Class 6 Science Chapter 1: Scientific Process and Measurement-ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রথম অধ্যায়ঃ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও পরিমাপ

Admin
0
(toc)

 

Class 6 Science Chapter 1: Scientific Process and Measurement-ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রথম অধ্যায়ঃ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও পরিমাপ

প্রথম অধ্যায় বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও পরিমাপ সমাধান

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন- বাজারে চাল, ডাল কেনা থেকে শুরু করে সময়মতো স্কুলে যাওয়া, এমনটক জীবন বাঁচানোর ঔষধ তৈরি ও সেবন প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক পরিমাপের প্রয়োজন। আর সঠিক পরিমাপ পদ্ধতির জন্য প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় অর্জিত বিশেষ জ্ঞান।

অ্যানালাইসিসস অংশ

পাঠ-১ঃ বিজ্ঞান কী?

বিজ্ঞান হলো প্রকৃতি এবং প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কিত বিশেষ জ্ঞান, যা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। কোনো মনগড়া বা কাল্পনিক ব্যাখ্যা বিজ্ঞান নয়। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অবশ্যই পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া তথ্য দ্বারা সমর্থিত হতে হয়। জ্ঞান অর্জনের িএই প্রক্রিয়াটিও বিজ্ঞানের একটি অংশ। বিজ্ঞানীরা কোনো সমস্যা সমাধানে একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন।

পাঠ-২-৩ঃ পরীক্ষণ

পরীক্ষণ হলো বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এর মাধ্যমে কোনো আনুমানিক সিদ্ধান্ত (Hypothesis) যাচাই করা হয়। একটি আদর্শ পরীক্ষণে, অন্যান্য সব অবস্থা স্থির রেখে কেবল একটি মাত্র বিষয় বা চলক পরিবর্তন করে তার ফলাফল দেখা হয়।

উদাহণঃ “গাছের বেঁচে থাকার জন্য পানি দরকার কি না”Ñ এটি পরীক্ষা করতে দুটি একই রকম চারাগাছ নিতে হবে। একটিতে নিয়মিত পানি দিতে হবে এবং অন্যটিতে দেওয়া হবে না। মাটি, আলো, বাতাস সব এক রাখতে হবে। কিছুদিন পর শুধু পানির পার্থক্যের কারণে দুটি গাছের অবস্থার যে পরিবর্তন হবে, তা থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

পাঠ-৪-৫ঃ পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা

অনুমান বা আন্দাজ অনেক ক্ষেত্রে কাজ করলেও দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপ অপরিহার্য। যেমন- কাপড় তৈরি, দালান নিমার্ণ, ঔষধ তৈরি ও সেবন, এমনকি রান্নার কাজেও নির্ভুল পরিমাপ প্রয়োজন। সঠিক পরিমাপ ছাড়া কোনো কাজ নিখুঁতভাবে করা সম্ভব নয়। কোেো কিছু পরিমাপ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট আদর্শ পরিমাপণকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। এই আদর্শ পরিমাণটিই হলো একক। যেমন- “হাত” বা “বিঘত” দিয়ে মাপলে একেকজনের ক্ষেত্রে মাপ একেক ব্যবহার করা হয়। যেকোনো পরিমাপ প্রকাশের জন্য দুটি জিনিস লাগেÑ

(১) একটি সংখ্যা (মান) 

(২) একটি একক (যেমন-১০ মিটার, ৫০০ গ্রাম)

পাঠ-৬ঃ মৌলিক ও যৌগিক একক

আমরা যা কিছু পরিমাপ করি তাকে রাশি বলে (যেমনঃ দৈর্ঘ্য, ভর)। রাশি পরিমাপের একক দুই প্রকারঃ

(১) মৌলিক এককঃ যে এককগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং অন্য কোনো এককের উপর নির্ভর করে না, তাদের মৌলিক একক বলে। মৌলিক একক মোট ৭টি। যেমনঃ দৈর্ঘ্যর একক, ভরের একক, সময়ের একক, তাপমাত্রার একক, বিদ্যুৎ প্রবাহের একক, আলোক  ঔজ্জ্বল্যের একক, পদার্থের পরিমাপের একক।

(২) যৌগিক বা লব্ধ এককঃ যা একাধিক  মৌলিক এককের সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে যৌগিক একক বলে। যেমনঃ ক্ষেত্রফলের একক; আয়তনের একক।

এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতিঃ সারা বিশ্বে পরিমাপের এককের মধ্যে সামঞ্জস্য আনার জন্য ১৯৬০ সালে “এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি” বা ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অব ইউনিট চালু করা হয়, যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এই পদ্ধতিতে সকল ভৌত রাশির জন্য নির্দিষ্ট একক নির্ধারিত। যেমনঃ দৈর্ঘ্যের একক মিটার, ভরের একক কিলোগ্রাম, সময়ের একক সেকেন্ড, তাপমাত্রার একক কেলভিন, আলোক ঔজ্জ্বল্যের একক ক্যান্ডেলা ও পদার্থের পরিমাপের একক মোল। বিজ্ঞানীরা ১৮৭৫ সালে প্লাটিনাম ইরিডিয়াম নামক মিশ্রিত ধাতুর একটি দণ্ডের মাপকে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক মিটার দের্ঘ্য নির্ধারণ করেন। দৈনন্দিন প্রয়োজনে দৈর্ঘ্যের এককের গুণিতক ও ভগ্নাংশ ব্যবহৃত হয়।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ

বোর্ড বইয়ের নমুনা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন-১, সঠিক পরিমাপ প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো। উত্তর: দৈনন্দিন জীবনে প্রায় প্রতিটি কাজেই প্রয়োজন সঠিক

পরিমাপের। যেমন: জামা-কাপড় তৈরি, ঘরের পরিমাপ, উচ্চতা পরিমাপ, রান্নার মসলার পরিমাণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাপ জানা খুব জরুরি। নিজস্ব অনুমানে ব্যবহার করলে তা সঠিক হয় না এবং নানা অসুবিধা দেখা দেয়। যেমন- জীবন রক্ষাকারী ঔষধ সঠিক পরিমাপ তৈরি ও সেবন না করলে বিপত্তি ঘটে। তাই দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতি ক্ষেত্রেই সঠিক পরিমাপ প্রয়োজন।

প্রশ্ন-২. ক্ষেত্রফলের একক কোন ধরনের একক? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ক্ষেত্রফলের একক যৌগিক বা লব্ধ একক। যেসব রাশি পরিমাপ করতে দুই বা ততোধিক এককের সমন্বয় করতে হয় তাদের যৌগিক বা লব্ধ একক বলে। কোনোকিছুর ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ 

দুই মৌলিক এককের প্রয়োজন হয়। এই দুই এককের গুণফলই ক্ষেত্রফল। তাই ক্ষেত্রফলের একক যৌগিক বা লক্ষ একক।

প্রশ্ন-৩. এককের গুণিতক প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয়ের বিভিন্ন একক পদ্ধতি প্রচলিত আছে। এই একক আমরা বিভিন্ন জিনিস পরিমাপের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এই এককগুলোর গুণিতকও প্রয়োজন হয় যখন বেশি পরিমাণের কিছু পরিমাপ করার প্রয়োজন হয়। যেমন: ভরের ক্ষেত্রে কম ভরের বস্তু পরিমাপ করতে গ্রাম ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বেশি ভরের বস্তুর ক্ষেত্রে গ্রামের গুণিতক কুইস্টাল অথবা মেট্রিক টন ব্যবহৃত হয়। এভাবেই কোনো কিছু বেশি পরিমাপ করার ক্ষেত্রে এককের গুণিতক প্রয়োজন হয়।

অনুশীলনের জন্য আরও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ

“নতুন প্রশ্নকাঠামোর প্রশ্নোত্তরগুলো টপিকভিত্তিক দেওয়া হয়েছে। এ প্রশ্নগুলো অনুশীলন করলে পরীক্ষায় ২০ নম্বর নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে তুমি।”

পাঠ-১: বিজ্ঞান কী?

প্রশ্ন-৪. বিজ্ঞান বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: বিজ্ঞান শব্দের অর্থ হলো বিশেষ জ্ঞান। কোনো বিষয়ে তথ্য, উপাত্ত ও দক্ষতা এবং সেই বিষয় সম্বন্দ্বে উপলব্ধি মিলিয়েই ঐ বিষয়ের জ্ঞান। বিজ্ঞান হলো প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক ঘটনা সংক্রান্ত জ্ঞান। পরীক্ষা-নীরিক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও যৌক্তিক চিন্তা মাধ্যমে বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন।

প্রশ্ন-৫. বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনে বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া কেন জরুরি?

উত্তর: বিজ্ঞান হলো, প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞান, যা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা থেকে পাওয়া বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা সমর্থিত। বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যতীত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। জ্ঞান অর্জনের জন্য বিষয়গত ধারণা, সমস্যা চিহ্নিতকরণ, বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তার সমন্বিত ফলাফল প্রয়োজন। তাই বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনে বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া একান্ত জরুরী।

পাঠ-২-৩: পরীক্ষণ

প্রশ্ন-৬. পরীক্ষণ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

(পাঠ্যবইয়ের শিখনফল ১-এর আলোকে আঙুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,

উত্তর: বিজ্ঞানের নতুন স্থান পাওয়া একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি বা ধাপ হচ্ছে পরীক্ষণ। এই পদ্ধতিতে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য একজন বিজ্ঞানী প্রথমে জানা বা বিদ্যমান তথ্যের আলোকে একটি আনুমানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পরীক্ষণের মাধ্যমে তার অনুমিত সিদ্ধান্ত সঠিক কিনা তা যাচাই করেন। যতক্ষণ না কোন সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ অবধি এই পরীক্ষণ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

পাঠ-৪ ও ৫: পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা

প্রশ্ন-৭. কোনো কিছুর আদর্শ পরিমাপের ক্ষেত্রে এককের গুরুত্ব লেখো?

উত্তর: সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য আদর্শ এককের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিমাপের ক্ষেত্রে কোনো একটি সুবিধাজনক ক্ষুদ্র অংশকে পরিমাপের একক হিসেবে ধরা হয়। এতে করে সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে সুবিধা হয় অর্থাৎ পরিমাপ ত্রুটি দূর হয়। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন স্থানে একই পরিমাণ বস্তুকে নির্ভুলভাবে মাপতে একটি আদর্শ একক থাকা বাঞ্চনীয়। তাই পরিমাপের এককের গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রশ্ন-৮. কম ভর এবং বেশি ভরের বস্তুর জন্য দুইটি আলাদা একক ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর: আমরা জানি, আন্তর্জাতিকভাবে ভরের একক হলো কিলোগ্রাম। সংক্ষেপে একে কেজি হিসেবে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু কোনো বস্তুর ভর খুব কম হলে তখন ভরের একক কেজি ব্যবহার না করে গ্রাম ব্যবহার করা হয় এবং ভর বেশি হলে কিলোগ্রাম ব্যবহার করা হয়। এতে করে সহজে ভরকে প্রকাশ করা যায় এবং গুণিতক কিংবা ভগ্নাংশ জনিত জটিলতা দূর করা যায়। যেমন- এক কেজি সমান এক হাজার গ্রাম।

পাঠ-৬: মৌলিক ও যৌগিক একক

প্রশ্ন-৯. ক্ষেত্রফলের একক একটি যৌগিক একক- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: আমরা যা পরিমাপ করি তাকে সাধারণত রাশি বলা হয়। রাশি পরিমাপের বিভিন্ন একক রয়েছে। এই একক দ্বারা কোন কিছুকে সরাসরি পরিমাপ করা হয়। একক দুই ধরনের হয় যেমন- মৌলিক একক ও যৌগিক একক। ক্ষেত্রফল একটি যৌগিক একক। কারণ ক্ষেত্রফল পরিমাপের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্যের দুইটি এককের গুনফলের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই সমন্বিত এককই হলো যৌগিক বা লব্ধ একক। 

প্রশ্ন-১০. মৌলিক একক কয়টি ও কী কী? 

উত্তর: যে সকল রাশিকে প্রকাশ করার জন্য অন্য কোনো এককের উপর নির্ভর করতে হয় না তাদেরকে মৌলিক একক বলে। বর্তমানে সাতটি মৌলিক একক রয়েছে। যেমন: দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, বিদ্যুৎ প্রবাহ, আলোক উজ্জ্বল্য ও পদার্থের পরিমাণ। এই সাতটি রাশির জন্য সাতটি আলাদা একক ব্যবহার করা হয় যা মৌলিক একক নামে পরিচিত।

প্রশ্ন-১১. F.P.S এবং M.K.S পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর: F.P.S এবং M.K.S পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো :

F.P.S

পূর্বে ব্যবহার করা হত।

এ পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক ফুট, ভরের একক পাউন্ড, সময়ের একক সেকেন্ড।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি এখনও ব্যবহার হয়।

M.K.S

এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।

এ পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক মিটার, ভরের একক কেজি ও সময়ের একক সেকেন্ড। 

বর্তমানে অধিক ব্যবহৃত পদ্ধতি।

প্রশ্ন-১২. কোন বস্তুর ভরের একক আন্তর্জাতিকভাবে কীভাবে নির্ধারণ করা হয়? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক হচ্ছে কিলোগ্রাম। সংক্ষেপে যা কে.জি. হিসেবে পরিচিত। ফ্রান্সে সেভরেসে অবস্থিত ওজন ও পরিমাপের আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিসে সংরক্ষিত একটি দন্ডের ভরবেগ এক্ষেত্রে আদর্শ ধরা হয়েছে। একইভাবে কোন কম ভরের বস্তুর জন্য যেমন গ্রাম এককে ভর পরিমাপ করা হয় একইভাবে অধিক ভরের জন্য আন্তর্জাতিক একক হিসেবে কুইন্টাল ও মেট্রিক টন ব্যবহার করা হয়।

পাঠ-৮ ও ৯: দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়ের পরিমাপ

প্রশ্ন-১৩. সূর্যঘড়ির সাহায্যে কীভাবে সময় নির্ণয় করা যায়।

উত্তর: অতীতে সময় নির্ণয়ের জন্য সূর্যঘড়ি বহুল ব্যবহৃত হত। সময়ের হিসাব বের করতে এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি। বাড়ি বা স্কুলের আঙিনায় একটি লাঠি খাড়া করে পুতে দেওয়া হয়। খাড়া কাঠিটির ছায়াতে সময়ে সময়ে দাগ বসিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয় যা পরবর্তীতে সময় হিসাব করতে ব্যবহার করা হয়। এভাবে সূর্যঘড়ির সাহায্যে সময় নির্ধারণ করা যায়।

পাঠ-১০: ক্ষেত্রফল ও তার পরিমাপ

প্রশ্ন-১৪. কোন বস্তুর ক্ষেত্রফল বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কোন সমতল পৃষ্ঠের উপরিতলের পরিমাণকে ক্ষেত্রফল বলে। এটি কোন নির্দিষ্ট স্থান বা এলাকার মাপ যা কোন নির্দিষ্ট আকৃতির মধ্যে দিয়ে আবৃত থাকে। যেমন- কোনো আয়তাকার বস্তুর ক্ষেত্রফল হচ্ছে তার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ এর গুণফলের সমান।

পাঠ-১১: আয়তন ও তার পরিমাপ

প্রশ্ন-১৫. আয়তন কী তা বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: কোন বস্তু যে স্থান দখল করে তাকে তার আয়তন বলা হয়। কোন আয়তাকার ঘনবস্তুর আয়তন বের করতে হলে তার ক্ষেত্রফলকে  উচ্চতা দিয়ে গুণ করতে হয়। অর্থাৎ আমরা বলতে পারি আয়তন নির্ণয় এর সাধারণ সূত্রটি হচ্ছে বস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার গুণফলের সমান। আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে আয়তনের একক হচ্ছে ঘনমিটার এবং' সিজিএস পদ্ধতিতে এর একক হচ্ছে ঘনসেন্টিমিটার।

প্রশ্ন-১৬. একটি সাধারণ পাথরখণ্ডের আয়তন কীভাবে নির্ণয় করা যায়- ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর: সাধারণ পাথরখণ্ডের আকৃতি এবড়ো থেবড়ো হয়। সুনির্দিষ্ট কোনো আকৃতি থাকে না। তাই মাপচোঙের সাহায্যে পাথরখণ্ডটির আয়তন নির্ণয় করা সম্ভব। পাথরখণ্ডটি একটি সুতায় বেধে মাপচোঙে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। মাপচোঙের দাগাঙ্কিত মানের পর্বের পার্থক্য থেকে আয়তন নির্ণয় করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে সঠিকভাবে মাপ নিতে হবে।

পাঠ-১২: তরল পদার্থের আয়তন নির্ণয়

প্রশ্ন-১৭. থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহার করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: থার্মোমিটারের সাহায্যে তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়। আর তাপমাত্রার একক কেলভিন, ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ফারেনহাইট। তাপমাত্রার পরিবর্তনে পারদের আয়তন হ্রাস/বৃদ্ধি খুবই সূক্ষ্ম হয়। অর্থাৎ সামান্য পরিমাণ তাপমাত্রা পরিবর্তনে পারদের আয়তন প্রসারণ বেশি হয়। তাই তাপমাত্রা পরিমাপে থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহার করা হয়।

প্রশ্ন-১৮. তরল পদার্থের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করা যায় কি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: আমরা জানি তরল একটি প্রবাহী পদার্থ। এর নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই। যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্রেরই থাকার ধারণ করে। তাই তরল পদার্থ পরিমাপে আয়তন নির্ণয় করা হয়। কারণ এর সুনির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রফল নেই। তরলের আয়তন পরিমাপের একক হিসেবে লিটার, গ্যালন, (মিটার)3 ব্যবহার করা হয়।

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

বোর্ড বইয়ের নমুনা প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন-১ঃ ফাঁরহানের পড়ার ঘরের ক্ষেত্রফল ৪০ বর্গমিটার, যার ১০ মিটার। তার পড়ার টেবিলের দৈর্ঘ্য ১ মিটার এবং প্রস্থ ৫০ সেমি। ফারহানের মা, সমাকৃতির আরেকটি টেবিল সেই ঘরে রাখলেন।

ক. এস আই পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক কী?

খ. পরিমাপের প্রয়োজন হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. ফারহানের পড়ার ঘরের প্রস্থ নির্ণয় করো।

ঘ. ফারহানের পড়ার ঘরে ফাঁকা জায়গা থাকার সম্ভাব্যতা যাচাই করো।

১ নং প্রশ্নের উত্তরঃ

(ক) এস আই পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক মিটার।

(খ) বাস্তবে অনেক কিছুই অনুমান করে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না। কোনো জিনিস কতটুকু দরকার তা কেবল পরিমাপ দ্বারাই জানা সম্ভব। যেমন- জীবন বাঁচানোর জন্য ঔষধ পরিমাণমতো তৈরি এবং সেবন না করলে বিপত্তি ঘটে।

তাই বলা যায়, দৈনন্দিন কাজকর্ম সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পরিমাপের প্রয়োজন।

(গ) উদ্দীপকে দেওয়া আছে, ফারহানের পড়ার ঘরের ক্ষেত্রফল ৪০ বর্গমিটার এবং ঘরের দৈর্ঘ্য ১০ মিটার।

সুতরাং ফারহানের পড়ার ঘরের প্রস্থ 

= ঘরের ক্ষেত্রফল/ঘরের দৈর্ঘ্য

= ৪০ বর্গমিটার/১০ মিটার

= (৪০/১০) মিটার

= ৪ মিটার

সুতরাং ফারহানের পড়ার ঘরের প্রস্থ ৪ মিটার।

(ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত ফারহানের পড়ার টেবিলের দৈর্ঘ্য ১ মিটার। এবং প্রস্থ = ৫০ সে.মি. = ৫০/১০০ মিটার = ০.৫ মিটার।

দুটি টেবিল রাখলে ক্ষেত্রফল হবে বর্গমিটার (০.৫ × ২) বর্গমিটার = ১

সুতারাং ফারহানের পড়ার টেবিলের ক্ষেত্রফল 

= (দৈর্ঘ্য * প্রস্থ)

= (১ * ০.৫) বর্গমিটার

= ০.৫ বর্গমিটার

দুটি টেবিল রাখলে ক্ষেত্রফল হবে = (০.৫*২) বর্গমিটার = ১ বর্গমিটার

সুতরাং ফারহানের ঘরে ফাঁকা জায়গা থাকবে 

= (৪০ - ১) বর্গমিটার

= ৩৯ বর্গমিটার

অকএব, ফারহানের ঘরে দুটি টেবিল রাখার পরেও ৩৯ বর্গমিটার জায়গা ফাঁকা থাকবে।

প্রশ্ন-২ঃ হোসেন সরকার একজন রপ্তানিকারক। এ বছর তিনি বিদেশে ৫ মেট্রিক টন পাট রপ্তানি করেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পূর্বে F.P.S পদ্ধতি ব্যবহার করলেও বর্তমানে M. K. S পদ্ধতি ব্যবহার করেন। 

ক. ক্যান্ডেলা কী?

খ. আয়তনের একক কোন ধরনের একক? ব্যাখ্যা করো।

গ. হোসেন সরকার এ বছর কত কিলোগ্রাম পাট রপ্তানি করেন, তা নির্ণয় করো। ৩

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতি দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো। ৪

২ নং প্রশ্নের উত্তর

(ক) ক্যান্ডেলা হলো আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে আলোক ঔজ্জ্বল্যের একক।

(খ) আয়তনের একক যৌগিক বা লব্ধ একক। যেসব রাশি পরিমাপ কররে ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক এককের সমন্বয় দরকার হয়, সেসব রাশির একককে যৌগিক একক বলে। আয়তন পরিমাণ করতে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা তিনটি এককের প্রয়োজন হয়। তাই আয়তনের একক একটি যৌগিক একক।

(গ) উদ্দীপকে বর্ণিত হোসেন সরকার কর্তৃক রপ্তানিকৃত পাটের পরিমাণ ৫ মেট্রিক টন।

এখন, আমরা জানি,

১ মেট্রিক টন = ১০০০ কিলোগ্রাম

 সুতরাং ৫ মেট্রিক টন = (৫ × ১০০০) কিলোগ্রাম = ৫০০০ কিলোগ্রাম।

অর্থাৎ এ বছর হোসেন উদ্দিন সরকার ৫০০০ কিলোগ্রাম পাট রপ্তানি করলেন।

(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত F.P.S ও M.K.S পদ্ধতি দুটির মধ্যে M.K.S পদ্ধতিটি সুবিধাজনক।

M.K.S পদ্ধতিকে অনুসরণ করে এককের আন্তর্জাতিক বা এসআই পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসআই পদ্ধতির সাহায্যে পৃথিবীর সমগ্র দেশে একটি সাধারণ পরিমাপের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সকল ভৌত রাশির জন্য কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট একক নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে একই রাশি পরিমাপের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন একক ব্যবহারে সৃষ্ট অসুবিধা দূর হয়েছে। যেমন- এসআই পদ্ধতিতে পৃথিবীর সকল দেশে দৈর্ঘ্যের একক মিটার ব্যবহৃত হয়, যা M.K.S পদ্ধতিতেও দৈর্ঘ্যের একক।

অন্যদিকে F.P.S পদ্ধতি নির্দিষ্ট কতগুলো দেশে ব্যবহৃত হয়। তাই এই একক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে নানা অসুবিধা সৃষ্টি হয়। এ কারণে F.P.S থেকে M.K.S পদ্ধতি সুবিধাজনক।

পরীক্ষায় কমন পেতে আরও প্রশ্নোত্তর ঃ

প্রশ্ন-৩ঃ বিজ্ঞান শিক্ষক ক্লাসে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বললেন। তিনি বললেন এ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।

 ক. বিজ্ঞান কী?

খ. প্রকৃতি সম্পর্কে যে কোন তথ্যই বিজ্ঞান নয় কেন?

গ. শিক্ষকের আলোচনার বিষয়টি প্রবাহ চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করো। ৩

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতির  ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করো।

৩ নং প্রশ্নের উত্তর 

(ক) বিজ্ঞান হলো প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কিত জ্ঞান, যা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা সমর্থিত।

(খ) প্রকৃতির কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে কেউ যদি মনগড়া তথ্য দেয়, তা বিজ্ঞান হবে না। কারণ বিজ্ঞানের জ্ঞান হতে হলে তাকে হয় তা পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণ করে পেতে হবে অথবা এর থেকে পাওয়া তথ্য দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। তাই পরীক্ষা, নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ছাড়া মনগড়া তথ্যকে বিজ্ঞান বলা যায় না।

(গ) উদ্দীপকের প্রবাহচিত্রটি হলো  বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ধাপ। এটি পূর্ণ করে নিচে দেখানো হলোঃ

প্রবাহ চিত্রঃ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ

(ঘ) উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি ছাড়া বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের অপর পদ্ধতিটি। হলো পরীক্ষণ। পরীক্ষণ পদ্ধতির ধারাবাহিক ধাপসমূহ হলো-

১. সমস্যা নির্ধারণ: এটি পরীক্ষণের প্রথম ধাপ। এ ধাপে সমস্যা নির্ধারণ করা হয়।

২. জানা তথ্য সংগ্রহ: বই পড়ে অথবা অন্যকে জিজ্ঞাসা করে সমস্যা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

৩. আনুমানিক / অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: তথ্য সংগ্রহ করে আনুমানিক সিন্ধান্ত নেওয়া হয়।

৪. পরীক্ষণের পরিকল্পনা: এরপর পরিকল্পনা করে পরীক্ষণের বিষয়গুলো নির্বাচন করা হয়।

৫. পরীক্ষণ: এই ধাপে পরীক্ষণ সম্পন্ন করে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

৬. উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ: পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাত্ত থেকে সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়

৭. ফল প্রকাশ: সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর প্রকাশ করা হয়।

এভাবে পরীক্ষণ পদ্ধতিতে ধাপগুলো সম্পন্ন করা হয়।

প্রশ্ন-৪ঃ বিজ্ঞানের শিক্ষক ক্লাসে পরিমাপ সম্পর্কে পড়াতে গিয়ে একজন ছাত্রের নিকট পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য জানতে চাইলেন। সে জবাব দিল্যে ৬.১৫ কিলোমিটার। এরপর তিনি শিক্ষার্থীদেরকে দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা দিলেন এবং সেতুর দৈর্ঘ্য কেন আন্তর্জাতিক এককে মাপা হয়, তাও ব্যাখ্যা করলেন।

ক. পরিমাণ বলতে কী বোঝ?

খ. একটি কাঠের টুকরার দৈর্ঘ্য ২.৫ মিটার- বিষয়টি ব্যাখ্যা করো। 

গ. উদ্দীপকে যে পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে তার এককগুলোর একটি ছক তৈরি করো। 

ঘ. আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শিক্ষকের পড়ানো বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু বিশ্লেষণ করো।

৪ নং প্রশ্নের উত্তর

(ক) কোন কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করাই হলো পরিমাপ।

(খ) পরিমাপকে সব সময় একটি নির্দিষ্ট এককে প্রকাশ করা হয়। এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক মিটার। সুতরাং যদি একটি কাঠের দৈর্ঘ্য শুধু ২.৫ বলা হয় তবে এটি কোনো অর্থ বহন করে না বরং যদি ২.৫ মিটার বলা হয় তাহলে এর সঠিক পরিমাণ প্রকাশ পায় যে, কাঠের টুকরাটি ২.৫ মিটার দীর্ঘ।

(গ) উদ্দীপকে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। একে এস আই বা ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অব ইউনিট বলা হয়। আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে সকল ভৌত রাশির জন্য একটি নির্দিষ্ট একক নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন-

ভৌত রাশি

দৈর্ঘ্য

ভর 

সময়

তাপমাত্রা

বৈদ্যুতিক আধান

আলোক ঔজ্জ্বল্য

পদার্থের পরিমাপ

একক

মিটার

কিলোগ্রাম

সেকেন্ড

কেলভিন

কুলম্ব

ক্যান্ডেলা

মোল

(ঘ) উদ্দীপকে শিক্ষকের পড়ানো বিষয়টি হলো পরিমাপ। দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। 

আমরা দৈনন্দিন জীবনে জানা-অজানা নানা ঘটনাকে অনেক সময়ই আন্দাজ করে পরিমাপ করে থাকি। কিন্তু অনেক কিছুই আছে, যা আন্দাজ করে পরিমাপ করা যায় না। যেমন- ঔষধ তৈরি বা সেবন যদি আন্দাজ করে করা হয় তাহলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। আবার অন্যান্য ক্ষেত্রে, যেমন- চাল-ডাল কিনতে, জামা-কাপড় তৈরিতে কিংবা সময়মতো ক্লাশ শুরু বা শেষ করতে যথাযথ পরিমাপ দরকার হয়। সঠিক পরিমাপ ব্যতীত শ্রেণিকক্ষে কয় জোড়া টেবিল-বেঞ্চ রাখা যাবে, কোন কক্ষের আয়তন কত হবে, এমনকি তরকারি রান্নায় কতটুকু মশলা ব্যবহার করতে হবে তা বলা প্রাপ্ত উপাভ মুশকিল হয়। 

এক কথায় বলা যায়, দৈনন্দিন জীবনে প্রায় প্রতিটি কাজেই সঠিক পরিমাপ করা খুবই প্রয়োজনীয়।

প্রশ্নঃ রশিদকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সময় তার বয়স, উচ্চতা এবং ভর স্কুলের ফরমে লিখতে হলো। স্কুল ফরমে লেখা আছে সকল তথ্য এসআই এককে দিতে হবে। রশিদ ভর্তি ফরমে বয়স ১১ বছর ৫ মাস, ভর ৪৫ কেজি এবং উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি লিখল। ফরম জমা দিলে স্কুলের অফিস সহকারী বললেন তুমি এক জায়গায় ভুল করেছ।

ক. এসআই পদ্ধতিতে ভরের একক কী?

খ. প্রতিটি কাজে সঠিক পরিমাপ প্রয়োজন কেনো? 

গ. রশিদের ভরকে গ্রাম ও কুইন্টালে প্রকাশ করো।

ঘ. উক্ত এককে পরিমাপের ক্ষেত্রে কী কী সুবিধা থাকতে পারে বলে তুমি মনে করো? 

৫ নং প্রশ্নের উত্তর

(ক) এসআই পদ্ধতিতে ভরের একক কিলোগ্রাম।

(খ) আমরা দৈনন্দিন জীবনে জানা-অজানা নানা ঘটনাতে অনেক সময়ই আন্দাজ করে পরিমাপ করে থাকি। কিন্তু অনেক কিছুই আছে, যা আন্দাজ করে পরিমাপ করা যায় না। যেমন- ঔষধ তৈরি ও সেবন যদি আন্দাজ করে করা হয় তাহলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই সঠিক মান নির্ণয়ের জন্য প্রতিটি কাজে সঠিক পরিমাপ খুবই প্রয়োজন।

(গ) উদ্দীপকে দেওয়া আছে, রশিদের ভর ৪৫ কেজি। 

আমরা জানি, 

১ কেজি = ১০০০ গ্রাম 

সুতরাং ১.৪৫ কেজি = ৪৫ × ১০০০ গ্রাম = ৪৫০০০ গ্রাম 

আবার আমরা জানি, ১ কুইন্টাল ১০০ কেজি 

অর্থাৎ ১০০ কেজি = ১ কুইন্টাল

সুতরাং ১ কেজি =১/১০০ কুইন্টাল

 তাহলে, ৪৫ কেজি ৫ ১০০ এজি=১০০ কুইন্টাল ০.৪৫ কুইন্টাল।

সুতরাং রশিদের ভর গ্রাম ও কুইন্টাল এককে যথাক্রমে ৪৫০০০ গ্রাম ও ০.৪৫ কুইন্টাল।

(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত এককটি হলো এসআই একক। পরিমাপের ক্ষেত্রে এসআই এককের প্রধান সুবিধা হলো এটি সর্বাধিক প্রচলিত। এছাড়া আরও যেসব সুবিধা রয়েছে তা হলো-

i. এটি একটি সর্বজনস্বীকৃত পরিমাপ পদ্ধতি।

ii. বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পরিমাপ পদ্ধতি চালু থাকায় যে অসুবিধার সৃষ্টি হতো, এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে তা দূরীভূত হয়েছে।

iii. প্রত্যেকটি ভৌত রাশির জন্য শুধু একটি একক নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে হিসাব-নিকাশ সহজ হয়েছে।

iv. এই পদ্ধতিতে আয়তন ও ভরের একটি সহজ সম্পর্ক আছে। যেমন-। লিটার আয়তনের পানির ভয়। কিলোগ্রাম। ফলে একক পরিবর্তনে সুবিধা হয়।

Tags

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!