
সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নোত্তর
এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থীদের জন্য জীববিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় জীবন পাঠ এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও সমাধান দেওয়া হলো।
এ অংশে ক্যাডেট কলেজ এবং শীর্ষস্থানীয় স্কুলসমূহের নির্বাচনী পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নোত্তর টপিকের ধারায় সংযোজন করা হয়েছে। টেস্ট পেপারস বইয়ের প্রশ্নপত্রের প্রশ্নের সাথে এ বইয়ের উত্তর মিলিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে প্রশ্নের পাশে স্কুলের নাম দেওয়া আছে।
ক্যাডেট কলেজ ও শীর্ষস্থানীয় স্কুলের প্রশ্নপত্রের উত্তরমালা
প্রশ্ন ১। অকাসংস্থান (Morphology) বলতে কী বুঝ?
[সিলেট ক্যাডেট কলেজ; আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা।]
উত্তর: অঙ্গসংস্থান (Morphology) হলো ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক বর্ণনা করা হয়। অঙ্গসংস্থান দুই প্রকার হতে পারে। যথা- বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও অন্তঃঅঙ্গসংস্থান। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃঅঙ্গসংস্থান এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান বলা হয়।
প্রশ্ন ২। জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে কেন জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখায় আলোচনা করা হয়?
[বগুড়া জিলা স্কুল।]
উত্তর: জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখায় জীবের বংশগতি ধারা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। কারণ এটি বংশগতির মূলনীতি, জিনের গঠন ও কার্যকারিতা এবং জীবের বৈশিষ্ট্যের বংশানুক্রমিক সঞ্চারণের ভৌত ও রাসায়নিক ভিত্তি নিয়ে কাজ করে।
প্রশ্ন ৩। কোষবিদ্যা জীববিজ্ঞানের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা
[ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।]
উত্তর: কোষবিদ্যা জীববিজ্ঞানের ভৌত জীববিজ্ঞান শাখার অন্তর্ভুক্ত। কোষবিদ্যা শাখায় জীবদেহের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় তত্ত্বীয় বিষয়সমূহ আলোচনা করা হয়। ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় রলেই কোষবিদ্যা জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখার অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন ৪। শারীরবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয় কেন?
["সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, নীলফামারী।]
উত্তর: জীববিজ্ঞানের যে শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাকে ভৌত জীববিজ্ঞান বলে। শারীরবিদ্যা শাখায় জীবদেহের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি যেমন শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায় এ কারণেই শারীরবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
1.2.2 ফলিত জীববিজ্ঞান
প্রশ্ন ৫। জীববিজ্ঞান একটি বিশাল জ্ঞানের ভান্ডার। অধ্যয়নের সুবিধার জন্য জীববিজ্ঞানীগণ জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করেছেন। জীববিজ্ঞানের শাখাগুলোর গুরুত্ব বর্ণনা করো।
[রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ]
উত্তর: জীববিজ্ঞান মূলত ভৌত জীববিজ্ঞান এবং ফলিত জীববিজ্ঞান এই দুই ভাগে বিভক্ত। ভৌত জীববিজ্ঞান জীবের গঠন, শারীরবিদ্যা, জেনেটিক্স ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করে এবং চিকিৎসা, কৃষি ও অন্যান্য ফলিত শাখার ভিত্তি তৈরি করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, মৎস্যবিজ্ঞান, জিনপ্রযুক্তি প্রভৃতি ফলিত জীববিজ্ঞান এর শাখা। এই শাখাগুলো মানুষের স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ৬। কেন জীবাশ্মবিজ্ঞান একটি ফলিত শাখা?
(ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ)
উত্তর: জীবাশ্মবিজ্ঞান হলো ফলিত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় প্রাচীন যুগের জীবের বিবরণ এবং জীবাশ্ম (ফসিল) সম্পর্কে প্রায়োগিক বিষয় আলোচনা করা হয়। এ শাখা পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং জীববৈচিত্র্যের বিবর্তন বুঝার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জীবাশ্মবিজ্ঞানকে ফলিত শাখায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
প্রশ্ন ৭। ভৌত ও ফলিত জীববিজ্ঞানের পার্থক্য কী?
[ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ]
উত্তর: ভৌত জীববিজ্ঞান ও ফলিত জীববিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য হলো-ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। যেমন- জীবদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি (যেমন-শ্বসন, রেচন ইত্যাদি), জিন ও জীবের বংশগতির ধারা, পৃথিবীতে জীবের বিকাশ, জীবের বিবর্তন ও ক্রমবিকাশ এ শাখায় আলোচনা করা হয়। অন্যদিকে, ফলিত জীববিজ্ঞান শাখায় সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। যেমন- জীবদেহের রোগ, চিকিৎসা ইত্যাদি, জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার, মানব ও পরিবেশের কল্যাণে জীব ব্যবহারের প্রযুক্তি ইত্যাদি এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
প্রশ্ন ৮। Parasitology কে কেন ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
[মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা।]
উত্তর: Parasitology (পরজীবীবিদ্যা) হলো ফলিত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় পরজীবিতা, পরজীবী জীবের জীবনপ্রণালি এবং রোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরজীবীবিদ্যা পরজীবীদের গঠন, জীবনচক্র, পোষকদেহের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং রোগ সৃষ্টি প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে। যেহেতু পরজীবীবিদ্যায় তত্ত্বীয় বিষয় আলোচনা না করে পরজীবী সম্পর্কিত প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আলোচনা করা হয়, তাই Parasitology (পরজীবীবিদ্যা) কে
প্রশ্ন ৯। কীটতত্ত্বকে ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কেন?
[রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; রংপুর জিলা স্কুল।]
উত্তর: জীববিজ্ঞানের কীটতত্ত্ব শাখায় কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়-ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। যেহেতু কীটতত্ত্বে তত্ত্বীয় বিষয় আলোচনা না করে কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত প্রায়োগিক বিষয় আলোচনা করা হয়, সেহেতু কীটতত্ত্বকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
1.3 জীবের শ্রেণিবিন্যাস
প্রশ্ন ১০। 'মারগুলিস, হুইটেকারের শ্রেণিবিন্যাসের একটি পরিবর্তিত রূপ প্রবর্তন করেন' ব্যাখ্যা করো।
[রিংপুর ক্যাডেট কলেজ)
উত্তর: কোষের ডিএনএ ও আরএনএ এর প্রকারভেদ, জীবদেহে কোষের বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাসের তথ্য উপাত্ত ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে করেন। এগুলো হলো- মনেরা, প্রোটিস্টা, ফানজাই, প্লাস্টি, এবং আর এইচ হুইটেকার ১৯৬৯ সালে জীবজগতকে ৫টি রাজ্যে ভাগ অ্যানিমেলিয়া। পরবর্তীতে, মারগুলিস ১৯৭৪ সালে আর.এইচ মুইটেকারের প্রবর্তিত পররাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের একটি পরিবর্তিত ও বিস্তারিত রূপ প্রবর্তন করে। যেখানে তিনি পাঁচটি রাজ্যকে আরও দুটি বৃহৎ ভাগে বা সুপার কিংডম-এর আওতায় নিয়ে আসেন। এগুলো হলো- প্রোক্যারিওটা ও ইউক্যারিওটা।
প্রশ্ন ১১। শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্যসমূহ ব্যাখ্যা করো।
[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিছিল, ঢাকা।]
উত্তর: জীবজগতকে সহজে জানা, চেনা এবং সুশৃঙ্খলভাবে সাজানোর জন্য শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো অসংখ্য জীবকে অল্প সময়ে শনাক্ত করা এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিবর্তন ধারা নির্ণয় করা।
প্রশ্ন ১২। ফানজাই এর খাদ্য গ্রহণ পদ্ধতি কী ধরনের ব্যাখ্যা করো।
[হলি ক্লাস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা।]
উত্তর: ফানজাই বা ছত্রাক শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। কারণ তাদের ক্লোরোফিল না থাকায় নিজেদের খাবার তৈরি করতে পারে না। এজন্য ফানজাই রাজোর জীব হেটারোট্রোফিক (পরভোজী) এবং মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে পুষ্টি শোষণ করে। ফানজাই হজমকারী এনজাইম নিঃসরণ করে জটিল জৈব পদার্থকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে এবং তারপর তা শোষণ করে।
প্রশ্ন ১৩। Nostoc মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত কেন? মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা।
উত্তর: Nostoc (নীলাভ সবুজ শৈবাল) মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল। এদের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই। কিন্তু রাইবোজোম আছে। কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে Nostoc কে মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৪। ইস্টকে ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কেন?
[উিত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা।]
উত্তর: ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্য হলো-
1. এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।
ii. কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
iii. খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।
iv. হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিযে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
উল্লেখিত বৈশিষ্ট্য ইন্টের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তাই ইন্টকে ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৫। শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য কী? শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, ঢাকা। উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য হলো-
১. বিপুল সংখ্যক প্রজাতিকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে তাদের বৈশিষ্ট্য ও গঠন সহজে বোঝা।
২. জীবের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য খুঁজে বের করে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা।
৩. জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নতুন প্রজাতি শনাক্ত ও সংরক্ষণের জন্য একটি কাঠামো প্রদান করা।
প্রশ্ন ১৬। বাস্তব জীবনে শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তাগুলো লেখো।
উত্তর: বাস্তব জীবনে শ্রেণিবিন্যাস আমাদের অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পর্কে সহজে, অল্প পরিশ্রমে ও অল্প সময়ে জানতে সাহায্য করে। এদের পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝতে, বিবর্তনের ধারা নির্ণয় করতে এবং নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ১৭। Nostoc কে আদিকোষী বলা হয় কেন?
উত্তর: Nostoc মনেরা রাজ্যের জীব। মনেরা রাজ্যের জীবকোষে গভঃ ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, রাজশাহী। ক্রোমাটিন বস্তু থাকে, কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে থাকে। ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। তাই Nostoc কে আদিকোষী বলা হয়।
প্রশ্ন ১৮। ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কেন?
বিগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেয়া
উত্তর: সুইডিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম পৃথিবীর সকল জীবের দ্বিপদ নাম তথা বৈজ্ঞানিক নামকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং বৈজ্ঞানিক নামকরণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। এছাড়াও তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জীবের বৈজ্ঞানিক নাম প্রণয়ন করেন। তাই ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক বলা হয়।
প্রশ্ন ১৯। অ্যানাইসোগ্যামাস কী? সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, গুলী, গাজীপুর, কুষ্টিয়া জিলা স্কুল।
উত্তর: যে যৌন জনন প্রক্রিয়া আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য বিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাই অ্যানাইসোগ্যামাস। এই প্রক্রিয়াটি প্রজননে বৈচিত্র্য আনতে এবং জীবের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যেমন- শৈবাল (ইউলোথ্রিক্স), ছত্রাক ইত্যাদিতে অ্যানাইসোগ্যামাস ধরনের যৌন জনন দেখা যায়।
প্রশ্ন ২০। হেটারোট্রোফিক বলতে কী বুঝ?
[সৈরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।]
উত্তর: যেসব জীব নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না অর্থাৎ ক্লোরোফিল না থাকার কারণে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না এবং খাদ্যের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল তাদেরকে হেটারোট্রফিক বা পরভোজী বলা হয়। যেমন-প্রাণী, ছত্রাক, কিছু প্রোটিস্টা, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি।
প্রশ্ন ২১। মানুষকে হেটারোট্রোফিক বলা হয় কেন?
[নাসিরাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম; ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রংপুর: বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।]
উত্তর: যেসব উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে সেসব উদ্ভিদই হলো অটোট্রোফিক অর্থাৎ স্বভোজী। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য ক্লোরোফিল অত্যাবশ্যক। মানুষের দেহে ক্লোরোফিল নেই তাই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। এ কারণে মানুষকে হেটারোট্রোফিক বা পরভোজী বলা হয়।
প্রশ্ন ২২। জীবের শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন কেন?
[সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।]
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে একটি জীবের গঠন, জনন, বাসস্থান, খাদ্য গ্রহণ, উৎপত্তি, বিবর্তন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া একই ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি জীবের মাধ্যমে ঐ প্রজাতির অসংখ্য জীব সম্পর্কে প্রায় পরিপূর্ণ সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়। ফলে জীবজগতে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে সহজে ও অনায়াসে জানা যায়। তাই জীবের জন্য শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজন।
প্রশ্ন ২৩। মনেরা রাজ্যের ২টি বৈশিষ্ট্য লেখো।
ব্লু বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট।
উত্তর: মনেরা রাজ্যের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল ও মাইসেলিয়াল। ২. এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে।
৩. কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
২৪। জীবজগতকে মারগুলিস নামক একজন বিজ্ঞানী দুটি সুপার কিংডমে বিন্যাস করেন। এই কিংডমের অন্তর্ভুক্ত জীবদের মধ্যে দুটি সুপার কিংডমে বিন্যাস করেন। এই কিংডমের অন্তর্ভুক্ত জীবদের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। [বরিশাল জিলা স্কুল]
উত্তর: বিজ্ঞানী মারগুলিস জীবজগতকে দুটি সুপার কিংডম-এ ভাগ করেন। যথা- সুপার কিংডম-১-প্রোক্যারিওটা এবং সুপার কিংডম ২- ইউক্যারিওটা। এই দুটি সুপার ডিংডমের অন্তর্ভুক্ত জীবদের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
সুপার কিংডম ১ প্রোক্যারিওটা
১. প্রোক্যারিওটা সুপার কিংডম এর জীবদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না, অর্থাৎ নিউক্লিয় পর্দা অনুপস্থিত।
২. প্রোক্যারিওটা কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে না শুধুমাত্র রাইবোজোম থাকে।
সুপার কিংডম-২ ইউক্যারিওটা
১. ইউক্যারিওটা সুপার কিংডমের জীবদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে অর্থাৎ নিউক্লিয় পর্দা উপস্থিত।
২. ইউক্যারিওটা কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
প্রশ্ন ২৫। আর এইচ, হুইটেকারের জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাসকে টমাস কেতলিয়ার স্মিথ কীভাবে পূর্ণবিন্যাস করেন ব্যাখ্যা করো।
(বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
উত্তর: টমাস কেতলিয়ার-স্মিথ ভুইটেকারের পাঁচ রাজ্যের শ্রেণিবিন্যাসকে ছয়টি রাজ্যে পূণর্বিন্যাস করেন। তিনি জীবজগতের প্রোটিন্টাকে প্রোটোজোয়া এবং ক্রোমিস্টা নামে দুটি ভাগে ভাগ কয়েন এবং মনেরাকে ব্যাকটেরিয়া রাজা হিসেবে পুনঃনামকরণ করেন। এভাবে তিনি জীবজগতকে মোট ছয়টি রাজ্যে ভাগ করেন।
প্রশ্ন ২৬। কেভলিয়ার-স্মিথ প্রদত্ত জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাস লেখো।
পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যানয়।
উত্তর: টমাস কেভলিয়ার-স্মিথ জীবজগতকে মোট ছয়টি রাজ্যে ভাগ করেন। যথা। ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া, iii. ক্রোমিণ্টা, iv. ফানজাই, v. প্লানটি, vi. অ্যানিমেলিয়া।
প্রশ্ন ২৭। প্রোটিন্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য লেখো ।(ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়)
উত্তর: প্রোটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা এককোষী বা বহুকোষী একক বা কলোনিয়াল বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট।
২. কোষে ক্রোমাটিন বন্ধু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে।
৩. কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে।
৪. খাদ্যগ্রহণ শোষণ, গ্রহণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে।
৫. কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় না।
প্রশ্ন ২৮। "Species Plantarum" বইটি জীববিজ্ঞানের জন্য এত
গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরিশাল।
উত্তর: Species Plantaram হলো ক্যারোলাস লিনিয়াসের লেখা বই। বইটি জীববিজ্ঞানের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ কেননা এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। এ গ্রন্থে প্রথম জীবের শ্রেণি, বর্ণ, গণ ও প্রজাতি ধাপগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়।
প্রশ্ন ২৯। শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্যগুলো কী কী? (দিনাজপুর জিলা স্কুল)
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য হলো-
১. প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করা।
২. জীবজগতের ভিন্নতার দিকে আলোকপাত করে আহরিত জানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা।
৩. পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা।
৪. সর্বোপরি জীবজগৎ এবং মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবগুলোকে শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণে সচেতন হওয়া।
প্রশ্ন ৩০। ফিলামেন্টাস বডি কী? বুঝিয়ে লেখো।
[পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর।
উত্তর: ফিলামেন্টাস বডি বলতে এমন দেহ গঠনকে বুঝায় যেখানে দেহটি সুতার মতো লম্বা ও শাখাবিশিষ্ট তনুর আকারে থাকে।
ফিলামেন্টাস বডি সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহ লম্বা ও সূক্ষ্ম তত্ত্বর মতো হয়। কোষগুলো পরস্পর সারিবদ্ধভাবে যুক্ত থাকে। সাধারণত অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, এককোষী ও বহুকোষী শৈবালে ফিলামেন্টাস বডি দেখা যায়।
প্রশ্ন ৩১। শ্রেণিবিন্যাসের সাতটি প্রধান ধাপের নাম লেখো।
(মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ)। উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের সাতটি প্রধান ধাপের নাম হচ্ছে-
রাজ্য (Kingdom)
পর্ব (Phylum)/বিভাগ (Division)
শ্রেণি (Class)
বর্গ (Order)
গোত্র (Family)
গুণ (Genus)
প্রজাতি (Species)
প্রশ্ন ৩২। হায়ারার্কি বলতে কী বুঝ?
[কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ) উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসে হায়ারার্কি হলো জীবজগতকে বড়ো দল থেকে ছোটো দলে ক্রমানুসারে সাজানোর পদ্ধতি। এই ধাপগুলো হলো- রাজা, পর্ব/বিভাগ, শ্রেণি, বর্ণ, গোত্র, গণ ও প্রজাতি। জীবদের সঠিকভাবে শনাক্ত ও বিন্যস্ত করতে এই ধারাবাহিক স্তরগুলো ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৩৩। মানুষ Primate বর্ণের অন্তর্ভুক্ত কেন?
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা;
গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ধানমণ্ডি, ঢাকা; ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। উত্তর: Primate বর্গের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এদের আঁকড়ে ধরার উপযোগী হাত এবং ঘ্রাণ অপেক্ষা দৃষ্টি শক্তি বেশি উন্নত হয়। আর এ বৈশিষ্ট্যগুলো মানুষের মধ্যে বিদ্যমান থাকার কারণেই মানুষ Primate বর্গের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন ৩৪। মানুষকে sapiens প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কেন?
[কুমিল্লা জিলা স্কুল; আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ, চাঁদপুর)
উত্তর: মানুষকে spraises প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো-মানুষের কপাল চওড়া এবং খাড়া, খুলির হাড় Homo পণের অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত। উল্লেখিত কারণে মানুষকে sapiens প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩৫। গণ ও প্রজাতির মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। (কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল। উত্তর: গণ ও প্রজাতির মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
গণ
১. গণ হলো দ্বিপদ নামের প্রথম ১. অংশ।
২. গণ অংশের প্রথম অক্ষর বড় হাতের অক্ষর হয়,
প্রজাতি
১. প্রজাতি হলো দ্বিপদ নামের দ্বিতীয় অংশ।
২. প্রজাতি অংশের নাম ছোট হাতের অক্ষর দিয়ে লিখতে হয়।
প্রশ্ন ৩৬। নেস্টেড হায়ারার্কি অনুযায়ী শিম্পাঞ্জি কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত
প্রাণী? ব্যাখ্যা করো। (ডাঃ খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম) উত্তর: একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে সাতটি ধাপ আছে। এই ধাপগুলোর উপরের ধাপ যেন বড়ো একটা সেট এবং তার নিচের ধাপ হলো তার উপসেট। শ্রেণিবিন্যাসের এই পদ্ধতিকে বলে নেস্টেড হায়ারার্কি। নেস্টেড হায়ারার্কি অনুযায়ী Mammalia শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত প্রাণী। কারণ এদের দেহে লোম/চুল আছে এবং এরা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ায়।
প্রশ্ন ৩৭। নেস্টেড হায়ারার্কি বলতে কী বুঝ?
(রংপুর জিলা স্কুল)
উত্তর: একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে সাতটি ধাপ আছে। এই ধাপগুলোর উপরের ধাপ যেন বড় একটা সেট এবং তার নিচের ধাপ হলো তার উপসেট। যেমন- রাজ্যের উপসেট পর্ব, পর্বের উপসেট শ্রেণি, শ্রেণির উপসেট বর্গ ইত্যাদি। শ্রেণিবিন্যাসের এই পদ্ধতিকে বলে নেস্টেড হায়ারার্কি।
প্রশ্ন ৩৯। মানুষের গণ ও প্রজাতিতাত্ত্বিক অবস্থান ব্যাখ্যা করো। ক্যাস্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, মোমেনশাহী।
উত্তর: মানুষের গণ ও প্রজাতিতাত্ত্বিক অবস্থান নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: গণ (Genus); Homo কারণ, দেহের অনুপাতে মস্তিষ্ক সবচেয়ে বড়ো এবং খাড়াভাবে দুই পায়ে হাঁটতে পারে।
প্রজাতি (species): Homo sapiens; কারণ, চওড়া এবং খাড়া কপাল, খুলির হাড় Homo গণের অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত।
1.5 দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি
প্রশ্ন ৪০। দ্বিপদ নামকরণ কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
(জয়পুরহাট পার্লন ক্যাডেট কলেজ, সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা; ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যানয়।]
উত্তর: জীবের নামকরণের আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী গণ ও প্রজাতি নামের দুটি পদ ব্যবহার করে জীবের যে নামকরণ হয় তাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। এভাবে সৃষ্ট নামকে জীবের বৈজ্ঞানিক নামও বলে। দ্বিপদ নামকরণ পুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পৃথিবীর যেকোনো স্থানে একই জীবকে একই বৈজ্ঞানিক নামে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। ফলে স্থানীয় নামের বিভ্রান্তি দূর হয় এবং জীবের সঠিক পরিচয় ও শ্রেণীবিন্যাস স্পষ্টভাবে বুঝা যায়।
লেখো। প্রশ্ন ৪১। ধান, আম, ইলিশ মাছ এবং তেলাপোকার বৈজ্ঞানিক নাম [ফিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ।
উত্তর: ধান, আম, ইলিশ মাছ এবং তেলাপোকার বৈজ্ঞানিক নাম
লেখা হলে-
ধান: Oryza sativa
আম: Mangifera indica
ইলিশ মাছ: Tenualosa lisha
তেলাপোকা: Periplaneta americana
প্রশ্ন ৪২। দ্বিপদ নামকরণের ৪টি নিয়ম লেখো।
(রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা;
সরকারি উত্তর: দ্বিপদ নামকরণের চারটি নিয়ম নিচে উল্লেখ করা হলো-
প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী।
১. নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
২. নামের দুটি অংশ থাকবে। প্রথমটি গণ নাম ও দ্বিতীয়টি প্রজাতি নাম।
৩. নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড় হরফে এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোট হরফে হবে।
৪. নাম মুদ্রণের সময় ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে।
প্রশ্ন ৪৪। কাঁঠালের দ্বিপদ নাম লেখো।
নিবার ফরজুদেয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুমি উত্তর: একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। প্রথমটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয়টি তার প্রজাতি। একে দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি বলে। কাঁঠালের দ্বিপদ নামকরণ হলো- Artocarpus heterophyllus
প্রশ্ন ৪৫। বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ও জাতীয় পাখির বৈজ্ঞানিক নাম নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
লেখো। উত্তর: বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ও জাতীয় পাখি যথাক্রমে ইলিশ ও
দোয়েল। নিচে এদের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হলো-
স্থলিশ- Tenualosa ilisha
দোয়েল Copsychus saudaris
প্রশ্ন ৪৬। দ্বিপদ নামকরণের লক্ষ্য কী? বুঝিয়ে লেখো।
[চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল]
উত্তর: দ্বিপদ নামকরণ পদ্মতির লক্ষা প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্বন্দ্বে জ্ঞান আহরণ করা। পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা, প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা। সর্বোপরি জীবজগৎ ও মানব কল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবসমূহকে শনাওজ করে তাদের সংরক্ষণ করা।
প্রশ্ন ৪৭। Solanum এর নামকরণের নিয়মাবলি' লেখো।
উত্তর: গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum [বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, চট্টগ্রাম।
এর দ্বিপদ নামকরণের নিয়মাবলি নিম্নরূপ:
১. গোল আলুর নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করবো।
২. এর Solanum অংশটি গণ নাম এবং uberosumঅংশটি প্রজাতিক নাম।
৩. এটি অনন্য নাম, এ নামে অন্য আর কোনো জীব নেই এবং সার্বজনীন, সকল ভাষায় এটি এভাবে ব্যবহৃত হবে।
৪. এই নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড়ো অক্ষর হবে এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোটো হরফের এবং দ্বিতীয় অংশের সবগুলোই ছোটো হরফের হবে।
৫. মুদ্রণের সময় নামটিকে ইটালিক অক্ষরে লিখতে হয়। যেমন: Solaman tuberosum
৬. হাতে লেখার সময় এর গণ ও প্রজাতিক নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে। যেমন- Solanum nubeгонит
৭. প্রথমে যে বিজ্ঞানী এর বিজ্ঞানসম্মত নাম দিয়েছেন তার নাম অনুযায়ীই এটি গৃহীত এবং এই নামের শেষে উক্ত বিজ্ঞানীর নাম সংক্ষেপে সংযোজিত হবে। যেমন- Solanum tuberosumi (যেখানে L লিনিয়াসের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ)।
ব্যাখ্যা করো। প্রশ্ন ৪৮। জীবের বৈজ্ঞানিক নাম জীবের অনন্য পরিচয় বহন করে-
উত্তর: জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতিতে প্রদত্ত হয়। (সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জা এই পদ্ধতিতে জীবের নাম দুটি শব্দে গঠিত- প্রথম শব্দ গণ (Genus)
ভাষায় লেখা হয় বলে পৃথিবীর সকল দেশে একই থাকে এবং একই ও দ্বিতীয় শব্দ প্রজাতি (Species) নির্দেশ করে। এই নাম ল্যাটিন জীবের জন্য শুধু একটি নামই বৈধ। ফলে একই স্থানীয় নামে ভিন্ন ভিন্ন জীব হলেও বৈজ্ঞানিক নামে কোনো বিভ্রান্তি হয় না। যেমন-বৈজ্ঞানিক নাম জীবের বিশ্বজনীন ও অনন্য পরিচয় বহন করে। আমাদের আমের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica, এই নামে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে শুধু একটি নির্দিষ্ট জীবকেই বুঝায়। সুতরাং
প্রশ্ন ৪৯। ICBN বলতে কী বুঝ?
উত্তর: দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির লক্ষ হচ্ছে বৈচিত্র্যময় জীবজগতের [গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, ময়মনসিংহ। প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা।
আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়। এরূপ একটি নিয়ম হলো ICBN যার পূর্ণরূপ হলো International Code of Botanical Nomenclature.

