
এসএসসি প্রস্তুতি: অল ইন ওয়ান মাস্টারবুক (বাংলা ১ম)
আপনার এসএসসি প্রস্তুতির সেরা সহায়ক গাইড এবং সাজেশন্স এখন হাতের মুঠোয়
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমরা যারা আসন্ন এসএসসি বোর্ড পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ সহ সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত করতে চাও, তাদের জন্য আমাদের এই আয়োজন। গতানুগতিক গাইডের বাইরে গিয়ে, বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্নের নিঁখুত এনালাইসিস এবং টপিক ভিত্তিক সাজানো এই 'All in One MasterBook' সিরিজটি তোমাদের প্রস্তুতির অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে।
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমরা যারা আসন্ন এসএসসি বোর্ড পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ সহ সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত করতে চাও, তাদের জন্য আমাদের এই আয়োজন। গতানুগতিক গাইডের বাইরে গিয়ে, বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্নের নিঁখুত এনালাইসিস এবং টপিক ভিত্তিক সাজানো এই 'All in One MasterBook' সিরিজটি তোমাদের প্রস্তুতির অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে।
প্রত্যুপকার
ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
👀গল্পটির সারমর্ম হলো, মানবিকতা, সহানুভূতি এবং ন্যায়পরায়ণতা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। আলী ইবনে আব্বাস, তার সাহসিকতা ও নৈতিকতা দিয়ে একজন নির্দোষ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছিলেন, যদিও সে মানুষ খলিফার ক্রোধের শিকার ছিল। এই গল্প থেকে শিখা যায় যে, মানুষের প্রকৃত চরিত্র বুঝে তার প্রতি সহানুভূতির মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
বহুনির্বাচনী প্রশ্নোত্তর ঃ
১. আলী ইবনে আব্বাস কোন খলিফার প্রিয়পাত্র ছিলেন?
ক. হারুন রশিদ
খ. মামুন
গ. মুতাসিম
ঘ. আল-আমিন
অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ছিলেন, তিনি কারা ছিলেন? ২. গল্পের মধ্যে যে ব্যক্তি
ক. আলী ইবনে আব্বাস
খ. খলিফা মামুন
গ. আশ্রয়দাতা
ঘ. ডেমাস্কাসের শাসক
৩. আলী ইবনে আব্বাস কিভাবে ওই ব্যক্তিকে রক্ষা করেছিলেন?
ক. তাঁকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে
খ. তাঁকে খলিফার কাছে নিয়ে যান
গ. তাঁকে গোপনে আশ্রয় দেন
ঘ. তাঁকে খলিফার কাছে মেনে নিয়ে যান
৪. ডেমাস্কাসের শাসকের পতনের পর আলী কোথায় গিয়েছিলেন?
ক. বাগদাদ
খ. মক্কা
গ. কায়রো
ঘ. রোম
৫. আলী ইবনে আব্বাসকে আশ্রয় দিয়েছিলেন কে?
ক. এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি
খ. খলিফা মামুন
গ. তার পিতা
ঘ. এক সৈন্য
৬. আলী ইবনে আব্বাস যে ব্যক্তি সম্পর্কে খলিফাকে জানিয়েছিলেন, তিনি কাকে বোঝাচ্ছিলেন?
ক. তার বন্ধু
খ. খলিফা মামুন
গ. ডেমাস্কাসের আশ্রয়দাতা
ঘ. তার সাঙ্গী
৭. আলী ইবনে আব্বাস আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন কিভাবে?
ক. তাকে টাকা দিয়েছিলেন
খ. তার চরিত্র ও সহানুভূতির প্রশংসা করেছিলেন
গ. তাকে উপহার দিয়েছিলেন
ঘ. তাকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যান
৮. আলী ইবনে আব্বাস তাঁর আশ্রয়দাতাকে কিভাবে সম্মান দেখিয়েছিলেন?
ক. তার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন
খ. আশ্রয়দাতাকে চমৎকার উপহার দিয়েছিলেন
গ. তাকে খলিফার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন
ঘ. তার বাড়ি থেকে চলে যান
৮. আশ্রয়দাতা আলীকে কোন পরামর্শ দিয়েছিলেন?
ক. নিজের বাড়িতে ফিরে যাও
খ. বাগদাদ যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন
গ. ডেমাস্কাসে থামার পরামর্শ দিয়েছিলেন
ঘ. খলিফার কাছে গিয়েই সকল সমস্যার সমাধান হবে
১০. আলী ইবনে আব্বাস কেন আশ্রয়দাতার কথা খলিফাকে বলেছিলেন?
ক. খলিফার সঙ্গেই সম্পর্ক ভালো ছিল
খ. খলিফাকে ঐ ব্যক্তির ভালো চরিত্র জানানো প্রয়োজন ছিল
গ. খলিফার প্রতি দয়া জানানো প্রয়োজন ছিল
ঘ. আলী নিজে আশ্রয়দাতার সাহায্য চাইতে চেয়েছিলেন
১১. খলিফা মামুন কিসের কারণে আলী ইবনে আব্বাসকে শাস্তি দেওয়ার ভয় দেখিয়েছিলেন?
ক. তার প্রিয়পাত্রের প্রতি ঘৃণা
খ. আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার প্রতি সহানুভূতি
গ. অন্যকারণের জন্য
ঘ. খলিফার মহিমা
১২. আলী ইবনে আব্বাস কিভাবে তার আশ্রয়দাতাকে মুক্তি দেয়ার জন্য খলিফার কাছে আবেদন করেছিলেন?
ক. উত্তেজিতভাবে
খ. বিনীতভাবে
গ. রেগে গিয়ে
ঘ. ভয় দেখিয়ে
১৩. আলী ইবনে আব্বাস যখন খলিফার কাছে তার আশ্রয়দাতার কথা বলেছিলেন, তখন খলিফার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
ক. তিনি অনেক ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন
খ. তিনি সব শুনে চিন্তা করে প্রশংসা করেছিলেন
গ. তিনি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন
ঘ. তিনি বিষয়টি উপেক্ষা করেছিলেন
১৪. আলী ইবনে আব্বাস যখন তার আশ্রয়দাতাকে মুক্ত করার জন্য খলিফার কাছে আবেদন করেছিলেন, খলিফা কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান?
ক. তিনি চুপ করে বসে থাকেন
খ. তিনি আশ্রয়দাতার প্রকৃত চরিত্র বুঝে খুশি হন
গ. তিনি রেগে যান।
ঘ. তিনি তাকে নির্বাসন দেন
১৫. আলী ইবনে আব্বাস খলিফার কাছ থেকে কিসে মুক্তি পেয়েছিলেন?
ক. খলিফার ক্ষমা
খ. তার আশ্রয়দাতার চরিত্রের প্রশংসা
গ. খলিফার অক্ষমতা
ঘ. আশ্রয়দাতার কাছ থেকে সাহায্য
১৬. আলী ইবনে আব্বাস তার আশ্রয়দাতাকে কী উপহার দিয়েছিলেন?
ক. খলিফার কাছ থেকে পাওয়া উপহার
খ. শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে উপহার
গ. নিজে কিছু না দিয়ে চলে গিয়েছিলেন
ঘ. আশ্রয়দাতাকে টাকা দিয়েছিলেন
১৭. খলিফা মামুন আলী ইবনে আব্বাসকে কিভাবে পুরস্কৃত করেছিলেন?
ক. তাকে একটি পদ দিয়েছিলেন
খ. আশ্রয়দাতার জন্য মূল্যবান উপহার দিয়েছিলেন
গ. খলিফার প্রাসাদে নিয়েছিলেন
ঘ. একটি বাড়ি উপহার দিয়েছিলেন
১৮. আলী ইবনে আব্বাসের মতো সাহসিকতা কিভাবে সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে?
ক. দুঃখের সময়েই সহানুভূতি গড়ে তোলে
খ. ন্যায়ের পথে থাকা এবং অন্যকে রক্ষা করা
গ. শুধুমাত্র নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়া
ঘ. ভয় পাওয়া
১৯. আলী ইবনে আব্বাসের সাহসিকতা আমাদের কি শিক্ষা দেয়?
ক. কখনো সহানুভূতি না দেখানো
খ. ন্যায়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা
গ. খলিফার কথা শোনা
ঘ. বিপদে পড়লে পালিয়ে যাওয়া
২০. আলী ইবনে আব্বাস তার সাহসিকতার মাধ্যমে কি শিখিয়েছেন?
ক. ভয়ের মধ্যে থেকেও সঠিক কাজ করা
খ. মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং ন্যায্যতা বজায় রাখা
গ. শুধুমাত্র নিজের জীবন বাঁচানো
ঘ. অগ্রগতির জন্য অপরকে ছাড় দেওয়া
২১. খলিফা মামুন কি কারণে আলী ইবনে আব্বাসের প্রশংসা করেছিলেন?
ক. তার সাহসী পদক্ষেপ
খ. তার অন্যের প্রতি দয়া এবং সহানুভূতি
গ. তার সমর শক্তি
ঘ. খলিফার প্রতি বিশ্বস্ততা
২২. আলী ইবনে আব্বাস আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে কি করেছিলেন?
ক. তার সাথে দীর্ঘ কথা বলেছিলেন
খ. তার দয়ালু কাজের প্রশংসা করেছিলেন
গ. তাকে কোন উপহার দেননি
ঘ. তার কাজগুলো ভুল মনে করেছিলেন
২৩. আলী ইবনে আব্বাস কিভাবে খলিফাকে আশ্রয়দাতার প্রকৃত চরিত্র বোঝালেন?
ক. রেগে গিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন
খ. শান্তভাবে তাকে আশ্রয়দাতার ভালো চরিত্র ব্যাখ্যা করেছিলেন
গ. খলিফাকে কিছু বলেছিলেন না
ঘ. খলিফার ওপর অভিযোগ করেছিলেন
২৪. আলী ইবনে আব্বাসের মতো একজন সহানুভূতির মানুষ কিভাবে সমাজে প্রভাব ফেলতে পারে?
ক. সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে
খ. অন্যদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে
গ. ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করতে পারে
ঘ. সকলকে উপেক্ষা করে
২৫. এই গল্পের মূল শিক্ষা কি?
ক. প্রতিশোধ নেয়া
খ. ন্যায্যতা, সহানুভূতি ও সঠিক কাজ করা
গ. অসৎ পথে চলা
ঘ. ক্ষমা করা
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন-১: একদা এক রাতে একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা নির্জন এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন। সে সময় একজন রিকশাচালক বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি মহিলাকে দেখেন এবং তাঁকে রিকশায় উঠিয়ে নিয়ে হাসপাতালে যান। চিকিৎসা করান।
তারপর মহিলার পরিবারকে ঘটনাটি জানান। রিকশাচালক তাঁর এ মহৎ কাজের জন্য উপহার পান। আহত মহিলা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর স্বামী পেশায় একজন চৌকিদার ছিলেন।
ঘটনাক্রমে পাঁচ বছর পর রিকশাচালককে চুরির অভিযোগে থানায় নিয়ে যান তিনি, যা আসলে মিথ্যা ছিল। কিন্তু চৌকিদার তাঁকে না চেনার অভিনয় করেন এই ভেবে যে, শেষে তাঁর কোনো ক্ষতি হয় কি না। অথচ চাইলেই তিনি তাঁর উপকার করতে পারতেন।
ক) খলিফা কয়েদিকে কী কী উপহার দিয়েছিলেন?
খ) খলিফা মামুন কী কারণে কয়েদিকে মুক্ত করলেন?
গ) উদ্দীপকের ঘটনা ও 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাদৃশ্যতা কতটুকু? পাঠ্য বইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।
ঘ) আলী ইবনে আব্বাস ও চৌকিদারের মাঝে কাকে ভালো চরিত্রের মনে হয়েছে? কারণসহ ব্যাখ্যা করো।
১ নং প্রশ্নের উত্তর ঃ
ক) খলিফা কয়েদিকে মহামূল্যবান পরিচ্ছদ, সুসজ্জিত দশ অশ্ব, দশ খচ্চর ও দশ উই উপহার দিলেন।
খ) খলিফা মামুন কয়েদির দয়াশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতা দেখে মুক্ত করে দেন।
কয়েদি ছিলেন একজন অতি উত্তম চরিত্রের মানুষ। তাঁর উপকারের জন্য আলী ইবনে আব্বাস খলিফার কাছে বলেন, তিনি ভালো চরিত্রের মানুষ এবং তাঁকে কিছু দুষ্টুলোক মিথ্যা কথা বলে ফাঁসিয়েছে।
খলিফা মহামতিও অতি উত্তম চরিত্রের মানুষ ছিলেন। তাই ঘটনা শুনে কয়েদিকে মুক্ত করে দেন।
গ) উদ্দীপকে বর্ণিত এবং 'প্রত্যুপকার' গল্পের মাঝে বেশ কিছু সাদৃশ্যতার পাশাপাশি বৈসাদৃশ্যতা রয়েছে, যা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
উদ্দীপকে বর্ণিত আছে, একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হন। সে সময় একজন রিকশাচালক তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এতে আহত মহিলা বেঁচে যান। অন্যদিকে গল্প থেকে জানা যায়, এক ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে আশ্রয় দিয়ে তাঁকে এক মাস সেবা-যত্ন করেছেন। উপকার করার দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে; কিন্তু উদ্দীপকে দেওয়া আছে-শেষে রিকশাচালক এক মিথ্যা অপবাদে ফেঁসে যান। চৌকিদারের নিজের ক্ষতি হতে পারে ভেবে তাঁকে বাঁচাননি; বরং না চেনার অভিনয় করেছেন, যা অকৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। আর অন্যদিকে গল্পে আশ্রয়দাতাও যখন একইভাবে ফেঁসে গিয়েছিলেন, তখন আলী ইবনে আব্বাস নিজের কোনো কথা চিন্তা না করে তাঁকে বেকসুর খালাস দিতে আবেদন করেন খলিফার কাছে।
এ থেকে বোঝা যায়, প্রথম অংশের সঙ্গে সাদৃশ্যতা থাকলেও শেষাংশে বৈসাদৃশ্যতা রয়েছে। তাই উদ্দীপক ও 'প্রত্যুপকার' গল্পের ঘটনাক্রম সম্পূর্ণ সাদৃশ্য নয়।
ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত চৌকিদার আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিরচিত 'প্রত্যুপকার' গল্পের তুলনামূলক আলোচনায় আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রকে ভালো মনে হয়েছে। এরও যথেষ্ট কারণ রয়েছে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
উদ্দীপকে রিকশাচালক নিজেকে কঠিন মুহূর্তে স্থাপিত করে একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে সাহায্য করেন। পরে জানা যায়, ওই মহিলা ছিলেন একজন চৌকিদারের স্ত্রী। পাঁচ বছর পর রিকশাচালককে চুরির অপবাদে চৌকিদার গ্রেপ্তার করেন। রিকশাচালকের সততা ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের কথা জেনেও তিনি তাঁর বিপদের সময় সাহায্য করেন না; বরং তিনি তাঁকে না চেনার অভিনয় করেন। এ থেকে পুরোপুরিভাবে প্রকাশ পায় যে চৌকিদার একজন খারাপ চরিত্রের লোক। পরোপকারের মানসিকতা তাঁর মধ্যে নেই। নিজের স্বার্থই তাঁর কাছে বড়।
অন্যদিকে গল্পে আলী ইবনে আব্বাসকে যুদ্ধের পরে এক বাড়ির কর্তা তাঁকে আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেন। এবং অনেক দিন পরে আশ্রয়দাতা বিপদে পড়লে, তখন তিনি তাঁকে যথাসাধ্য সাহায্য করেন। তাঁকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। এ যেন প্রত্যুপকারের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
অতএব, ঘটনা দুটি বিশ্লেষণপূর্বক বলা যায়, আলী ইবনে আব্বাস একজন ভালো চরিত্রের মানুষ। চৌকিদারের মাঝে স্বার্থপরতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন-২: চুরির অভিযোগে কিছু লোক একটি ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করলো। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি চৌকিদার আমজাদকে ডেকে নির্দেশ দিলেন বন্দিকে তার বাড়িতে রাখতে। কিছু সময় পর তিনি জানতে পারলেন, বন্দি ব্যক্তি দশ বছর আগে আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সেবা করেছিলেন। কিন্তু আমজাদ নিজের ক্ষতির ভয়ে বন্দিকে চিনতে না চেয়ে চুপ করে রইলেন।
ক. 'প্রত্যুপকার' শব্দের অর্থ কী?
খ. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা প্রত্যুপকার গল্পের কোন ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়।' বিশ্লেষণ কর।
২নং প্রশ্নের উত্তর ঃ
ক. 'প্রত্যুপকার' শব্দের অর্থ হলো, কারও উপকারের প্রতিদানে কৃতজ্ঞচিত্তে সেই ব্যক্তির প্রতি উপকার করা।
খ. খলিফা মামুন আলী ইবনে আব্বাসের বিবরণ শুনে এবং বন্দির দয়া, ন্যায়পরায়ণতা ও সদাচরণের কথা জানতে পেরে কিছুক্ষণ চুপ ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেন, বন্দির মতো মহান ব্যক্তির ওপর মিথ্যা অভিযোগ এনে প্রাণদ- আদেশ করা ভুল হবে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা 'প্রত্যুপকার' গল্পের সেই ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে আলী ইবনে আব্বাস একসময় ডেমাস্কাসের এক ব্যক্তির আশ্রয় ও সাহায্য লাভ করেছিলেন। সে ব্যক্তি তাঁকে এক মাস ধরে নিরাপদে আশ্রয় দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছিলেন। পরে সেই ব্যক্তিই বন্দি হয়ে আলী ইবনে আব্বাসের কাছে আসে। উদ্দীপকের গল্পেও বন্দি বাক্তি আমজাদের সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছিল, কিন্তু আমজাদ নিজের স্বার্থে সেই ঘটনা এড়িয়ে যান।
ঘ. 'আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়।' মন্তব্যটি যথার্থ।
আলী ইবনে আব্বাস তার জীবন রক্ষাকারী আশ্রয়দাতার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞ ছিলেন এবং যখন সেই ব্যক্তি বন্দি হন, তখন নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে তাকে মুক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এটি তাঁর কৃতজ্ঞতা ও মানবিকতার পরিচায়ক। অন্যদিকে, আমজাদ জানতেন যে বন্দি ব্যক্তি তাঁর সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছিল, তবে নিজের ক্ষতির ভয় পেয়ে সেই উপকারের কথা এড়িয়ে যান। এটি তাঁর আত্মকেন্দ্রিকতা ও সাহসের অভাবকে প্রকাশ করে।
এখানে আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞতার প্রকৃত উদাহরণ স্থাপন করেছেন, যেখানে আমজাদ কৃতজ্ঞতার অভাব ও স্বার্থপরতার পরিচয় দিয়েছেন। এই দুটি দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শেখায়, প্রকৃত কৃতজ্ঞতা শুধু অনুভূতির বিষয় নয়, তা বাস্তব আচরণ ও দায়িত্ববোধের মধ্যে প্রকাশ পায়।
সুভা
✍️👤 লেখক-পরিচিতিঃ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ সালে (৭ই মে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে। মাত্র পনেরো বছর বয়সে তাঁর বনফুল কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ইংরেজি Gitanjali: Song Offerings সংকলনের জন্য এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বস্তুত তাঁর একক সাধনায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সকল শাখায় দ্রুত উন্নতি লাভ করে এবং বিশ্বদরবারে গৌরবের আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সুরকার, নাট্য প্রযোজক ও অভিনেতা। কাব্য, ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গান ইত্যাদি সাহিত্যের সকল শাখাই তাঁর অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে। তাঁর অজস্র রচনার মধ্যে মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, কল্পনা, ক্ষণিকা, বলাকা, পুনশ্চ, চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা, বিসর্জন, ডাকঘর, রক্তকরবী, গল্পগুচ্ছ, বিচিত্র প্রবন্ধ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ সালে (৭ই আগস্ট ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ) কলকাতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
📚🔍 পাঠ-পরিচিতিঃ
'সুভা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গল্পগুচ্ছ থেকে সংকলিত হয়েছে। বাম্প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধে গল্পটি অমর হয়ে আছে। সুভা কথা বলতে পারে না। মা মনে করেন, এ-তার নিয়তির দোষ, কিন্তু বাবা তাকে ভালোবাসেন। আর কেউ তার সঙ্গে মেশে না, খেলে না। কিন্তু তার বিশাল একটি আশ্রয়ের জগৎ আছে। যারা কথা বলতে পারে না সেই পোষা প্রাণীদের কাছে সে মুখর। তাদের সে খুবই কাছের জন। আর বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে সে পায় মুক্তির সনদ। 'সুভা গল্পের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন। শিশুর এ ধরনের প্রতি সকলের মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রস্তুতে সহায়তা করে এ গল্প।
বহুনির্বাচনী প্রশ্নোত্তর ঃ
১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ কোনগুলো?
(ক) মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, বিসর্জন
(খ) ক্ষণিকা, বলাকা, পুনশ্চ, শেষের কবিতা
(গ) রক্তকরবী, চোখের বালি, কল্পনা, চিত্রা
(ঘ) চিত্রা, কল্পনা, সোনার তরী, মানসী
২। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম কী?
(ক) প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর
(খ) মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(ঘ) সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর
৩। রবীন্দ্রনাথ কোন কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান
(ক) ক্ষণিকা
(খ) মানসী
(গ) সোনার তরী
(ঘ) গীতাঞ্জলি
৪। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে ৭ই মে ও ৭ই আগষ্ট কীভাবে সম্পর্কিত?
(ক) জনন্ম ও মৃত্যুতে
(খ) জন্ম ও বিবাহ
(গ) মৃত্যু ও নোবেল প্রাপ্তিতে
(ঘ) নোবেল ও জমিদারি পত্তনে
৫। 'সুভা' গল্পের মেয়েটির নাম কী রাখা হয়েছিল?
(ক) হাসি
(খ) সুভা
(গ) সুহাসিনী
(ঘ) সুভাষিণী
৬। "তখন কে জানিত সে বোবা হইবে?" এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
(ক) সুভাষিণীর
(খ) সুকেশিনীর
(গ) সুহাসিনীর
(ঘ) সুনয়নার
৭। সুভাষিণীরা কয় বোন?
(ক) তিন
(খ) চার
(গ) পাঁচ
(ঘ) ছয়
৮। সুভাষিণী বাবা কিসের ভিত্তিতে ছোট মেয়েটির নাম রাখেন সুভাষিণী।
(ক) মায়ের নামের ভিত্তিতে
(খ) আবেগের বশে
(গ) প্রতাপের কথায়
(ঘ) বড় দুই মেয়ের নামের বিত্তিতে
৯। 'সুভাষিণী' অর্থ কী?
(ক) মধুরভাষী
(খ) সুন্দর মুখ
(গ) উজ্জ্বল
(ঘ) সুন্দর কথা
১০।" এখন ছোটোটি পিতামাতার নীরব হ্রদয়ভারের মতো বিরাজ করিতেছে।" এখানে 'ছোটোটি' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) সুকেশিনীকে
(খ) সুহাসিনীকে
(গ) সুনয়নাকে
(ঘ) সুভকে
১১। কার সাক্ষাতেই সকলে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে?
(ক) প্রতাপের
(খ) সুভার
(গ) সুহাসের
(ঘ) সুকেশিনীর
১২। সাধারণের দৃষ্টিপথ থেকে কে নিজেকে গোপন করে রাখতে সবসময় চেষ্টা করত?
(ক) সুভার পিতা
(খ) সুভার বোন
(গ) সুভার মা
(ঘ) সুভা
১৩। কোনটি কেউ কখনো ভোলে না?
(ক) মিথ্যা
(খ) অপরাধ
(গ) বেদনা
(ঘ) অন্যায়
১৪। পিতামাতার মনে সে সর্বদাই জাগবুক ছিল-কে?
(ক) প্রতাপ
(খ) বাণীকণ্ঠ
(গ) সুকেশি
(ঘ) সুভা
১৫। কন্যার কোনো অপূর্ণ দেখলে কে সেটাকে নিজের লজ্জার কারণ বলে মনে করেন?
(ক) পিতা
(খ) মাতা
(গ) প্রতিবেশী
(ঘ) আত্মীয়স্বজন
১৬। সুভার পিতার নাম কী?
(ক) নীলকণ্ঠ
(খ) বাণীকণ্ঠ
(গ) বংশীকণ্ঠ
(ঘ) গোঁসাই মন্ডল
১৭। "কিন্তু মাতা তাহাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করিয়া তাহার প্রতি বড়ো বিরক্ত ছিলেন"-কার প্রতি?
(ক) প্রতাপের প্রতি
(খ) সুকেশির প্রতি
(গ) সুভার প্রতি
(ঘ) সুনয়নার প্রতি
১৮। কথায় আমরা যে ভাব প্রকাশ করি তা আমাদের কী করতে হয়?
(ক) ভুলে যেতে হয়
(খ) ভালোবাসতে হয়
(গ) গড়ে তুলতে হয়
(ঘ) তর্জমা করতে হয়
১৯। কিসের অভাবে অনেক সময় কথায় আমরা যে ভাব প্রকাশ করি তা ভুল হয়?
(ক) ক্ষমতার
(খ) তর্জমার
(গ) সময়ের
(খ) চিন্তার
২০। কখনো উজ্জ্বলভাবে জ্বলিয়া ওঠে-কী?
(ক) নীল চোখ
(খ) সুন্দর মুখ
(গ) কালো চোখ
(খ) উদ্ধত হাত
২১। 'সুভা' গল্পে কালো চোখের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে কিসের?
(ক) কচি কিশলয়ের
(খ) ক্ষমতার
(গ) উজ্জ্বল মণির
(ঘ) দ্রুত চঞ্চল বিদ্যুতের
২২। 'সুভা' গল্প অনুসারে অতলস্পর্শ গভীর কী?
(ক) চোখের চাহনি
(খ) চোখের ভাষা
(গ) চোখের রং
(খ) চেতনা
২৩। ছায়ালোকের রঙ্গভূমি কেমন?
(ক) সুন্দও
(খ) নিস্তব্ধ
(গ) কোলাহলপূণ
(ঘ) নির্জীব
২৪। সাধারণ বালিকারা কাকে ভয় করত?
(ক) প্রতাপকে
(খ) সুভাকে
(গ) সুহাসিকে
(খ) সুকেশিকে
২৫। তাহার সহিত খেলা না-এখানে তাহার বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে?
(ক) সুহাসিকে
(খ) সুবর্ণকে
(গ) প্রতাপকে
(ঘ) সুভাকে
২৬। চন্ডীপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটি কেমন?
(ক) বড়
(খ) খুব বেশি প্রসারিত নয়
(গ) ছোট
(ঘ) খুব বেশি গভীর নয়
২৭। প্রকৃতি কার, ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়?
(ক) প্রতাপের
(খ) সুভাষিণীর
(গ) সুহাসিনীর
(ঘ) সুকেশিনীর
২৮। সুভার হয়ে কথা বলে কে?
(ক) সুভার মা
(খ) সুভার পিতা
(গ) প্রকৃতি
(ঘ) নদী
২৯। সুভা নিয়মিত কত বার করে গোয়ালঘরে যায়?
(ক) এশবার
(খ) দুইবার
(গ) তিনবার
(ঘ) চারবার
৩০। ভাষাবিশিষ্ট জীব কে?
(ক) সর্বশী
(খ) পাঙ্গুলি
(গ) প্রতাপ
(ঘ) পাংথুড়ি
৩১। গোঁসাইদের ছোট ছেলেটির নাম কী?
(ক) বাণীকণ্ঠ
(খ) প্রতাপ
(গ) মণি
(ঘ) মনোহর
৩২। প্রতাপের প্রধান শখ কী?
(ক) খেলাধুলা করা
(খ) ছিপ ফেলে মাছ ধরা
(গ) ঘুরে বেড়ানো
(ঘ) গল্প করা
৩৩। প্রতাপের সাথে কার প্রায়ই সাক্ষাৎ হয়?
(ক) সুকেশিনীর
(খ) সুহাসিনীর
(গ) সবর্ণার
(ঘ) সুভার
৩৪। মাছ দরার সময় কেমন সঙ্গী সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ?
(ক) চালক
(খ) বাক্যহীন
(গ) অলস
(ঘ) বাচাল
৩৫। প্রতাপ অতিরিক্ত আদর সংযোগ করে সুভাকে কী বলে ডাকত?
(ক) সু
(খ) সুভাষী
(গ) ভাষী
(ঘ) সুনী
৩৬। সুভা কোথায় বসে প্রতাপের মাছ ধরা দেখত?
(ক) আমতলায়
(খ) জামতলায়
(গ) তেঁতুলতলায়
(ঘ) বকুলতলায়
৩৭। বাণীকন্ঠের কী ছিল?
(ক) বন্ধু
(খ) শত্রু
(গ) ছেলে
(ঘ) অভাব
৩৮। 'ঝিল্লিরবপূর্ণ' অর্থ কী?
(ক) ঝিঝি পোকার আওয়াজ
(খ) শব্দ
(গ) পাখির ডাক
(ঘ) বাঘের ডাক
৩৯। 'গন্ডদেশ' অর্থ কী?
(ক) চোখের পাতা
(খ) নয়ন
(গ) গাছের পাতা
(ঘ) হাতের পাতা
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৪০। কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না, কারণ-
i.মনের কথা চোখে ওপর ছায়া ফেলে
ii. চোখ
iii. হাসে
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
৪১। প্রকৃতির সাথে সুভার সাদৃশ্য রয়েয়ে-
র. বিবিধ শব্দে
ii. বিচিত্র গতিতে
iii. নীরবতায়
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
৪২। সর্বশী ও পাঙ্গগুলি সুভার কথা বুঝত, কারণ-
i. তারাও ছিল বাকহীন
ii. তাদের প্রতি সুভার ভালোবাসা তারা বুঝতে
iii. সুভা তাদের সাথে কথা বলত
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
৪৩। প্রতাপ সম্পর্কে সত্য হলো-
i. সে ধনীর সন্তান
ii. সে অলস প্রকৃতির ছেলে।
iii. মাছ ধরা তার নেশা
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
৪৪। 'লোকেও নিন্দা আরম্ভ করিয়াছে।' এ বাক্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে-
i. কন্যাভারগ্রস্ত পিতার অবস্থা
ii. সমাজের মানুষের চিন্তা-চেতনা
iii. সুভার অবস্থা
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের উদ্দীপকটি ৪৫ ও ৪৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
আরিফ সাহেবের দুই পুত্র, এক কন্যা। দুই পুত্র পড়ালেখারয় খুব ভালো, কিন্তু মেয়েটি চোখে দেখতে পায় না। দিন দিন সে যত বড় হচ্ছে, কিন্তু মেয়েটি চোখে দেখতে পায় না। দিন দিন সে যথ বড় হচ্ছে আরিফের সাহেব তত দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন।
৪৫। উদ্দীপকের আরিফ সাহেব 'সুভা' গল্পে কার প্রতিনিধিত্ব করেন?
(ক) বাণীকন্ঠে
(খ) গোঁসাইদের
(গ) সুভার বোনের
(ঘ) প্রতাপের পিতার
৪৬। উভয় পিতার মাঝে যেসব বিষয়ের মিল রয়েছে-
i. উভয়েরই সন্তান প্রতিবন্ধী
ii. উভেয়ই দুশ্চিন্তাগ্রন্থ
iii. উভয়েই সুস্থ কন্যার পিতা
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৪৭ ও ৪৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
রাজ্জাক অলস প্রকৃতির ছেলে। সারাদিন ঘুড়ি উড়িয়ে তার দিন কাটে। চাচাতো বোন মিতু তার একমাত্র সঙ্গী
৪৭। উদ্দীপকের রাজ্জাকে সাথে 'সুভা' গল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে?
(ক) সুভার
(খ) বাণীকন্ঠের
(গ) প্রতাপের
(ঘ) গোঁসাইদের বড় ছেলের
৪৮। তারা দুইজন-
1. সংসার উদাসী
ii. অলস
iii. পরপোকারী
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii
(খ) i ও iii
(গ) ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
(ঘ) i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তরঃ
প্রশ্ন-১ঃ দুই সন্তানের পর কন্যা সন্তান পলাশ বাবুর পরিবারে আনন্দের বন্যা নিয়ে এলো। নাম রাখা হলো 'কল্যাণী'। সকলের চোখের মণি কল্যাণী বেড়ে ওঠার সাথে সাথে পলাশ বাবু বুঝতে পারলেন বয়সের তুলনায় কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঘটে নি। কিছু বললে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। কল্যাণীর বিয়ের কথাবার্তা চলছে। পলাশ বাবু কল্যাণীর সবই বরপক্ষকে খুলে বললেন। সব শুনে বরের বাবা সুবোধ বাবু বললেন, 'পলাশ বাবু কল্যাণীর মতো আমার ছেলেও তো হতে পারত, কাজেই কল্যাণী মাকে ঘরে নিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।'
(ক) সুভার গ্রামের নাম কী?
(খ) 'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার' কথাটি দ্বারা লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
(গ) উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার যে বিশেষ দিকটির সঙ্গতি দেখানো হয়েছে- তা ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- বিশ্লেষণ কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর দাওঃ
(ক) সুভার গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।
(খ) 'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে বাক প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ে যে নীরব কষ্টের সৃষ্টি হয় লেখক সে কষ্টের কথা বুঝিয়েছেন। সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বড় দুই মেয়ের মতো সুভার বিয়ে দিতে পারেননি। সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ ও তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্টের সৃষ্টি হয়। লেখক কষ্টকেই বলেছেন পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।
(গ) উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে মানুষ আমাদের সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষের হীনম্মন্যতার পরিচয় প্রকাশ পায়। আমাদের সবারই প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হতে হবে। তবেই তারা বিকশিত হবে ও সুন্দরভাবে বাস করতে পারবে সমাজে। 'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। তার জন্ম বাবা-মায়ের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও কথা না বলতে পারার বিষয়টি কিছুটা নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারের আনন্দের বন্যা নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। উদ্দীপকের কল্যাণীর মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটির মিল দেখানো হয়েছে।
(ঘ) কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ। শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষেরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ। তারা আমাদের মতোই মানুষ। তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি ও মমত্ববোধে তারা পাবে জীবনের পূর্ণতা। উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তার সময় কল্যাণীর বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে। উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। কিন্তু 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন-২ঃ আনুর মা ডাক্তারের দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখে ব'লে উঠল, আপনি বলুন ডাক্তার বাবু, আপনি বলুন। ও হতভাগী কালা-বোবা। সকলের মুখে ফুটে উঠল অদ্ভুত অভিব্যক্তি, বিস্ময়, করুণা, হয়তো কিছুখানি তাচ্ছিল্য আছে তার মধ্যে। ডাক্তারের মুখে তার প্রকাশ সবচেয়ে কম।। এ সন্দেহ তার হয়েছিল।
(ক) সুভা কোথায় বসে থাকত?
(খ) "কিন্তু তাহার পদশব্দ তাহারা চিনিত" বাক্যটির প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের বোবা মেয়েটি 'সুভা' গল্পের কোন চরিত্রের অনুরূপ তা নিরূপণ কর।
(ঘ) "সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'সুভা' গল্পের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে না।"- যথার্থতা মূল্যায়ন কর।।
২নং প্রশ্নের উত্তর
(ক) সুভা তেঁতুলতলায় বসে থাকত।
(খ) গোয়ালের গাভী দুটির সাথে সুভার সম্পর্ক বোঝাতে প্রশ্নোক্ত বাক্যটি ব্যবহৃত হয়েছে। সুভা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক বালিকা। সে কথা বলতে পারে না বলে তার কোনো বন্ধু বা সাথি নেই। সবাই তাকে এড়িয়ে চলে। সুভা তাই তাদের গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলির সাথে সখ্য গড়ে তোলে। তারা সুভার মুখে কখনো কথা শোনেনি কিন্তু তার পায়ের শব্দ তারা চিনত। সুভার না বলা কথাগুলো এরা সহজে বুঝতে পারত, যা মানুষ বুঝত না বা বুঝতে চাইত না। লেখক এখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের অনুভূতির তীব্রতার দিকটি উন্মোচন করেছেন।
(গ) উদ্দীপকের বোবা মেয়েটি 'সুভা' গল্পের সুভার অনুরূপ। আমাদের সমাজ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি সচরাচর কেউ সহানুভূতি দেখায় না। ফলে তাদের প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ হারিয়ে যায়। আর এই কারণেই তারা মাঝে মাঝে মানুষের দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। উদ্দীপকের কালা-বোবা মেয়ে আনু বড়ই অসহায়। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সে সবার অবহেলার শিকার হয়েছে। মায়ের কথায় তার প্রতি তাচ্ছিল্য ভাব প্রকাশিত হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও সবার কাছ থেকে পেয়েছে শুধু অবহেলা। সবাই মনে করে সুভা কথা বলতে পারে না, তাই সে কিছু অনুভব করতে পারে না। তার সামনেই সবাই তার ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করে, যা সুভার মনকে অনেক ছোট করে দেয়। কথা বলতে না পারাটা তার কাছে অভিশাপের মতো মনে হয়। তাই উদ্দীপকের বোবা মেয়েটিকে 'সুভা' গল্পের সুভার অনুরূপ বলা যায়। (ঘ) "সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'সুভা' গল্পের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে না।"- মন্তব্যটি যথার্থ। অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করতে হবে। তাদের কষ্টে নিজেকে একাত্ম করতে হবে। তারাও যে সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে না এই আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে হবে। তবেই পৃথিবী আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে। উদ্দীপকে আনুর মায়ের কথায় শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েটির প্রতি তাচ্ছিল্য ভাব প্রকাশিত হয়েছে। মেয়েটি কথা বলতে পারে না বলে তাকে অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'সুভা' গল্পেও প্রতিফলিত হয়েছে। গল্পের সুভা জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী। গল্পে লেখক শুধু সুভার কষ্ট ও অসহায়ত্বই প্রকাশ করেননি, তিনি বাকপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধের উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছেন। সুভার মা নিয়তিকে দোষ দিলেও তার বাবা তাকে অনেক ভালোবেসেছেন। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের আপন করে নিয়েছে। তাদের কাছে সুভা ছিল অনেক মুখর। নির্বাক প্রকৃতির কাছে সে মুক্তির আনন্দ পেয়েছে। উদ্দীপকটি 'সুভা' গল্পের সুভাষিণীর কথা অর্থাৎ সুভার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। অপরদিকে 'সুভা' গল্পের মাধ্যমে গল্পকার পৃথিবীর সব শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি মমত্ববোধ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। 'সুভা' গল্পে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সার্বিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে। 'সুভা' গল্পের মাধ্যমে লেখক মূলত মানুষের সহানুভূতি জাগিয়ে তুলেছেন এবং প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য একটি আশ্রয়ের জগৎ' তৈরি করতে চেয়েছেন। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন-৩ঃ মা-মরা মেয়ে মিনু। বাবা জন্মের আগেই মারা গেছে। সে মানুষ হচ্ছে এক দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে। বয়স মাত্র দশ, কিন্তু এই বয়সেই সবরকম কাজ করতে পারে সে। সবরকম কাজই করতে হয়। লোকে অবশ্য বলে যোগেন বসাক মহৎ লোক বলেই অনাথা বোবা মেয়েটাকে আশ্রয় দিয়েছেন।
(ক) গোঁসাইদের ছোট ছেলেটির নাম কী?
(খ) সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত কেন? ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের মিনু 'সুভা' গল্পের কোন চরিত্রের প্রতীক? নিরূপন কর।
(ঘ) "উদ্দীপকের মিনুর সাথে 'সুভা' গল্পের সুভার সাদৃশ্য থাকলেও সুভার জগৎটি ভিন্ন।" উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
৩নং প্রশ্নের উত্তর
(ক) গোঁসাইদের ছোট ছেলেটির নাম প্রতাপ।
(খ) প্রতাপের কাছে নিজের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর জন্য সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত। প্রতাপ যখন ছিপ ফেলে জলের দিকে চেয়ে থাকত তখন সুভা তার কাজে সাহায্য করতে চাইত। সে কাজের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে চাইত যে এই পৃথিবীতে সেও একজন প্রয়োজনীয় লোক। কিন্তু সুভা কিছুই করতে পারত না। আর সে কারণেই সে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত- যাতে অলৌকিক ক্ষমতাবলে কোনো একটি কাজ করে সে প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
(গ) উদ্দীপকের মিনু 'সুভা' গল্পের সুভা চরিত্রের প্রতীক। আমাদের সমাজে অনেক মানুষ যারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত। তবে অনেকের মাঝেই পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় অবস্থানগত প্রেক্ষাপটের দিক থেকে। আমাদের সবার উচিত তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা। উদ্দীপকের মিনু সুবিধাবঞ্চিত শিশু। সে কথা বলতে পারে না। শারীরিক এই অক্ষমতা নিয়ে তার আশ্রয় হয় দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে। কথা না বলতে পারলেও সবরকম কাজ সে করতে পারে। 'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে যায় শুধু অবহেলা। বোবা বলে সুভা নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে রাখে। কথা বলতে না পারার কষ্ট সুভা নিজের মাঝে বয়ে বেড়ায়। সবাই যখন সুভার কথা না বলতে পারার দিকটিকে ইঙ্গিত করত, তখন সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ হিসেবে মনে করত। এ কারণেই উদ্দীপকের মিনু 'সুভা' গল্পের সুভা চরিত্রের প্রতীক।
(ঘ) "উদ্দীপকের মিনুর সাথে 'সুভা' গল্পের সুভার সাদৃশ্য থাকলেও সুভার জগৎটি ভিন্ন।" উক্তিটি যথার্থ। সমাজের কিছু মানুষ তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অবহেলার শিকার হন। মানুষের অবহেলার কারণে তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। আমাদের সবার উচিত তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। উদ্দীপকের মিনু বাক্প্রতিবন্ধী শিশু। বাবাকে জন্মের আগেই হারিয়ে মিনুর স্থান হয় দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে। মিনুর বয়স মাত্র দশ বছর হলেও সে সবরকম কাজ করতে পারে। পিসিমার বাড়িতে থাকার কারণে এই কষ্ট তাকে মেনে নিতে হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও কথা বলতে পারে না। ছোট থেকেই নিজের এই অভিশাপকে মেনে নিয়েছে সুভা। সুভার পিতা-মাতার মনেও সর্বদা এই বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা বিরাজমান ছিল। বড় দুটি বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও সুভাকে নিয়ে তার পিতা-মাতার মাঝে কিছুটা নীরব হৃদয়ভার ছিল। অবশ্য বাবা-মার সাথে থেকে সুভা কখনো নিজেকে অসহায় বোধ করেনি। বরং সুভাকে যেন তার বাবা অন্য মেয়েদের চেয়ে একটু বেশি ভালোবাসতেন। কিন্তু সে কথা বলতে পারে না বলে কেউ তার সঙ্গে মিশত না। কথা বলতে না পারার দিক থেকে উদ্দীপকের মিনুর সাথে 'সুভা' গল্পের সুভার সাদৃশ্য থাকলেও সুভার জগৎটি ভিন্ন ছিল। কারণ মিনু বড় হয়েছে পিসিমার আশ্রয়ে। সেখানে তাকে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু 'সুভা' গল্পের সুভা বড় হয়েছে মা-বাবার ভালোবাসায় এক ভিন্ন জগতে। তাই উক্তিটি যথার্থ।
প্রশ্ন-৪ঃ 'সেই ছেলেটি' নাটিকাটিতে একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। একই সাথে প্রকাশ পেয়েছে শিশুর প্রতি বড়দের মমত্ববোধ। আরজু, সোমেন ও সাবু তিন বন্ধু একই স্কুলে একই শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু বিদ্যালয়ে হেঁটে আসতে আরজুর খুব কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে তার পা অবশ হয়ে আসে। বন্ধুদের সাথে সমান তালে চলতে পারে না।
(ক) 'সুভা' গল্পে কোন তিথির কথা উল্লেখ আছে?
(খ) প্রতাপ সুভার মতো সঙ্গী প্রত্যাশা করেছে কেন? ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের সাথে 'সুভা' গল্পের সাদৃশ্য চিহ্নিত কর।
(ঘ) উদ্দীপকের আরজুর কষ্ট আর 'সুভা' গল্পের সুভার কষ্ট এক সুতোয়
গাঁথা- মন্তব্যটি তুমি সমর্থন কর কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।
৪নং প্রশ্নের উত্তর
(ক) 'সুভা' গল্পে শুক্লাদ্বাদশীর তিথির কথা উল্লেখ আছে।
(খ) মাছ ধরার সময় প্রতাপ সুভার মতো সঙ্গী প্রত্যাশা করেছে, কারণ সুভা নিশ্চুপ থাকে। সুভা কথা বলতে পারে না। তার এই নিশ্চুপ বথাকার বিষয়টি প্রতাপের মাছ ধরার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না। তাই প্রতাপ যখন ছিপ ফেলে জলের দিকে চেয়ে থাকত তখন সুভার উপস্থিতিতে বিরক্ত হতো না। কারণ সুভা কথা বলতে না পারায় কোনো শব্দ হয় না। মাছ ধরার সময় প্রতাপ এমনই এক সঙ্গীর প্রত্যাশা করেছে। সে মনে করে মাছ ধরার সময় নিশ্চুপ সঙ্গী সবচেয়ে ভালো।
(গ) উদ্দীপকের সাথে 'সুভা' গল্পের শারীরিক সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি মানুষের সহানুভূতির বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রতি আমাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। তাদের মধ্যে কথা বলতে না পারা, কানে শুনতে না পারা, দৃষ্টিশক্তিহীনতা, হাত-পা বা শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের সমস্যা হতে পারে। আমাদের সেবা ও মানবীয় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা উচিত। উদ্দীপকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশু আরজুর সমস্যা ও মনঃকষ্টের কথা বর্ণনা করা রয়েছে। তার প্রতি বড়দের মমত্ববোধও লক্ষ করা যায়। পায়ে সমস্যা থাকার কারণে অন্য বন্ধুদের সাথে স্কুলে হেঁটে আসতে তার কষ্ট হয়। পা অবশ হয়ে আসায় সবার সাথে সমানতালে চলতে পারে না। তার এ পরিস্থিতিতে সবাই সহানুভূতি ও মমত্ববোধ প্রকাশ করেছে। 'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। তার মা এটাকে নিয়তির দোষ মনে করলেও বাবা তাকে অনেক ভালোবাসেন। কেউ তার সঙ্গে মেশে না, খেলাধুলা করে না, তার সামনেই তার কথা না বলতে পারার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। কেউ পাশে না থাকলেও সুভার বাবা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর সহানুভূতির বিষয়টি উদ্দীপকটিকে 'সুভা' গল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
(ঘ) "উদ্দীপকের আরজুর কষ্ট আর 'সুভা' গল্পের সুভার কষ্ট এক সুতোয় গাঁথা।"- মন্তব্যটি আমি সমর্থন করি। প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোর আমাদের সমাজের মানুষ। তারা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিজেদের গুটিয়ে রাখতে ভালোবাসে। আমাদের সবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। উদ্দীপকের আরজুর পায়ে সমস্যা থাকার জন্য হেঁটে স্কুলে আসতে কষ্ট হয়অ তার অন্য বন্ধুদের সাথে সে সমান তালে চলতে পারে না, পা অবশ হয়ে আসে। এ কারণে আরজু প্রচন্ড কষ্ট পায়। 'সুভা' গল্পের সুভাও কথা বলতে পারে না। এজন্য কেউ তার সাথে মেশে না। সবাই সুভার সামনেই তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা বলে। যার জন্য সে একা একা থেকে নিজের একটি জগৎ তৈরি করে নেয়। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে সুভা মনে মনে অনেক কষ্ট পায়। 'সুভা' গল্পের সুভার মনে কথা না বলতে পারার কষ্ট ছিল। আর উদ্দীপকের আরজুর পায়ের সমস্যার কারণে মনে মনে কষ্ট পেয়েছে। দুজনই এই কষ্ট দূর করার জন্য সবার সহানুভূতি প্রত্যাশা করেছে। সে কারণেই বলা যায়, উদ্দীপকের আরজুর কষ্ট আর 'সুভা' গল্পের সুভার কষ্ট এক সুতোর গাঁথা।

