জীববিজ্ঞান অধ্যায়ঃ ২ জীবকোষ ও টিস্যু-Biology Chapter: 2 Cells and Tissues

Admin
0
(toc)

জীববিজ্ঞান অধ্যায়ঃ ২ জীবকোষ ও টিস্যু-Biology Chapter: 2 Cells and Tissues

অধ্যায়ঃ ২ জীবকোষ ও টিস্যু

এসএসসি ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর 

২.১ জীববকোষ

প্রশ্ন ১। কোষ কাকে বলে?

শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, ঢাকা)

উত্তর: জীবদেহের গঠন ও কাজের একককে কোষ বলে। বিজ্ঞানী লোয়ি এবং সিকেভিজ এর মতে, বৈষম্যভেদ্য পর্দা দ্বারা আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ব্যতিরেকেই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে সক্ষম তাকে কোষ বলে।

প্রশ্ন ২। প্রোটোপ্লাজমকে জীবের ভৌতভিত্তি বলা হয়ে কেন?

[রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল।]

উত্তর: প্রোটোপ্লাজম হলো কোষের জীবন্ত অংশ, যা নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নিয়ে গঠিত। জীবের দেহে সংঘটিত সব জৈবিক কার্যক্রম; যেমন- শ্বসন, খাদ্যগ্রহণ, বর্জ্য নিষ্কাশন, বংশগতি, কোষ বিভাজন ইত্যাদি প্রোটোপ্লাজমেই সংঘটিত হয়। এ কারণেই বিজ্ঞানী হাক্সলি প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌতভিত্তি বলেন।

প্রশ্ন ৩। বহুকোষী জীবের দেহকোষকে প্রকৃত কোষ বলা হয় কেন?

[উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরিশাল।]

উত্তর: বহুকোষী জীবের দেহকোষে যাবতীয় কোষীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকায় এদের প্রকৃত কোষ বলা হয়। এ সকল কোষে কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু ও পূর্ণাঙ্গ নিউক্লিয়াসসহ সকল কোষাগাণু বিদ্যমান থাকে। দোহকোষগুলো স্বতন্ত্রভাবে বিপাকীয় কার্যাবলি সম্পন্ন করতে পারে। তাই বহুকোষী জীবের দেহকোষকে প্রকৃত কোষ বলা হয়।

প্রশ্ন ৪। দেহকোষের সাথে জননকোষের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

[উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরিশাল)

উত্তর: কাজের ভিত্তিতে আলাদা ধরনের দুটি কোষ- দেহকোষ এবং জননকোষের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান। জীবদেহ গঠনে ভূমিকা পালনকারী দেহকোষ মাইটোসিস বিভাজন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দৈহিক বৃদ্ধি ঘটায় এবং জননাঙ্গসহ বিভিন্ন অঙ্গের পূর্ণতা দান করে।

অন্যদিকে, জননাঙ্গে জনন 'মাতৃকোষের মিয়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে। ফলে-জননকোষ উৎপন্ন হয়। যৌন জননের ফলে বিপরীতধর্মী দুটি জননকোষ মিলিত হয় এবং জাইগোট গঠন করে। জাইগোট পরবর্তীতে বিভাজিত হয়ে অসংখ্য দেহকোষের জন্ম দেয়। ফলে জীবদেহ বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্ন ৫। কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষের প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করো।

[গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, ময়মনসিংহ।]

উত্তর: কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই ধরনের, দেহকোষ এবং জননকোষ।

দেহকোষ: বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়।

জননকোষ: যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জননকোষ উৎপন্ন হয়।

প্রশ্ন ৬। দেহকোষ ডিপ্লয়েড কেন? ব্যাখ্যা করো।

[টুনাসিরাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।]

উত্তর: যে সকল কোষের নিউক্লিয়াসে দুইসেট ক্রোমোজোম (2n) থাকে এবং যারা মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যা বৃদ্ধি করে তাকে ডিপ্লয়েড কোষ বলে। দেহকোষ বা Somatic cell এর নিউক্লিয়াসে দুইসেট (2n) ক্রোমোজোম থাকে এবং তারা মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে তাই দেহকোষ ডিপ্লয়েড।।

প্রশ্ন ৭। কোষপ্রাচীরের পিট-এর সংজ্ঞা দাও।

[পাবনা ক্যাডেট কলেজ।] 

উত্তর: কোষপ্রাচীরের পিট হলো উদ্ভিদকোষের পাশের দুটি কোষের মধ্যে তৈরি হওয়া এক ধরনের যোগাযোগের পথ বা গর্ত। এই পিটগুলোর মাধ্যমেই প্লাজমোডেজমাটা নামক সুক্ষ্ম নালীগুলো এক কোষ থেকে অন্য কোষে বিস্তৃত হয়, যার ফলে কোষ দুটির মধ্যে পানি, খনিজ পদার্থ এবং অন্যান্য উপাদান সহজে আদান-প্রদান হতে পারে।

প্রশ্ন ৮। আদিকোষ ও প্রকৃতকোষের মধ্যে পার্থক্য কী? (যশোর জিলা স্কুল) উত্তর: আদিকোষ ও প্রকৃত কোষের মধ্যে পার্থক্য হলো-

আদিকোষ

১. আদিকোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না।

২. নিউক্লিয়াস পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না।

প্রকৃত কোষ

১. প্রকৃত কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।

২. নিউক্লিয়াস নিউক্লিয়ার ঝিল্পি দিয়ে আবৃত।

প্রশ্ন ৯। লোয়ি ও সিকেডিজ প্রদত্ত কোষের সর্বাধুনিক সংজ্ঞা দাও।

[খুলনা জিলা স্কুল।]

উত্তর: লোয়ি এবং সিকেভিজ এর সংজ্ঞা অনুসারে বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ছাড়াই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে, এমন সত্তাকে কোষ বলে। ১৯৬৯ সালে তারা এই সংজ্ঞা দেন।

প্রশ্ন ১০। প্লাজমোডেজমাটা কী? 

সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

উত্তর: পাশাপাশি অবস্থিত কোষগুলো কোষপ্রাচীরের সূক্ষ্ম ছিদ্রের ভিতর দিয়ে প্রোটোপ্লাজমের সুতার মতো অংশ দিয়ে পরস্পর যুক্ত থাকে। এই সুতার মতো অংশকেই প্লাজমোডেজমাটা বলা হয়। এর প্রধান কাজ হলো পাশের কোষের সাথে যোগাযোগ করা এবং পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।

প্রশ্ন ১১। কোষপ্রাচীর গঠনের রাসায়নিক পদার্থগুলোর নাম লেখো।

(চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আন্তঃবিদ্যালয়)

উত্তর: কোষ প্রাচীরের রাসায়নিক গঠন বেশ জটিল। এতে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগানিন, পেকটিন, সুবেরিন নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে। তবে ব‍্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিও ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে এবং ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।

প্রশ্ন ১২। প্রাণিকোষের চিহ্নিত চিত্র আঁক।

(সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, সিলেট।

উত্তর: প্রাণিকোষের চিহ্নিত চিত্র আঁকা হলো-

প্রশ্ন ১৩। ফুলের পাপড়ি রঙিন হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

(মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ)

উত্তর: ফুলের পাপড়িতে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকার কারণে এটি রঙিন হয়। রঙিন কিন্তু সবুজ নয় এমন প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লান্ট বলে। এতে জ্যান্মফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকার কারণে উদ্ভিদের ফুল, পাতা এবং অন্যান্য অংশ রঙিন ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ।

প্রশ্ন ১৪। কোথের পাওয়ার হাউজ এর গঠন সম্পর্কে লেখো।

(ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম।)

উত্তর: মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়া হাউজ বলা হয়। নিচে

মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন বর্ণনা করা হলো-

১. মাইটোকন্ড্রিয়া গোলাকার বা দণ্ডাকার হয়ে থাকে।

২. মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা কিল্পি দিয়ে ঘেরা।

৩. এর ভিতরের জ্বরটি ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে। এদের ক্রিস্টি বলে।

৪. ক্রিস্টির গায়ে বৃত্তযুক্ত গোলাকার বন্ধু থাকে। এদের অক্সিজোম বলে।

৫. অক্সিজোমে উৎসেচকগুলো সাজানো থাকে।

৬. মাইটোকন্ড্রিয়নের (এক বচন) ভিতরে থাকে ম্যাট্রিক্স।

৭. জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ।

৮. শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রের বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতে সম্পন্ন হয়।

৯. মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' বা 'পাওয়ার হাউজ' বলা হয়।

প্রশ্ন ১৫। ক্লোরোফিলের দুটি উপাদানের নাম লেখো।

[সিলেট ক্যাডেট কলেজ।) 

উত্তর: ক্লোরোফিলের দুটি উপাদানের নাম নিচে দেওয়া হলো-

১. কার্বন (Carbon)

২. ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium) 1

প্রশ্ন ১৬। প্লাস্টিডকে কোষের রান্নাঘর বলা হয় কেন?

(বরিশাল ক্যাডেট কলেজ।)

উত্তর: প্লাস্টিডকে কোষের রান্নাঘর বলা হয়। কারণ এটি উদ্ভিদের জন্য খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি এবং সংরক্ষণের স্থান। ক্লোরোপ্লাস্ট নামক বিশেষ ধরনের প্লাস্টিডের মধ্যে ক্লোরোফিল নামক সবুজ রঞ্জক থাকে, যা সূর্যালোকের শক্তি ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে। এখানে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

প্রশ্ন ১৭। কোষকঙ্কাল কী? ব্যাখ্যা করো। 

(রংপুর ক্যাডেট কলেজ)

উত্তর: কোষঝিল্লি অতিক্রম করে কোষের ভিতরে ঢুকলে প্রথমেই কোষের চারদিকে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা যে লম্বা এবং মোটা-চিকন মিলিয়ে অসংখ্য দড়ির মতো বস্তু নজরে পড়ে তাই কোষকঙ্কাল। কোষকঙ্কাল ভিতর থেকে কোষটিকে ধরে রাখে। অ্যাকটিন, মায়োসিন, টিউবিউলিন ইত্যাদি প্রোটিন দিয়ে কোষকঙ্কালের বিভিন্ন ধরনের তত্ত্ব নির্মিত হয়।

প্রশ্ন ১৮। কোষ গহ্বরের কাজ কী?

(ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ।) 

উত্তর: সাইটোপ্লাজমে কোষের মধ্যে যে আপাত ফাঁকা স্থান দেখা যায়, সেগুলোই হচ্ছে কোষগহ্বর। এর প্রধান কাজ কোষরস ধারণ করা। বিভিন্ন ধরনের অজৈব লবণ, আমিষ, শর্করা, চর্বিজাতীয় পদার্থ, জৈব এসিড, রঞ্জক পদার্থ, পানি ইত্যাদি এই কোষরসে থাকে। প্রাণিকোষে কোষগহব্বর সাধারণত অনুপস্থিত থাকে, তবে যদি কখনো থাকে, তবে সেগুলো আকারে ছোট হয়।

প্রশ্ন ১৮। কোষ গহ্বরের কাজ কী?

ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ। উত্তর: সাইটোপ্লাজমে কোষের মধ্যে যে আপাত ফাঁকা স্থান দেখা যায়, সেগুলোই হচ্ছে কোষগহ্বর। এর প্রধান কাজ কোষরস ধারণ করা। বিভিন্ন ধরনের অজৈব লবণ, আমিষ, শর্করা, চর্বিজাতীয় পদার্থ, জৈব এসিড, রঞ্জক পদার্থ, পানি ইত্যাদি এই কোষরসে থাকে। প্রাণিকোষে কোষগহব্বর সাধারণত অনুপস্থিত থাকে, তবে যদি কখনো থাকে, তবে সেগুলো আকারে ছোট হয়।

প্রশ্ন ১৯। ক্রোমোপ্লাস্ট বলতে কী বুঝ? 

(রিাজটিক উত্তরা মডেল কলেজ, চাকা)

উত্তর: ক্রোমোপ্লাস্ট হলো একধরনের প্লাস্টিড, যা বিভিন্ন তন্ত্রের যেমন- জ্যাম্বোফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএপ্রিভিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক ধারণ করে। ফুল, বদ ও পাতার মতো উদ্ভিদের রঙিন অংশগুলোতে ক্রোমোপ্লান্ট পাওয়া যায়। এর প্রধান কাজ হলো পরাগায়নকারী বা প্রাণীকে আকর্ষণ করে পরাগায়নে সাহায্য করা এবং বীজের বিস্তারে সহায়তা করা।

প্রশ্ন ২০। মাইটোকন্ড্রিয়ার চিহ্নিত চিত্র আঁক।

(রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা)

বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, চট্টগ্রা উত্তর: মাইটোকন্ড্রিয়ার চিহ্নিত চিত্র নিচে অঙ্কন করা হলো-

প্রশ্ন ২১। সেন্ট্রোজোম কোষ বিভাজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিনা ব্যাখ্যা করো।

হিলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা

উত্তর: সেট্রোজোম কোষ বিভাজনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেন্ট্রোজোম বিশেষ করে প্রাণীকোষে স্পিন্ডল যন্ত্র গঠন করে। এই স্পিন্ডল তরুগুলো ক্রোমোজোমকে বিপরীত মেরুর দিকে টেনে নিয়ে যায়। ফলে বিভাজনের পর দুটি অপতা কোষে সমান সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। সেন্ট্রোজোমের সেন্ট্রিওলগুলো অ্যাস্টার রশি তৈরি করে, যা কোষ বিভাজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রশ্ন ২২। রাইবোজোমকে প্রোটিন তৈরির কারখানা বলা হয় কেন? 

[আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা: আল-আমিন একাডেমি স্কুল]

এন্ড কলেজ, চাঁদপুর, জামালপুর জিলা স্কুল। উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় ধরনের কোষেই রাইবোজোম পাওয়া যায়। রাইবোজোম হলো ঝিল্লিবিহীন বা পর্দাবিহীন অঙ্গাণু। এটি প্রোটিন ও RNA দ্বারা গঠিত। এর প্রধান কাজ হচ্ছে কোষের ভিতর প্রোটিন তৈরি বা সংশ্লেষণ করা এবং প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন এই রাইবোজোমেই হয়ে থাকে। তাই রাইবোজোমকে প্রোটিন তৈরির ফ্যাক্টরি বলা হয়।

প্রশ্ন ২৩। লাইসোজোমকে কেন কোষের আত্মঘাতী থলিকা বলা হয়?

মিনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা; চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। 

উত্তর: লাইসোজোমকে কোষের আত্মঘাতী থলিকা বলা হয়। কারণ এটি পর্দা দ্বারা পৃথক একটি অঙ্গাণু, যার অভ্যন্তরে অনেক উৎসেচক থাকে। তাই অন্যান্য অঙ্গাণু এর সংস্পর্শে এলেও হজম হয় না। কিন্তু দেহে অক্সিজেনের অভাব হলে লাইসোজোমের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয়। উৎসেচকগুলো বেরিয়ে নিজ কোষকেই মেরে ফেলে। এ কারণে

প্রশ্ন ২৪। ফুল এবং ফল রঙিন হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

[মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা।]

উত্তর: ক্রোমোপ্লাস্টের কারণে ফুল ও ফল রঙিন হয়। এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থোফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে। তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল, আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠে।

প্রশ্ন ২৫। রূপান্তরিত প্লাস্টিড কী? ব্যাখ্যা করো।

গভঃ ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, রাজশাহী।

উত্তর: যেসব প্লাস্টিডের বর্ণের পরিবর্তনের কারণে উদ্ভিদ দেহে বর্ণের পরিবর্তন হয় তাদেরকে রূপান্তরিত প্লাস্টিড বলা হয়। লিউকোপ্লাস্ট এক ধরনের রূপান্তরিত প্লাস্টিড। এরা সাধারণত বর্ণহীন। তবে আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ব্য ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। এজন্যই লিউকোপ্লাস্টকে রূপান্তরিত প্লাস্টিড বলা হয়।

প্রশ্ন ২৬। গাজরের কমলা বর্ণের জন্য দায়ী অঙ্গাণু কোনটি? ব্যাখ্যা করো। 

বগুড়া জিলা স্কুল।

উত্তর: গাজরের কমলা বর্ণের জন্য দায়ী প্রধান অঙ্গাণু হলো ক্রোমোপ্লাস্ট এবং এর মধ্যে থাকা ক্যারোটিন নামক রঞ্জক পদার্থ। ক্রোমোপ্লাস্ট এক ধরনের রঙিন প্লাস্টিড। গাজরের মূলে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিনয়েড রঞ্জক (প্রধানত বিটা-ক্যারোটিন) কারণে এটি কমলা বর্ণ ধারণ করে। থাকার

প্রশ্ন ২৭। ক্রোমোপ্লাস্ট এর কাজ কী?

যিশোর জিলা স্কুল।

উত্তর: রঙিন কিন্তু সবুজ নয় এমন প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলে। ক্রোমোপ্লান্টে বিভিন্ন ধরনের রঞ্জকপদার্থ উপস্থিত থাকার কারণে উদ্ভিদের ফুল, পাতা এবং অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে।

প্রশ্ন ২৮। ক্রোমোপ্লাস্টের বিভিন্ন রং-এর নাম ও কাজ লেখো।

(সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা।)

উত্তর: ক্রোমোপ্লাস্টের বিভিন্ন রংসমূহ হলো-

রং

হলুদ

কমলা

লাল

নীল

রঞ্জক পদার্থ

জ্যাম্বোফিল

ক্যারোটিন

ফাইকোএরিথ্রিন

ফাইকোসায়ানিন

কাজ: উল্লেখিত রংসমূহের মিশ্রণের ফলে ফুল, পাতা ও উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আর্কষণীয় হয়ে ওঠে। ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ।

প্রশ্ন ২৯। গলজি বস্তুর গঠন ও কাজ লেখো।

[সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা। 

উত্তর: গলজি বস্তুর গঠন: গলজি বস্তু প্রধানন্ত প্রাণিকোষে পাওয়া যায়। তবে কিছু কিছু উদ্ভিদকোষেও এদের পাওয়া যায়। এরা সিস্টার্নি ও কয়েক ধরনের ভেসিকল নিয়ে গঠিত।

কাজ: জীবকোষে বিভিন্ন পদার্থ নিঃসরণে সাহায্য করা গলজি বস্তুর মূল কাজ। এছাড়া হরমোন নিঃসরণে এর ভূমিকা রয়েছে। কোনো কোনো বিপাকীয় কাজের সাথে এরা সম্পর্কিত এবং কখনো কখনো এরা প্রোটিন সথায় করে রাখে।

প্রশ্ন ৩০। মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয় কেন?

[সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী: সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়; ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, মোমেনশাহী।

উত্তর: মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গাণু। জীবের শ্বাসকার্যে সাহায্য করা মাইটোকিন্ড্রয়ার প্রধান কাজ। এই অঙ্গাণুতে শ্বসন প্রক্রিয়ার চারটি ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপ গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে না। তবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ অর্থাৎ অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন হয়। এগুলোর মধ্যে শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণকারী সব উৎসেচক এতে উপস্থিত থাকায় এ বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতেই সম্পন্ন হয়। ধাপগুলোর মধ্যে ক্রেবস চক্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস বা শক্তিঘর বলা হয়।

প্রশ্ন ৩১। সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুসমূহের মধ্যে কোনটি অন্যান্য অঙ্গাপুর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এবং কেন? 

বিবিশাল জিলা স্কুল।

উত্তর: সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুসমূহের মধ্যে লাইসোজোম অন্যান্য অক্যাণুর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ হলো, লাইসোজোমের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হাইড্রোলাইটিক এনজাইম থাকে। যখন কোনো কারণে লাইসোজোমের পর্দা ফেটে যায়, তখন এই এনজাইমগুলো কোযের অন্যান্য অঙ্গাণু হজম করে ফেলে, যার ফলে পুরো কোষটিই মারা যায়। এই কারণে লাইসোজোম অন্যান্য অঙ্গাণুর জনা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

প্রশ্ন ৩২। জবা ফুলের পাতা সবুজ হলেও পাপড়ি লাল কেন?

(বরিশাল জিলা স্কুল।

উত্তর: জবা ফুলের পাতা সবুজ হওয়ার কারণ হলো পাতায় ক্লোরোপ্লাস্ট নামক কোষীয় অঙ্গাণুতে ক্লোরোফিল নামক সবুজ রঞ্জক থাকে। ক্লোরোফিল সালোকসংশ্লেষণ, প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।

অন্যদিকে, জবা ফুলের পাপড়ি লাল হওয়ার কারণ হলো পাপড়ির কোষে ক্রোমোপ্লাস্ট নামক রঞ্জক থাকে, যার মধ্যে প্রধানত ফাইকোএরিথ্রিন নামক লাল রঞ্জক থাকে। এই রঞ্জকের উপস্থিতির কারণেই পাপড়ি লাল দেখায়।

প্রশ্ন ৩৩। জবা ফুলের পাপড়ি এবং বৃতি এ দুটো ভিন্ন রঙের হওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।

[ডাঃ খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। 

উত্তর: জবা ফুলের পাপড়ি এবং বৃতি এ দুটো ভিন্ন রঙের হওয়ার কারণ হলো প্লাস্টিডের ভিন্নতা। প্লাস্টিড উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করে। প্লাস্টিড তিন ধরনের-ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ রঙের প্লাস্টিড এবং ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন প্লাস্টিড। জবা ফুলের পাপড়িতে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে তাই এটি রঙিন দেখায়। অপরদিকে জবা ফুলের বৃতি ক্লোরোপ্লাস্ট সমৃদ্ধ তাই এটি সবুজ দেখায়।

প্রশ্ন ৩৪। ক্রোমোজোমের চিত্র অঙ্কন করো। 

ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ!

উত্তর: ক্রোমোজোমের চিত্র নিচের অঙ্কন করা হলো-

প্রশ্ন ৩৫। প্রাণিকোষের জন্য সেন্ট্রোজোম গুরুত্বপূর্ণ কেন?

[পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর)

উত্তর: সেন্ট্রোজোম প্রাণিকোষের কোষ বিভাজনে স্পিন্ডল তন্তু গঠন এবং সিলিয়া ও ফ্লাজেলা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাণিকোষে সেন্ট্রোজোম মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ ধাপে অ্যাস্টার রশ্মি এবং স্পিন্ডল তত্ত্ব গঠন করে। এছাড়াও এটি সিলিয়া ও ফ্লাজেলা সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করে। তাই প্রাণিকোষের জন্য সেস্ট্রোজোম গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন ৩৬। কোষের সেন্টোজোমের কাজ লেখো।

খুিলনা জিলা স্কুল।

উত্তর: কোষের সেট্রোজোমের কাজ হলো-

১. কোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্টার-রে তৈরি করা।

২. কোষ বিভাজনে স্পিন্ডল যন্ত্র সৃষ্টি করা।

৩. ফ্লাজেলা সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করা।

প্রশ্ন ৩৭। নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণকেন্দ্র বলা হয় কেন?

বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

উত্তর: নিউক্লিয়াস কোষের যাবতীয় কার্যাবলি যেমন, কোষের গঠনগত ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের নিয়ন্ত্রণ, RNA ও রাইবোজোম গঠন, প্রোটিন সংশ্লেষণ, বংশগতির স্থানান্তর, বংশগতির বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক ক্রোমোজোম ধারণ, কোষ বিভাজনে অংশ গ্রহণ সবই নিয়ন্ত্রণ করে। তাই জীবকোষের সার্বিক কার্যসম্পাদনে জড়িত বলে নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণকেন্দ্র বা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলে।

2.3.1 উদ্ভিদ টিস্যু

প্রশ্ন ৩৮। সিভকোষ কী? ব্যাখ্যা করো।

[রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ।

উত্তর: সিভকোষ হলো দীর্ঘ, পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত এবং জীবিত বিশেষ ধরনের কোষ। এ কোষগুলো লম্বালম্বিভাবে একটির উপর একটি সজ্জিত হয়ে সিভনল গঠন করে। এ কোষগুলো চালুনির মতো ছিদ্রযুক্ত সিভপ্লেট দিয়ে পরস্পর থেকে আলাদা থাকে। সিভকোষে প্রোটোপ্লাজম প্রাচীর ঘেঁষে থাকে বলে একটি কেন্দ্রীয় ফাঁপা জায়গার সৃষ্টি হয়, যেটা খাদ্য পরিবহনের নল হিসেবে কাজ করে। পরিণত সিভকোষে কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না।

প্রশ্ন ৩৯। স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যুর বৈশিষ্ট্য লেখো।

(রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা।

উত্তর: ক্লেরেনকাইমা টিস্যুর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-

১. ফ্লেরেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো শক্ত, অনেক লম্বা এবং পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট।

২. কোষগুলো প্রোটোপ্লাজমবিহীন এবং লিগনিনযুক্ত।

৩. প্রাথমিক অবস্থায় কোষগুলোতে প্রোটোপ্লাজম উপস্থিত থাকলেও খুব তাড়াতাড়ি তা নষ্ট হয়ে মৃত কোষে পরিণত হয়। ৪. কোষগুলো প্রধানত দুই ধরনের, ফাইবার এবং চেরাইড।

প্রশ্ন ৪০। প্যারেনকাইমা টিস্যুর বৈশিষ্ট্য লেখো।

(ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ; সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, সিলেট)

উত্তর: প্যারেনকাইমা টিস্যুর বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-

১. প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা

প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ।

২. এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায় এবং কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দিয়ে তৈরি।

প্রশ্ন ৪১। জাইলেমকে জটিল টিস্যু বলা হয় কেন?

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম; বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা।

উত্তর: বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। জাইলেম এক ধরনের জটিল টিস্যু কেননা বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্থায়ী টিস্যু। এর ভিন্ন ধরনের কোষগুলো হলো ট্রাকিড, ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা এবং জাইলেম ফাইবার। জাইলেমের এই চারটি ভিন্ন ধরনের টিস্যু একত্রিত হয়ে একটি সাধারণ কাজ করে তা হলো মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ সংগ্রহ করে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দেয়।

প্রশ্ন ৪২। প্যারেনকাইমাকে সরল টিস্যু বলা হয় কেন?

(মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা।

উত্তর: যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন তাকে সরল টিস্যু বলে। প্যারেনকাইমা টিস্যুকে সরল টিস্যু বলা হয়। কারণ প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রতিটি কোষের আকার, আকৃতি ও গঠন একই রকম। উদ্ভিদদেহের সব অংশে এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ। এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে। এসব কারণেই প্যারেনকাইমাকে সরল টিস্যু বলা হয়।

প্রশ্ন ৪৩। সোনালী আঁশ সৃষ্টিকারী টিস্যু সম্পর্কে লেখো।

(নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস, নরসিংদী। 

উত্তর: পাট তন্তু বা সোনালী আঁশ মূলত এক ধরনের বাস্ট ফাইবার বা ফ্লোয়েম তত্ত্ব। এটি উদ্ভিদের ফ্লোয়েম টিস্যুর অংশ। এই টিস্যুগুলো দীর্ঘ সরু এবং এদের প্রাচীর লিগনিনযুক্ত হওয়ায় বেশ শস্ত হয়। পরিণত অবস্থায় এই কোষগুলোতে প্রোটোপ্লাজম থাকে না, অর্থাৎ এগুলো মৃত কোষ। এই টিস্যুগুলো উদ্ভিদের কান্ডে যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে এবং উদ্ভিদের কাঠামো ধরে রাখতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন ৪৪। স্টোন সেল কী?

[কুষ্টিয়া জিলা স্কুল।

উত্তর: ফ্লেরেনকাইমা টিস্যুর ক্লেরাইড কোষই হলো স্টোন সেল। এর খাটো, সমব্যাসীয়, কখনও লম্বাটে আবার কখনও তারকাকার হতে পরিণত স্টোন সেল সাধারণত মৃত থাকে। পারে। এদের গৌণপ্রাচীর খুবই শক্ত, অত্যন্ত পুরু ও লিগনিনযুক্ত।

প্রশ্ন ৪৫। পরিবহণ টিস্যুকে জটিল টিস্যু বলা হয় কেন?

[কুমিল্লা জিলা স্কুল; ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। 

উত্তর: পরিবহণ টিস্যুকে জটিল টিস্যু বলা হয় কারণ, এটি একাধিক ধরনের কোষ নিয়ে গঠিত। জাইলেম ও ফ্লোয়েম এই দুটি প্রধান পরিবহণ টিস্যু বিভিন্ন কোষ দ্বারা গঠিত হয়। এই কোষগুলো একসাথে পানি, খনিজ ও খাদ্য পরিবহণে কাজ করে। তাদের গঠন ও কাজ সরল টিস্যুর তুলনায় জটিল হওয়ায় পরিবহণ টিস্যুকে জটিল টিস্যু বলা হয়।

প্রশ্ন ৪৬। জাইলেমকে পরিবহণ টিস্যু বলা হয় কেন?

চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

উত্তর: জাইলেমকে পরিবহণ টিস্যু বলা হয়। কারণ জাইলেম টিস্যুস্থ ভেসেল মূল হতে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত অন্যান্য খনিজ লবণ গাছের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহণ করে থাকে। জাইলেম টিস্যুস্থ ট্রাকিড উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা ছাড়াও মূল হতে কান্ড ও পাতায় পানি ও খনিজ লবণ পরিবহণ করে থাকে। জাইলেম টিস্যুস্থ প্যারেনকাইমা প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সঞ্চয় ও খাদ্য পরিবহণ করে থাকে।

প্রশ্ন ৪৭। কচুরিপানা পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করো।

(চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

প্যারেনকাইমা থাকে, যাদেরকে অ্যারেনকাইমা বলা হয়। এই উত্তর: কচুরিপানা জলজ উদ্ভিদ। এদের বড়ো বড়ো বায়ুকুঠুরিযুক্ত বায়ুকুঠুরিগুলো জলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে। তাই কচুরিপানা পানিতে ভেসে থাকে।

প্রশ্ন ৪৮। ফ্লোয়েম ফাইবারের কাজ বর্ণনা করো।

[বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

উত্তর: ফ্লোয়েম ফাইবারের প্রধান কাজ হলো উদ্ভিদকে যান্ত্রিক শক্তি এবং দৃঢ়তা প্রদান করা। ফ্লোয়েম ফাইবার মৃত কোষ দিয়ে গঠিত এবং অংশকে মজবুত করে এবং ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এদের পুরু কোষপ্রাচীর থাকে, যা উদ্ভিদের কান্ড, পাতা এবং অন্যানা

প্রশ্ন ৪৯। সরল টিস্যু কাকে বলে? সরল টিস্যু কত প্রকার ও কী কী?

দিনাজপুর জিলা স্কুল।

উত্তর: যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের আকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা দিক থেকে অভিন্ন অর্থাৎ একই রকম তাকে সরল টিস্যু বলে। কোষের হয়েছে। যথা- ১. প্যারেনকাইমা ২. শ্লেরেনকাইমা এবং ৩. কোলেনকাইমা।

প্রশ্ন ৫০। কেন আবরণী টিস্যুতে মাতৃকা থাকে না?

[ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। 

উত্তর: যে সকল টিস্যু দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা গহ্বরকে আবৃত করে রাখে, তাদের আবরণী টিস্যু বলে। এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় মাতৃকা প্রায় থাকেই না, কারণ-

১. আবরণী টিস্যুর কোষগুলো একটি ভিত্তিপর্দার উপরে ঘনসন্নিবিষ্টভাবে বা খুব কাছাকাছি সজ্জিত থাকে। কোষগুলোর মধ্যে কোনো ফাঁকা স্থান থাকে না বা থাকলেও তা এত সামান্য যে আন্তঃকোষীয় মাতৃকার প্রয়োজন হয় না।

২. এই টিস্যুর প্রধান কাজ হলো রক্ষণাবেক্ষণ, শোষণ এবং ক্ষরণ। যদি এখানে মাতৃকা থাকত, তবে অঙ্গাণুগুলোর পরিবহণ ও শোষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারত।

প্রশ্ন ৫১। আবরণী টিস্যুর কাজগুলো লেখো।। 

ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। 

উত্তর: আবরণী টিস্যু মানবদেহের একটি মৌলিক টিস্যু এবং এর প্রধান কাজগুলো হলো-

অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা, প্রোটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা, বিভিন্ন পদার্থ শোষণ করা এবং কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহণ করা।


Tags

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!