিওয়ালা মিনিকে কিশমিশ ও খোবানি দিয়েছিল।

(খ) পাওনা টাকার কথা অস্বীকার করায় রহমত সেই মিথ্যাবাদীর উদ্দেশে অশ্রাব্য গালি দিচ্ছিল।

গল্পকথকের প্রতিবেশীর সঙ্গে রহমতের ব্যাবসায়িক লেনদেন ছিল। রামপুরী চাদর বাবদ তার কাছে রহমতের কিছু টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকা চাইতে গেলে লোকটি টাকা বাকির বিষয়টি অস্বীকার করে। ফলে রহমতের মেজাজ বিগড়ে যায়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রহমত ছুরি বের করে লোকটির শরীরে বসিয়ে দেয়। পাহারাদাররা তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় সে মিথ্যাবাদী লোকটিকে অশ্রাব্য ভাষায় গাল দিতে থাকে।

(গ) উদ্দীপকের চিত্রে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে প্রকাশিত পিতৃস্নেহের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

কাবুলিওয়ালা' গল্পে গল্পকার রহমত নামের এক কাবুলিওয়ালাকে ঘিরে পিতৃস্নেহের ছবি এঁকেছেন। মিনির বয়সি-সন্তানকে রেখে পরবাসে এসে গল্পকথকের ছোট্ট মেয়ে মিনির মধ্যে নিজ সন্তানকে খুঁজে বেড়ায় সে। মুখর ও কৌতূহলী মিনি অল্পদিনের মধ্যেই তার পিতৃহৃদয়কে জয় করে নেয়।

উদ্দীপকের চিত্রে পিতৃস্নেহের এক অনন্য ছবি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ছোট্ট শিশুটি পিতার কোলে আনন্দে মেতে আছে। আর পিতাও সন্তানকে সস্নেহে আগলে রেখেছেন, তার সাথে খেলা করছেন। সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসার এমন চিত্র 'কাবুলিওয়ালা' গল্পেও পরিলক্ষিত হয়। সেখানে রহমত নামের এক কাবুলিওয়ালা সুদূর প্রবাসে এসে গল্পকথকের মেয়ে মিনির মাঝেই সন্তানের মুখচ্ছবি দেখতে পায়। এ কারণে সময় পেলেই বাদাম, কিশমিশ নিয়ে মিনির কাছে ছুটে আসে সে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের চিত্রে আলোচ্য গল্পের পিতৃস্নেহের দিকটিই ফুটে উঠেছে।

(ঘ) উদ্দীপকটি 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কাবুলিওয়ালার পিতৃহৃদয়কে সম্পূর্ণ তুলে ধরতে পারেনি বলেই আমি মনে করি।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কাবুলিওয়ালা রহমত অসাধারণ পিতৃহৃদয়ের অধিকারী। সুদূর আফগানিস্তান থেকে এ দেশে এসে গল্পকথকের ছোট্ট মেয়ে মিনির মাঝেই সন্তানের মুখচ্ছবি খুঁজে পায় সে। তাই ধৈর্য ধরে তার কথা শোনে, তার জন্য কিশমিশ, বাদামসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে আসে।

উদ্দীপকে পিতা-সন্তানের আন্তরিকতার এক অসাধারণ ছবি ফুটে উঠেছে। সেখানে পিতা পরম স্নেহে তাঁর সন্তানকে আগলে রেখেছেন। আর সন্তানটিও নিশ্চিন্তে বাবার কোলে খেলা করছে। আলোচ্য গল্পটিতেও পিতৃস্নেহের এই চিরায়ত রূপটিই ফুটে উঠেছে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত নামের কাবুলিওয়ালা সুদূর আফগানিস্তান থেকে জীবিকার সন্ধানে কলকাতায় আসে। বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে আসা রহমতের পিতৃহৃদয় গল্পকথকের মেয়ে মিনিকে পেয়ে তৃপ্ত হয়। আর তাই চঞ্চল ও মুখর মিনির সবকথা সে ধৈর্য ধরে শোনে। প্রায়ই তার জন্য বাদাম,কিশমিশসহ এটা সেটা নিয়ে আসে। শুধু তা-ই নয়, জেল থেকে ফিরে প্রথমেই সে মিনিকে দেখতে যায় কিন্তু উদ্দীপকে সন্তানস্নেহের চিত্র ফুটে উঠলেও সেখানে গল্পের কাবুলিওয়ালার মতো স্নেহ-বাৎসল্যের পরিচয় মেলে না। সে বিবেচনায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য গল্পের কাবুলিওয়ালার পিতৃহৃদয়কে সম্পূর্ণ তুলে ধরতে পারেনি।

প্রশ্ন-৪ঃ পরিবার-পরিজন নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকা। মা-বাবা সন্তানদের মানুষ করেন তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। সন্তানেরা বড়ো হয়ে মা-বাবার পাশে দাঁড়াবে, এটাই শুধু চাওয়া। কিন্তু এক জীবাণু এসে সব সম্পর্ক যেন ছিন্ন করে ফেলল। করোনায় আক্রান্ত হলেই কেউ কাউকে চিনছে না। সন্তানের করোনা হলে মা-বাবা সম্পর্ক ছিন্ন করছেন, এমন ঘটনা নজিরবিহীন। কিন্তু আমরা সন্তানেরা কী করছি। মা-বাবার শেষকৃত্যেও আমরা আঅনেকেই থাকছি না। মৃতদেহেও আমাদের করোনার ভয়। (সূত্র: 'করোনায় সামাজিক এবং মানবিক দূরত্ব'-মনোজিৎ কুমার রায়; দৈনিক প্রথম আলো; ১২ জুন, ২০২০ খ্রি.।

ক. কাবুলিওয়ালার মাথায় কী ছিল?

খ. রহমতকে কারাবরণ করতে হয়েছিল কেন?

গ. উদ্দীপকে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। 

ঘ. 'উদ্দীপকের সন্তানদের আচরণ কাম্য হতে পারে না।'-'কাবুলিওয়ালা' গল্পের আলোকে বিচার করো। 

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

(ক) কাবুলিওয়ালার মাথায় পাগড়ি ছিল।

(খ) এক ব্যক্তিকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার অপরাধে রহমতকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কথকের প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সঙ্গে রহমতের ব্যাবসায়িক লেনদেন ছিল। তার কাছে রামপুরী চাদরের জন্য রহমতের কিছু টাকা পাওনা ছিল। কিন্তু রহমত টাকা চাইতে গেলে সে তার পাওনার কথা অস্বীকার করে। এ কারণে রহমত উত্তেজিত হয়ে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আঘাত গুরুতর হওয়ায় আইনের দৃষ্টিতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাবরণ করতে হয় তাকে।

(গ) উদ্দীপকে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে প্রকাশিত সন্তানের প্রতি পিতামাতার স্নেহবাৎসল্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে মিনি গল্পকথকের ছোট্ট মেয়ে। সদা হাস্যোজ্জ্বল ও মুখর মিনির সঙ্গে ধীরে ধীরে কাবুলিওয়ালা রহমতের এক স্নেষভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে। ওঠে। মূলত ছোট্ট মিনির মাঝেই রহমত তার মেয়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেয়েছে।

উদ্দীপকে করোনার প্রেক্ষাপটে সন্তানদের প্রতি মাতাপিতার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং এর বিপরীতে সন্তানদের বিরূপ আচরণের চিত্র ফুটে উঠেছে। বস্তুত, মা-বাবা অনেক যত্নে সন্তানদের মানুষ করেন। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাঁরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। একইভাবে, 'কাবুলিওয়ালা' গল্পেও পিতৃস্নেহের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। সেখানে গল্পকথকের ছোট্ট মেয়ে মিনিকে ঘিরেই কাবুলিওয়ালা রহমতের সন্তানস্নেহের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য গল্পে প্রকাশিত সন্তানের প্রতি মা-বাবার স্নেহবাৎসল্যের দিকটিই ফুটে উঠেছে।

(ঘ) মা-বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বিপরীতে উদ্দীপকের সন্তানদের আত্মকেন্দ্রিক আচরণ প্রত্যাশিত নয়।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে গল্পকার এক আফগান কাবুলিওয়ালার পিতৃহৃদয়ের পরিচয় তুলে ধরেছেন। গল্পকথকের মেয়ে মিনিকে সে নিজ কন্যার মতোই ভালোবাসত। আর তাই সময় করে প্রায়শই তার জন্য কিশমিশ, খোবানি ইত্যাদি নিয়ে আসত সে।

উদ্দীপকে করোনাকে কেন্দ্র করে এক নিদারুণ বাস্তবতা প্রকাশিত হয়েছে। যে মা-বাবা সন্তানদের অতি যত্নে বড়ো করে তুলেছেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সন্তানেরা তাঁদেরই ফেলে রেখে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, অনেকক্ষেত্রে তারা মা-বাবার শেষকৃত্যেও অংশ নিচ্ছে না। মা-বাবার স্নেহের প্রতিদানে এমন অবহেলা তাদের দায়িত্বহীনতা ও নিচু মানসিকতাকেই তুলে ধরে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে সুদূর আফগানিস্তান থেকে আসা এক কাবুলিওয়ালার স্নেহবাৎসল্যের পরিচয় মেলে। নিজ দেশে এক সন্তানকে ফেলে এসে গল্পকথকের মেয়ে মিনিকে পেয়ে তার পিতৃহৃদয় পূর্ণ হয়। মা-বাবার এমন স্নেহভালোবাসার কথা আলোচ্য উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে। তবে সেখানে করোনা আক্রান্ত মা-বাবার প্রতি সন্তানদের যে অবহেলা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দেখা যায়, তা মানবিকবোধসম্পন্ন যেকোনো মানুষকেই আহত করে। বস্তুত, আমাদের জন্য মা-বাবার অনেক ত্যাগ ও ভালোবাসা রয়েছে। আর তাই তাঁদের প্রতি এমন অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন-৫ঃ তার মেয়েটা শ্বশুরবাড়িতে মরেছে অল্পদিন আগে। আহ্লাদির সঙ্গে তার চেহারায় কোনো মিল নাই। বয়সে সে ছিল অনেক ছোটো, চেহারা অনেক বেশি রোগা। তবু আহ্লাদির ফ্যাকাশে মুখে মেয়ের মুখের ছাপ রহমান দেখতে পায়, খড়ের আঁটি তুলে দেবার ফাঁকে ফাঁকে যখনই সে তাকায় আহ্লাদির দিকে। তথ্যসূত্রঃ মাসি-পিসি- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ক. কাবুলিওয়ালা মিনিকে কী বলে ডাকত?

খ. দীর্ঘশ্বাস ফেলে রহমত মাটিতে বসে পড়ল কেন?

গ. উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কোন দিক থেকে অমিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। 

ঘ. উদ্দীপকের রহমানের অনুভব 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মূল সত্যটিকে তুলে ধরতে পেরেছে কি? সপক্ষে তোমার মতামত দাও। 

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

(ক) কাবুলিওয়ালা মিনিকে 'খোঁখী' বলে ডাকত।

(খ) রাঙাচেলি-পরা কপালে-চন্দন-আঁকা বধূবেশিনী মিনিকে দেখে নিজের মেয়ের কথা মনে পড়লে দীর্ঘশ্বাস ফেলে রহমত মাটিতে বসে পড়ল।

জীবিকার তাগিদে বিদেশে অবস্থান করায় বহুদিন নিজের মেয়ের সাথে দেখা হয়নি রহমতের। এজন্য মেয়েটি কত বড়ো হয়েছে সে বিষয়ে কোনো ধারণাই ছিল না তার। তাই বহু বছর পর ছোট্ট মিনিকে বধূবেশে দেখতে পেয়ে নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে যায় রহমতের। সে বুঝতে পারে তার মেয়েটিও মিনির মতোই বড়ো হয়ে গেছে, হয়তো বিয়ের বয়সও হয়ে গেছে তার। এ কথা ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাটিতে বসে পড়ে সে।

(গ) সন্তান হারানোর বেদনার দিক থেকে উদ্দীপকের ঘটনার সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের অমিল রয়েছে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক এক স্নেহপরায়ণ পিতার স্বরূপ তুলে ধরেছেন। প্রবাসে অবস্থান করায় বহুদিন নিজের মেয়েকে দেখতে পায়নি সে। তাই গল্পকথকের মেয়ে মিনির মাঝেই যেন নিজের মেয়েকে খুঁজে পায় রহমত। এজন্য মিনিকে সে উজাড় করে দেয় পিতৃহৃদয়ের অকুণ্ঠ ভালোবাসা।

উদ্দীপকের রহমান আহ্লাদির মাঝে নিজের মেয়ের ছায়া খুঁজে ফেরে।। আহ্লাদির বয়স বা চেহারার সাথে তার মেয়েটির যদিও কোনো মিল নেই। তবুও তাকে দেখে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারানো মেয়েটির কথা মনে পড়ে যায় রহমানের। পিতৃহৃদয়ের এমন গভীর ভালোবাসার প্রকাশ 'কাবুলিওয়ালা' গল্পেও রয়েছে; কিন্তু সন্তান হারানোর মতো করুণ পরিণতির কথা সেখানে বর্ণিত হয়নি। এদিক থেকে উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের অমিল রয়েছে।

(ঘ) উদ্দীপকের রহমানের অনুভবে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মূল সত্য পিতৃহৃদয়ের স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে আফগানিস্তানের মরু পর্বতের রুক্ষ প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা একজন পিতা এবং নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার একজন বাঙালি পিতার স্নেহপ্রবণ মনের ঐক্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এ গল্পের কথক তাঁর মেয়ে মিনিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আবার সে-ই মিনিকে দেখেই নিজ দেশে ফেলে আসা মেয়ের কথা মনে পড়ে কাবুলিওয়ালা রহমতের। তাই মিনির সঙ্গ লাভ করে সন্তানকে কাছে না পাওয়ার বেদনা ভুলতে চায় সে।

উদ্দীপকে বর্ণিত রহমানের মেয়ে শ্বশুরবাড়ির অমানবিক নির্যাতনের কারণে প্রাণ হারিয়েছে। তাই আহ্লাদির দুঃখভরা মুখের দিকে তাকিয়ে সে খুঁজে নিতে চায় সান্ত্বনা। এজন্য রহমান বারবার স্নেহকাতর দৃষ্টিতে তাকায় আহ্লাদির দিকে। সন্তানের জন্য পিতার মমত্ববোধের এ দিকটি 'কাবুলিওয়ালা' গল্পেরও মূল উপজীব্য।

দেশ, কাল, জাতির সীমারেখা পিতৃহৃদয়ের স্বাভাবিক প্রবণতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। পৃথিবীর সকল পিতাই সন্তানকে একইভাবে ভালোবাসেন। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কথক ও রহমতের মাধ্যমে আমরা সে বার্তাই পাই। বস্তুত সন্তানের প্রতি মমত্ববোধ সকল পিতারই সহজাত বৈশিষ্ট্য। আলোচ্য 'কাবুলিওয়ালা' গল্প ও উদ্দীপকে অভিন্নভাবে এ বিষয়টিই উপস্থাপিত হয়েছে। এ বিবেচনায় রহমানের অনুভব আলোচ্য গল্পের মূল সত্যটিকে তুলে ধরতে পেরেছে বলেই আমি মনে করি।

প্রশ্ন-৬ঃ ফাতেমা চৌধুরী অফিসে যাওয়ার পথে প্রায়ই একটি পথশিশুকে রাস্তায় শুয়ে থাকতে দেখেন। একদিন তিনি ছেলেটিকে কিছু খাবার দিতে চাইলে ভয়ে পালিয়ে যায় সে। অবশেষে কয়েক দিনের চেষ্টায় ছেলেটি তার সাথে নানা গল্পে মেতে ওঠে। এখন প্রায় দিনই তিনি ছেলেটির জন্য বাসায় তৈরি খাবার নিয়ে আসেন। কখনো তার দেখা না পেলে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি।

ক. গল্পকথকের প্রতিবেশী রহমতের নিকট কোন চাদরের জন্য ধারিত ছিলেন। 

খ. গল্পকথকের চোখ ছলছল করে উঠল কেন?

গ. ফাতেমা চৌধুরীর সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কোন চরিত্রের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের ফুটে ওঠা দিকটি বিশ্লেষণ করো। 

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

(ক) গল্পকথকের প্রতিবেশী রহমতের নিকট রামপুরী চাদরের জন্য ধারিত ছিলেন।

(খ) রহমতের পিতৃত্ববোধ গল্পকথকের অন্তরাত্মাকে নাড়া দিয়েছিল বলে তার চোখ ছলছল করে উঠল।

বহু বছর কারাবাস শেষে যেদিন রহমত ফিরে এলো সেদিন ছিল লেখকের ছোটো মেয়ে মিনির বিয়ে। রহমত এমন সময়ে এসে মিনির সঙ্গে দেখা করতে চাইলে গল্পকথক কিছুটা বিরক্তবোধ করেন। কিন্তু রহমত যখন তার দেশে ফেলে আসা ছোটো মেয়ের স্মৃতিচিহ্ন তাঁকে দেখান তখন তিনি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মিনির প্রতি রহমতের গভীর মমতার কারণ অনুধাবন করে আবেগে তাঁর চোখ ছলছল করে ওঠে।

(গ) ফাতেমা চৌধুরীর সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কাবুলিওয়ালা চরিত্রটির মিল রয়েছে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কাবুলিওয়ালা রহমত আফগানিস্তানের কাবুল থেকে এ দেশে এসেছিল ব্যাবসা করতে। এজন্য নিজের পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়েছে তাকে। তাই এখানে এসে অচেনা-অজানা এক ছোট্ট মেয়ের প্রতি সে স্নেহবৎসল হয়ে পড়ে। মূলত এই ছোট্ট মেয়েটির মাঝেই নিজ কন্যার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায় সে।

উদ্দীপকের ফাতেমা চৌধুরীর সাথে এক পথশিশুর ধীরে ধীরে সখ্য গড়ে ওঠে। এ কারণে তিনি ছোটো ছেলেটির সাথে গল্প করেন, তার জন্য প্রায়ই খাবার নিয়ে আসেন। কখনো তার দেখা না পেলে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। একইভাবে, আলোচ্য গল্পের কাবুলিওয়ালা অচেনা-অজানা পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে মিনির প্রতি স্নেহপরায়ণ হয়ে পড়ে। রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও মিনির প্রতি রহমত যেমন স্নেহবৎসল হয়ে উঠেছিল, তেমনি উদ্দীপকের ফাতেমা চৌধুরীও পথশিশুটির প্রতি স্নেহপরায়ণ হয়ে উঠেছিলেন। এভাবে স্নেহবাৎসল্যের সম্পর্ক স্থাপনের দিক থেকে উদ্দীপকের ফাতেমা চৌধুরী ও 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের রহমতের মিল পরিলক্ষিত হয়।

(ঘ) উদ্দীপকে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের অচেনা এক শিশুর প্রতি একজন পিতার স্নেহপ্রবণ মনের ঐক্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।

দেশকালের সীমারেখা পিতৃহৃদয়ের স্বাভাবিক প্রবণতায় কোনো প্রভাব বিস্তার করে না। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে লেখক কাবুলিওয়ালা চরিত্রের মধ্য দিয়ে পিতৃত্বের সর্বজনীন রূপটিকে উন্মোচন করেছেন। এ গল্পে মিনির পিতা এবং কাবুলিওয়ালার মাঝে স্নেহপরায়ণ পিতৃহৃদয়ের পরিচয় পাওয়া যায়।

উদ্দীপকের ফাতেমা চৌধুরী অফিসে যাওয়ার পথে রাস্তার ধারে প্রায়ই একটি পথশিশুকে দেখতে পান। ধীরে ধীরে তার প্রতি স্নেহপরায়ণ হয়ে ওঠেন তিনি। অবসর সময়ে তার সাথে নানা গল্পে মেতে ওঠেন। প্রায় দিনই তিনি ছেলেটির জন্য বাসায় তৈরি খাবার নিয়ে আসেন। এমনকি কোনোদিন ছেলেটির দেখা না পেলে চিন্তিত হয়ে পড়েন। সন্তানবাৎসল্যের এমন অনুভূতিই 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মূলকথা।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পের রহমত মিনির মধ্যে তার নিজের কন্যার প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়। সুদূর কাবুলে তাকে রেখে এসেছে সে। তাই কন্যার বয়সি মিনিকে দেখে তার পিতৃহৃদয়ে কন্যাপ্রীতি জেগে ওঠে। স্নেহপরবশ হয়ে মিনিকে প্রায়ই সে কিশমিশ-খোবানি খেতে দেয়। মিনির সাথে হেসে-খেলে সময় কাটিয়ে আনন্দ পায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে গল্পকথক রহমতকে টাকা দিয়ে নিজ কন্যার কাছে ফিরে যেতে সাহায্য করেন। এর মধ্যে মূলত সন্তানের জন্য তার মঙ্গল কামনার বিষয়টি ক্রিয়াশীল ছিল। একইভাবে, উদ্দীপকের ফাতেমা চৌধুরী ছোট্ট পথশিশুকে দেখে তার প্রতি স্নেহশীল হয়ে ওঠেন। এভাবে অপত্যস্নেহের দিকটিই উদ্দীপক ও 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মাঝে সামঞ্জস্য তৈরি করেছে।

প্রশ্ন-৭ঃ ও যে একটুখানি হলুদ হাসি জড়িয়ে রাখে ঠোঁটে, 

             ওকে দেখলে আমার বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে। 

              বন্ধচোখে ভেসে ওঠে একটি সোনামুখ 

              যে আবীরমাখা স্বপ্ন ছড়ায়, ভরিয়ে দেয় বুক।

ক. কাবুলিওয়ালা কোন দেশের অধিবাসী ছিল?

খ. কারাবাস শেষে মিনিকে একনজর দেখার জন্য কাবুলিওয়ালা ব্যাকুল হয়েছিল কেন? 

গ. উদ্দীপকে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো। 

ঘ. 'উদ্দীপকের কথক পুরোপুরি কাবুলিওয়ালা হয়ে উঠতে পারেনি। তোমার মতামতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরো।

৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

(ক) কাবুলিওয়ালা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের অধিবাসী ছিল।

(খ) মিনির মধ্যে কাবুলিওয়ালা নিজের মেয়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়ায় কারাবাস শেষে মিনিকে একনজর দেখার জন্য ব্যাকুল হয়েছিল।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পের রহমত আফগানিস্তানের অধিবাসী। সেখানে সে তার ছোটো একটি মেয়েকে রেখে কলকাতায় প্রতিবছর ব্যবসায় করতে আসে। একবার এক দেনাদারকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তার কারাবাস হয়। কারাবাস শেষ করে নিজের মেয়ের কথা স্মরণ করে রহমত মিনিকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।

(গ) উদ্দীপকে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কাবুলিওয়ালার চরিত্রে প্রকাশিত স্নেহবাৎসল্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক পিতৃস্নেহের চিরন্তন কূপটিকে তুলে ধরেছেন। আফগানিস্তানের মরু পর্বতের রুক্ষ প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা রহমত ব্যবসায়ের প্রয়োজনে এ দেশে আসে। এখানে পাঁচ বছরের শিশু মিনিকে দেখে তার মনে ভেসে ওঠে কাবুলে ফেলে আসা নিজ কন্যার মুখচ্ছবি। মিনিকে আশ্রয় করেই বিদেশ-বিভুঁইয়ে কাবুলিওয়ালার পিতৃহৃদয় তৃপ্ত হয়।

উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি এক শিশুর হাসিমাখা ঠোঁট দেখে আপ্লুত হন। চোখ বন্ধ করলেও তাঁর সামনে ভেসে ওঠে শিশুটির সোনামুখ। এই সোনামুখ তাঁকে স্বপ্ন দেখায়, অন্তরকে পরিতৃপ্ত করে। এখানে শিশুটিকে নিয়ে কথকের একান্ত অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। এই অনুভূতির মূলে রয়েছে শিশুটির প্রতি তাঁর অগাধ মমত্ববোধ। সেদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের কবিতাংশে আলোচ্য পঞ্জের সন্তানবাৎসল্যের দিকটিই ফুটে উঠেছে।

(ঘ) কাবুলিওয়ালা চরিত্রের স্নেহশীলতার দিকটি সুনিপুণভাবে চিত্রিত না হওয়ায় উদ্দীপকের কথক পুরোপুরি কাবুলিওয়ালা হয়ে উঠতে পারেনি।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কাবুলের অধিবাসী রহমত ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে এ দেশে পাড়ি জমায়। কাবুলে মিনির বয়সি তার নিজেরও একটি মেয়ে রয়েছে। এ কারণে মিনির প্রতি সে স্নেহশীল হয়ে পড়ে। মিনিকে দেখে নিজ কন্যার স্মৃতি জেগে ওঠে রহমতের মনে।

উদ্দীপকের কবিতাংশে একটি শিশুকে কেন্দ্র করে কথক চরিত্রের একান্ত অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। এখানে ছোটো শিশুটিকে দেখে কথকের মনে বিচিত্র অনুভূতির সৃষ্টি হয়। সদা হাস্যোজ্জ্বল শিশুটির সোনামুখ দেখে কথকের মন আনন্দে উদ্‌বেলিত হয়। বন্ধ চোখেও ভেসে ওঠে তার মুখচ্ছবি। এই সোনামুখ কথকের অপার আনন্দের উৎস, স্বপ্নময় জীবনের খোরাক। শিশুটিকে কেন্দ্র করে কথকের এই স্নেহবৎসল রূপটি আলোচ্য গল্পেও পরিলক্ষিত হয়।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পের রহমত ও উদ্দীপকের চরিত্রে অভিন্নভাবে স্নেহবাৎসল্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। তবে গল্পের কথক পুরোপুরি কাবুলিওয়ালা হয়ে উঠতে পারেননি। কেননা, উদ্দীপকের রহমতের মতো তাঁকে পরিবার-সন্তান ফেলে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কাজে আসতে হয়নি। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রহমত নিজ কন্যার কাছে যেতে পারেনি। তাই মিনির মাঝেই নিজ কন্যাকে খুঁজে বেড়ায় সে। উদ্দীপকের কথককে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়নি। তাছাড়া ছুরিকাঘাতের মতো অপরাধে রহমতকে জেল খাটতে হয়। উদ্দীপকের কথকের জীবনে এমনটি ঘটেনি। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন-৮ঃ ফিরে এসে দেখি সোনার প্রতিমা লুটায় পথের পরে। 

             সেই সোনামুখ গোলগাল হাত সকলি তেমন আছে। 

             কী জানি সাপের দংশন পেয়ে মা আমার চলে গেছে। 

             আপন হস্তে সোনার প্রতিমা কবরে দিলাম গাড়ি, 

              দাদু! ধর- ধর- বুক ফেটে যায়, আর বুঝি নাহি পারি। (কবর- জসীমউদ্‌দীন)

ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

খ. কাগজের উপর একটি ছোটো হাতের ছাপা দেখে মিনির বাবার চোখ ছলছল করে ওঠে কেন? 

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে শোন ভাবের সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. 'মূলসুরে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের সমগ্র চিত্রকে তুলে ধরতে পারেনি।'- বিশ্লেষণ করো।

৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ই মে জন্মগ্রহণ করেন।

(খ) কাগজের উপর একটি ছোটো হাতের ছাপ মিনির বাবাকে মিনির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ায় মিনির বাবার চোখ ছলছল করে ওঠে।

কাবুলিওয়ালার দেশে একটি মেয়ে আছে। সে মেয়ের কাছ থেকে দূরে সরে থাকার কষ্ট ভুলে থাকতে মিনির জন্য মেওয়া নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে সে আরও বলে সে সওদা করতে আসে না এই বলে সে পকেট থেকে একটি কাগজ বের করে দেখায়। যাতে তার মেয়ের ভুষা মাখানো হাতের চিহ্ন। কন্যার প্রতি পিতার ভালোবাসা স্বরূপ হাতের চিহ্ন সম্বলিত কাগজ বয়ে বেড়ানো দেখে মিনির বাবার চোখ ছলছল কর ওঠে। সেই হাতের ছাপ মিনির বাবাকে মিনির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

(গ) উদ্দীপকের সঙ্গে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে সন্তানের জন্য পিতৃহৃদয়ের হাহাকারের ভাবের সাদৃশ্য বিদ্যমান।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন কীভাবে দেশের সীমারেখায় পিতৃযূদয়ের আবেগ ও সন্তানের জন্য হাহাকার সীমাবদ্ধ থাকে না। কলকাতায় ছোট্ট মিনিকে দেখে কাবুলিওয়ালা তার নিজের মেয়েকে দেখার হাহাকার মেটায়। তাই তো মিনির প্রতি রহমতের পিতৃস্নেহ জেগে ওঠে। মিনির সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে রহমত নিজ কন্যার স্মৃতি ভুলে থাকে। উদ্দীপকের কবিতাংশে কন্যা হারানো এক পিতার শোকার্ত হৃদয়ের হাহাকার প্রতিধ্বনিত হয়েছে। সোনার প্রতিমার মতো মেয়ে সাপের দংশনে মারা যায়। পিতা নিজ হাতে তার সোনার প্রতিমা কন্যাকে কবরে শুইয়ে দিয়েছে। মারা যাওয়ার পরও কন্যার সেই সোনামুখ ও গোলগাল খাতের স্মৃতি পিতার হৃদয়ে শোক সৃষ্টি করে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত সুদূর কাবুলে রেখে আসা মেয়ের মুখচ্ছবি খুঁজে বেড়ায় ছোট্ট মিনির মাঝে। মিনিকে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই তার পিতৃহৃদয়ের হাহাকার মেটে। উভয় প্রেক্ষাপটেই সন্তানের জন্য পিতৃহৃদয়ের আবেগ ও হাহাকারের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের পিতৃহৃদয়ের হাহাকারের যে অনুভূতি সেই অনুভূতির ভাবগত সাদৃশ্য বিদ্যমান।

(ঘ) সন্তানের জন্য পিতৃস্নেহ ও আবেগের বিষয়টির দিক থেকে মিল থাকলেও উদ্দীপটি 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের সমগ্র চিত্র তুলে ধরতে পারেনি।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে আফগানিস্তান থেকে কলকাতায় মেওয়া বিক্রি করতে আসা রহমতের সঙ্গে ছোট্ট মিনির স্নেহময় সম্পর্কের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। নিজ কন্যার মুখচ্ছবি খুঁজতে খুঁজতে মিনির সাথে কাবুলিওয়ালা স্নেহের বাঁধনে বাঁধা পড়ে। মিনির মা কাবুলিওয়ালার সঙ্গে মিনির এই বন্ধন দেখে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন এবং মিনির পিতাকে কাবুলিগুলার ওপর চোখ রাখতে বলেন। মিনির পিতা কাবুলিওয়ালার সঙ্গে মিনির ঘনিষ্ঠতা প্রাথমিক ভাবে মেনে নিলেও জেল খেটে ফিরে আসার পর মিনির সাথে কাবুলি ওয়ালাকে দেখা করতে দিতে চান না। পরবর্তীতে পিতৃহৃদয়ের হাহাকার অনুভব করে তিনিও মিনির সঙ্গে কাবুলিওয়ালার দেখা করিয়ে দেন।

উদ্দীপকে কন্যা হারানো পিতার শোকার্ড হৃদয়ের করুণ আর্তি। ভেসে উঠেছে। সাপের দংশনে প্রাণ হারানো কন্যাকে নিজ হাতে কবর দেয় পিতা। কন্যার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পিতার যেন শোকে বুক ফেটে যায়।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে পিতৃহৃদয়ে সন্তানবাৎসল্যের পাশাপাশি উপস্থাপিত হয়েছে কীভাবে দেশের সীমানা ভেদ করে পিতৃস্নেহ মহীয়ান হয়ে ওঠে। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা দেশ, কাল ও সংস্কৃতি ছাড়িয়ে যায়। এছাড়াও, গল্পে মিনির মায়ের রহমতের প্রতি শরুকা কাজ করে। তবে মিনির বাবার পিতৃহৃদয় রহমতের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানায়। সে নিজেও কন্যার পিতা হিসেবে নিজ কন্যার থেকে দূরে থাকার কষ্ট বুঝতে পারে। পক্ষান্তরে উদ্দীপকে কেবল সন্তানের জন্য পিতার হাহাকার আর আর্তনাদ ফুটে উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকটি 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশ করতে পারেনি।

নিশ্চিত নম্বরের প্রশ্নোত্তর ঃ

🧠 জ্ঞাননমূলক প্রশ্ন ও উত্তর ঃ

মূলপাঠ

প্রশ্ন-১. 'কাবুলিওয়ালা' গল্পটি কার লেখা?

উত্তর: 'কাবুলিওয়ালা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।

প্রশ্ন-২, কে এক দন্ড কথা না বলে থাকতে পারে না?

উত্তর: গল্পকথকের মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না বলে থাকতে পারে না।

প্রশ্ন-৩, কে কাককে 'কৌয়া' বলেছিল? রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, কা

উত্তর: রামদয়াল দারোয়ান কাককে 'কৌয়া' বলেছিল।

প্রশ্ন-৪, মিনি কী খেলা খেলতে শুরু করেছিল?

উত্তর: মিনি আগডুম-বাগডুম খেলা খেলতে শুরু করেছিল।

প্রশ্ন-৫. কোন খেলা বন্ধ করে মিনি জানালার ধারে ছুটে গেল?

উত্তর: আগডুম-বাগডুম খেলা বন্ধ করে মিনি জানালার ধারে ছুটে গেল।

প্রশ্ন-৬. মিনি খেলা ফেলে চিৎকার করে কাকে ডাকতে লাগল?

উত্তর: মিনি খেলা ফেলে চিৎকার করে কাবুলিওয়ালাকে ডাকতে লাগল।

প্রশ্ন-৭. কাবুলিওয়ালার মাথায় কী ছিল?

উত্তর: কাবুলিওয়ালার মাথায় পাগড়ি ছিল।

প্রশ্ন-৮. প্রথম পরিচয়ের দিনে কাবুলিওয়ালা মিনিকে কী দিয়েছিল?

উত্তর: প্রথম পরিচয়ের দিনে কাবুলিওয়ালা মিনিকে কিশমিশ-খোবানি দিয়েছিল।

প্রশ্ন-৯. বাবা ছাড়া মিনির একমাত্র ধৈর্যবান শ্রোতা কে?

উত্তর: বাবা ছাড়া মিনির একমাত্র ধৈর্যবান শ্রোতা কাবুলিওয়ালা।

প্রশ্ন-১০. 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কাবুলিওয়ালার নাম কী?

উত্তর: 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কাবুলিওয়ালার নাম রহমত।

প্রশ্ন-১১. মিনিকে 'খোঁখী' বলে ডাকত কে? সূত্রঃ পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ২: লাইন ২২।

উত্তর: মিনিকে 'খোঁখী' বলে ডাকত কাবুলিওয়ালা।

প্রশ্ন-১২, মিনির মা কেমন স্বভাবের মানুষ?

উত্তর: মিনির মা অত্যন্ত শঙ্কিত স্বভাবের মানুষ।

প্রশ্ন-১৩. মিনির মা কার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখার জন্য মিনির বাবাকে অনুরোধ করেছিলেন?

উত্তর: মিনির মা কাবুলিওয়ালার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখার জন্য মিনির বাবাকে অনুরোধ করেছিলেন।

১৪. গল্পকথকের প্রতিবেশী রহমতের নিকট কোন চাদরের জন্য ধারিত ছিলেন? 

উত্তর: গল্পকথকের প্রতিবেশী রহমতের নিকট রামপুরী চাদরের জন্য ধারিত ছিলেন।

প্রশ্ন-১৫. রহমত গল্পকথকের প্রতিবেশীকে কী দিয়ে আঘাত করেছিল?

উত্তর: রহমত গল্পকথকের প্রতিবেশীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিল। 

প্রশ্ন-১৬. ছুরি মারার অপরাধে রহমতের কী শাস্তি হয়েছিল?

উত্তর: ছুরি মারার অপরাধে রহমতের কারাদণ্ড হয়েছিল। 

প্রশ্ন-১৭. মিনির বিয়ের দিনে রাত্রি শেষ হতে না হতেই কী বাজছিল?

উত্তর: মিনির বিয়ের দিনে রাত্রি শেষ হতে না হতেই সানাই বাজছিল। 

প্রশ্ন-১৮. কাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে কী ছিল?

উত্তর: কাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে ছিল একটি ছোট্ট হাতের ছাপ। 

প্রশ্ন-১৯. কাগজের উপর কার হাতের ছাপ ছিল?

উত্তর: কাগজের উপর রহমতের মেয়ের হাতের ছাপ ছিল।

প্রশ্ন-২০. রহমতের সংগ্রহে থাকা হাতের ছাপটি কার?

উত্তর: রহমতের সংগ্রহে থাকা হাতের ছাপটি তার মেয়ের।

প্রশ্ন-২১. রহমত প্রতিবছর কোথায় মেওয়া বেচতে আসে?

উত্তর: রহমত প্রতিবছর কলকাতায় মেওয়া বেচতে আসে।

▶ শব্দার্থ ও টীকা

প্রশ্ন-২২, আফগানিস্তানের রাজধানীর নাম কী?

উত্তর: আফগানিস্তানের রাজধানীর নাম কাবুল।

প্রশ্ন-২৩. কাবুলিওয়ালা কোন দেশের অধিবাসী ছিল?

উত্তর: কাবুলিওয়ালা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের অধিবাসী ছিল।

প্রশ্ন-২৪. 'নভেল' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: 'নভেল' শব্দের অর্থ উপন্যাস।

প্রশ্ন-২৫. 'দুহিতা' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: 'দুহিতা' শব্দের অর্থ কন্যা।


সকল বিষয়ের সমাধান পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হয়ে যান :

 https://www.facebook.com/share/17BGev1A9W/

Tags

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!